Tollywood Bangla Movie Review: Alik Sukh; Rituparna Sengupta adds glamour to the medical profession

2
232
New Kolkata Tollywood Bangla movie

Tollywood Bangla Movie

 

এই প্রতিবেদন শুরু করার আগে একটা কথা জানিয়ে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছি, আমি অভিনেতা দেবশঙ্কর হালদার-এর (Debshankar Haldar ) একজন গুণগ্রাহী ভক্ত। দেবুদার এক একটি নাট্য চরিত্রচিত্রণ আমাকে মুগ্ধ করে রাখে, ভাবায়। তা সে ‘Aurangzeb’ হোক, রবীন্দ্রনাথের ‘গোরা ‘ হোক কিম্বা রুদ্ধসঙ্গীতের ‘ দেবব্রত বিশ্বাস ‘, দেবশঙ্কর হালদার দর্শক দের তার অভিনয় ক্ষমতা দিয়ে মাতিয়ে রাখতে সক্ষম হন । নাটক ছাড়াও সিনেমার পর্দায় তিনি বেশ কয়েকবার তার অভিনয় গুনে সিনেমার দর্শকদের মন জয় করেছেন । তার অভিনীত সিনেমা গুলির মধ্যে অন্যতম দুটি সফল ছবি পরিচালক অনিকেত চট্টোপাধ্যায় (Aniket Chattopadhyay) -এর প্রথম ছবি ” ছ – এ- ছুটি “, যেখানে তিনি এক মাতাল, চিত্রকারের ভুমিকায় এবং শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় – নন্দিতা রায়ের ‘মুক্তধারা’ , যে ছবিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন এক আদর্শ বান পুলিশ অফিসর -এর চরিত্রে । এই দুটি ভিন্ন ধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে দেবশঙ্কর হালদার বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি সিনেমাতে কাজ করতেও সমান স্বচ্ছন্দ ।

অভিনেতা দেবশঙ্কর হালদার সম্মন্ধে এতগুলো কথা বলে তবে ‘অলীক সুখ’ ছবিটা নিয়ে বলা শুরু করছি তার পেছনে একটা কারন আছে, বহু শৃঙ্গ অতিক্রম করে অভিনেতা দেবশঙ্কর হালদার এই ছবিতে এসে কিছুটা যেন থমকে দাঁড়ালেন । আমার সুচিত্রা ভট্টাচার্যের (Suchitra Bhattacharya) উপন্যাস টা পড়া হয়ে ওঠেনি তাই আমি গল্প টা যা দেখেছি, বুঝেছি, এই ছবি টা দেখেই জেনেছি, বুঝেছি । ডাক্তার কিংশুক এমন একটি চরিত্র, যে একটি সুক্ষ দড়ির উপর দাড়িয়ে আছে । এই চরিত্রটি যে পরিমান cinematic অভিনয় দাবি করে, দুর্ভাগ্য বশতঃ দেবশঙ্কর হালদার ‘অলীক সুখে’ সেটি দিয়ে উঠতে পারেননি । আমার মনে হয় অনেক চরিত্র নিয়ে একসঙ্গে কাজ করতে করতে দেবশঙ্কর বোধয় এই চরিত্র টির জন্যে আলাদা করে কোন হোমওয়ার্ক করতে পারেননি । এই সুত্রে আমার মনে পড়ছে সত্যজিৎ রায়ের ( Satyajit Ray ) লেখা চিত্রনাট্যে সন্দীপ রায়ের (Sandip Ray) ছবি ‘উত্তরন’ -এর কথা, যেখানে medical ethics সংক্রান্ত অনেক সংলাপ ছিল, আর এতেই বোঝা হয়ে গেছিলো অই গল্পটি লেখার আগে সত্যজিৎ ডাক্তার দের মনস্তত্ত্ব নিয়ে কতটা পড়াশুনা এবং রিসার্চ সেরে নিয়েছিলেন । উপন্যাস পড়া এক ব্যাপার, সেই উপন্যাস কে সিনেমার পর্দায় ফুটিয়ে তোলা আরেকরকম দায়িত্ব কারন সিনেমা এমন এক গনমাধ্যম, যার আছে নিজেস্য এক ভাষা, নিজেস্য এক ছন্দ। তাই হয়তো ‘নষ্ট নীড় ‘ -এর যেমন নিজেস্য এক আবেদন আছে, ঠিক তেমন ‘চারুলতা ‘-র- ও আছে । ‘অলীক সুখ ‘ -এর ক্ষেত্রেও এমনি এক treatment -এর প্রয়োজন ছিল, যা উপন্যাসের মূল সুর ও তাল টা কে visually translate করবে । কিন্তু আমার ‘অলীক সুখ’ দেখতে দেখতে একবারও সেই cinematic অনুভবটাই হয়নি । শুরু থেকেই কেমন যেন তাল কেটে গেছিলো কারন নার্সিং হোমে ভাঙ চুড় দৃশ্য টি ভীষণ artificial লেগেছে । সবার অভিনয় কেমন যেন ‘নকল’ লেগেছে আমার। সেটা যতটাই অভিনেতাদের ব্যর্থতা ঠিক ততটাই পরিচালকদ্বয়েরও কারন চিত্রনাট্যের খামতির দায় তাদের দুজনকেই নিতে হবে।

যারা ছবিটা দেখেনি, তাদের গল্প টি কে একটু ছোট করে বলে দেওয়া যাক –

কিংশুক একজন সফল ডাক্তার । বাবা মা, স্ত্রী রম্যানী ও ছেলে তাতান কে নিয়ে তার সুখের সংসার । তিনটে নার্সিং হোম , দুটো চেম্বার নিয়ে তার প্রত্যেক টা দিন কাটে অসম্ভব ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে । বাইশে জানুয়ারি তাদের বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে কিংশুক রম্যানী কে উপহার দিতে চায় তাদের স্বপ্নের ফ্ল্যাট আর সেই ফ্ল্যাটের কেনার আইনি কাজ কর্ম সারতে গিয়ে কিংশুক আটকে পড়ে এবং ঠিক সেই সময়েই তার এক রোগিণী কবিতার শারীরিক অবস্থা সংকট জনক হয়ে ওঠে । চেষ্টা করেও কিংশুক ঠিক সময়ে অপরেশন থিয়ে টরে পৌঁছতে পারেনা এবং কবিতা অপরেশন টেবিলে মারা যায় । কবিতার স্বামী ও আত্মীয়রা নার্সিং হোমে হামলা চালায় এবং প্রচুর ক্ষয় ক্ষতি হয় । এরপর থেকেই কিংশুক আর রম্যানীর আপাত সুখের সংসারে ফাটল ধরে ।  রম্যানীর জীবনে সর্বক্ষণের সঙ্গিনী হয়ে দেখা দিতে থাকে মৃতা কবিতার ছায়ারূপ (যা আসলে রম্যানীর-ই দ্বিতীয় সত্বা ), কবিতা রম্যানীকে এমন কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করায়, যা রম্যানী এতদিন দেখেও দেখেনি, বুঝেও বোঝেনি । এই অপ্রিয়, কড়া প্রশ্নগুলি কিংশুক এবং রম্যানীর মাঝে এক গভীর দুরত্বের সৃষ্টি করে । এই নিয়েই গল্প এগিয়ে চলে … বাকিটা আর এখানে লিখলাম না ।

ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ( Rituparna Sengupta) চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন এই ছবিতে, সিনেমায় অভিনয় করা মানেটা ঠিক কেমন ভাবে করা উচিৎ । তার এক একটি অভিব্যক্তি, সংলাপ ‘রম্যানী ‘ চরিত্রটি কে এক অন্য মাত্রা দিয়েছে । এখানে ঋতুপর্ণার অন্য এক চ্যালেঞ্জ ছিল কারন তার দুপাশে ছিলেন দেবশঙ্কর হালদার এবং সোহিনী সেনগুপ্তের ( Sohini Sengupta ) মতন দুজন দিকপাল অভিনেতা -অভিনেত্রী ।

‘পারমিতার একদিন’ ও ‘ইচ্ছে ‘ তে অসামান্য অভিনয়ের পরে ‘অলীক সুখ’ -এ সোহিনীর প্রতি বড় পর্দার দর্শকদের প্রত্যাশা ছিল অপরিসীম । সোহিনী আমার একজন প্রিয় অভিনেত্রী, “মাধবী ” এবং “কন্যাদান” নাটকে সোহিনীর মঞ্ছাভিনয় যেমন আমার মন কেড়ে নিয়েছিল, ঠিক তেমনই অপর্ণা সেন (Aparna Sen ) পরিচালিত ‘পারমিতার একদিন ‘ ও শিবপ্রশাদ মুখপাধ্যায় – নন্দিতা রায়ের পরিচালনায় “ইচ্ছে’ দেখে সোহিনীর প্রতি আমার মুগ্ধতা বৃদ্ধি পেয়েছিলো । কিন্তু এই ছবিতে সোহিনী সেঙ্গুপ্তের অভিনয় আমাকে ভয় পাইয়েছে, ভাবায়নি । রম্যানীর দ্বিতীয় সত্বা রূপে কবিতার আনাগোনা টা দর্শকদের মনে কষ্টের থেকে বেশি ভয়ের সঞ্চার বেশি করেছে, পুরো ব্যাপার টাই কেমন যেন ভৌতিক । অথেচ এই দৃশ্য গুলিতে দর্শকদের কষ্ট পাওয়াটাই উচিৎ ছিল আর সেটাই বোধয় চিত্রনাট্যের দাবিও ছিল । পরিস্কারভাবে বলা যায় যে সোহিনী সেনগুপ্তের অভিনয় ক্ষমতা কে এই ছবিতে শিবপ্রশাদ মুখপাধ্যায় – নন্দিতা রায় ( Shiboprosad Mukhopadhyay & Nandita Roy) পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারেনি ।

আরেকটি প্রশ্ন জেগেছে আমার মনে –  কারো দ্বিতীয় সত্বা (Alter Ego) কি তার আপন সন্তানের ক্ষতি করতে পারে? পার্কে ‘তাতানের’ দোলনা চড়ার দৃশ্যটা আমার কাছে অদ্ভুত লেগেছে কারন রম্যানী দেখতে পাচ্ছে যে কবিতা তাতানের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে । এই দৃশ্য টি আমার কাছে দুর্বোধ্য লেগেছে কারন এমন কাণ্ড রম্যানীর দ্বিতীয় সত্বা করতে যাবে কেন? তাতান তো তার আপন সন্তান ।

দেবশঙ্কর হালদার-এর অভিনয় নিয়েও এক-ই কথা বলা যায়, কিংশুকের গভীরে ঢুকতে তার কিছু সমস্যা হয়েছে আর পরিচালক দ্বয় দেবশঙ্কর কে রাস্তা দেখাতে পারেননি তাই কিংশুক চরিত্রে তার অভিনয় দর্শক দের মনে দাগ কাটতে পারেনি । এখানেই কিন্তু বাজি মেরে বেরিয়ে গেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, তার অভিনয় বাকি দুজনের কাজ কে ছাপিয়ে গেছে ।

একটি বিশেষ ভুমিকায় Soumitra Chatterjee অনবদ্য অভিনয় করেছেন, এমন একটি চরিত্র দর্শকদের মনের মণিকোঠায় থেকে যাবে চিরকাল । তার একটি সাংলাপ চার মিনিটে তুমি রোগীর রোগ বুঝবে ? না মন পড়বে ?” , দর্শক দের গভীর ভাবে ভাবায় ।

কিংশুকের বন্ধু আরেক ডাক্তারের ভুমিকায় সুমিত সমাদ্দার-ও ( Sumit Samaddar)  দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন । কবিতার স্বামীর চরিত্রে বিস্বনাথ এবং ছোট বোনের ভুমিকায় সায়নী ঘোষ ( Sayani Ghosh) বেশ সপ্রতিভ ।

ছবির চিত্রগ্রাহক শীর্ষ রায় (Sirsho Roy) বেশ ভাল কাজ করেছেন । সম্পাদক মলয় লাহা ( Molay Laha ) আরেকটু কৃপণ হলে ভাল করতেন কারন এই গল্পে ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় ব্যয় করাটা দর্শকদের কাছে খানিক ক্লান্তিকর । ছবিতে অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় (Anindya Chatterjee /Chandrabindoo) কণ্ঠে একটি বেশ মজার গান আছে ” I am M.B.B.S. ” , এই গানটি ইতিমধ্যেই বেশ জনপ্রিয় হয়েছে ।

পরিশেষে এটাই লিখবো , যে গুনগত মানের বিচারে “অলীক সুখ ” পরিচালকদ্বয়ের আগের ছবি ‘ ঈচ্ছে ‘ এবং ‘ মুক্ত ধারা ‘ -র ধারেকাছেও আসবে না কিন্তু তাও আমি শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এবং নন্দিতা রায় কে সাধুবাদ জানাব ‘ইচ্ছে ‘ , ‘মুক্তধারা ‘ , ‘ অ্যাকসিডেন্ট ‘ পরে এমন আরেকটি বিষয় নিয়ে ছবি করার জন্যে , যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা নিয়ে কথা বলে । শিবু ও নন্দিতাদি কে বলতে চাই ,  ভবিষ্যতে শুধু বিষয় নির্বাচন নয়, screenplay & treatment  নিয়েও আরেকটু যত্নবান হবেন ।

Tollywood Bangla Movie Review By:
Sanjib BanerjiSanjeeb Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and have written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.

Sanjib can be reached at sanjib@sholoanabangaliana.com

Enhanced by Zemanta

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!