Satwanyeshi Movie Review: Sujoy Ghosh as Rituparno Ghosh’s Byomkesh is quite disappointing

1
175
Rituparno Ghosh film Satyanweshi

Rituparno ghosh film satyanweshi

বাঙ্গালির অত্যন্ত কাছের চরিত্র ‘ব্যোমকেশ’ (Byomkesh Bakshi) যখন বাংলার তথা ভারতবর্ষের গর্ব ঋতুপর্ণ ঘোষের (Rituparno Ghosh) ছবির বিষয় হয়েছিলো তখন বাঙালির জল্পনা তুঙ্গে উঠে গিয়েছিলো। এরপর ঋতুদা যখন সংবাদমাধ্যম কে জানান যে ব্যোমকেশ চরিত্রে অভিনয় করার জন্যে তিনি নির্বাচন করে রেখেছেন আরেকজন কৃতী বাঙালি পরিচালক সুজয় ঘোষ (Sujoy Ghosh)-কে তখন দর্শকদের উত্তেজনার সীমাহীন হয়ে গেছিলো। এরপর অজিত চরিত্রে Chandrabindoo Bangla Band খ্যাত অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় (Aninda Chatterjee) কে নির্বাচন করে ঋতুদা আবার বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি আরেকবার প্রথা ভাঙ্গার খেলায় মেতেছেন কারন অজিতকে আমরা ব্যোমকেশ প্রেমীরা যেভাবে ভেবে এসেছি , সেই ভাবনার সঙ্গে অনিন্দ্য-র চেহারাকে মেলানো যায়না।  তারপর আস্তে আস্তে  ঋতুদা যখন ছবির অন্যান্য চরিত্রে ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত (Indraneil Sengupta), অর্পিতা চট্টোপাধ্যায় (Arpita Chatterjee),আনন্দি ঘোষ (Anandi Ghosh), শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায় (Sibaji Bandopadhyay) প্রমুখ কে নিয়ে নিজের টিম সাজালেন তখন আমরা ভেবেই নিয়েছিলাম যে “সত্যান্বেষী “ বাংলা রহস্য ছবির ইতিহাসে এক পথিকৃৎ স্বরূপ হয়ে দাঁড়াবেই।

bomkesh bakshi satyanweshi

এরপর এল সেই কালো দিন 30th May 2013, সেদিন সমগ্র কলকাতাকে (Kolkata) চোখের জলে ভাসিয়ে চিরদিনের জন্যে অমৃতলোকে পাড়ি জমালেন আমাদের সবার প্রিয় ঋতুদা। তার এই আচমকা চলে যাওয়ার ঠিক আগের দিন-ই ঋতুদা শেষ করেছিলেন তার অন্তিম ছবি “সত্যান্বেষী”-র শুটিং। প্রযোজক সংস্থা শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস যখন জানালো যে ঋতুদার শেষ ছবি তার জন্মদিনের দিন মুক্তি পাবে, তখন বাঙালি মনে মনে তৈরি হয়েছিলো ঋতুদার অন্তিম কাজকে ফুলের মালায় বরন করে নেবে বলে। সেই আশায় দর্শকরা দিন গুনছিল। যখন ছবির মুক্তি এক সপ্তাহ পেছিয়ে গেলো তখন বাঙালির ধৈর্য বাঁধ ভাঙ্গার মতন পরিস্থিতিতে উপনীত হয়েছিলো। বাঙালি পাগলের মতন অপেক্ষা করছিলো ব্যোমকেশ রূপী সুজয়কে সিনেমার পর্দায় দেখার জন্যে, ঋতুদার শেষ ছবিকে চোখের জলে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যে।

rituparno-ghosh last film

অবশেষে এলো সেই দিন, ৬ষ্ঠ সেপ্টেম্বর /6th September 2013 … মুক্তি পেলো সবার সাধের “Satwanyeshi” !!! উত্তেজনায় টগবগ করতে করতে Priya Cinema হলে গিয়ে বসলাম নতুন ব্যোমকেশ -কে দেখতে। কিন্তু এ যেন শুরু থেকেই ছন্দপতন। সুর, তাল, লয় সবকিছুই যেন কেমন গুলিয়ে যাচ্ছিলো, বুঝতে পারছিলাম না এই ছবিটা কে ঠিক কিভাবে বিশ্লেষণ করবো। ঋতুপর্ণ ঘোষের অন্তিম ছবি হিসাবে নাকি বাংলা ছবির ইতিহাসে আরো একটি ব্যোমকেশ বক্সীর গল্পের চিত্ররূপ হিসাবে।

Rituparno Ghosh’এর অন্তিম ছবি হিসাবে ভাবতে চাইলে হৃদয়ের প্রবল আবেগ হয়তো বিচার বুদ্ধি কে চালিত করে ফেলতো, তাই চেষ্টা করলাম বাকি দু ঘণ্টার জন্যে পরিচালকের নামটা মনের কোন এক কুঠুরিতে বন্ধ করে রাখবো, যাতে সেই নাম তথা নামের আবেগ কিছুতেই মাথায় না চড়ে বসে। সিদ্ধান্ত নিলাম যে “সত্যান্বেষী” -কে শুধুমাত্র ‘ব্যোমকেশ’-এর চিত্ররূপ হিসাবেই বিচার করবো। তারপর কাজটা খুব-ই সহজ হয়ে গেলো।

এই নতুন “সত্যান্বেষী” -কে ঋতুদার ছবি বলে মনেই হয়নি আমার। ভাবতে খুব কষ্ট হচ্ছে যে বাংলা সিনেমার ইতিহাস এই ছবিটাকেই ঋতুপর্ণ ঘোষের অন্তিম ছবি রূপে স্বীকৃতি দেবে। না!!! আমি যে ঋতুদাকে চিনতাম, জানতাম তার ছবি বলে মনেই হয়না “সত্যান্বেষী” -কে। একথা বলা যেতেই পারে যে কোন এক “অন্তরমহল”-এর পরে এই “সত্যান্বেষী” -ই পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের নিকৃষ্টতম ছবি। এই ছবিতে ঋতুদার ক্ষুরধার মেধার এবং পড়াশুনার ঝলক খুঁজতে যাওয়াই দুস্কর।

এক এক করে বলা যাক, প্রথমেই আসি ব্যোমকেশ বক্সী সুজয় ঘোষের কথায়। Mumbai-এর ধুরন্ধর Bollywood Movie পরিচালক সুজয়ের এটাই প্রথম বড় পর্দায় অভিনয়। কাহানি সুপারহিট করার পরে বাঙালি সুজয়কে নিয়েও কম গর্ববোধ করেনা এবং ব্যোমকেশ বক্সী তো বাঙ্গালির খুব কাছের চরিত্র। কাল্পনিক হলেও বাঙালি ব্যোমকেশ-কে রক্ত মাংসের মানুষ ভাবতেই বেশি পছন্দ করে। এর আগে সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Ray) ‘চিড়িয়াখানা’ (Chiriakhana – The Zoo) ছবিতে ব্যোমকেশ রূপে মহানায়ক উত্তমকুমার জাতীয় পুরস্কার পেলেও, সাধারন দর্শকদের মন জিততে পারেননি কারন তিনি উত্তমকুমারের খোলস থেকে বেরিয়ে ব্যোমকেশ হয়ে উঠতে পারেননি। তারপর আবার বড় পর্দায় ব্যোমকেশ হলেন শুভ্রজিত দত্ত, ছবির নাম “মগ্ন মৈনাক” কিন্তু সেই ছবি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়লো। এরপরের ব্যোমকেশ আবির চট্টোপাধ্যায় কিন্তু তার অভিনয় গুনে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন দুটি ছবিতে। এই সাফল্য যতটা না পরিচালক অঞ্জন দত্তর গুনে এসেছে, তার থেকে অনেক বেশি এসেছে আবিরের নিজের অভিনয় গুনে।

যাই হোক, আর suspense না বাড়িয়ে বলে ফেলি যে সুজয় ঘোষ চেষ্টা করেও ব্যোমকেশ হয়ে উঠতে পারলেন না। এর বেশ কিছু কারন আছে, প্রথমত সুজয়ের কণ্ঠস্বর খুব পাতলা, এতটাই সরু /shrill সেই স্বর যে তা কানে এসে ধাক্কা দেয় … না ব্যোমকেশের কণ্ঠস্বর baritone হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই কিন্তু একটা গাম্ভীর্যের দরকার আছে বৈকি। সেটা না থাকলে ব্যোমকেশ জীবন্ত হয়ে ওঠেনা, ঠিক যেমনটা হয়েছে এই ছবিতে। সুজয় যখনই কথা বলেছেন, কখনই সেই বলা কথাগুলো বিশ্বাসযোগ্য লাগেনি, তাই দর্শকমনে দাগ-ও কেটে যায়নি। দ্বিতীয়ত, সুজয়ের হাঁটা, ছলা, ওঠা, বসা সবকিছুই বেশ stiff … তাকে মাঝেই মাঝেই কথা বলা পুতুল বলে মনে হচ্ছিলো। সবকিছুই যেন কেমন যেন মাপ যোগ করে হিসাব মতন করে করা। কতটা হাসব, কতটা উঠবো, কখন বসবো … পুরোটাই মনে হয়েছে ঋতুদার অঙ্ক কষে ছকে দেওয়া। তাই সুজয় নিজের মতন করে কাজটা করতে পেরেছেন বলে আমার মনে হয়নি কারন অমন একজন কৃতী পরিচালকের নিজেস্য কিছু চিন্তা ভাবনা থাকাটাই স্বাভাবিক কিন্তু সুজয় নিজেকে অভিনেতা হিসাবে ঋতুদার হাতে সম্পূর্ণভাবে সমর্পণ করে দিয়েছিলেন। আমার মনে হয়েছে ব্যোমকেশ বক্সী হয়ে উঠতে গেলে নিজেস্য কিছু ভাবনা থাকাটা ভীষণ প্রয়োজন। এ ছাড়াও সুজয়ের বাংলায় একটা প্রবাসী টান আছে, যেটা এই চরিত্রের সঙ্গে খাপ খায়নি। সুজয়কে ব্যোমকেশ চরিত্রে অভিনয় করতে দেখার পরে আবিরকে যেন আরও বেশি ব্যোমকেশ চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম / appropriate বলে মনে হচ্ছে।

অজিত চরিত্রে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করার আপ্রান চেষ্টা করেছেন অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় (Aninda Chatterjee)। ঋতুদা অজিত কে এক নতুন আঙ্গিকে আনতে চেয়েছেন এই ছবিতে। অজিত এখানে শুধু একজন সহকারি নয়, সে নিজেও একজন বিচক্ষণ “সত্যান্বেষী” এবং ব্যোমকেশের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সে রহস্যের সমাধান করে এবং সে আদতে একজন রোম্যান্টিক পুরুষ। এই নতুন অজিত কে বাঙালি দর্শক কেমনভাবে গ্রহন করে, সেটাই এখন দেখার। হয়তো শাস্বত চট্টোপাধ্যায়ের (Saswata Chatterjee) মতন কেউ থাকলে, এই অজিতকে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য বলে মনে হতো কিন্তু অনিন্দ্যের অভিনয়ে সেই তীক্ষ্ণতা বা romanticism কোনটাই প্রতিফলিত হয়নি। ছবি দেখতে দেখতে বারবার অপুদার অভিনয়ের কথা মনে পড়ছিল।

বাকি চরিত্র গুলিতে যারা অভিনয় করেছেন, তারা সবাই যথাযথ কাজ করেছেন, যদিও সঞ্জয় নাগ (Sanjay Nag)-এর কণ্ঠদান করেছেন সুমন্ত মুখোপাধ্যায় (Sumanta Mukherjee) এবং মহারাজা অরুনাংশু চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন, সেই ভদ্রলোকের ডাব করে দিয়েছেন দীপঙ্কর দে (Dipankar Dey)। এতো ডাবিং যখন করতেই হল, তখন সুজয়ের গলাটাও ডাব করিয়ে নিলে যে কোন মহাভারত অশুদ্ধ হত, সেটা আমার বোধগম্য হলনা। ইন্দ্রনীল এবং অর্পিতা দুজনেই মোটামুটি ভাবে নিজেদের কাজ সম্পন্ন করেছেন।

আলাদা করে বলতে চাই দুজনের কথা – একজন হচ্ছেন কালীগতির চরিত্রে প্রফেসর শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায় (Sibaji Bandopadhyay)। ভদ্রলোক এমন অভিনয় করেছেন, যে শুধু তার অভিনয় দেখার জন্যেই এই ছবি একবার দেখা যায় এই ছবি। কালীগতির চরিত্রে শিবাজীবাবুকে নির্বাচন বোধয় এই ছবিতে ঋতুপর্ণ ঘোষের signature mark। শিবাজীবাবু ছাড়া আমার নজর কেড়েছে যিনি হরিনাথের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যদিও আমার অভিনেতার নামটা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না বলে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

দেবজ্যোতি মিশ্র (Debajyoti Mishra) খুব ভালো কাজ করেছেন সঙ্গীত পরিচালক রূপে। হরিনাথের কণ্ঠে মনোময় ভট্টাচার্য-এর গাওয়া সংস্কৃত শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ঘরানার গানগুলি এককথায় অনবদ্য। Director of Photography অভিক মুখোপাধ্যায়য়ের (Aveek Mukhopadhyay) চিত্রগ্রহণ (camerawork) খুব ভালো, এক একটি frame যেন landscapes.

যার সমলচনা আমি এই review -তে সবচেয়ে বেশি করবো, তিনি হচ্ছেন এই ছবির সম্পাদক(Editor) অর্ঘকমল মিত্র (Arghyakamal Mitra), এই ছবি দেখলে পুরোপুরি ভাবে অনুধাবন করা যায় যে একটি Cinema-র সম্পাদনার প্রতি-পদে কেন সেই ছবির Director-কে প্রয়োজন পড়ে। কারন shooting শেষ হাওয়া মানে কিছু মুহূর্তেকে ক্যমেরাবন্দি করে ফেলা কিন্তু ছবির আঁতুড়ঘর (maternity home) হচ্ছে Editing Studio, যেখানে সেই collage of various moments, captured from various angles-গুলিকে এক-সূত্রে গেঁথে ফেলতে হয় সম্পাদককে এবং এক কাজে তার পাশে থাকতেই হয় ছবির পরিচালককে because The Director essentially happens to be the father of his own film।

আমার মনে হয়েছে ঋতুদার অকালপ্রয়ানে সম্পাদক অর্ঘকমল এতোটাই বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন, যে সম্পাদনা করার সময় তিনি fluently নিজের কাজটা করতে পারেননি, he suffered from an intellectual vacuum কারন যখনই তার কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার পড়েছে, সেই সিদ্ধান্ত তাকে একলাই নিতে হয়েছে, অপেক্ষা করেও কানে ভেসে আসেনি সেই চিরপরিচিত typical ঋতুপর্ণ সুলভ স্নেহশীল মৃদু বকুনি বোকার মরন !!! এই সমস্যাটা আমাকে আগে জানাসনি কেন রে? দাঁড়া, আমি দেখছি কিভাবে কি করা যায়..

 

Enhanced by Zemanta

Satyanweshi Theatrical Trailer ( Satyanweshi ) (Bengali) (2013) ( Full HD) (You Tube)

 

 

Sanjib BanerjiSanjeeb Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and have written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!