Bangla Movie Review: Ganesh Talkies

1
151

Wallpapers of Raima Sen

 কিছুদিন আগে অঞ্জন দত্তের একটি ইন্টারভিউতে পড়েছিলাম, বেশ কিছুদিন অন্যরকম ছবি পরিচালনা করার পরে উনি এবার পুরো দস্তুর মূল ধারার বাণিজ্যিক ছবি পরিচালনায় আসতে চান। কিছুদিন আগেই উনি জিৎ, কোয়েল এবং মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়ে একটি নতুন ছবি ঘোষণা করেছেন।

গণেশ টকিজ মুক্তি পেল যখন মেঘে ঢাকা তারা নামক একটি ছবি আলোড়ন তুলেছে। কিন্তু তবুও অঞ্জন দত্তের ছবি মানেই তার একটা নির্দিষ্ট দর্শক বিভাগ আছে। তারা টিকিট কেটে হলে গিয়ে অঞ্জন দত্তের ছবি দেখে, তা সে ছবি যেমনই হোক না কেন, ভালো কিম্বা মন্দ। সেই দলে আমিও পড়ি, তাই প্রথম দিনই নন্দনে পৌঁছে গেলাম গণেশ টকিজ দেখতে। কিন্তু তার ফলে যে খুব একটা আনন্দ পেলাম সেটা জোর দিয়ে বলতে পারছি না। অত্যান্ত সাধারণ মানের একটি বাংলা ছবি গণেশ টকিজ। ছকে বাঁধা গল্প, তার চেয়েও সাধারণ মানের চিত্রনাট্য, পাঁচমিশেলি সংলাপ দিয়ে ঘেরা।

ছবিটি অঞ্জন দত্ত পরিচালিত ছবি হিসাবে ভাবতে কষ্ট হয়, কারন অঞ্জন দত্তের ছবি ভালো হোক বা খারাপ, সেটা দর্শকদের খানিক  ভাবতে বাধ্য করে। You can either love his movies or even hate those but you just cannot ignore those. কিন্তু গণেশ টকিজকে আপনি সছন্দেই অগ্রাহ্য করতে পারেন। অঞ্জন দত্তের এই ছবি না দেখলে কারো কোন ক্ষতি তো হবেই না উল্টে পরিচালক অঞ্জন দত্ত সম্পর্কে কোনরকম অশ্রদ্ধার উদ্রেক হবার কোন কারনও ঘটবে না। কেন যে অঞ্জন দত্ত এমন একটি ছবির কথা ভাবলেন! আর যদিও বা ভাবলেন সেটা তাহলে মূলধারার ছবির অন্যান্য চাহিদাগুলো মেটাবার রাস্তায় কেন গেলেন না? গণেশ টকিজ খাজা না হয়ে খাসা বাংলা ছবি হতে পারতো যদি মূলধারার ছবিগুলির কিছু উপাদান চিত্রনাট্যের মধ্যে মিশিয়ে দেওয়া যেত। যেমন ঝিন চ্যাক মিউসিক (এখানে একটি আইটেম গান ব্যাবহার করা হয়েছে কিন্তু সেতি পাতে দেবার মত নয়) অতিনাটকীয় সংলাপ, cocktail of mild sex and violence. অঞ্জন দত্ত যা করেছেন তাতে ছবিটি হয়েছে না ঘর কা না ঘাট কা।

গল্পটা খুব সহজ ও প্রেডিক্টেবল্, পাশাপাশি একটি বাঙালি আর একটি মাড়োয়াড়ি পরিবার যাদের গৃহকর্তারা বাল্যাবন্ধু। সেই বাঙালি পরিবারের মেয়ে, মাড়োয়াড়ি পরিবারের ছেলেটির প্রেমে পড়ে, তারপর দুই পরিবার সেই সম্পর্ককে কীভাবে গ্রহন করে?

রাইমা সেনকে তো প্রায় অতিথি শিল্পীর পর্যায় ফেলা যায়। তার না আছে স্ক্রীন স্পেস, না আছে ঠিকমত সংলাপ। তাছাড়াও রাইমার বয়সও এই চরিত্রের বিরুধ্যে গেছে। এই চরিত্রটিতে আরেকটু কম বয়সী নায়িকার প্রয়জন ছিল।

চন্দন রয় সান্যাল একজন প্রতিভাবান অভিনেতা কিন্তু অর্জুন চরিত্রে তাকে একেবারেই মানাইনি। হতে পারেন তিনি খুব ভালো মাপের অভিনেতা কিন্তু জিৎ বা দেব-এর মত X Factor তার মধ্যে অনুপস্থিত। তাই ধরনের রোম্যান্টিক চরিত্রে একেবারে বেমানান।

বিভিন্ন চরিত্রে বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, রীতা কয়রাল, পল্লবী চ্যাটার্জি, শঙ্কর চক্রবর্তী মোটামোটি কাজ করেছেন, কিন্তু সবাইকে ছাপিয়ে গেছেন রাজেশ শর্মা। বাংলা ছবির জগতে এই প্রতিভাবান অবাঙ্গালি অভিনেতা এখন বলিউডয়েও জমিয়ে কাজ করছেন। অনেকদিন পর বাংলা ছবিতে ফিরে এসে রাজেশ শর্মা ফাটিয়ে দিয়েছেন। শুধু তার অভিনয় দেখার জন্য গনেশ টকিজ একবার দেখাই যায়।

নীল দত্তের সঙ্গীত দর্শকদের মনে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। ইন্দ্রনীল রয় চৌধুরীর চিত্রগ্রহণ নিয়ে কিছু বলার নেই, খুব সাধারণ। অর্ঘকমল মিত্রের সম্পাদনা নিয়েও কিছু বলার নেই।

RELIANCE ENTRTAINMENT –কে কিছু বলতে ইচ্ছে করছে, তাদের প্রযোজনায় তিনটি বড় ছবি দিওয়ানা, মহাপুরুষ ও কাপুরুষ আর এখন গনেশ টকিজ, কিন্তু বক্স-অফিসে কোন প্রভাব ফেলতে পারেনি। এরপর RELIANCE ENTRTAINMENT –কে এরপরের ছবির স্ক্রিপ্ট সিলেকশন নিয়ে একটু ভাবতে হবে এবং বাংলা ছবির দর্শকদের চাহিদাটা কি?

পরিচালক অঞ্জন দত্তকে বলবো, বাণিজ্যিক মূলধারার দুনিয়াতে পা বাড়াতে গেলে টক্কর দিতে হবে রাজ চক্রবর্তী, সুজিত মণ্ডল, রাজীব কুমার, রবি কিনাগিদের সঙ্গে। এদের সঙ্গে এক মাঠে খেলতে গেলে টেস্ট ম্যাচ, ওয়ান ডে ছেরে টি টুয়েন্টি নিয়মগুলো যত তাড়াতাড়ি পারেন শিখে ফেলুন নইলে কিন্তু ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।

Review by: Sanjib Banerjee

Image Credits: Google Images

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!