Movie Review and Glimpses from Premiere of Arindam Sil’s Aborto

1
238
Bangladeshi Beauty in Aborto

জীবন যখন শুকায়ে যায়,

করুনা ধারায়ে এসো ……

প্রথম লাইনটার সামনে সত্যজিৎ রায় এনে দাড় করিয়েছিলেন তাঁর শ্যামলেন্দুকে… Arindam Sil তাঁর শ্যামলকে শুকিয়ে যাওয়া জীবনে করুনা ধারার বর্ষণ করেছেন… জীবনকে শেষপর্যন্ত জিতিয়ে দেবার জন্য Arindam Sil -কে অভিনন্দন!

আর ঠিক এখানেই হয়তো জীবনের জিতে যাওয়া, মনের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা অনুভুতিগুলোর জিতে যাওয়া… স্নেহ, সহমর্মিতা কিম্বা ভালবাসার জিতে যাওয়া আজকের কর্পোরেট ইঁদুর দৌড়ের বাজিখেলাকে পিছনে ফেলে রেখে। “Its never too late” আথবা হিন্দিতে “সুবাহ কা ভুলা আগর সামকো ঘর আ যায়ে তো উসসে ভুলা নেহি কহতে হ্যায়!” ব্যাস, এইটুকুই তো আবর্ত!

একটা যদি শূন্য আঁকা হয়, বিন্দু থেকে শুরু করে  ঘুরতে ঘুরতে শেষটা যদি শুরুর সঙ্গে জুরে দেওয়া হয় তবে এটা কিসের ছবি? কেউ বলবেন এটা শূন্য কেউ বলবেন পূর্ণতা। শ্যামল আর চারুর মিলন এই মানশিক আবর্তকেই পূর্ণতা দেয়।

 

চিত্রনাট্যকার Atanu Ghosh (অংশুমানের ছবি ও তখন তেইশের পরিচালক )নিজে একজন স্বনামধন্য সৃজনশীল গল্প বলিয়ে, তাই Arindam Sil –এর ভাবনাকে ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে এমন মোচর দিয়েছেন যা, Atanu Ghosh –এর প্রতিভাকে চিনিয়ে দেয়। অংশুমানের ছবি ও তখন তেইশের মত আবর্ততেও পরিশেষে যে ঘরে ফেরার গানটা মনে চোখ দিয়ে অনুভব করিয়ে দেয় তার পিছনে চিত্রনাট্যকার Atanu Ghosh –এর অবদান কিছু কম নয়। আবর্তর সবচেয়ে শক্তিশালী সম্পদ হচ্ছে ছবির চিত্রনাট্য এবং সংলাপ, তারপরেই আসে Soumik Halder –এর চিত্রগ্রহণ।

শুধু Technical Team দিয়ে তো আর ছবি হয়না, যেকোনো গল্পকে ছবির পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে গেলে প্রয়োজন ভাল অভিনেতাদের। আর ঠিক এটাই আবর্তর শক্তিশালী জায়গা। পরিচালক Arindam Sil যেন অভিনয়ের সেরা প্রতিভাগুলিকে  বেছে নিয়েছেন।

ওপার বাংলার Jaya Ahsan খুব ভাল, চারুর নিঃসঙ্গতা, অসহায়তা, শ্যামলের প্রতি অক্রিত্তিম প্রেমকে ছবিতে ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন ছিল এক সংবেদানশিল অভিনেতার আর Jaya Ahsan এই চরিত্রে প্রশংসনীয়।

হরি বোস –এর চরিত্রে Abir Chatterjee আরেকবার দেখিয়ে দিলেন যে, চরিত্র চিনতে তিনি ভুল করেননা। নিজের চরিত্রে Abir Chatterjee বেশ ভাল।

রুনু সান্যাল রুপে Saswata Chatterjee –কে দেখে দর্শকদের মনে ঘৃণা ও উদ্বেগ ঘটতে বাধ্য, তাই Saswata Chatterje -এর মুকুটে আরেকটি পালক যোগ হল ‘রুনু সান্যাল’।

দুলির চরিত্রটি ছিল বহুমাত্রিক এবং একটু অন্যরকম, তাই কাজটি ছিল বেশ শক্ত। এই চরিত্রটির জন্য Arindam Sil বেছে নিয়েছেন Reshmi Ghosh –কে। কিন্তু রেশমি ঘোষও তার অভিনয়ে কোন ত্রুটি রাখেনি।

কৌশিক গাঙ্গুলির অভিনয় নিয়ে কিছু বলার নেই। শুধু এইটুকু বলা যেতে পারে, Arindam Sil দর্শকদের একটা উপহার দিয়েছেন Koushik Ganguly –কে অভিনেতা হিসাবে ব্যাবহার করে। শুধু মাত্র চোখের দিয়েই যে চুপকথাকে ফুটিয়ে তলা যায়, সেটা প্রমান করলেন Koushik Ganguly।

সিদ্ধার্থের চরিত্রে Ritwik Chakroborty আরও একবার দেখিয়ে দিলেন যে উনি এই প্রজন্মের অন্যতম সেরা অভিনয় প্রতিভা। ঠিক এখানেই দর্শকদের মনে করিয়ে দেয় সংলাপ লেখক ও সহচিত্রনাট্যকার হিসাবে আবর্ত টিমে একজন আছেন যার নাম, Padmanava Das Gupta। সিদ্ধার্থ চরিত্রটি ছোট কিন্তু সংলাপগুলো মনে রাখার মত।

পরিশেষে আসা যাক শ্যামলের চরিত্রে। যে চরিত্রে অভিনয় করেছেন Tota Roy Chowdhury । এই চরিত্রে তিনি সত্যিই নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। নির্ভুল, পরিপূর্ণ এবং প্রশংসনীয় তার অভিনয়। পরিচালক Arindam Sil -কে ধন্যবাদ Tota Roy Chowdhury –কে সামনে নিয়ে আসার জন্য এবং এমন প্রতিভাকে প্রকাশ করার জন্য।

ছোট ছোট দুটি চরিত্রে Pijush Ganguly ও Locket Chatterjee মানানসই।

ছবির অভিনয়, পরিচালনা, চিত্রনাট্য ও Bikram Ghosh–এর সঙ্গীত, সবকিছু মিলিয়ে আবর্ত পরিপূর্ণ।

Review by Sanjib Banerjee

 

 

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!