Rangbaaz (2013): Movie Review, Poster, Trailer; Dev shines with refined acting skills but Koel monotonous as ever

0
406
rangbaaz review

dev koel poster

বাংলা বানিজ্যিক ছবিতে বাঙ্গালিয়ানার এমন আকাল কেন? আমরা তো আজও বাঙালি। এখনো তো রোজ দুপুরে বাড়িতে ডাল, আলুপোস্ত দিয়ে সাপটে মেখে ভাত খাই। রবিবারে বাজার থেকে কিনে নিয়ে আসি পাঁঠার মাংস, দুপুরে পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে বসে জমিয়ে মাংস-ভাত খাবো বলে। এখনো আমরা “শুভ বিজয়া” বলে বয়োজ্যেষ্ঠদের পায়ে হাত দিয়ে প্রনাম করি। সমবয়সী বন্ধুদের সঙ্গে  ভালোবেসে কোলাকুলি করি। ছোটদের মাথায় হাত রেখে স্নেহভরে আশীর্বাদ করি। গর্ব করে সবাইকে বলি যে আমরা রবি ঠাকুর, সত্যজিৎ রায়, উত্তমকুমারের জাত … “আমরা বাঙালি!!!

কিন্তু ছবির পর্দায় সেই নির্ভেজাল বাঙালি সংস্কৃতি কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে? কমার্শিয়াল সিনেমার নামে এসব কি হচ্ছে? বলিউড যেখানে বরফি অথবা পান সিং তোমার-এর মতন ছবি করছে, সেখানে আমরা কি করছি? রংবাজ (Rangbaaz) বানাচ্ছি? যে ছবির না আছে কোন শক্তপোক্ত গল্প, না আছে উচ্চমানের অভিনয়!!! দক্ষিনী ছবিকে নকল করতে গিয়ে আমরা নিজেদের সাংস্কৃতিক স্বকীয়তাকে অকাতরে বিসর্জন দিচ্ছি। এমন এক সময় ছিল যখন ‘রংবাজ’ শব্দটা পাড়ার বখাটে ছেলেদের জন্যে নির্ধারিত ছিল কিন্তু এখন বাংলা ছবির নায়ককে বলা হচ্ছে “রংবাজ”!!! মহানায়ক উত্তমকুমার (Mahanayak Uttam Kumar) অথবা সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Ray) ছবির উত্তরবাহক হয়ে আমাদের এখন দেখতে হচ্ছে পরিচালক রাজা চন্দের (Raja Chanda) “রংবাজ”।

এমন এক সময় ছিল, যখন পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম এবং শহরতলির বাঙালি দর্শকরা দল বেঁধে একসময় উত্তমকুমারের ছবি দেখত, তরুন মজুমদারের ছবি দেখত, যে ছবিগুলিতে গ্রামের মানুষদের গল্প বলা হত। বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতির কথা বলা হত কিন্তু এখন গ্রাম তথা শহরতলির দোহাই দিয়ে এমন সব ছবি বানানো হচ্ছে, যে ছবিগুলির সঙ্গে বাংলা ভাষা তথা সংস্কৃতির দুর দুরান্তেও কোন যোগাযোগ নেই। দক্ষিণে সবকিছুই বেশ চড়া দাগের। ছবির গল্প, গতিময়তা, চরিত্রায়ন সবকিছুই অন্যরকম, বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে এমন চড়া দাগের ট্রিটমেন্ট খাপ খায় না।  তাও কিছু পরিচালক-প্রযোজক দায়িত্ব নিয়ে এমন ছবি বানিয়ে যাচ্ছেন,বানিজ্যের নামে। বাংলা সাহিত্য নিয়ে ছবির পর্দায় তেমন ভালো কাজ হচ্ছে না। ভালো গল্প নিয়ে ভালো ছবি করতে হলে অনেক টাকার প্রয়োজন এবং কিছু প্রযোজক জেদ ধরে বসে আছেন যে দক্ষিনী ছবির অনুকরণ না করা হলে, তারা পরিচালকদের ছবি করার টাকা দেবেন না। ভেঙ্কটেশ (Shree Venkatesh Films) এখন অন্যধরনের ছবিতেও অর্থলগ্নি করছে, এটা বাংলা ছবির সঙ্গে যুক্ত সবার জন্যে খুব ভালো খবর। আমরা চাই “মেঘে ঢাকা তারা” (Meghe Dhaka Tara 2013) কিম্বা “প্রলয়” (Proloy)-এর মতন আরো অনেক ছবি পেতে।

যাই হোক, যে ছবির কথা লিখতে বসেছি – সেই ছবির কথাতে ফিরে আসা যাক। সুরিন্দর ফিল্মসে (Surinder Films) তথা প্রযোজক নিশপাল সিং রানে (Nispal Singh Rane) (কোয়েল মল্লিকের স্বামী)-র নতুন ছবি “রংবাজ” মূলত বাংলা ভাষায় একটি দক্ষিনী এবং বলিউডই মশলা নিয়ে তৈরি করা একটি খিচুড়ি। ছবির প্রথমার্ধ সলমন খান ( Bollywood Superstar Salman Khan) অভিনীত ‘বডিগার্ড’ ছবির প্রথমার্ধ এবং দ্বিতীয়ার্ধ ঋত্বিক রোশন (Hrittik Roshan) অভিনীত প্রথম ছবি “কাহ না প্যার হ্যাঁয়” ছবির প্রথমার্ধের অনুকরনে নির্মিত। ছবির শেষটা অন্যান্য কমার্শিয়াল ছবির থেকে ধার করা, যেখানে নায়ক খলনায়ককে খুন করে, পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নেয়। যদিও এই ছবির মূল আঁধার হচ্ছে তেলেগু ছবি “ছিরুথা” (Chirutha), যে ছবিতে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সুপারস্টার চিরঞ্জীবী (Telegu Superstar Cheeranjeevi) -র  ছেলে রামচরণ তেজা (Ram Charan Teja)।

এর বেশি গল্প নিয়ে বলার কিছুই নেই। যারা এই রিভিউ পড়ছেন, তারা আশা করি গল্প বুঝে নিয়েছেন। এই ছবি কেন দেখবেন? দেখতে পারেন যদি ১০০ টাকায় Bangkok ঘুরে আসতে চান। দেখতে পারেন যদি Pattaya সমুদ্র সৈকতে দেব এবং কোয়েল মল্লিকের (Koel Mallick) দুষ্টু মিষ্টি প্রেমলীলা দেখতে চান। যদি বাংলা ছবিতে দক্ষিনী তথা বলিউডি ছবির খলনায়ক রাহুল দেবকে বাংলা ছবির পর্দায় নায়ক দেব-এর সঙ্গে বাংকক-এ মারপিট করতে দেখতে চান। আপনি যদি খরাজ মুখোপাধ্যায়ের কমেডির ফ্যান হন তাহলেও ‘রংবাজ’ হয়ত আপনার ভালো লাগলেও লাগতে পারে। রজতাভ দত্ত (Rajatava Dutta) নিজের মতন করেই অভিনয় করেছেন তবে সেই অভিনয় তার অভিনীত অন্য ছবিগুলির থেকে আলাদা কিছু নয়।

জিৎ গাঙ্গুলির (Jeet Ganguly)  সুর করা কিছু গান তো এবার দুর্গা পুজায় হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলো। ‘মধুরিমা’ হোক কিম্বা ‘মধুরীমা’, নামের শুরুতে মধু থাকলেই হল … ব্যাস … ও মধু … ও মধু … আই লভ ইউ … আই লভ ইউ !!! গানটি শুনে হাসবো না কাঁদবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। হে রবি ঠাকুর … তোমার দেশে এই ? যাই হোক আদ্য-প্রান্ত্য একটি কমেডি ছবি হিসাবে মেনে নিলে ‘রংবাজ’ দেখে কিন্তু বেশ সময় কেটে যাবে। হলের মধ্যে এদিক ওদিক প্রেমিক প্রেমিকারা নিজেদের মধ্যে মশগুল হয়ে সময় কাটিয়ে দিচ্ছিলো।

দেব-কে পর্দায় দেখতে লেগেছে বেশ। যেটা দেখে ভালো লাগলো যে নাচ, মারপিটের সঙ্গে সঙ্গে আস্তে আস্তে অভিনয়টাও রপ্ত করে ফেলছেন। রোম্যান্টিক দৃশ্যে দেবকে বেশ সাবলীল লেগেছে। আমার মনে হয়েছে যে অন্যধরনের ছবিতে অভিনয় করে Tollywood Star Dev এখন অভিনেতা রূপেও নিজেকে অনেক উন্নীত করেছেন। কমলেস্বর মুখোপাধ্যায়ের (Kamaleswar Mukherjee) ‘চাঁদের পাহাড়’ (Chander Pahar)-এ দেবকে কেমন লাগে, সেটা দেখার ইচ্ছে অন্য সবার মতন আমারও। কোয়েল মল্লিক অনেক বছর ধরে কমার্শিয়াল ছবিতে একইরকম নায়িকার চরিত্রে একইরকম কায়দায় অভিনয় করে চলেছেন। এবার একটু বদল প্রয়োজন! নাহলে দর্শকদের কোয়েলকে একঘেয়ে লাগতে বাধ্য। রাহুল দেব (Rahul Dev) কে খুব একটা ভালো লাগেনি ভিলেন রূপে, আমার বরঞ্চ রাহুলের দাদা মুকুল দেবকে অনেক বেশি ভয়ংকর লেগেছিলো জিৎ অভিনীত ‘আওয়ারা’ ছবিতে। কমেডিয়ান হিসাবে খরাজ মুখোপাধ্যায় (Kharaj Mukherjee) যথারীতি জমিয়ে দিয়েছেন কিন্তু বিশ্বনাথের থেকে আরো অনেক বেশি আশা দর্শকদের। এখানে বিশ্বনাথকে বেশ সাধারন লেগেছে। দেব-এর বাবার চরিত্রে অনেকদিন পরে কুশল চক্রবর্তীকে বড় পর্দায় দেখে বেশ ভালো লাগলো কিন্তু একজন শক্তিশালী অভিনেতা হয়েও এতো ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করতে রাজি হলেন কেন?

শৈলেশ অবস্থির (Sailess Awasthi) ক্যামেরার কাজ বেশ ভালো হয়েছে। রবিরঞ্জন মৈত্রের (Ravi Ranjan Moitra) সম্পাদনা টানটান এবং এন. কে সলিলের (N.K Salil) চিত্রনাট্য এক্কেবারে দক্ষিনী ছবির মতনই নাটকীয়।

কিন্তু আমার প্রশ্ন অন্য জায়গায়। যে action sequences-গুলি নিয়ে ছবি রিলিজের আগে এত কথা লেখা হল মিডিয়াতে, তেমন মারকাটারি অ্যাকশন দৃশ্য দেখতে পেলাম কোথায়? আলণ আমীণ (Allen-Ameen) এমন কি আলাদা কায়দা আমদানি করলেন, সেটা আমার বোধগম্য হয়নি। হেলীকোপ্টর থেকে করা একটি বেশ বিপদজনক শটাণ্ট আছে বটে কিন্তু ওই পর্যন্তই, আর কিছু দেখতে চোখে পড়েনি আমার।

This new Bangla movie Rangbaaz can be summarized as a masala entertainer with an improved Dev, a monotonous as ever Koel and a very predictable plot with no touch of Bangaliana in the entire plot.

 

রংবাজ-কে সবদিক বিচার বিবেচনা করে আমি 4.5/10 -র বেশি দিতে পারলাম না।

Rangbaaz Theatrical Trailer (Rangbaaz) (Full HD) (2013) (You Tube)

 

Movie Review By:
SanjibSanjib Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and have written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.
Sanjib can be reached at sanjib@sholoanabangaliana.com

 

Movie Poster: Google Images

 

Enhanced by Zemanta

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!