সিনেমা সমালোচনা – কেন মন তাকে চায় (২০১২) – চিরন্তন প্রেমের নতুন গল্প

0
1082

a6748430595fcd4da119367f5f900b1755716

 

255792f85b78786479233edf6334b52a70702

 

মুক্তি পেল মিলন ভৌমিকের নতুন ছবি ‘কেন মন তাকে চায়’। চিরাচরিত প্রেম ভালবাসার বিষয়টিকে এক নতুন মোড়কে প্রস্তুত করার প্রয়াস এই ছবি। আমাদের চারপাশের নাগরিক জীবনের প্রেক্ষিতে কৈশোরের আবেগ নিয়ে কিছুটা হলেও অন্য স্বাদের গল্প উপহার দিতে চেয়ছেন পরিচালক। এই প্রয়াসে কতটুকু সফল তিনি, তা বোঝার আগে ছবির গল্পের দিকে একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।

গল্পের কেন্দ্র চরিত্র দুই বোন।এক উচ্চবিত্ত ও ধনী পরিবারের এই দুই বোন, দিব্যা ও প্রিয়া (রিমঝিম মিত্র ও ঐন্দ্রিলা) একই স্কুলের ছাত্রী। স্বভাবে দুই মেরুর বাসিন্দা হলেও দুজনের মধ্যে ভালবাসা গভীর।ছোটবেলা থেকেই ভোগ ঐশ্বর্যে বেড়ে ওঠা এই দুই কিশোরীর ঘটনাক্রমে দেখা হয় স্বানীয় দুই দরিদ্র যুবকের সঙ্গে।ওই দুই যুবকের নাম যথাক্রমে অগ্নি ও এন্থনী (রাজ ও সিদ্ধার্থ রায়চৌধুরী)। প্রথম দেখাতেই গড়ে উঠে বন্ধুত্ব ও সময়ের সঙ্গে তা রূপ নেয় ভালবাসার। এখান থেকেই কাহিনীর পথচলা শুরু।  অগ্নি ও  দিব্যার মধ্যে ভালবাসা দুদিকের সম্মত্তি পেলেও এন্থনীর ভালবাসা স্বীকৃতি পায় না প্রিয়ার কাছে। তা সত্তেও এন্থনীর ভালবাসায় খামতি নেই।এই ভালবাসার কথা জানতে পারেন দিব্যা ও প্রিয়ার বাবা (বিপ্লব চ্যাটার্জী)। আদুরে মেয়েকে বিয়ে করবে এক দরিদ্র বেকার ছেলে, একথা মেনে নিতে পারলেন না  এই রক্ষণশীল বাবা। প্রিয়ার বিয়ে ঠিক করে ফেললেন তার এক বন্ধুর ছেলের সঙ্গে। ধনী এই পাত্রের সঙ্গে এই বিয়েতে রাজীও হয়ে যায় প্রিয়া। একা হয়ে যায় এন্থনী। অবশেষে আত্মহননের পথ বেছে নেয় সে। অবশ তাতে প্রিয়ার মনে কোনো পরিবর্তন হয়না। এদিকে অগ্নি ও দিব্যার ভালবাসায় কোনো খামতি নেই।  পছন্দের মানুষটিকে পেতে আত্মহননের হুমকিও দেয় দিব্যা। এক নাটকীয় মোড়ে নিজের ভূল বুঝতে পারে প্রিয়া। অনেকটা অপরাধ বোধ থেকেই সে দিব্যা ও অগ্নির ভালবাসাকে পরিপূর্ণ করার চেষ্টা করে। এখান থেকেই এই গল্পে আসে এক নতুন মোড়।

এবার আসা যাক সিনেমার অন্যান্য দিকে। পরিালক মিলন ভৌমিক কিছু নতুন মূখকে ব্যবহার করতে চেয়েছেন। অভিনয়ের দিক থেকে প্রথমেই বলতে হয় রিমঝিম মিত্রের কথা। স্কুল ছাত্রীর ভূমিকায় যথেষ্ট সাবলিল তিনি। আর বলতে হয় বিপ্লব চ্যাটার্জীর কথা। ঐন্দ্রিলা, রাজ ও সিদ্ধার্থ রায়চৌধুরী যথাযথ। নিপীড়িত মায়ের ভূমিকায় সান্তনা বসুও ভাল অভিনয় করেছেন। এক বিশেষ চরিত্রে অর্পিতা বেকারের অভিনয় নজর কাড়ে। সব মিলিয়ে বলা যেতেই পারে, চরিত্র নির্বাচনে বেশ মূন্শিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন পরিচালক। একই কথা বলা যেতে পারে ছবির গানের ক্ষেত্রেও। সঙ্গীত পরিচালক সৌমিত্র কুন্ডু বেশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন এই ছবির প্রতিটি গানে। তাই গল্পে নতুনত্ব না থাকলেও অভিনয় ও তারকাদের উপস্থিতির উপর ভর করে এই ছবি বক্স অফিসে সাফল্যের মূখ দেখবে বলে আশাবাদী বিশেষজ্ঞ মহল।

(Image credits – pinakimp3.blogspot.com, unlimiteddownloadzone.com)

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!