Kolkata Theater Review: ‘Thana Theke Aschi’, Tollywood’s favorite comedian Kanchan Mullick in a serious role

0
210
kolkata theater

kolkata theater review

বিখ্যাত অভিনেতা তথা নাট্য-পরিচালক কৌশিক সেন (Kaushik Sen)-এর নাটকের দল “স্বপ্নসন্ধানীর” (Swapnasandhani) নবতম মঞ্চ প্রযোজনা “থানা থেকে আসছি”(Thana Theke Aschi) কাহিনীর ইতিহাস অত্যন্ত বর্ণময় । এই গল্পটি বাঙালির খুব প্রিয় আর তাই বোধয় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিচালকরা তাদের কাজের মূল বিষয় রূপে এই কাহিনী টিকে বেছে নিয়েছেন। এই কাহিনীর উৎপত্তি কিন্তু এদেশে না বিদেশে, প্রখ্যাত আমেরিকান গদ্য লেখক তথা নাট্যকার JB Priestley একটি সামাজিক নাটক রচনা করেছিলেন, যেটির “An Inspector Calls” । কালক্রমে সেই জনপ্রিয় ইংরাজী নাটকের অনুবাদিত সংস্করন অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ে।

বাংলার বামপন্থী নাট্যকার অজিত গঙ্গোপাধ্যায় (Ajit Ganguly) এই English নাটককে অবলম্বন করে লিখলেন বাংলা নাটক থানা থেকে আসছি। সেই সময়ের বাংলা বাণিজ্যিক ছবির সফল পরিচালক হিরেন নাগ অজিত গঙ্গোপাধ্যায়ের অনুবাদিত এই নাটককে নিয়ে এলেন বাংলা সিনেমার পর্দায়। ছবির নাম কিন্তু একই রয়ে গেলো “থানা থেকে আসছি” এবং সেই সিনেমায় অভিনয় করলেন সেই সময়ের বাংলা ছবির জগতের শীর্ষ-স্থানীয় তারকা-রা, যথা কমল মিত্র, ছায়া দেবী, অঞ্জনা ভৌমিক, দিলীপ মুখোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায় এবং সর্বোপরি স্বয়ং মহানায়ক উত্তমকুমার (Mahanayak Uttamkumar)।

tollywood comedian kanchan mullick

তারপর ১৯৭৮ সালে সেই নাটককে কলকাতার মঞ্চে নিয়ে এলেন শ্যামল সেন (Shyamal Sen), যিনি কৌশিক সেনের বাবা। শ্যামলবাবুর পরিচালনায় সেই নাটকে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন বহু প্রতিভাশালী অভিনেতা-অভিনেত্রী। অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় (Ajitesh Bandopadhyay), তৃপ্তি মিত্র, এন. বিশ্বনাথন, দেবরাজ রায়, চিত্রা সেন এবং কল্যাণী মণ্ডল, এরা সবাই মিলে মঞ্চে অভিনয় করে জমিয়ে দিলেন ‘থানা থেকে আসছি।‘ ছোট্ট কৌশিক তখন Class IV-এ পড়েন যখন তিনি তার বাবা মা কে ‘থানা থেকে আসছি’  নাটক নিয়ে কাজ করতে দেখেন এবং সেই সময় থেকে কৌশিকের ছোট্ট মনে এই নাটক এক গভীর ছাপ ফেলে।

এরপর সেদিনের সেই ছোট কৌশিক নিজেও অভিনয় তথা নাট্য-পরিচালনা কে পেশা রূপে বেছে নিলেন এবং তখনও থানা থেকে আসছি, কৌশিকের মাথায় থেকে গেছিলো। ২০১০ সালে ‘থানা থেকে আসছি’ -কে আবার ছবির বড় পর্দায় নিয়ে এলেন পরিচালক সারন দত্ত (Sharan Dutta)। এবারো সেই ছবিতে অভিনয় করলেন এখনকার প্রথিতযশা শিল্পীরা, যথা পাওলি দাম (Paoli Dam), রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh), পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (Parambrata Chattopadhyay), আলকনন্দা রায় (Alakananda Roy), শ্রাবন্তী বন্দ্যোপাধ্যায় (Srabanti Banerjee), দুলাল লাহিড়ী (Dulal Lahiri) এবং সব্যসাচী চক্রবর্তী (Sabyasachi Chakraborty)-র মতন তারকা-রা। যদিও এই নতুন ছবি পুরনো ছবির মতন বাণিজ্যিক সাফল্য পেলো না কিন্তু ২০১০ সালের এই ছবি কৌশিকের মাথার সেই ছোটবেলার পোকাটাকে আবার নড়িয়ে দিয়ে গেলো। তখন থেকেই তিনি ভাবতে শুরু করে দিলেন যে কিভাবে নিজের বাবা শ্যামল সেনের সেই ১৯৭৮ সালের নাটককে আবার নবরূপে মঞ্চে নিয়ে আসা যায়। কৌশিকের সেই ভাবনার ফলস্বরূপ আমরা ২০১৩ সালে বাংলার মঞ্চে আবার ফিরে পেলাম ‘থানা থেকে আসছি’-কে। স্বপ্নসন্ধানী প্রত্যেক বছর একটি নতুন নাটকের দ্বারা দর্শকদের মন জয় করে। ২০১২ সালে ‘ম্যাকবেথ’ (Macbeth) মঞ্চস্থ করে কলকাতার নাট্যপ্রেমীদের চমকে দিয়েছিলেন কৌশিক সেন।

tollywood actor Kaushik Sen

এবারের প্রযোজনা ‘থানা থেকে আসছি’ সেই ধারার ব্যতিক্রম হয়নি। উত্তেজনায় টান-টান হয়ে বসে শেষ পর্যন্ত দেখে যেতে হয় এই নাট্য প্রযোজনা। অভিনয়ে কৌশিক সেন নিজে ছাড়াও আছেন তার প্রতিভাময়ী স্ত্রী রেশমী সেন (Reshmi Sen) এবং আমাদের সবার প্রিয় কাঞ্চন মল্লিক। অঞ্জন দত্তের (Anjan Dutt) একটি গানকে খুব সুন্দরভাবে ব্যবহার করে হয়েছে নাটকে। আলোকসজ্জায় তথা পরিকল্পনায় মহম্মদ আলী খুব ভালো কাজ করেছেন।

বর্তমান সামাজিক তথা রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে কৌশিক নাটকের সংলাপে কিছু পরিবর্তন এনেছেন, যেখানে কংগ্রেস (Congress), সি.পি.আই.এম (C.P.I.M) তথা পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) শিল্পায়নের (Industrialization) কথা বারবার তুলে আনা হয়েছে। সংলাপে এমন পরিবর্তন বর্তমান সময়ে নাটকের উপযোগিতা বৃদ্ধি করেছে কারন এই গল্পের পটভূমিকায় রয়েছে শহরের এক উচ্চবিত্ত পরিবার, যে পরিবারের কর্তা শিল্পপতি চন্দ্রমাধব সেন। চন্দ্রমাধব সেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের ঘিরেই ঘূর্ণাবর্তের মতন প্রদক্ষিণ করেছে নাটকের কাহিনী। চন্দ্রমাধবের কন্যা তৃনার engagement-এর রাতে সেন পরিবারে ধূমকেতুর মতন উদয় হন পদ্মপুকুর থানার Sub-Inspector  তিনকড়ি হালদার (Teenkari Halder)। শহরের একপ্রান্তে ঘটে যাওয়া এক মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনার তদন্তে এসে তিনকড়ি একে একে জেরা করেন চন্দ্রমাধব, তার স্ত্রী বন্দনা, তাদের মেয়ে তৃনা, ছেলে ইন্দ্র এবং হবু জামাই তমালকে। এই জেরা যে নির্মম সত্যি বেরিয়ে আসে, তা পরিবারের ভিত তথা পারস্পরিক সম্পর্ক গুলিকে বিবেকের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দেয়। জানা যায় যে মেয়েটি আত্মহনন করেছে, তার সেই অন্তিম সিদ্ধান্তের পিছনে সেন পরিবারের সবারই কিছু না কিছু দায় স্বীকার করে নেওয়ার আছে। এই অপরাধের দায় থেকে তৃনার ভাবি স্বামী তমালকেও বাদ দেওয়া যায়না। তারপর কি হয়? যদি আপনি জানতে চান তাহলে টিকিট কেটে পৌঁছে যান Academy of Fine Arts auditorium, Girish Manch কিম্বা Madhusudan Mancha-তে, যেদিন Thana theke aschhi-র show  থাকবে। আমি অভিজ্ঞ্যতা থেকে বলতে পারি যে এই নাটক আপনাদের ভালো লাগবেই।

চন্দ্রমাধবের ভূমিকায় কৌশিক সেন অনবদ্য অভিনয় করেছেন। তার স্ত্রীর চরিত্রে রেশমি সেন যথাযথ। এই নাটকের মূল আকর্ষণীয় দিক আছে তিনকড়ি হালদারের ভূমিকায় অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিকের (Kanchan Mullick) অসামান্য অভিনয়। তিনকড়ি হালদারের মতন এক author backed চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে কাঞ্চনের সামনে মানসিক বাঁধাও ছিল।

এই চরিত্রে আগে যে অভিনেতারা অভিনয় করেছেন, সেই তিন অভিনেতাই ছিলেন স্ব-স্বক্ষেত্রে Megastars !!! উত্তমকুমার, অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সব্যসাচী চক্রবর্তী, এই তিন অভিনেতাকেই দর্শকরা এমন এক মর্যাদার আসনে বসান, যে আসন কে বলা চলে ‘Larger than life’ কিম্বা STARS … কাঞ্চন মল্লিক নিঃসন্দেহে একজন প্রতিভাবান অভিনেতা, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই কিন্তু তিনি তো আর স্টার নন।

এই বিষয়ে নাটকের পরিচালক কৌশিক সেনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন যে আমি ইচ্ছে করেই নাটকে নিজে তিনকড়ি হালদারের চরিত্রটা করবো না সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কারন এর আগে তিনবারই পুলিশের চরিত্রটিতে যে  অভিনেতারা অভিনয় করেছেন, তারা প্রত্যেকেই কোন না কোনদিক থেকে নায়কোচিত এবং আমায়ও অনেকসময় ছবিতে কিম্বা নাটকে নায়কের চরিত্রে অভিনয় করতে হয়। তাই পরিচালক হয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে এমন কেউ তিনকড়ি হালদার-এর ভূমিকায় অভিনয় করুক, যে একটু অন্যধরনের অভিনেতা, যেমন কাঞ্চন মল্লিক।

 

Kolkata Theater Review By:
Sanjib BanerjiSanjeeb Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and have written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.

 

 

Enhanced by Zemanta

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!