Review of Lootera in Bengali for the Bangali

0
564

 

review of Lootera

LOOTERA নিয়ে  লিখতে গেলে শুরুতেই যেটা উল্লেখ করতে হবে, সেটা হচ্ছে এই ছবির নায়ক ও নায়িকার দুর্দান্ত অভিনয়ের কথা । Sonakshi Sinha এবং  Ranveer Singh নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিয়েছেন বরুন ও পাখি চরিত্রে । যে সময়টা-কে ধরা হয়েছে ছবির গল্পে (১৯৫৩) , সেটা ভারতবর্ষের স্বাধীনতার কিছু পরের এক সময়, যখন সরকারি আয়ীনে জমিদারি প্রথা উঠে যাচ্ছে গ্রাম থেকে আর বংশ পরম্পরায় যে মানুষ গুলি জমিদারি ভোগ করছিলেন তারা অকস্মাত অস্তিত্ব সঙ্কটের ফলে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন । এমনই এক জমিদার বংশের শেষ পুরুষের ভুমিকায় অভিনয় করেছেন আমাদের বাংলার অভিনেতা বরুন চন্দ (এটাই বরুন চন্দের প্রথম হিন্দি ছবি এবং তিনি যথেষ্ট ভাল কাজ করেছেন)।

চরিত্রটির আভিজাত্য, পোশাক সব মিলিয়ে বরুন চন্দ কে মানিয়েছে বেশ, তার কন্যা রূপে Sonakshi Sinha-কে-ও খুব ভাল লেগেছে । SONAKSHI অভিনীত চরিত্র টির নাম “পাখি” , নিজে পাঞ্জাবি হয়েও Sonakshi যে সাবলীলতার সঙ্গে ১৯৫০ সালের এক সাবেকি বাঙালী জমিদার কন্যার চরিত্রায়ন করেছেন তার কোন তুলনা হয়না । পিতা ও কন্যার সংসারে আছে শান্তি, ভালোবাসা তবে মাঝে মাঝে জমিদারবাবুর মনে উঁকি দিয়ে যায় এমন আশঙ্কা যে কোন একদিন যখন জমিদারি প্রথা লোপ পাবে তখন তার সম্ভ্রান্ত পরিবার কুল – মান – সম্মান অর্থ সব হারাবে।

এমন এক সময় গ্রামে হঠাৎ এসে  উপস্থিত হোল বরুন নামে এক তরুন সরকারি ARCHAEOLOGIST, সে এসে জমিদারবাবু কে একটি সরকারি চিঠি দিয়ে জানালো যে ভারত সরকার দেশের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক নিদর্শন খুঁজে বার করতে  গ্রামে খনন কাজ শুরু করতে চাইছে । জমিদারবাবু খুশি মনে অনুমতি দিলেন এবং সমস্তরকম সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিলেন বরুন ও তার সহকারিদের । গ্রামের মন্দিরে জমিদার বংশের প্রাচীন অষ্টধাতুর রাধা মাধবের মূর্তি  দেখে বরুন অবাক হয় এবং বুঝতে পারে যে সেই মূর্তি অনেক দামি ।

গ্রামে কাজ করতে করতে পাখির সঙ্গে বরুনের বেশ বন্ধুত্ব হয়ে যায় । পাখির মনে বরুনের প্রতি এক দুর্বলতার সৃষ্টি হয় এবং ক্রমে সেই দুর্বলতা প্রেমে পরিনত হয়। প্রথমে বরুন পাখির ডাকে সেভাবে সাড়া না দিলেও, একসময় তারও মনে পাখির প্রতি ভালোবাসার উদ্রেক ঘটে এবং তারা দুজনে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয় । জমিদারবাবু এই বিয়েতে সানন্দে সন্মতি দেন এবং বিয়ের দিন-ক্ষনও ঠিক হয়ে যায় । বিয়ের ঠিক আগের দিন বরুন তার সহকারি সহ উধাও হয়ে যায় গ্রাম থেকে এবং জানা যায় যে মন্দিরের অষ্টধাতুর মূর্তি বদলে দেওয়া হয়েছে, আসল মূর্তি চুরি হয়ে গেছে । বরুনের আসল উদ্দেশ্য ও পেশা এইভাবে প্রকাশিত হবার মানসিক ধাক্কা জমিদারবাবু মেনে নিতে পারেন না এবং হৃদ-রোগে তার মৃত্যু ঘটে ।

বিরতির পরের গল্পটা এখানে আর লিখছি না , দর্শকরা বরং হলে গিয়ে দেখে আসুন Vikramaditya Motwane-র পরিচালনায় দ্বিতীয় ছবি “LOOTERA” ।

বিক্রমাদিত্য-র প্রথম ছবি ” উড়ান  ”  বেশ প্রশংসা পেয়েছিলো বিদগ্ধ মহলে । নিজের দ্বিতীয় ছবিতে বিক্রমাদিত্য প্রমান করলেন যে তিনি সব ধরনের গল্পই অবলীলায় উপস্থাপনা করতে পারেন। আমি ঠিক বলতে পারব না এই ছবি বক্স অফিসে কতটা ব্যবসা করতে পারবে কিন্তু এটা বলে দিতে পারি যে আগামী ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে ‘LOOTERA ‘ বেশ কয়েকটি বিভাগে নমিনেটেড হবেই ।

যেমন এই ছবির চিত্রগ্রহণ এক কথায় অনবদ্য । অসামান্য কাজ করেছেন ছবির চিত্রগ্রাহক Mahendra Shetty। Period ফিল্ম-এর সিনেমাটোগ্রাফির কাজ করাটা সবসময়ই একটা চ্যালেঞ্জ আর সেই দায়িত্বে সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছেন মহেন্দ্র ।  বিশেষ ছবির শেষের দিকে যে দৃশ্যে নায়ক রনবীর গাছে উঠছেন হাতে আঁকা পাতা টি শুকিয়ে যাওয়া গাছে লাগানর জন্যে। অনবদ্য সেই দৃশ্যায়ন … পরিচালক এবং চিত্রগ্রাহক কে ধন্যবাদ এমন একটি দৃশ্য ছবির পর্দায় এমন রোম্যান্টিক মোড়কে  রূপদান করার জন্যে ।

আরেকটি শক্তিশালী বিভাগ হল এই ছবির সঙ্গিত । এই কথা আমরা জানি যে নবীন সঙ্গীত পরিচালক Amit Trivedi একের পর এক ভালো কাজ উপহার দিয়ে যাচ্ছেন আমাদের । এখানেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি, Amit Trivedi ও Amitabha Bhattacharya  যুগলবন্দী ( গান এবং কথা) ইদানীং হিন্দি ছবি তে দারুন সব গান উপহার দিচ্ছেন দর্শক দের, বাঙালি হিসাবে অমিতাভের জন্যে আমার গর্ব হয়, বাঙালি হয়ে তিনি যে সাবলীলতার সঙ্গে হিন্দি, উর্দু, পাঞ্জাবি লেখেন ।  Tripple A ( Amit Trivedi, Amitabha Bhattacharya & Arijit Singh ) একসঙ্গে দারুন কাজ করেছেন । ARIJIT -এর গাওয়া ” AN-KAHEE ”  গানটি কে  ছবির theme song বলা যেতে পারে ।

আরেকজনের কথা আলাদা করে বলতে হবে, তিনি হচ্ছেন পোষাক  পরিকল্পনায় Subarna Ray Chaudhury , নিজে বাঙালি  বলেই হয়তো SUBARNA বাঙালি বনেদিয়াণাকে তার পোষাকের মাধ্যমে এমন সুন্দরভাবে প্রকাশিত ও প্রস্ফুটিত করেছেন ।

Ekta Kapoor এবং  Anurag Kashyap যখন একসঙ্গে কোন ছবি প্রযোজনা করেন তখন সেই ছবি সম্পর্কে একটা উত্তেজনা তৈরি হয় বৈকি , যখন দুজন সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুর সিনেমা ব্যক্তি হাতে হাত মিলিয়ে একটি ছবি করেন । যদিও Vishaal Bharadwaj -এর সঙ্গে  EKTA -র কম্বিনেসন টা ঠিক জমেনি ( EK THI DAAYAN) কিন্তু LOOTERA -তে একতা ও অনুরাগ একসঙ্গে প্রযোজক রূপে কাজ করে দেখিয়ে দিয়েছেন যে সদিচ্ছে থাকলে কখনো কখনো তেলে জলেও মিশেল হতে পারে।

কমার্শিয়াল ছবির দর্শকদের হয়তো LOOTERA  একটু মন্থর গতির ছবি মনে হতে পারে কিন্তু সব গল্প তো আর দৌড়ে বেড়াতে পারে না তাই KAHAANI -র মতন ছবি যেমন থাকবে তেমনি LOOTERA-র মতন ছবিও থাকবে ।

 

Review of Lootera by: Sanjib Banerji

Enhanced by Zemanta

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!