Suchitra Sen is No More; Her Sad Demise leaves a Void in the Heart of Bengal; R.I.P

0
213
Suchitra Sen is No More

সুচিত্রা সেন

১৯৩১ – ২০১৪

কাট! একটা দীর্ঘ শট শেষ করলেন এই দিন দুনিয়ার ডিরেক্টার, আজ ১৭ই জানুয়ারি ২০১৪র সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে বেলভিউ নার্সিং হোমে, কলাকুশলীরা দেখলেন তাঁদের নায়িকা শট শেষ করে চিরশান্তির দেশে পাড়ি দিলেন, নিখুঁত প্রস্থান।

এই শ্রদ্ধাপত্র কে দিনক্ষন, প্রাপ্তি অপ্রাপ্তি এই সব ছোটখাটো ব্যাপার দিয়ে কন্টকিত করার কোন কারন নেই, তিনি আপামর বাঙালীর চোখের মণি হয়ে ছিলেন সুদীর্ঘ পাঁচ দশক বা তারও বেশী সময় ধরে তাঁর এই চলে যাওয়াকে কোন ভাবেই ব্যক্ত করতে পারবে না এই লেখা। অনভুতি কে প্রকাশ করাই যদিও শব্দবন্ধ বা বাক্যের কাজ কিন্তু অবরুদ্ধ আবেগ ও দীর্ঘ অদর্শনের অভিমান কে ব্যাক্ত করতে যে ভাষার ধার লাগে তা আমার নাগালের বাইরে, কারন আমিও সেই অভিমানীদেরই দলে।

মাত্রাজ্ঞ্যান নাকি শিল্পের সব থেকে বড় ব্যাপার, যেটা না থাকলে যে কোন শিল্প বা সৃষ্টই নাকি তার রস হারায়।  তা এই মাত্রাজ্ঞ্যান কে যে কোন পর্যায়ে তুলে নিয়ে যেতে হয় আর গণ্ডী কে কি করে রক্ষা করতে হয় সেটা বোধহয় বাঙালীর বা ভারতীয়দের ওনার কাছে শেখা উচিত। ১৯৭৮ শালে প্রনয়পাশা ছায়াছবিটির পরে থেকে তিনি আর ছবি করেন নি। ১৯৭৮ থেকে ২০১৪ এই দীর্ঘ সময় নিজেকে আবদ্ধ রেখে কিভাবে মানুষের মনে পাকাপাকি ভাবে থাকা যায় সেটা ওনার থেকে ভাল ভাবে আর কেউ ই করতে পারেন নি।

খ্যাতিকে হেলায় পিছনে ফেলে দিয়ে উনি নিজের গণ্ডীর মধ্যে থেকে সবার কৌতূহলের মধ্যমণি হয়ে তিনি কাটিয়েছেন প্রায় ৩৫ – ৩৬ বছর, কিন্তু এই সময় কালের আগে তাঁর কাজ বাঙালীর মনের মণিকোঠায় যে স্থায়ী আসন লাভ করেছিল তার মূল্যই তাঁকে আমাদের কাছে অমুল্য বা বহু মুল্য করে দিয়েছিল এই দীর্ঘ সময়।

রমা দাসগুপ্তা অধুনা বাংলাদেশের পাবনা জেলায় ৬ই এপ্রিল ১৯৩১ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। বাবা  ‘করুণাময় দাসগুপ্ত’ ছিলেন স্থানীয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক, মা ইন্দিরা দেবী ছিলেন গৃহবধূ। উনি ছিলেন তাঁদের পঞ্চম সন্তান। তাঁর পড়াশোনাও শুরু হয়েছিল স্থানীয় স্কুলেই। শিল্পপতি আদিনাথ সেনের পুত্র দিবানাথ সেনের সাথে তাঁর বৈবাহিক বন্ধন হয় ১৯৪৭ সালে, একমাত্র কন্যা শ্রীমতী মুনমুন সেন। বিয়ের মাত্র ৫ বছর বাদে ১৯৫২তে তিনি তাঁর প্রথম ছবি ‘শেষ কোথায়’ তে অভিনয় শুরু করেন, সেই ছবি মুক্তি পায়নি, তার পরের ছবি ‘সাত নম্বর কয়েদি’ ও ‘ভগবান শ্রী কৃষ্ণ চৈতন্য’ এই দুই ছবিতেও তিনি অভিনয় করেন, কিন্তু তাঁর নাম ও অভিনয় ক্ষমতা জনমানসে সাড়া ফেলে ১৯৫৩ সালে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবিতে উত্তম কুমারের বিপরীতে অভিনয় করে। সেই ছবি আজও সমান জনপ্রিয়। আর ‘মাসীমা মালপুয়া খামু’ যদিও ভানু বন্দোপাধ্যায়ের মুখের থেকে বহু বাঙালীর মুখের ফিলার হয়ে উঠেছিল, কিন্তু মাসীমার মেয়ে রয়ে গেলেন বাঙালীর প্রিয় হয়ে।

সেটা এমন এক সময় যখন দেশভাগ, দাঙ্গা আরো বিভিন্ন রকমের সমস্যা থেকে বাঙালি মুক্তি চাইছিল, তাদের একটা রোম্যান্টিক এস্কেপ রুটে ফেলে দিলেন উত্তমকুমার ও সুচীত্রা সেনের রোম্যান্টিক জুটি। তাঁরাই প্রথম। ম্যাটেনী আইডল বলতে যা বোঝায় এই দুজন ছিলেন ঠিক তাই, প্রায় ২০ বছর স্থায়ী ছিল সেই জুটি। শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রির পুরষ্কার পান ‘দেবদাস’ ছবির জন্যে ১৯৫৫ সালে। ১৯৭৪ সালে ‘আঁধি’ ছবির জন্য ফিল্মফেয়ার বেস্ট এক্ট্রেস নমিনেশান পান, কিন্তু নায়ক সঞ্জীব কুমারের ভাগ্যে পুরষ্কারটা জোটে।

ওনার একক অভিনয় সাড়া ফেলে দেয় ১৯৫৯ সালে ‘দীপ জ্বেলে যাই’ ছবিতে ‘রাধার’ ভুমিকায়, মুল কাহিনী আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের ‘নার্স মিস মিত্র’, এই ছবিতে তিনি যেন অভিনয়ে সব দিক ছাপিয়ে দিয়ে গেলেন।  ১৯৬৩ তে অসিত সেনের ‘উত্তর ফাল্গুনী’ আরো একটি অভিনয়ের মাইল স্টোন। তিনিই প্রথম ভারতীয় মহিলা অভিনেত্রী যিনি ১৯৬৩ সালে রাশিয়াতে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান, ‘সপ্তপদী’ ছবির জন্যে।

তিনিই সম্ভবত একমাত্র অভিনেত্রী যিনি কোলকাতায় সত্যজিৎ রায় কে আর বম্বেতে রাজ কাপুরকে না বলতে পেরেছিলেন। যে কারনে সত্যজিৎ রায় মশাই ‘দেবী চৌধুরানী’ ছবিটি আর করার ব্যাপারে ভাবেনই নি। ওনার কর্মজীবন ছিল ২৬ বছরের আর তারপর নিজেকে জন সমক্ষে না আনার জীবন ছিল ৩৬ বছর। আজ তিনি আরো একবার প্রমান করে দিতে পারলেন যে শুধু কাজ দিয়েই মানুষের মনের মণিকোঠায় থাকা যায়।

আমরা কেউ ই বোধহয় জানি না দেহাতীত হয়ে যাওয়ার পরে কী হয়, কিন্তু ওনার সৃষ্ট চরিত্র গুলির অবস্থান ছিল সেলুলয়েডে। সেই ‘রিনা ব্রাউন’, সেই ‘পান্নাবাঈ’, ও আরো অনেকে, তাঁরা তো আর আমাদের ছেড়ে যাবেন না, তাই না? তাই অনেক ব্যাস্ততার ফাঁকে, ঝাঁকে ঝাঁকে চ্যানেলের ভীড়ের মধ্যে দিয়ে বা নিজের ডিভিডি তে কোন না কোন সময় ওনারা আমাদের কাছে আসবেন, আমাদের ছুঁয়ে যাবেন। সময় আমাদের দেহ কে কাবু করলেও মন কে হয়ত উনি ওনার সৃষ্টি দিয়ে সবুজ করে দিয়ে যাবেন বারংবার। ম্যাডাম আপনি যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন, আমরা আজকে….

 

Suchitra Sen is No More and her Sad Demise leaves a Void in the Heart of Bengal. Her unsurpassed beauty will remain etched in the memories of one and all and she will be thoroughly missed by every Bengali residing in every corner of the world.

Team Sholoana Bangaliana salutes this legendary Diva.

 

 

 

Enhanced by Zemanta

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!