Jatra in Bengal – Its Evolution, Phases and Trends; A Sholoana Bangaliana Feature

0
197
bangla jatra

Jatra in Bengal

যাত্রা-র জয়যাত্রা

নাট্যরঙ্গ বা নাটক, লোকায়ত ভাষ্যে বর্তমানে যার আরেক নাম যাত্রা তাকে বৈদিক কালে নাকি বলা হত পঞ্চম বেদ। মানে সেই বেদের কাল থেকে মানুষের মনরঞ্জনের গুরুদ্বায়িত্ব নিয়ে আর ঠাকুরের ভাষায় “লোকশিক্ষের” মাধ্যম হয়ে তিনি মানুষের মধ্যে বিরাজমান।

বেদ হল জীবনধারণের নিয়ামক এক শ্রুতিমাধ্যম, পরে তাঁকে লিখিত ও গ্রন্থিত করা হয়েছে। তা জীবন ধারন হবে তাতে মনরঞ্জন থাকবে না তা কি হয়? তাই ইনি পঞ্চম বেদ। সে যুগে মানুষকে কিভাবে মনরঞ্জিত করত নাট্যরঙ্গ তার বহুবিধ বর্ননা আমরা পুরাণ কাহিনীতে পেয়ে থাকি। কিন্তু তা সবই রাজাগজাদের সভার ভেতরের ব্যাপার, আম জনতার সেখানে প্রবেশ নিষেধ। কিন্তু তাঁরা তো কোন দোষ করেন নি, যে তাঁদের জীবনে মনরঞ্জনের কোন প্রবেশাধিকার থাকবে না, সে দ্বায়িত্ব পেলেন কথক ঠাকুরেরা, তাঁরা পুজা পার্বনে মানুষের জমায়েতে দেবদেবীর লীলামাহাত্ব বর্ননা করতেন, শাস্ত্রের ব্যাখ্যা করতেন, নিজেরা গান গাইতেন। মানুষ শুনত, জানত, আনন্দও পেত।

Jatra in Bengal

সময় বদলাল, সাথে রুচিও। তখন মানুষ ব্রাহ্মন্যবাদকে আর মানতে রাজী হচ্ছিল না। নিজেদের তাগিদে তাঁরা নিজেদের সামগ্রিক ও সামাজিক আনন্দমাধ্যমকে বেছে নিল। সমবেত ভাবে এবং সবার যোগদানের মধ্যদিয়ে তারাও বলতে লাগল দেবমাহাত্বের কথা নিজেদের মত করে। কথকতা থাকল, কীর্তন থাকল, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর হাত ধরে সাধারনের মাঝে নেমে এল নামসংকীর্তন যার অপর নাম ভক্তি আন্দোলন। রাধাকৃষ্ণে লীলা বৈচিত্রের বিবরণকে সাধারনের বোধগম্য করে শুরু হল পালাগান। মহাপ্রভু নিজে “রুক্মিণী হরণ” পালায় রুক্মিণী ভুমিকায় অভিনয় করেছিলেন সেই সময়।

পালাগান মানে যাতে থাকবে এক একটা অংশের বর্ননা আর তারই সাথে গান। তা বর্ননা তো কথকঠাকুররা আগেও করতেন কিন্তু সেখানে সাধারনের কোন যোগদান সে অর্থে ছিল না শ্রোতা হওয়া ছাড়া, এবারে সেই বর্ননাকে আরো মনগ্রাহী করার জন্য একাধিক মানুষ বিভিন্ন চরিত্রে রুপদান, কণ্ঠদান করা শুরু করলেন। পাত্রপাত্রীরা উঠে এলেন সাধারন ঘর থেকে।

jatra in bengal

তাঁরা কথাও বলতেন সাধারনের ভাষায়। পালাগান জনপ্রিয় হতে সময় নিল না। গ্রামের মানুষ সারাদিনের কাজের শেষে নিজেদের আনন্দের খোঁজ পেতেন এখানে। তখন পর্যন্ত সে পালাগান হয়েই মানুষের কাছে পরিচিত ছিল। আসলে সে বলত দেব মাহাত্ব।

তাহলে আদতে যা নাট্যরঙ্গ তা একাধারে নাটক নামে পরিচিত হল শহরে আর যাত্রা হিসাবে পরিচিত হল গ্রামে, কি ভাবে? রাজতন্ত্রে যখন কোন কিছু উপস্থাপন করা হত ধরেই নেওয়া হত যে রাজাই প্রধান এবং তাঁকেই দেখান ছিল মূল উদ্দ্যেশ্য তাই বাকিরা কে দেখতে পেল বা কিভাবে দেখতে পেল সেটা বিচার্য ছিল না তেমন করে।

পরে সমাজে রাজপ্রথার অবশান ঘটে, জমিদারি প্রথার প্রারম্ভ ঘটলো বটে কিন্তু মূল ব্যাপারটা একই রয়ে গেল। তৎকালীন নাগরিক সমাজের নব নির্মিত নাট্যশালা হল তিনদিক বন্ধ, একদিক খোলা এবং রাজার বদলে সর্বশ্রেণীর দর্শকরা জাতিধর্ম নির্বিশেষে পাশাপাশি বসে দেখতে শুরু করে দিলেন এই পালা অভিনয়।

jatra in bengal

রাজার, জমিদারের বদলে একঘর মানুষ, যাঁরা সবাই রয়েছেন সামনে, তাঁরাই হয়ে গেলেন রাজসম, তাঁদের মনরঞ্জনের জন্যে কুশীলবেরা তাদের অভিনয় গান সবকিছুই পরিবেশন করতে লাগলেন সেই সমস্ত নাট্যশালায়। আর সমস্ত গ্রামের মানুষকে যদি শুধু সামনের দিকে বসিয়ে পালাগানের অভিনয় ও গান পরিবেশন করা হয় তবে শেষের দিকের মানুষের কাছে পৌছানো সম্ভব হবে না এটা মাথায় রেখেই কুশীলবেরা রইল মাঝখানে আর দর্শক রইল চারপাশে যাতে সবাই শুনতে পায় কি কথা হচ্ছে কি গান হচ্ছে, কে হাসছে আর কে কাঁদছে।

jatra in bengal

কিন্তু নাট্যরঙ্গ যাত্রা হল কী করে?

এই যে বিভিন্ন দেব দেবীর কাহিনী, রাজা রানীর কাহিনী এতো শুনতে পারে সবাই কিন্তু একে যে তৈরী করা যার তার কম্ম নয়। সমগ্র গ্রামবাসীদের মধ্যে কতিপয় লোক সে কাজ পারে, তাই সেই কতিপয় লোক দলবধ্য হয়ে বিভিন্ন যায়গায় গিয়ে সেই নাট্যরঙ্গ, বা পালাগান মানুষের সামনে তুলে ধরত। এই যে চলা এর থেকেই নাম হয়ে গেল যাত্রা।

যেখানে থামা সেখানে সেখানকার লোকেদের সাথ একাত্ম হয়ে তাদের মত করে তাদের আনন্দ দেওয়াই হয়ে উঠল যাত্রাপালার কুশীলবদের প্রধান উদ্দ্যেশ্য। শুধু যে আনন্দ দেওয়া তা নয়, অনেক সময় জনজাগরনের কাজের ব্যাপারেও যাত্রাপালার ছিল অগ্রনী ভুমিকা। তাতে যে তাকে কম ভোগান্তি পোয়াতে হয়েছে তা কিন্তু নয়। কিন্তু যেজন মানুষের সাথে নিজেকে জড়াতে পারে, সে কি মানুষের দুঃখে নিজেকে এড়াতে পারে? তাই এই মানুষেরা নিজেদের বিপদের তোয়াক্কা না করে সময় বিশেষে মানুষকে জাগানর কাজ ও করে গেছেন নিরলস ভাবে।

যাত্রা বা পালাগান বহু কাল ধরেই ছিল মুলত সাধারনের অর্থানুকুল্যে চলা একটা ব্যাপার, বেশ কিছু ক্ষেত্রে আঞ্চলিক জমিদার ও বেশ কিছু ধর্মীয় সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতাও এই সব পালার কুশীলবেরা পেয়েছিলেন। কিন্তু সেটাও কোন অর্থ উপার্জনের মুল মাধ্যম ছিল না। সোজা কথায় দিনে চাষবাস রাতে আসরে পালায় অভিনয় করাই ছিল অভিনেতাদের উদ্দেশ্য।

এই ব্যাপারটা ক্রমে সংগঠিত রুপে আমরা দেখতে পাই প্রথম ১৮৬৯ সালে, শ্রী বৈকুণ্ঠ নট্ট তার ভাই শ্রীনাথ নট্টের অনুপ্রেরনায় প্রথম এক যাত্রার দল গঠন করেন নাম দেন “মাছরঙ্গ বৈকুন্ঠ সঙ্গীত সমাজ” পরে সাধারনের মুখে তার নাম হয় নট্টদের দল, আর নট্ট কোম্পানী নামে পরিচিতি হয় তার ও অনেক পরে। এই পালাগান বা যাত্রা পালার ব্যাপ্তি ছিল কিন্তু অনেক দূর পর্যন্ত অবিভক্তবাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম, ত্রিপুরা এই সব যায়গায় পালাগান ছিল অতি জনপ্রিয়, আগে হত সারারাত বর্তমানে কমে হয়েছে চারঘন্টা মাত্র।

গোড়ারদিকে একদল লোক ঢোল, হারমোনিয়াম, বাঁশী, ক্লেরিয়নেট, ঝাঁঝর নিয়ে মঞ্চের পিছনের দিকে বা দুইপাশের দিকে বসতেন এবং বাজানা সুরু হতেই ছোটরা জড় হতে শুরু করত। তারপরে আসত সখীর দল, এই দুই দলের প্রদর্শন যখন শেষ হত তখন শুরু হত আসল পালা। অনেক সময়েই দেখা যেত ছোটরা ততক্ষনে ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু তাতে কি আসল মজাই তো আসত শেষে যখন তীর ধনুক, গদা অথবা তলোয়ারের যুদ্ধ হত আর দুষ্টের দমন হত। বড়দের সাথে কড়ার থাকত যে আগে গিয়ে সামনের জায়গা আমি রাখব, কিন্তু যুদ্ধের সময় আমায় জাগিয়ে দিতে হবে।

যেহেতু যাত্রা দর্শকদের একবারে মাঝখানে অভিনীত হত তাই সেখানে স্টেজে কোন আসবাবপত্র থাকত না। আর পরের দিকে স্টেজের মাঝখানে একটা উচু বেদীর মত বানিয়ে দেওয়া হত, যে সিনের যে বা যারা মুল চরিত্র তারা সেই বেদীর উপরে উঠে পার্ট বলত, এতে সুবিধা হত যারা পিছনের দিকে বসতেন তাদের।

২০০৯ সালের হিসাব অনু্যায়ী কোলকাতার যাত্রাপাড়ায় প্রায় ৫৫টি রেজিস্ট্রিকৃত দল আছে, আগে দলের মালিক কে বলা হত অধিকারী বা নায়েক, বর্তমানে তিনি পরিচিত হন ম্যানেজার নামে। অফিসের নাম কিন্তু গদিঘর আজও, সেই গদিঘরে যাত্রার বুকীং ইত্যাদির শুরু হয় রথযাত্রার দিন থেকে। সারা পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৪০০০ জায়গাতে যাত্রা পালা অভিনীত হয়ে থাকে বিহার উড়িষ্যা আসাম বাংলাদেশ ধরলে সেটা এক বিরাট সংখ্যা। আনুমানিক ২০,০০০ লোকের জীবিকা জড়িয়ে আছে বর্তমানে যাত্রা শিল্পের সাথে। অর্থলগ্নীর ব্যাপারটাও সাঙ্ঘাতিক রকমের।

যাত্রায় যাদের নামে লোক জড়ো হয়, অর্থাৎ কিনা নায়ক নায়িকা ভিলেন ইত্যাদি তাদের একটা সুন্দর নাম আছে “টপা, টপি”। এরাই বেশী টাকায় চুক্তি বদ্ধ হন দলের সাথে। কলকাতার যাত্রাদলগুলির একটা প্রবণতা আছে যে সিনেমার জনপ্রিয় মুখেদের নিজদের দলে চুক্তিবদ্ধ করান এবং সেই সিনেমা আর্টিস্ট এর উপস্থিতি হলে বুকীং এর পরিমাণ ও বেড়ে যায় স্বাভাবিক ভাবেই, আর সেই শিল্পীর অনুপস্থিতির ফল যে কী হয় তাও সহজেই অনুমেয়।

যাত্রায় সবচাইতে খারাপ অবস্থা হয় খলনায়ক বা ভিলেনদের। জমিদার বাড়িতে যাত্রার দল এসেছে, দুপুরের খাওয়া দাওয়া জমিদার মশাই নিজে তদারকি করছেন, সবার পাতে বড় বড় মাছের দাগা পেটি পড়ছে, সে এক এলাহী কান্ড। রাতে পালা হল “শকুনির পাশা”। পরদিন দুপুরে বিদায়ী খাওয়ার সময় শকুনি, দুর্যধন পেল মাছের ল্যাজা তাও ছোট, বেচারা দুঃশাষনের ভাগ্যে তাও জুটল না।

যাত্রার সবচাইতে দুরুহ জিনিস হল ম্যানেজ, চারদিকে শ’য়ে শ’য়ে লোক, তারমাঝে লড়াই হচ্ছে সিকান্দর শা আর দিল্লীর শাহেনশা ফিরোজ শার মধ্যে, দৈনন্দিন জীবনে দুজনেই একই পরিবারের ফিরোজ শার ভুমিকায় যে পাঠ করছে সে বড়ভাই আর সিকান্দর শা হল ছোট। মঞ্চের মাঝখানে মাথার উপর যে চাদর দিয়ে সামিয়ানা হয়েছে সেটা বড় ভাইয়ের বিয়েতে পাওয়া। সিকান্দর এর তলোয়ারের খোঁচা চাদর দিয়েছে ছিড়ে। আর তলোয়ার গেছে আটকে। দুই ভাই বুঝেছে যে আজ যাত্রার শেষে অবধারিত ভাবে ঝামেলা হবে বাড়িতে। সিকান্দর উপরে আটকে থাকা তলোয়ারের দিকে একবার তাকাল নিজের বড় বৌদির দিকে একবার তাকিয়ে যাত্রার মত উচ্চগ্রামে বলে উঠল “সেলাই করিয়ে নিলে চলবে” বলেই ফিরোজ শার দিকে তাকিয়ে বলে উঠল “আজ সামিয়ানা এখানে তোমায় বাঁচালেও গৃহে মৃত্যু অবধারিত”। চারিদিকে হাততালির ফোয়ারা ফুটে গেল।

This well researched and exhaustive article on Jatra in Bengal traces this ancient art form which is the foundation stone of the Celluloid and has been contributed by:

bengali writer

Shri Somankar Lahiri was born on 17th of January 1967, in a small town name Serampore, in Hooghly district. His parents were Late D.S.Lahiri and Late Mukul Lahiri. Shri Lahiri completed his schooling from Mahesh Sri Ramkrishna Ashram, (1982) Chatra Nandalal Institution (1984) and graduated from Calcutta University in 1986. At present he is working with National Sample Survey Office, which belongs to The Ministry of Statistics and Program Implementation, as a Data Processing Asst. Along with adeptly managing his professional life, Shri. Lahiri also zealously follows his passion for writing and has many a beautiful short stories and excerpts to his credit.

Image Credits: Google Images

Enhanced by Zemanta

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!