Nayika Sangbad Movie Review; Excellence in storytelling, script content and performance making the movie a ‘Must Watch’

15
316
nayika-sangbad

nayika sangbad

Director Bappaditya Bandopadhyay’s “Nayika Sangbad” surpasses Aparna Sen’s “Iti Mrinalini” & Madhur Bhandarkar’s “Heroine” with élan. All the three recently released movies have film industry as their common backdrop and narrate the tragic story about a ‘Heroine” and her struggles with stardom & failed personal life. Though the earlier two releases had better star casts and prestigious banners and were directed by two most celebrated directors, Bappaditya’s “Nayika Sambad” excelled in the departments of storytelling, script content & performance. This new Bengali movie marked the grand comeback of a versatile actress Arunima Ghosh, who was mysteriously missing from Tollywood for the last 4 years at the least. Thanks Bappaditya Bandopadhyay for zeroing down on Arunima Ghosh ahead of Paoli Dam or someone of similar stature.

 

প্রথমেই পরিচালক বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় /Bappaditya Bandopadhyay কে একটা বড় ধন্যবাদ দিয়ে লেখাটা শুরু করি। ধন্যবাদ দিলাম দুটি কারনে। প্রথমতঃ, কাল, কাঁটাতার, হাউজ ফুল, কাগজের নৌকো-র মতন অন্যঘরানার ছবি করার পরে এই প্রথম সাধারন দর্শকদের জন্যে একটি ছবি বানালেন। দ্বিতীয় কারন হচ্ছে অরুণিমা ঘোষ-এর মতন একজন প্রতিভাময়ী তথা সুন্দরী অভিনেত্রী-কে আবার নায়িকা রূপে দর্শকদের দরবারে এনে হাজির করলেন। ‘নায়িকা সংবাদ’ ছবিটির আগা গোঁড়াই যথেষ্ট উপভোগ্য কারন ছবিটিতে একটি সুস্থ স্বাভাবিক বাণিজ্যিক ছবির সমস্ত মশলা ঠিক ঠিক পরিমানে মেশানো হয়েছে, তেমন বাড়াবাড়ি কোথাও করা হয়েছে বলে আমার অন্তত চোখে পড়েনি। যদিও ছবির চিত্রনাট্য তথা কাহিনীর প্রবাহ এবং ধারা নিয়ে কিছু সমলোচনার জায়গা থেকেই গেছে, তাও আমার মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করে নিতে দ্বিধা নেই যে বাপ্পাদিত্য-র এই ছবি, সাম্প্রতিক কালে মুক্তিপ্রাপ্ত অপর্ণা সেন / Aparna Sen-এর “ইতি মৃণালিনী” (বাংলা) এবং মধুর ভনডরকর /Madhur Bhandarker-এর “হিরোইন /Heroine”, দুটি ছবিকেই টেক্কা দিয়ে বিজয়ী হয়েছে। এই দুটি ছবির উল্লেখ করলাম কারন এই দুই ছবির বিষয় ছিল নায়িকা কেন্দ্রিক এবং কাহিনী গড়ে উঠেছিলো ছায়াছবির রূপোলী জগতকে সামনে রেখে। শুধু বাপ্পাদিত্য নয়, নায়িকা অরুনিমা ঘোষ -ও কঙ্কনা সেন শর্মা (Konkona Sen Sharma) এবং করিনা কপুর (Kareena Kapoor) বলিউডের দুই প্রথিতযশা তারকা নায়িকাকেই অভিনয়ের খেলায় অবলীলায় হারিয়ে দিয়ে, বড় পর্দায় নিজের অনন্য দক্ষতার সাক্ষর রেখেছেন। তাই আমার কাছে ‘নায়িকা সংবাদ’-এর তাৎপর্য সুদুরপ্রসারী। আশা রাখলাম এরপর বাপ্পাদিত্য তার আগামী ছবিগুলি ঠিক এমনভাবেই সাধারন দর্শকদের কথা মাথায় রেখে করবেন।

এবার ‘নায়িকা সংবাদ’-এর গল্পটিকে পাঠক/পাঠিকাদের স্বার্থে একটু জানিয়ে রাখি। বাংলা ছবির নায়িকা দিয়া মুখোপাধ্যায় আকস্মিকভাবে কলকাতা থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। এই রহস্যময় অন্তর্ধানের তদন্ত করতে শুরু করে বাংলা খবরের কাগজ ‘দৈনিক সুপ্রভাত’-এর সাংবাদিক নিখিলেশ বন্দ্যোপাধ্যায় (সমদর্শী দত্ত)। দিয়া-র সম্বন্ধে খোঁজ করতে, করতে নিখিলেশ পৌঁছে যায় বাংলা ছবির সুপারস্টার বিজিত-এর কাছে। এই নায়ক বিজিত-এর সঙ্গে নায়িকা দিয়া-র কোন এক সময় প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্ক যদিও এখন সুদুর অতীত এবং বর্তমানে বিজিত-এর প্রেমিকা হচ্ছে বাংলা ছবির সেক্সি তরুণী নায়িকা ‘অনুরাধা’। দিয়া-র ব্যপারে খবরাখবর সংগ্রহ করতে, করতে নীখিলেশ আরো জানতে পারে যে বিজিত শুধু দিয়া নয়, দিয়ার আগে এবং পরেও,আরো বেশ কয়েকজন সুন্দরী নায়িকার সঙ্গে সম্পর্কস্থাপন করেছে, শুধু নিজের শারীরিক ক্ষুধা চরিতার্থ করতে। খুব বেশিদিন একজন নায়িকাকে বিজিতের ভালো লাগেনা। এই তদন্তের রেশ ধরেই নীখিলেশ ধীরে ধীরে সংগ্রহ করে ফেলে এমন কিছু চমকে দেওয়ার মতন তথ্য, যেগুলি সন্মিলিতভাবে নায়িকা অন্তর্ধান রহস্যের মোড়টাই ঘুরিয়ে দেয়। নিখিলেশ তার কাজের মধ্যমে একে একে জানতে পারে যে দিয়া-র জীবনে শুধু বিজিত নয়, জড়িয়ে ছিল একজন নবাগত নায়ক, এক নামী ব্যবসায়ী তথা প্রযোজক এবং একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। দিয়া কি বেঁচে আছে? সে কি আত্মহত্যা করেছে মানসিক অবসাদের কারনে? কোন সত্য ঢাকতে দিয়াকে কি হত্যা করা হয়েছে? নাকি দিয়া স্বেচ্ছায় কোথাও আত্মগোপন করেছে? একজন নামি নায়িকার হঠাৎ হারিয়ে যাওয়ার কি কারন থাকতে পারে? এইসব রহস্যময় প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে মরিয়া হয়ে ওঠে নিখিলেশ। ঠিক এই জায়গাটিতে এসেই মূল কাহিনী খানিক খেই হারিয়ে ফেলে এবং দর্শকদের চোখে ধরা পরে যায়, চিত্রনাট্যের কিছু দুর্বলতা। এর পেছনে দুটি কারন থেকে থাকতে পারে।  (এক): বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় গল্পের সামাজিক প্রেক্ষাপট-টিকেই বেশি গুরুত্ত্ব দিয়েছেন, রহস্য কাহিনীর মতন করে ভাবতে চাননি তিনি। (দ্বিতীয়): বাপ্পাদিত্য রহস্য কাহিনীর চিত্ররূপ দিতে অভ্যস্ত নন তাই অনভ্যস্ত হাতে পারে ‘নায়িকা সংবাদ’-এর রহস্যময়তার রসহানি ঘটেছে। কারন যাই হোক না কেন, ‘নায়িকা সংবাদ’-এর মধ্যে একটি ভালো জাতের রহস্য ছবি হয়ে ওঠার সবরকম উপাদান মজুত ছিল এবং বাঙালি দর্শক হয়তো বা ঋতুপর্ণ ঘোষ / Rituparno Ghosh-এর ‘শুভ মহরতের’ পরে একটি ভালো বাংলা সিনেমা ভিত্তিক রহস্য ছবি পেলেও পেতে পারতো কিন্তু বাপ্পাদিত্য তার ছবিটিকে সমাজভিত্তিক ছবি রূপেই আটকে রাখলেন। এই নিয়ে আমার বেশ কিছুটা আক্ষেপ রয়ে গেলো।

অরুনিমা-র কথা শুরুতেই অনেক বলে ফেলেছি, তাই এবার অন্যদের কথাও একটু বলি। বিজিত-এর ভুমিকায় ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত ,  ‘ C/o Sir’-এর পরে আরো একবার নেগেটিভ চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন। বিজিত একাধারে দারুণ স্মার্ট এবং মেয়েদের কাছে অত্যন্ত মোহময় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। বিজিত চরিত্রের দুই গুরুত্বপূর্ণ দিকই ইন্দ্রনীলের অভিনয়ে ভীষণভাবে ফুটে ঊঠেছে। Indraneil Sengupta / ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত-এর চেহারাও তাকে বিজিত হয়ে উঠতে সাহায্য করেছে। একটি ছোট্ট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে এমন অভিনয় করেছেন লকেট চট্টোপাধ্যায় /Locket Chatterjee, যে তার এই সংবেদনশীল অভিনয় দর্শকদের মনে দাগ কেটে যাবেই, এই কথা আমি বিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি। আরেকজনের কথা উল্লেখ না করলে, তার কাজের প্রতি অন্যায় করা হবে, তিনি হচ্ছেন থিয়েটর জগতের বর্ষীয়ান অভিনেতা গৌরীশঙ্কর পাণ্ডা। এক নামি যাত্রাদলের অধিকারীর ভূমিকায় গৌরীবাবু দুর্দান্ত কাজ করেছেন। অনুরাধা-র চরিত্রে মুমতাজ সরকার/Mumtaz Sorcar-কে একটু বেমানান লেগেছে কারন তার চেহারা এবং ব্যক্তিত্ব ‘অনুরাধা’-র মতন স্বার্থপর তথা সেক্সি চরিত্রের সঙ্গে খাপ খায়নি। অনুরাধা চরিত্রে তনুশ্রী চক্রবর্তী /Tanushree Chakraborty কাজ করলে আমার মনে হয় ‘অনুরাধা’-র প্রানসঞ্চার ঘটতো। নিখিলেশ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ভূমিকায় সমদর্শী দত্ত  (Samadarshi Dutta) নিজের মতন করে চরিত্রটি কে বুঝে নিয়ে অভিনয় করেছেন এবং তার কাজ দেখে একবারও মনে হয়নি যে তিনি অভিনয় করছেন, এতোটাই সাবলীল সমদর্শীর অভিনয়। সংবেদনশীল দর্শক কখন যে নিখিলেশের সঙ্গে একাত্মবোধ করতে শুরু করবেন, সেটা তারা নিজেরাও বুঝে উঠতে পারবেন না। সমদর্শী নিঃসন্দেহে এই মুহূর্তে টালিগঞ্জের সবথেকে প্রতিভাময় নবীন নায়ক। পরিচালকদের উচিৎ সমদর্শী কে সঠিকভাবে ব্যবহার করা কারন তার মতন সংবেদনশীল ব্যক্তিত্ব এবং গভীর চোখ আর কোন নবীন নায়কের মধ্যেই নেই।

নায়িকা সংবাদ-এ মোট ৩-টি গান ব্যবহৃত হয়েছে। প্রত্যেকটি গান-ই মনে থেকে যাবে, ছবি শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও। বিশেষ করে, গৌরব চট্টোপাধ্যায় (Gaurab Chatterjee) -এর সুরে, অভিজিৎ বসু /Abhijit Basu-র কথায় অনুপম রায় /Anupam Roy-এর গাওয়া গানটি। চিত্রগ্রাহক রানা দাশগুপ্ত /Rana Dasgupta ছবির ক্লাইম্যাক্স-এর দিকে এসে কিছু কিছু ফ্রেমে অসাধারন এবং ছবির শুরুর দিকের কিছু জায়গায় বেশ সাধারন। চিত্রনাট্য নিয়ে কিছু কথা আগেই বলেছি। এবার আসছি সংলাপ-এর কথায় … এই ছবির সংলাপ শুনে আমার মনে হয়েছে যে চরিত্ররা সবাই সংলাপ মুখস্ত করে, গুছিয়ে ডায়লগ বলেছে। এই পদ্ধতির সমলোচনা করছি না কিন্তু সংলাপের ক্ষেত্রে স্বতঃস্ফূর্ততা-টা অনেক বেশি কার্যকরী বলে আমার মনে হয়। তাই ছবির সংলাপ-কে যতটা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কাছাকাছি রাখা যায়, ততটাই ভালো। বেশি গোছাতে গেলে হিতে বিপরীত হয়ে যায়। ছবির সম্পাদনা বেশ ভালো। ‘নায়িকা সংবাদ’-এর গল্প অনুযায়ী ছবিতে অবাধ যৌন দৃশ্য রাখার সুযোগ ছিল কিন্তু তাও নিজের ছবিতে বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় যৌনতার ক্ষেত্রে যেমন সংযম দেখিয়েছেন, তাকে ব্যতিক্রমী তথা ‘ভালো’ বলতে আমার কোন দ্বিধা নেই। অরুনিমার কথা বলে আমার review শেষ করি! অরুনিমা আপনি মন দিয়ে আরো অনেক কাজ করুন। ছবির জগত থেকে ‘দিয়া’-র মতন নিরুদ্দেশ হয়ে যাবেন না কারন টালিগঞ্জের আপনার মতন অভিনেত্রীকে বিশেষ প্রয়োজন। বাপ্পাদাকে আবার ধন্যবাদ জানাচ্ছি, অরুনিমাকে আমাদের মধ্যে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্যে। ‘নায়িকা সংবাদ’-এর ‘দিয়া’ হারিয়ে গেছিলো কিন্তু ‘নায়িকা সংবাদ’ ছবির হাত ধরে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটলো আরেক নায়িকা, যার নাম “অরুনিমা ঘোষ” / ARUNIMA GHOSH


NAYIKA SANGBAD 2013 OFFICIAL TRAILER (You Tube)

 

SanjibSanjib Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and have written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.
Sanjib can be reached at sanjib@sholoanabangaliana.com

 

 

Enhanced by ZemantaMovie Review By:

15 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!