Jatishwar Movie Review, Poster, Trailer; An Archive of Bengal’s Roots Documented On Screen

0
140

Jatishwar Movie Review

সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পঞ্চম Bangla Movie ‘Jaatiswar’ ছবি নিয়ে লিখতে বসে একটা কথা শুরুতেই লিখে ফেলা প্রয়োজন যে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের আগের চারটি ছবির সঙ্গে এই ছবির তুল্য মুল্য বিচার করা অর্থহীন। সৃজিতের আগের ছবিগুলির গল্প অন্যধারার হলেও সেগুলির ট্রিটমেন্ট ছিল বাঁধা ছকে আবদ্ধ। বাঁধা ছক বলতে আমি বলতে চাইছি নায়ক চরিত্রকে লারজার দ্যান লাইফ করে তুলে ধরা, অনুপম রায়ের কনটেম্পোরারি মিউজিকের ব্যবহার, বেশ খানিকটা প্রেডিকটেবল ক্লাইম্যাক্স। নিজের পঞ্চম ফিল্মে পৌঁছে সৃজিত শেষ পর্যন্ত ‘খেলা ভাঙ্গার খেলা’ খেললেন। বাঁধা বানিজ্যিক ছক থেকে মাথা উঁচু করে বেরিয়ে এসে এমন এক ব্যতিক্রমী তথা সৃজনশীল সিনেমা উপহার দিলেন বাঙালি দর্শকদের, যা আরো একবার নতুন করে গল্প বলিয়ে হিসাবে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘জাত’ চিনিয়ে দিয়ে গেল আপামর সিনেমাপ্রেমী দর্শকমহলে।

জাতিস্মরের কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছে এই ছবির ‘ব্যতিক্রমী’ গল্প। এমন এক গল্পে নায়ক রোহিত (যীশু সেনগুপ্ত) এবং আনুমানিক ১৭৭ বছর আগে বাংলায় আসা এক পর্তুগালী যুবক অ্যান্টনির প্রেমের উপাখ্যান একাধারে মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। এই গল্পের আদ্যপ্রান্ত জুড়ে আছে খাঁটি বাঙ্গালিয়ানা এবং এই নির্ভেজাল বাঙ্গালিয়ানাকে চিত্রনাট্যকার নিয়ে এসেছেন বাংলা গানের মাধ্যমে।

শুধি দর্শকবৃন্দ যদি আগে থেকে ভেবে নেন যে এই ছবি ১৯৬৭ সালের উত্তমকুমার (Uttam Kumar) অভিনীত ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গী’ ছবির নবতম সংস্করন তাহলে তারা গোড়াতেই গণ্ডগোল করে বসবেন। জাতিস্মরের আবেদন সম্পূর্ণরূপে স্বতন্ত্র। কয়েকদিন আগে অ্যাকাডেমিতে পূর্ব পশ্চিমের নতুন বাংলা নাটক ‘অ্যান্টনি সৌদামিনী’ দেখে এলাম, সৃজিতের এই ছবির স্বাদ কিন্তু সেই নাটকের থেকেও ভিন্নতর। অ্যান্টনি ফিরিঙ্গী এই ছবির গল্পে একজন চরিত্ররূপে এসেছেন বটে কিন্তু এই ছবি কোনোভাবেই ফিরিঙ্গী কবিয়ালের (Antony Firingee) জীবনালেখ্য হয়ে ওঠেনি। জাতিস্মরের মূল আঁধার হচ্ছে এক গুজরাটি রোম্যান্টিক যুবক ‘রোহিত’-এর জীবনের গল্প, যে কাহিনীর বাঁকে-বাঁকে মাঝে মধ্যে উঁকি দিয়ে যায় ফিরিঙ্গী কবিয়ালের জীবনের নানান ঘটনাপ্রবাহ। কেমন ভাবে? প্রথমদিনেই যদি জাতিস্মরের গল্প লিখে দিই তাহলে সৃজিতের প্রতি সেটা চরম অবিচার হবে। সুতরাং সেই লোভ এখানে সংবরণ করলাম।

অভিনয়ে প্রথমে যার কথা লিখতেই হবে তিনি হচ্ছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন চন্দননগরের মধ্যবয়স্ক লাইব্রেরিয়ান ‘কুশল হাজরা’ রূপী Prosenjit Chatterjee (যিনি পূর্বজন্মে ছিলেন কবিয়াল অ্যান্টনি ফিরিঙ্গী)। নিজের সমস্ত গ্ল্যামার স্বেচ্ছায় ঝেড়ে ফেলে অক্লেশে ‘কুশল হাজরা’ হয়ে উঠেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সৃজিতকে ধন্যবাদ দেবো এমন এক অরিজিনাল ‘লুক’-এ বুম্বাদাকে তুলে ধরার জন্যে। এইবার অবশ্য বোঝা গেল কেন প্রসেনজিৎ প্রায় দেড় মাস মাথায় স্কার্ফ বেঁধে ঘুরতেন। অ্যান্টনি ফিরিঙ্গীর ‘লুক’ তথা মেক-আপ’ নিয়ে একটা মিডিয়া হাইপ তৈরি করে সৃজিত খুব বিচক্ষণতার সঙ্গে তার ডার্ক হর্স ‘কুশল হাজরা’-কে পাবলিক তথা মিডিয়ার নজর থেকে আড়ালে রেখে দিলেন। নিট ফল? ওস্তাদের মার শেষ রাতে! প্রচারের আলো পেলো অ্যান্টনি ফিরিঙ্গী, কিন্তু বাজি মেরে গেলো কুশল হাজরা। এটাই যে বুম্বাদার সর্বসেরা অভিনয়, এমন কথা আমি বলবনা (মনের মানুষ-কে মাথায় রেখে বললাম) কিন্তু এই মধ্যবয়স্ক, আটপৌরে এবং জাতিস্মর ‘কুশল হাজরা’ বুম্বাদার সেরা চরিত্রায়নগুলির মধ্যে নিঃসন্দেহে জায়গা করে নেবে, এই কথা লিখে দেওয়া যায়। অ্যান্টনি কবিয়ালের চরিত্রে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিত্ত্ব এবং স্বনামধন্য গায়ক শ্রীকান্ত আচার্য-র রোম্যান্টিক কণ্ঠস্বরের মিশেল, আমার মনে ঋতুপর্ণ ঘোষের (Rituparno Ghosh) স্মৃতি উস্কে দিলো।  ভোলা ময়রার সঙ্গে কবিগানের সম্মুখসমরে অ্যান্টনি রূপী বুম্বাদার ‘চোখের’ অভ্যব্যক্তি মনে রাখার মতন।

মহামায়া চরিত্রে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়-কে যেমন মানিয়েছে, তিনি অভিনয়টাও তেমনই দাপটের সঙ্গে করেছেন। বাংলা ভাষার প্রতি মহামায়ার অন্ধ আবেগ তথা দুর্নিবার টান নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে বেশ ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন স্বস্তিকা।

রোহিতের ভূমিকায় ‘অবাক’ করা অভিনয় করে ফেলেছেন যীশু সেনগুপ্ত। রোহিতের সংবেদনশীল চরিত্রে যীশু-কে (Jisshu Sengupta) নির্বাচন করে সৃজিত আরেকবার ঋতুদার স্মৃতি-কে দর্শকদের মনের মণিকোঠায় উজ্বলতর করে তুললেন। যীশুর স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়ে যেন আমরা ‘রোহিত’-কে জীবন্তরূপে পেলাম। ছবির শেষের দিকে রোহিত যখন ‘এ তুমি কেমন তুমি …’ গাইছে স্টেজে, তখন যীশুর লিপ সিংগিং তথা চোখের অভিব্যক্তি এক-কথায় ফাটাফাটি!!! ওই সময় কবীর সুমন –কে সিনে রেখে সৃজিত এই ছবির অন্যতম মাষ্টার স্ট্রোক টি খেলেছেন। “এ তুমি কেমন তুমি ?”–গান হবে আর কবীর সুমন দৃশ্যে থাকবেন না, তা হয় নাকি?

ছোট্ট অথচ বিশেষ কিছু চরিত্রে খরাজ মুখোপাধ্যায় (ভোলা ময়রা), ক্যাকটাস (Bangla Band: Cactus) – সিদ্ধার্থ (Sidhu), মমতা শঙ্কর (Mamata Shankar)- (মহামায়ার মা) , দোহার – কালিকাপ্রসাদ (লালন ফকির), তমাল রায় চৌধুরী (হরু ঠাকুর), অনন্যা চট্টোপাধ্যায় (যজ্ঞেস্বরী), নীল মুখোপাধ্যায় (সম্ভবতঃ রাম বসু) প্রত্যেকেই বেশ মানানসই। আবির চট্টোপাধ্যায় (Abir Chatterjee) এবং রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunodoy Banerjee) স্পেশাল আপিয়ারেন্স করে নিজেদের বন্ধুকৃত্য সেরেছেন (তাদের দুজনকে মানিয়েছেও খুব ভালো আর তাদের অভিনয় নিয়েও কোন কথা হবে না)। নৌকোডুবির পরে আবার বাংলা সিনেমায় রিয়া সেন (Ria Sen) কাজ করলেন, যদিও তেমন কিছু করে উঠতে পারেননি তিনি।

সউমিক হালদারের (Soumik Halder) চিত্রগ্রহন মনে রাখার মতন হয়েছে (কিছু হ্যান্ড হেলড শট তো এক-কথায় অনবদ্য।) বোধাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Bodhaditya Banerjee) সম্পাদনা নিয়েও বলার কিছু নেই, একেবারে ধারালো তরোয়ালের মতন শার্প।

পরিশেষে এলাম এই ছবির সঙ্গীতের কথায়। অনেক ধন্যবাদ সৃজিতকে (Srijit Mukherji) এমন একটি ছবির মিউজিক্যাল অথোরিটি কবীর সুমনের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যে। আর কি team বানিয়েছিলেন Kabir Suman! সহকারী হিসাবে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত (Indraadip Dasgupta) এবং গায়ক/গায়িকা রূপে রুপঙ্কর বাগচী (Rupankar Bagchi), মনোময় ভট্টাচার্য (Monomoy Bhattacharya), শ্রমণা গুহ ঠাকুরতা (Shromona Guha Thakurta), সুমন মুখোপাধ্যায় (লাল দা) (Suman Mukhopadhyay), খরাজ মুখোপাধ্যায় (Kharaj Mukherjee), কালিকাপ্রসাদ (Kalikaprasad Bhattacharjee)এবং শ্রীকান্ত আচার্য (Srikanto Acharya)। প্রত্যেকেই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন তাদের অভিভাবকস্বরূপ কবীর সুমনের সম্মানরক্ষায়।

এই ছবির সবথেকে বড় চমক হচ্ছে ছবির ক্লাইম্যাক্স। এমন এক ক্লাইম্যাক্স ফেঁদেছেন সৃজিত যে দর্শকদের মনে হতে বাধ্য – শেষ হইয়াও প্রকৃতরূপে হইলো না শেষ।

ষোলোআনা বাঙ্গালিয়ানার পক্ষ্য থেকে আমি সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত পঞ্চম Bengali Movie Jatishwar-কে  নম্বর দিলাম : 7.5/10

 


Jaatishwar Theatrical Trailer (Official) | Prasenjit Chatterjee, Riya Sen | Bengali Movie 2013 (You Tube)

 

Jatishwar Movie Review By:

SanjibSanjib Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and has written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.
Sanjib can be reached at sanjib@sholoanabangaliana.com
The information and views set out in this movie review are those of the author and do not necessarily reflect the official opinion of the Publication/Organization. Neither the Publication/Organization nor any person acting on their behalf may be held responsible for the use which may be made of the information contained therein.

 

 

Enhanced by Zemanta

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!