Sovabazar Rajbari celebrates 150th Birth Anniversary of poet, songwriter and dramatist Sri Dwijendra Lal Roy

0
1163
Sovabazar Rajbari

Aurangzeb-Court-Scene

নাট্যকারের সার্ধশতবর্ষে, দিজেদ্রলাল রায় বিরচিত সেই বিখ্যাত ঐতিহাসিক নাটক সাজাহান পুনর্জন্ম লাভ করলো শোভাবাজার রাজপরিবারে। 

To mark the occasion of the 150th Birth Anniversary of our great poet, songwriter and dramatist Sri Dwijendra Lal Roy; the members of the esteemed Sovabazar Raj Bari, staged the poet’s well-renowned play ’SAJAHAN’, on the evening of November 3rd at 7.00 p.m  in the grounds of the historical Sovabazar Rajbari (Gopinath Jew Thakurbari). Mr. Ujjal Roy, the officer-in-charge of Shyampukur Police Station was also felicitated by the Shobhabazar Rajbari to appreciate his conquest over Mount Everest. Bangla movie music director Sri Raja Narayan Deb was also present in the gathering, being an eminent member of Sovabazar Raj family and renowned Tollywood script writer cum actor Sri Padanabha Dasgupta anchored the show.

Aurangzeb-Sajahan-Jahanara-

মহারাজা নবকৃষ্ণ দেবের পুত্র রাজা রাজকৃষ্ণ দেবের পারিবারিক বিজয়া সন্মেলন উপলক্ষ্যে শোভাবাজার রাজপরিবার আয়োজিত ‘বিজয়া সন্মেলনী’ -তে আমন্ত্রিত হওয়া অত্যন্ত সৌভাগ্যের কথা। এমন এক আমন্ত্রন পেয়ে ষোলোআনা বাঙ্গালিয়ানার আনন্দের অন্ত ছিলনা কারন শহর কলকাতায় সাবেকিয়ানা তথা বাঙ্গালিয়ানার খাস আঁতুড় ঘর হচ্ছে “শোভাবাজার রাজবাড়ি”।

রাজবাড়ির এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন বর্তমান বাংলা ছবির প্রখ্যাত চিত্রনাট্যকার তথা অভিনেতা পদ্মনাভ দাসগুপ্ত । অনুষ্ঠানের শুরুতেই সংগীত পরিবেশন করলেন পরিবারের কনিষ্ঠতম সদস্য শ্রীমান সুরতম কৃষ্ণ দেব। সুরতমের ছোট্ট অথচ সুরেলা কণ্ঠে রবি ঠাকুরের “খেলিছ এই বিশ্ব লয়ে…” এবং তারপরে সনৎ সিংহের ছড়াগান “এক এক্কে দুই…” বিজয়া সন্মেলনের আমেজটাকে একেবারে জমিয়ে দিল।

সুরতমের গানের পরে  রাজপরিবারের পক্ষ্য থেকে সম্বরদনা দেওয়া হল শ্যামপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক শ্রী উজ্জ্বল রায়-কে, যিনি পৃথিবীর সবথেকে উঁচু পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করেছেন। হ্যাঁ, ঠিকই বুঝেছেন। অসমসাহসী এই পুলিশ অফিসর সম্প্রতি মাউন্ত এভারেস্ট জয় করেছেন। শোভাবাজার রাজপরিবারের তরফ থেকে এদিন উজ্জ্বলবাবুর হাতে মানপত্র এবং উত্তরীয় তুলে দেওয়া হল। উজ্জ্বলবাবু এরপর নিজের অভিজ্ঞ্যতা অভ্যাগত দর্শকদের সঙ্গে ভাগ করে দিলেন একটি ছোট বক্তৃতার মধ্য দিয়ে। শ্রী উজ্জ্বল রায়ের বক্তৃতার পরে একক নৃত্য পরিবেশন করলেন রাজপরিবারের সদস্যা শ্রীমতি কৃষ্ণ অনন্যা দে।

এরপর এসে গেল সেই বহু প্রতীক্ষিত সময়। যখন প্রখ্যাত সাহিত্যিক, কবি, গীতিকার তথা সুরকার দিজেন্দ্রলাল রায়ের জন্ম সার্ধশতবার্ষিকী তথা মৃত্যুর শতবার্ষিকী পালন করতে রাজপরিবারের সদস্যরা দলগতরূপে মঞ্চস্ত করলেন একসময়ের বিপুল জনপ্রিয়তা প্রাপ্ত ঐতিহাসিক নাটক “সাজাহান”। যেহেতু নাটকটি অভিনীত হল রাজবাড়ীর ঠাকুরদালানে, তাই অভিনেতা/অভিনেত্রীরা কেউ-ই পায়ে জুতো পরে অভিনয় করতে পারেননি। নাটকটির সম্পাদনা, আবহ এবং নির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন শ্রী অমল কৃষ্ণ দেব। যন্ত্রসঙ্গীত পরিচালনায় ছিলেন শান্তি সরকার এবং আলোকসজ্জায় তপন ভট্টাচার্য। রাজবাড়ীর ঠাকুরদালানকে মঞ্চ রূপে প্রস্তুত করেছিলেন তপন বসাক। ‘সাজাহান’ নাটকে সাজসজ্জ সঠিক হাওয়াটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং সেই দায়িত্বে ভাস্কর সিনহা দর্শকদের হতাশ করেননি।

নাটকের অভিনেতা/অভিনেত্রীরা প্রত্যেকেই মনোনিবেশ করে নিজের কাজটি করেছেন। আমার তো মাঝে মাঝে অবাক লাগছিলো, এটা ভেবে যে এই নাটকের অভিনেতা/অভিনেত্রীরা সেই অর্থে পেশাদার মঞ্চশিল্পী নন। আলাদা করে বলতেই হবে নাটকের খলনায়ক অউরংজেবের ভূমিকায় শ্রী সউতীন্দ্র কৃষ্ণ দেবের কথা। অউরংজেব চরিত্রের যাবতীয় খলতা, স্বার্থপরতা, নৃশংসতা, কূটতা, রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন এই অভিনেতা, যে প্রায় প্রতিটি দৃশ্য অভ্যাগত দর্শকমণ্ডলীর উচ্ছ্বসিত করতালিতে উদ্দ্বেল হয়েছে।

এরপরেই আসবে ‘সাজাহান’-র নামভূমিকায় শ্রী দেবাশিষ কৃষ্ণ দেবের অভিনয়ের কথা। মজার কথা হচ্ছে নাটকের নাম ‘সাজাহান’ হলেও দিজেন্দ্রলাল রায় কিন্তু সাজাহানের দৃশ্য হাতে গোনা রেখেছেন। ‘সাজাহান’ নাটকের মূল কেন্দ্রীয় চরিত্র কিন্তু আসলে কাহিনীর প্রতিনায়ক অউরংজেবের। তাই সুযোগ ছিল সীমিত কিন্তু এই স্বল্প সুযোগেই দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন রাজপরিবারের এই বর্ষীয়ান সদস্য।

দিলদারের ভূমিকায় শ্রী স্রীঞ্জয় কৃষ্ণ দেব, বিশেষত তার খুঁড়িয়ে হাটা দিলদারকে এক স্বকিয়তা এনে দিয়েছিল। দারা চরিত্রে রঞ্জন কৃষ্ণ দেব মাঝে মধ্যে সংলাপ ভুলে গেলেও অভ্যব্যক্তিতে দশে – আট। জাহানারার ভূমিকায় কৃষ্ণ অঞ্জনা মিত্র নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের একবারের জন্যেও বুঝতে দেননি যে তিনি পেশাদার অভিনেত্রী নন। বাকিরাও যথাযথ ভাবে নিজের কাজ করেছেন এবং পরিবারের সবাই মিলিতরূপে জমিয়ে দিয়েছেন নাটক “সাজাহান”।

সমগ্র অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় রাজপরিবারের যে সদস্যগণ ছিলেন, সেই শ্রী অলক কৃষ্ণ দেব, শ্রী মৃগাঙ্ক কৃষ্ণ দেব, শ্রী শুভেন্দু কৃষ্ণ দেব, শ্রী সুরজেন্দ্র কৃষ্ণ দেব, বিশ্বজিৎ মিত্র, নন্দিনী মিত্র -কে ষোলোআনা বাঙ্গালিয়ানার পক্ষ্য থেকে এমন এক সাবেকিয়ানা তথা বাঙ্গালিয়ানায় মাখামাখি ‘বিজয়া সম্মেলনী’ উপহার দেওয়ার জন্যে জানালাম অজস্র ধন্যবাদ।

Report: Sanjib Banerji

Photo Courtesy: Raina Ghosh & Rajeeb Mitra

 

Enhanced by Zemanta

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!