Phoring (2013): Movie Review, Poster, Trailer; A classy film one must not miss

1
624
phoring review

Phoring is a classy film & Director Indranil Roychowdhury does cater to the International benchmarks of narrating a story with cinematic precision.

কিছু ছবি এমন হয়, যা একজন সমলোচকের মনকেও এমনভাবে প্রভাবিত করে যে  ছবিটা দেখার সময় সে সমলোচণা করার কথা ভুলে গিয়ে, নিজের সমস্ত বিশ্লেষণ ক্ষমতাকে মনের বন্ধ ঘরের ওপারে রেখে, মনপ্রান জুড়ে শুধু ছবিটাকেই উপভোগ করতে শুরু করে। ফড়িঙের মধ্যে যে সরলতা আছে, ভাবনার স্বচ্ছতা আছে, সেই অনুভূতি সাম্প্রতিক কালের অন্য কোন সিনেমা দেখে পাওয়া যায়না। ফড়িং ভীষণ সরল। ফড়িং ভীষণ সহজ একটি ছবি। কিন্তু সহজ কথা ছবির ভাষায় সহজ করে ব্যক্ত করার ক্ষমতা খুব বেশি পরিচালকের নেই। তবে ইন্দ্রনীলের আছে সেই বিরল ক্ষমতা। ফড়িং কে ঠিক সিনেমা না বলে এক অনন্য জার্নি বলাই ভালো। ইটস এ জার্নি থ্রু দ্য টাইম মেশিন অব লাইফ। এই ছবি আমাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় আমাদের ছেলেবেলার দিনগুলিতে। যখন আমরাও ছিলাম এক একজন ফড়িং। আমাদের মনের কোনেও চুপি চুপি এসে দানা বাঁধত ফ্যান্টাসি কিম্বা অবচেতন মনকে উদ্বেল করে জানান দিয়ে উঠত অজানা যৌনতার (Sexuality) নিরব হাতছানি।

ফড়িঙের গল্পটি খুব সহজ। উত্তরবঙ্গের শহরতলীর এমন এক কিশোর, যাকে তার আশেপাশের কেউ বুঝতে পারেনা, জানতে পারেনা তার মনের কথা। বাড়িতে আর্থিক অনটনে ব্যাতিব্যস্ত এমন এক বাবা, যিনি কথায় কথায় ছেলের গায়ে হাত তোলেন। ফড়িঙের বন্ধু বলতে একমাত্র লাট্টু, যার সঙ্গে সে ভাগ করে নেয় নিজের মনের মধ্যে জমে থাকা সব নিষিদ্ধ ফ্যান্টাসি। ফড়িঙের আরেক বন্ধু হচ্ছেন স্বয়ং ইশ্বর, যিনি বাসা বেঁধে থাকেন ফড়িঙের মনের গভীরে। ইশ্বরের সঙ্গে ফড়িঙের সবরকমের আলোচনা চলে। মন অবরুদ্ধ না হলেও ফড়িঙের জীবন কিন্তু স্বাধীন নয়, নানান রকমের নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ ফড়িং মুক্তির পথ খোঁজে কিন্তু সেই পথ পায়না। জীবনকে সে পুরোপুরিভাবে বুঝতে পারেনা কারন মনের জানলা খোলা থাকলেও, জীবনের দরজা তার কাছে অবরুদ্ধ। মুক্তির পথ সামনে এলো হঠাৎ করেই। ফড়িং যে স্কুলে পড়ে, সেখানে নতুন চাকরি নিয়ে এলেন ইতিহাসের শিক্ষিকা দোয়েল মিত্র। এই নতুন দিদিমনির সঙ্গে বেশ বন্ধুত্ব জমে গেলো ফড়িঙের। একসঙ্গে তারা ঘুরে বেড়াতে শুরু করলো উত্তরবঙ্গের মাঠে, ঘাটে, পাহাড়ে, জঙ্গলে। ফড়িঙের মনের দরজা খুলে দোয়েল তার ভিতরের মানুষটাকে বার করে আনে খোলা আকাশের তলায়। ফড়িঙের এতদিনের দুর্বিষহ জীবন হয়ে ওঠে মোহময়। দোয়েল এবং ফড়িঙের এই অসমবয়সী সখ্যতা মানতে পারেনা তাদের ঘিরে থাকা মানুষগুলি। ফলে এই নিয়ে দোয়েলের সংঘাত বাঁধে পারিপার্শ্বিক সমাজের ধামাধরা মানুষগুলির সঙ্গে। ফড়িং বুঝতে পারেনা কি করবে যখন দোয়েল তাকে বলে দেয় যে সে আর ফড়িঙের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায়না। এরপর একদিন হঠাৎ উত্তরবঙ্গ থেকে চলে যায় দোয়েল, ফড়িং-কে কিছু না জানিয়েই। ফড়িং দোয়েলের এই উধাও হয়ে যাওয়াকে মেনে নিতে পারেনা। দোয়েলের অনুপস্থিতিতে নিস্প্রভ হয়ে ওঠা জীবনকে মেনে নিতে না পেরে ফড়িং দোয়েলকে খুঁজতে চলে আসে কলকাতায়। কলকাতা শহরের যাবতীয় স্বার্থপরতা, সর্বগ্রাসী ভিড় কি শেষ করে দেবে সরল ফড়িঙের মনের স্বচ্ছতা কে ?

এই ছবির অন্যতম সম্পদ হল সংলাপ। ফড়িঙের ভগবান এবং তার বউয়ের সঙ্গে কথোপকথন গুলি এমন এক মাত্রা দিয়েছে এই ছবিকে, যা এই ছবিকে বাংলার গণ্ডি পার করে সর্বভারতীয় কিম্বা বলা ভালো আন্তর্জাতিক মানের করে তোলে। ফরিং-কে নিঃসন্দেহে অস্কারে পাঠানো যেতেই পারতো। লাট্টুর সঙ্গে ফড়িঙের কথাবার্তাগুলো আপাত আক্ষরিকভাবে ভাবে সহজ হলেও আসলে কিন্তু বেশ অর্থবহ।

এক-কথায় ফরিং-কে বলা যায় ছোটদের বড়বেলার ছবি। পরিচালক ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরী এমনসব অভিনেতা/অভিনেত্রী ব্যবহার করেছেন ফড়িং ছবির জন্যে, যাদের অভিনয় দক্ষ্যতা এই সিনেমাকে এক বিরল উচ্চতায় তুলে নিয়ে গেছেন। নাম ভূমিকায় নবাগত আকাশ অধিকারী ছবির জগতে নিজের আগমনবার্তা ঘোষণা করেছেন সদর্পে। অদ্ভুত ভালো Akash Adhikari-র অভিনয় … কোন প্রশংসাই আকাশের জন্যে যথেষ্ট নয়। ফড়িঙের বন্ধু লাট্টুর চরিত্রে সৌরভ বেশ ভালো কাজ করেছেন। দোয়েল রূপী Sohini Sarkar ‘রূপকথা নয়’ ছবির পরে আরো একবার প্রমান করলেন যে তার মধ্যে রূপ তথা অভিনয় দক্ষ্যতা দুইয়ের সমন্বয় বর্তমান এবং তিনি বাংলা ছবির জগতে থাকতে এসেছেন, হারিয়ে যেতে আসেননি। ছোট একটি ক্যামিও করে দিয়েছেন এখনকার বাংলা ছবির অন্যতম নায়ক ঋত্বিক চক্রবর্তী। অতিথি শিল্পী হয়েও Ritwick Chakraborty কিন্তু জমিয়ে দিয়েছেন নিজের অভিনয় প্রতিভার গুনে। ঋত্বিকের অভিনয় ফড়িঙের এক আকর্ষণীয় অধ্যায়। আরেকজনের কথা না বললেই নয়, তিনি হচ্ছেন ফড়িঙের বাবার চরিত্রে অভিনেতা শঙ্কর দেবনাথ। এমন অভিনয় করেছেন থিয়েটরের এই দিকপাল অভিনেতা যে দর্শকরা ওনার অভিনীত চরিত্রটির উপর রাগের উদ্রেক ঘটতে বাধ্য।

পরিচালনা, চিত্রনাট্য, সংলাপ, ক্যামেরা সবদিক সামলে ইন্দ্রনীল প্রমান করে দিয়েছেন যে তিনি এই সময়ের একজন অন্যতম সেরা চিত্রপরিচালক তথা গল্প-বলিয়ে। যারা এখনো ‘ফড়িং’ দেখেননি, তারা টিকিট কেটে হলে গিয়ে ‘ফড়িং’ দেখে আসুন। যদি বাংলা ছবি ভালোবাসেন তাহলে ‘ফড়িং’ নিঃসন্দেহে আপনাদের মন কাড়বেই।

Phoring-কে আমি দিলাম 8.5/10 এবং আশা রাখলাম যে Indranil Roychowdhury এরপরে আমাদের

আরো অনেক ভালো বাংলা ছবি উপহার দেবেন।


Phoring Official Theatrical Trailer (You Tube)

 

Imgae Credits: Google Images

 

Enhanced by ZemantaMovie Review By:

SanjibSanjib Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and have written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.
Sanjib can be reached at sanjib@sholoanabangaliana.com

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!