Movie Review: Tasher Desh; Q still has a long way to go to make a mark with the masses

4
225
tasher desh

Tasher Desh দেখতে দেখতে আমার পরিচালক বন্ধু দেবাশিস সেন শর্মার একটা মন্তব্য বার বার মনে পড়ছিল …” রবীন্দ্রনাথ কে ভাঙতে গেলে আগে তাঁর জীবনদর্শনকে বুঝতে হবে । ”  আমি নিজে দর্শন শাস্ত্রের ছাত্র ছিলাম তাই এখানে ভারতীয় দর্শন শাস্ত্র নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই কারন ‘তাসের দেশ’ কে বুঝতে গেলে ভারতীয় দর্শন কিছুটা জানতে, বুঝতে হবেই নাহলে এই নৃত্যনাট্যের মূল ভাবধারাকে অনুধাবন অথবা অনুসরন কোনটাই অসম্ভব। ভারতীয় দর্শন মূলত চার বিভাগে বিভ্যক্ত – “চার্বাক” , ” ন্যায় “, “বৌদ্ধ ” এবং “সাঙ্খ্য”। ছএইএই চার শ্রেণীর দর্শনের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ‘বৌদ্ধ’ ও ‘সাংখ্য’ দর্শন নিয়ে প্রচুর পড়াশুনা করেছেন এবং সেই জ্ঞ্যান আরোহণ করে একের পর এক রচনা করেছেন ‘চণ্ডালিকা, ‘বাল্মীকি প্রতিভা’, “তাসের দেশের’-র মতন অপরূপ নৃত্যনাট্য। বৌদ্ধ দর্শন শোনায় অহিংসার বানী আর সাঙ্খ্য দর্শন বলে প্রকৃতি ও পুরুষের পারস্পরিক সহবস্থান তথা প্রেমের কথা। এই দুই দর্শনের মিস্রনে কবিগুরুর জীবনদর্শনের উদ্ভব ঘটেছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা, গান এবং নৃত্যনাট্য গুলিতে ‘ বৌদ্ধ ‘ ও ‘সাংখ্য’ দর্শনের প্রবল প্রভাব লক্ষ্যনীয় । তাসের দেশে রবি ঠাকুর নিয়মের ফাঁসে দাস তাস সম্প্রদায়কে শুনিয়েছেন ‘নিয়মের বাঁধ ভাঙার গান’। ত

গভীর সমুদ্রে তরী ডুবে যাওয়ার পরে রাজপুত্র ও তার বন্ধু তাসের দেশে পৌঁছে যায় এবং দেখে সেই দেশের বাসিন্দার রা নানান রকমের নিয়মের বেড়াজালে নিজেদের স্বাধীনতাকে বন্দি করে রেখেছে। এরপর রাজপুত্রের মাধ্যমে তাসের দেশে শুরু হয়ে যায় নিয়ম ভাঙার দুর্বার খেলা। প্রকৃতি এবং পুরুষের স্বাভাবিক সম্পর্ক -প্রেম কে গ্রহন করার মানসিক প্রসারতার অনুপ্রবেশ ঘটে নিয়মের ফাঁসে বন্দি তাসের দেশে।

এমন এক মিষ্টি মধুর প্রাকৃতিক প্রেম ও স্বাধীনতার রুপকথাকে পরিচালক Qaushiq Mukherjee  পুরোপুরি পথে বসিয়ে ছেড়েছেন । রবি ঠাকুরকে বোঝার মতন IQ কিম্বা EQ দুটোর কোনটাই বোধয় কলিযুগের এই Q-এর মধ্যে দূরবীন দিয়ে দেখলেও খুঁজে পাওয়া যাবেনা । Adaptation  এবং Tampering এই দুই শব্দের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে । Adaptation সুস্থ হলে মেনে নিতে মনে কোন প্রকার বাধা আসেনা কিন্তু tampering অর্থাৎ বিকৃত করাটা কে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায়না । সাঙ্খ্য দর্শন কে যদি চার্বাক দর্শনের নাম দেওয়া হয় তাহলে পুরো ব্যাপারটা বিকৃত হয়ে যেতে বাধ্য। কিন্তু এসব সুক্ষ রুচির পরোয়া করে Q ছবি বানান না বরং তার ছবির ফ্রেমে ফ্রেমে যথেচ্ছ অবাধ যৌনাচার এবং চরম অবাধ্য অসভ্যতার অশ্লীল বাড়াবাড়ি।

একটি দৃশ্যে রাজপুত্র যখন স্বাধীন হতে চাওয়া হরতনি কে গাঁজা (marijuana) ভরা সিগারেট খেতে দিচ্ছে আর পরের দৃশ্যে হরতনি আর ইস্কাবনির সমকামী যৌন সম্পর্ক দেখানো হয় তখন Q- কে বাঙালি ভাবতে লজ্জাবোধ হয়। আমি কিছুতেই ভাবতে পারছিনা কিভাবে NFDC (National Film Development Corporation of India) এমন একটি perverted ছবি produce করতে রাজি হল? আর কোন জাদুতে Indian Censor Board এমন এক ছবি কে ছাড়পত্র দিয়ে দিলো ? Nasseeruddin Shah যে কিভাবে নিজের ছেলে Immmaduddin Shah -কে এমন একটা c-grade cinema-তে কাজ করার অনুমতি দিলেন, সেটা আমার কাছে আরেক আশ্চর্যের বিষয়। শুনলাম Anurag Kashyap আর Anjan Dutt নাকি এই ছবি recommend করেছেন। যদিও কোন creative যুক্তিতে তারা এমন কাজ করলেন, আমার বোধগম্য হয়নি।

এই ছবির casting নিয়ে আমার কিছু বলার নেই কারন Srilankan অভিনেতা / অভিনেত্রীরা এই গল্পের সঙ্গে খাপ খায়নি। রাজপুত্র এবং তার বন্ধু ব্যবসায়ী পুত্রের চরিত্রে Saumyak Kanti DebBiswas ও Anubrata Basu পরিচালকের নির্দেশ অনুসরন করেছেন, তাই এই দুজনকে নিয়ে আলাদা করে লেখার কিছু নেই। রবি ঠাকুরের সৃষ্ট চরিত্র দুটির ‘ innocence কিম্বা romanticism কোনটাই তাদের অভিনয়ে ফুটে ওঠেনি। RII (Rituparna Sen)-র মধ্যে ভালো অভিনয়ের মশলা আছে কিন্তু তিনি তো আর Q ব্যতিত অন্য কারো ছবিতে অভিনয় করেন না, তাই তাকে হয়তো actress না হয়ে Seductress হয়েই কাজ করে যেতে হবে। Joyraj Bhattacharjee কে সুত্রধরের ভূমিকায় মানিয়েছে বেশ কিন্তু অভিনয়টা কেমন যেন তাল কাটা।

রবি ঠাকুরের সৃষ্টির এমন বিকৃত সংস্করন আমি সিনেমায় এর আগে কখনো দেখিনি। নষ্টনীড় আর চারুলতা তো এক নয় কিন্তু কই চারুলতা দেখে তো এতো বিরক্তির উদ্রেক ঘটেনি !!! Cinematography দেখে আমার মাথা খারাপ হবার জোগাড় হয়েছিল কারন দ্বিতীয় অর্ধে Camera যে পরিমান কেঁপেছে, আমার মনে হয়েছে Director Of Photography- কে বোধয় ছারপোকা-রা বিরক্ত করছিলো।

Q-এর ‘তাসের দেশে’ যেখানে এক সভ্য দেশের রাজপুত্র তাস দেশের বাসিন্দাদের স্বাধীনতার নামে অসভ্যতা শেখাচ্ছে, এমন তাসের দেশ কোন বাঙালি রবীন্দ্র -প্রেমি ছবির পর্দায় দেখতে পছন্দ করবে? আমার তো মনে হচ্ছিল তক্ষুনি প্রিয়া সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে আসি, কিন্তু তারপর মনে হল পুরো ছবিটা দেখে সবাইকে জানানো উচিৎ (যারা আমার লেখা film review পড়েন) কারন এই ছবি বাঙ্গালির ‘মনের’ শরীরের (mental health) পক্ষে যথেষ্ট ক্ষতিকর, শুধু ক্ষতিকর বললে কম বলা হয়, বলা উচিৎ ‘ভয়ংকর’।  Q নিজের ছবিকে বলেন “An Overdose Joint”, তা যা খুশি বলুন, যা ইচ্ছে করুন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে অন্তত নিস্তার দিলে কি হতো না ? রবি ঠাকুর কেও বিকৃত করে বিদেশে বিক্রি করার এই অপচেষ্টার তিব্র প্রতিবাদ করছি আমি … আপনারাও করুন ।

 

Tasher Desh (The Land of Cards) (You Tube)

 

Movie Review of Tasher Desh by:
Sanjib BanerjiSanjeeb Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and have written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.

Sanjib can be reached at sanjib@sholoanabangaliana.com

 

 

Enhanced by Zemanta

4 COMMENTS

  1. lekhata porlam, Cinemata o dakhbo, tarpor bojhajaabe koto ta choriyeche, tobe charano dakhte besh laage aamar.

  2. I’ve gone through the writing of Sanjeb. A always prefer his views, but for this movie I would like to watch it because fun always required, may be black fun also.

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!