Mukti (2013): Movie Review; Director Reshmi Mitra fails to furnish a potent plot yet again

1
291
mukti movie review

movie review mukti

T-20 Cricket-এ একটা কথা খুব চালু আছে। একজন অধিনায়ক যে কতোটা বিচক্ষণ, সেটা নির্ধারন করা যায় তিনি শেষ ১০ ওভার কেমনভাবে সামলাবেন, সেই পরিকল্পনার উপর। প্রথম দশ ওভারের থেকেও শেষ দশ ওভার অনেক বেশি নির্ধারক ম্যাচের ফলাফলের জন্যে। সিনেমাতেও তেমনই বিরতির পরের ভাগটা যদি ভালো না হয় তাহলে পুরো ছবিটাই দর্শকদের মনে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়। মুক্তির ক্ষেত্রেও একই কথা বলা চলে কারন ছবির গল্পটি একটু অন্যরকম হলেও, চিত্রনাট্য এতটাই সাধারন মানের যে তা ছবির বিরতির পরের অংশে শহুরে-শিক্ষিত দর্শকদের মনে বেশ খানিক বিরক্তির উদ্রেক করে। চিত্রনাট্যটির উৎস ঠিকঠাক হলেও প্রবাহ এবং ধারা এতোটাই সাধারনমানের যে পরিচালক রেশমি মিত্র-কে আমার প্রশ্ন করতে ইচ্ছে করছে “গল্প নিয়ে এতোই যদি সাহস দেখালেন তাহলে ছবির চিত্রনাট্যে সেই সাহসিকতাকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারলেন না কেন?”

Mukti 2013 review

যারা ষোলোআনা বাঙ্গালিয়ানা-তে আমার লেখা ‘মুক্তি’-র movie preview পড়েছেন তারা এই ছবির গল্পটি জেনে গেছেন। তাও বাকিদের জন্যে ছবির গল্পটি আরেকবার ছোট্ট করে বলে দেওয়া যাক। স্কুল শিক্ষিকা নয়নিকা (Rituparna Sengupta) এবং তার চিত্রপরিচালক স্বামী সুকল্যানের (শিলাজিৎ মজুমদার) বৈবাহিক সম্পর্ক প্রায় তলানিতে এসে ঠেকে যখন সুকল্যানের জীবনে দমকা হাওয়ার মতন উড়ে এসে জুড়ে বসে অভিনেত্রী রনিতা (মনামী ঘোষ)। নয়নিকা অনেক চেষ্টা করে সুকল্যান-কে নিজের কাছে ধরে রাখতে কিন্তু কেরিয়ারের নেশায় চূর সুকল্যান সাড়া দিয়ে ফেলে লাস্যময়ী রনিতার যৌন আবেদনে এবং নয়নিকাকে বাড়িতে একা ফেলে রেখে চলে যায় তার নতুন প্রেমিকার কাছে।

একাকি নয়নিকার শুষ্ক জীবনে জলের মতন উদয় হয় তারই স্কুলের এক ছাত্র অর্ক (রাজদীপ)। নয়নিকার মতন অর্ক-ও খুব একা তাই অসমবয়সী হয়েও ওদের কাছাকাছি আসতে সময় লাগেনা বেশি। ছবির এই পর্যায়ে পৌঁছে ছবির বিরতি এবং বিপর্যয় ঘটলো বিরতির পরের অংশে। গল্পের খেই হারিয়ে পরিচালক Reshmi Mitra ‘মুক্তি’-কে এমন জায়গায় নিয়ে গেলেন যে ছবির মূল দর্শনটি কোন চোরাবালিতে যেন হঠাৎ করে তলিয়ে গেলো। যে সাহস রেশমি দেখিয়েছিলেন ছবির বিরতি পর্যন্ত বিরতির পরে সেই সাহসের কণা মাত্র খুঁজে পাওয়া গেলো না।

বিশেষত রাজদীপের (Rajdeep) চরিত্রটিকে আচমকা ছবি থেকে উধাও করিয়ে দেওয়া হল এমন একটা সময় যখন দর্শক অর্ক -র কথা আরো বেশি করে জানতে চাইছিল। অর্ক-কে সরিয়ে দেওয়া মানে আরো তিনটি খুব ইন্টারেস্টিং চরিত্রকেও চিত্রনাট্য থেকে বিদায় করে দেওয়া। অর্ক-র বিধবা অথচ লাস্যময়ী মায়ের ভূমিকায় দোলন রায়, দজ্জাল ঠাকুমার চরিত্রে রত্না ঘোষাল এবং লম্পট কাকার ভূমিকায় জয়জীৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এক কথায় অনবদ্য। তারা তিনজনেই যেন নিজেদের চরিত্রে ডুবে গিয়ে অভিনয় করেছেন। অর্ক-র ভূমিকায় রাজদীপ আপ্রান চেষ্টা করেছেন নিজের কাজটা ভালোভাবে করতে কিন্তু তার অভিনয় দেখে আমার মনে হয়েছে যে পরিচালক রাজদীপকে দিয়ে পর্যাপ্ত ওয়ার্কশপ করাননি। অর্ক ভীষণ শক্ত একটি চরিত্র তাই এই চরিত্রে অভিনয় করার জন্যে প্রয়োজন ছিল সংবেদনশীলতা এবং মাঝে মধ্যে সংলাপবিহীন অভিব্যক্তি প্রকাশের দক্ষ্যতা থাকা। এই দুই ক্ষমতা কোন অভিনেতার মধ্যে রাত পোহালেই জন্ম নিতে পারেনা, এর জন্যে প্রয়োজন হয় অভিনয় শিক্ষার যা রাজদীপের নেই তাই অনেক চেষ্টা করেও অর্ক হয়ে উঠতে পারলেন না রাজদীপ। একটি ছোট চরিত্রে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শ্রীলা মজুমদার বড় পর্দায় বেশ ভালো কাজ করলেন অনেকবছর পরে। রনিতা রূপে ছোট পর্দার ব্যস্ত নায়িকা মনামী ঘোষ নিজের ইমেজের বিপরীতে গিয়ে একদম অন্যরকম অভিনয় করেছেন।

এমন অভিনয় তিনি আরো বেশি করে করুন, দর্শক হিসাবে আমরা সবাই আশা রাখলাম। সুকল্যান চরিত্রে বিখ্যাত গায়ক/অভিনেতা Silajit Majumder যথেষ্ট ভালো কাজ করেছেন। সুকল্যানের স্বার্থপরতা তথা অসহায়তা দুটিকেই শিলাজিৎ নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। সুকল্যান বোধয় শিলাজিৎ-এর অভিনয় করা সবথেকে জটিল চরিত্রের মধ্যে একটি। এবার আসি নয়নিকা চরিত্রে ঋতুপর্ণার কথায়। কিছু দৃশ্যে ঋতুপর্ণা জমিয়ে দিয়েছেন কিন্তু বেশিরভাগ দৃশ্যেই তার অভিনয় অত্যন্ত মেকি কিম্বা চড়া দাগের বলে মনে হয়েছে। পরিচালক রেশমি মিত্র হয়ত নয়নিকা চরিত্রটি নিয়ে ঋতুপর্ণাকে ঠিকমতন গাইড করতে পারেননি।

ঋতুপর্ণার পোশাক পরিকল্পনা বেশ খারাপ বলে মনে হয়েছে আমার। বিশেষত ঋতুপর্ণা বাড়িতে যে ধরনের রাতের পোশাক পরেছেন, সেগুলির ডিজাইন বেশ চোখে লেগেছে আমার। আমার পাশে বসা কয়েকজন বয়স্ক দর্শক একই বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। এই ছবির কস্টিউম ডিজাইনার-এর কাজ অত্যন্ত সাধারন মানের হয়েছে।

Mukti-র অন্যতম ভালো জায়গা হচ্ছে এই ছবির গান। সংগীত পরিচালক রাজা নারায়ণ দেব (Raja Narayan Deb) বারবার বুঝিয়ে দিচ্ছেন কেন তাকে এই সময়ের অন্যতম প্রতিভাশালী সংগীত পরিচালক আখ্যা দেওয়া হয়ে থাকে।

 

ভাল-মন্দ সবমিলিয়ে আমি মুক্তি-কে 4/10 বেশি দিতে পারছি না।

 

 

SanjibSanjib Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and have written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.
Sanjib can be reached at sanjib@sholoanabangaliana.com

Enhanced by ZemantaMukti 2013 Movie Review by:

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!