Bengali Movie Preview – চিত্রাঙ্গদা (২০১২)

0
1365

Chitrangada

(Chitrangada is an upcoming Bengali film, which re-creates the Tagore dance drama (of the same name) in the context of the modern society. It is directed by Rituparno Ghosh and stars Jisshu Sengupta, Raima Sen and Anjan Dutt. Chitrangada will hit the theaters on August 31)

পুরাণে আছে, মণিপুরের রাজা তাঁর কন্যাকে পুত্রজ্ঞানে বড় করে তুলেছিলেন। নিজের একমাত্র উত্তরাধিকারীকে তিনি করে তুলেছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে নিপুণ এবং রাজ্যের কূটনৈতিক বিষয়ে দড়। রূপে ও গুণে অসামান্যা রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা একদিন শিকারে গিয়ে দেখা পান অর্জুনের, যিনি কিনা পান্ডবদের বনবাসের দ্বাদশতম বছর কাটাছ্ছিলেন সেই অরণ্যে। রাজকুমারী তো প্রথম দেখাতেই ভালবেসে ফেলেন অর্জুনকে। অর্জুন অবশ্য চিত্রাঙ্গদাকে একজন যুবক বলে মনে করে – এবং তার কোন আহ্বানেই সাড়া দেয় না। নিরুপায় হয়ে চিত্রাঙ্গদা শরণাপন্ন হয় প্রেমের দেবতা মদনের, এবং তাঁকে অনুরোধ করে যেন তিনি চিত্রাঙ্গদাকে যথার্থ অর্থে রূপসী করে তোলেন। মদনের বরে রাজকন্যা অর্জুনের মন জিততে শেষপর্যন্ত সফল হয়। কিন্ত, এমনই মন্দ কপাল তার, যখন সে রাজপ্রাসাদে ফেরে, তাকে আর রাজকন্যা হিসেবে কেউ চিনতে পারে না।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই কাহিনীটিকেই নৃত্যনাট্যের রূপ দিয়েছিলেন, মানুষের অন্তরাত্মা ও বহিরাত্মার মধ্যে সম্পর্কটি সুচারু রূপে উপস্থাপিত করতে। ১৫০ বছর পর, কবির সার্ধশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে, রুদ্র বলে এক নৃত্যশিল্পী ঠিক করে যে সে এই চিত্রাঙ্গদা নৃত্যনাট্যটি আবার করবে। পুরুষ ও নারীসত্তার মধ্যে যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে, সেটাকেই প্রস্ফুটিত করা হবে তার কাজে – এই সিদ্ধান্তই নেয় রুদ্র।

রুদ্র সুশ্রী, তার চেহারা সুঠাম, তাই উদয় শঙ্করের ভূমিকায় সে নিজেই অবতীর্ণ হবে বলে ঠিক করে। তবে একটা জিনিস তাকে ভাবিয়ে তোলে। সে বুঝে উঠতে পারে না যে ভগবান মদন রাজকুমারী চিত্রাঙ্গদাকে লিঙ্গের বাধা অতিক্রম করতে সাহায্য করেছিলেন চিকিৎসক হিসেবে না পরামর্শদাতা হিসেবে। নৃত্যনাট্যের প্রস্তুতিপর্ব চলাকালীন এই চিন্তায় মগ্ন থাকা অবস্থায় রুদ্র-র সাথে আলাপ হয় পার্থ-র। পার্থ অত্যন্ত প্রতিভাবান এক যন্ত্রবাদক (percussionist), কিন্ত বিভিন্ন মাদকদ্রব্যের নেশার শিকার সে। রুদ্রর কাছে সে এসেছে নিজেকে সারিয়ে তুলতে। পার্থর প্রতি রুদ্রর সহানুভূতি অচিরেই এক অমোঘ আকর্ষণের রূপ নেয় – যার মাধ্যমে নিজের মধ্যেই চিত্রাঙ্গদার সত্তাকে খুঁজে পায় রুদ্র। আর তার সাথেই সে সন্ধান পায় তার জীবনে এক অনন্য সুখের।

রুদ্র ও পার্থর প্রেম এগিয়ে চলে মসৃণ গতিতে, এবং তারা একটি শিশুকে দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেয়। কিন্তু ভারতবর্ষে একলা পুরুষ বাচ্চা দত্তক নিতে পারে না। উপয়ান্তর না দেখে রুদ্র ঠিক করে যে সে নিজেকে একজন নারীতে রূপান্তরিত করবে। আর তাকে এই কাজে সাহায্য করবে এক চিকিৎসক-রূপী ভগবান মদন।

শুধুমাত্র পার্থকে খুশি করতেই প্রথমে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রুদ্র। কিন্তু অচিরেই তাকে মুখোমুখি হতে হয় নিজের আত্মা, সত্তা ও নিজস্বতা নিয়ে নানাবিধ প্রশ্নের। একজনের পরামর্শ নিতে, অনেকটা ইছ্ছের বিরুদ্ধেই, বাধ্য হয় রুদ্র। তার সাহায্যে, এবং আপন উপলব্ধির মাধ্যমে, রুদ্র শেষে বুঝতে পারে যে সে নিজের আবর্তেই খুশি – পৃথিবীতে সে পরিচিত হতে চায় শুধুমাত্র একজন খ্যাতনামা নৃত্যশিল্পীরূপে।

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!