ব্যান্ডের বাজার উর্দ্ধমূখী না নিম্নমুখী – Article by Arindam from Bangla Band Kaya

0
137

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি গেল গেল রব উঠেছিল বাংলা গানের জগতে। কারনটা কি, না কিছু ছেলে মেয়ে মিলে একসাথে দলবেঁধে গানবাজনা করছিলো –ব্যান্ড নাম দিয়ে। যারা গেল গেল রব তুলেছিল তারাই কিন্তু সময়কালে দেখা গেল মুখ লুকিয়ে পালিয়েছে। একথা বলার একটাই উদ্দ্যেশ্য বাংলা ব্যান্ড তো টিকে গেলো রমরমিয়ে বছর ২৫ ধরে। আসলে কিছুই না, যেকোনো নাতুন ধারাকে গ্রহন করতে গেলে আমাদের প্রথমে একটু অসুবিধা হয়। একবার কোনোরকমে ঢেক গিলতে পারলে বেশ অনেকদিন ধরেই ঢেঁকুর তুলে যাই আমরা। সত্তরের দশকে পশ্চিমবঙ্গে ব্যান্ডের আগমন গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে। তারপর বেশ কিছুদিন পর ক্যাকটাস, চন্দ্রবিন্দু, পরশপাথর, ভুমি, কায়া, ফসিলস, আরও অনেক ব্যান্ডের আগমন। সবাই তো বেশ কাজ করছে দেশে, বিদেশে, সবজায়গাতেই। শুধুমাত্র অনুষ্ঠান নয়, রীতিমত বাংলা সিনেমাতেও মিউজিক করছে ব্যান্ডরা। এইত আমাদের কায়ার করা মিউজিক-এ গান গেয়ে নীলাঞ্জনা ২০১০-এ ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ও পেলো-হাউসফুল সিনেমাতে। আসলে ভালো, খারাপ সবসময়েই ছিল, আগেও ছিল, এখনও আছে, কিন্তু ভালো কাজ টিকে যায়। এই যে বিদেশে বাংলা ব্যান্ড এতবার যাচ্ছে নিশ্চয় শ্রোতাদের ভালো লাগছে, না হলে কেউ ট্যাঁকের পয়সা খরচা করে তো বিদেশে ঘরাবার জন্য নিয়ে যায় না।

Band Kaya
Bangla Band Kaya
Bass Guitarist, Kaya
Arindam Chatterjee

যাই বলুন, তাই বলুন বেশ কিছু নিন্দুকের মুখে কিন্তু ছাই পড়েছে। বেশ কিছু লোক জর গলায় বলতে শুরু করেছিলো বাংলা রক, সেটা আবার কী? খায় না মাথায় দেয়? কালক্রমে যখন বাংলা রক জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করলো তারাই কিন্তু পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে বাঁচলো। ব্যান্ড-এর দুটো ভাগ তৈরী হয়েছে, একদল রক, আরেকদল ফোক। এই দুটো দলই কিন্তু নিজেদের জায়গাতে চুটিয়ে কাজ করছে। আর শ্রোতার সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। আগে শোনা যেতো শুধু কমবয়সীরাই ব্যান্ডের গান শোনে, কিন্তু দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি শুধু কমবয়সীরাই নয় বয়স্করাও ব্যান্ডের গান শোনেন। আসলে ভালোলাগা বয়স বুঝে হয় না। অনেকেই প্রশ্ন করেন ব্যান্ডের বাজার কেমন? তাদের এইকথা গুলো জানা দরকার। এত কথা সুনে কি মনে হচ্ছে, দাদা যে ব্যান্ডের বাজার উর্দ্ধমূখী না নিম্নমুখী ? ভালোলাগার জায়গাতে আবার আসি ভুমি, চন্দ্রবিন্দু, কায়ার এমন অনেক গানই আছে যেগুলো একটু বেশী বয়সের শ্রোতারা পছন্দ করেন। আর আমরা মানে কায়ার সদস্যরা কখনোই বিশ্বাস করিনা যে আমরা ব্যান্ড বলে আমাদের শুধু কমবয়সী শ্রোতাই চাই। আমরা সেভাবেই বিভিন্ন অ্যালবাম করি যাতে সবারই কায়ার গান শুনতে ভালোলাগে। আসলে জানেন তো আমরা নিজেরাই ভাগ করে নিই এই গানটা কমবয়সী শ্রোতাদের জন্যে আর এই গানটা বয়স্কদের জন্য। আসলে কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই সেটা হয় না। আমরা যখন ‘কায়ার বিবেক’ করলাম তখন ভাবলাম স্বামীজির গান – এটা হয়ত কমবয়সী শ্রোতারা শুনবে না।

কিন্তু বিশ্বাস করুন অ্যালবামটা বেরনোর পর অনেক কমবয়সী শ্রোতার থেকে শুনেছি ‘দাদা, সকালবেলা কায়ার বিবেক শুনলে মনটা কেমন ভালো হয়ে যায়। আবার ‘ভালোবাসা’ অ্যালবামটা একদম কমবয়সী শ্রোতাদের জন্য বানানো, সেখানেও ‘সাঁইয়া’ গানটা শুনে অনেক বয়স্ক শ্রোতাকে বলতে শুনেছি ব্যান্ডেও এরকম গান হয়? আসলে ভালোলাগা, খারাপ লাগাটা খুব আপেক্ষিক, বয়স অনুযায়ী হয় না।  ব্যান্ডের বাজার উর্দ্ধমূখী না নিম্নমুখী অতশত জানিনা, আমরা যারা ব্যান্ড মিউজিক করি তারা সবাই চাই ভালো গান তৈরি করতে – এতাই বড় কথা। বাংলা ব্যান্ড বেঁচে থাকুক আপনার আমার সবার মনে – এতাই চাই আমরা সবাই। ব্যান্ডের ছায়াতে – কায়ার ছায়াতে থাকুক সবাই।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!