Bengali Theater Rwituparno Ghosh – Review; A Play that Carries the Message of Being Yourself

0
137
Bengali Theater 'Rwituparno Ghosh

Bengali Theater 'Rwituparno Ghoshনতুন নাট্যগোষ্ঠী ‘শব্দমুগ্ধ’-র নবতম প্রযোজনার নাম যখন শুনলাম ‘ঋতুপর্ণ ঘোষ’, তখন প্রথমেই যে কথা মাথায় এসেছিলো, তা হল – এ আবার কেমন গিমিক? একজন শ্রদ্ধেয় তথা কৃতি শিল্পী ব্যক্তিত্ত্ব আমাদের ছেড়ে অকালে চলে গেলেন আর তাকেই কিনা নাটকের মঞ্চে টেনে আনা হচ্ছে? আসলে এমন মনভাবের পিছনে কারনও ছিল বিস্তর। ঋতুপর্ণ ঘোষ (Rituparno Ghosh) এমন একজন মানুষ ছিলেন যার গুণগ্রাহীর যেমন অভাব ছিলনা, ঠিক তেমনি ঋতুদার সাজ-পোশাক, সেক্সুয়াল প্রেফারেন্স সংক্রান্ত অবৈধ, অযাচিত অপরিণত কৌতূহলের অন্ত আমাদের সমাজে খুব একটা কম ছিল না। আসলে যেকোন প্রকারের গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত কোন মানুষ যদি একটুও ‘অন্যধারা’-র হন তাহলে তাকে সমাজের গোঁড়ামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর একটা চেষ্টা ছিদ্রান্বেষীরা করে যেতেই থাকেন। তাই ঋতুদার মৃত্যুর কয়েক মাসের মধ্যেই যখন ‘ঋতুপর্ণ ঘোষ’ শিরোনাম দিয়ে নাটকের অবতারনা ঘটলো তখন ঘর পোড়া গরুর মতো সিঁদুরে মেঘ দেখে আমরা অনেকেই কিছুটা ভয় পেয়েছিলাম। মৃত্যুর পরেও মানুষটার ব্যেক্তিগত জীবন নিয়ে আবার ময়না তদন্ত শুরু হয়ে যাবেনা তো!! তাই…

এরকম আশা আশঙ্কার দোলাচল মনের মধ্যে বহন করে দেখতে গেছিলাম ‘শব্দমুগ্ধ’-র নতুন নাটক ‘ঋতুপর্ণ ঘোষ’। নাটক শুরু হওয়ার পরে বুঝতে পারলাম যে আমাদের আশঙ্কা ভ্রান্ত। এই নাটকে ‘ঋতুপর্ণ ঘোষ’ নামটি ব্যবহৃত হয়েছে এক ‘রূপক’ (metaphor) হিসাবে। এই নাটকের যে কেন্দ্রীয় চরিত্র তার জীবনযাত্রার অনেকাংশ জুড়েই ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছেন ঋতুপর্ণ ঘোষ। ব্যেক্তি ঋতুপর্ণ ঘোষের থেকেও এখানে উজ্জ্বল রূপে প্রতিফলিত হয়েছে প্রয়াত ‘ঋতুপর্ণ ঘোষ’ – এর জীবনদর্শনের সারাৎসার।

এই নাটকের নায়ক রঞ্জন, দেহে পুরুষ হলেও মনে এক নারী। রঞ্জনের এই অন্য ধারার স্বাধীন যৌন চেতনাকে মন থেকে মেনে নিতে পারেন না তার অধ্যাপিকা মা এবং আপাত নিরীহ সংবেদনশীল বাবা। রঞ্জনের মা ছেলের এই স্বাধীন যৌনপরিচয়কে কড়া হাতে দমন করার চেষ্টা করে চলেন। রঞ্জনের বাবা সন্তানের এই যৌনচেতনাকে কে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য বলে মনে না করলেও, সেটিকে একেবারে অস্বীকার করতেও পারেন না। রঞ্জনের একমাত্র বান্ধবী বলতে তার বাবার ছোট বোন, তার ‘চিনু পিসি’। চিনু পিসির সঙ্গেই তার মনের ভাবের আদানপ্রদান।

এই নাটকের ব্যাপ্তিকাল ঋতুদার মৃত্যুর দিনের বৃষ্টিস্নাতা কলকাতা শহরের সকাল থেকে সন্ধা। রঞ্জন নিজের জীবনপুরের পথপ্রদর্শক ঋতুপর্ণ ঘোষের অন্তীম যাত্রার সঙ্গিনী হতে চায় কিন্তু তার অভিভাবকরা তাকে ওইদিন বাড়ি থেকে বেরনোর অনুমতি দেন না। এই নিয়েই শুরু হয় সম্পর্কের পারস্পরিক টানাপড়েন। এই টানাপড়েনে ক্রম পর্যায়ে যুক্ত হয়ে পড়েন রঞ্জনের চিনু পিসি, তার ছেলে, দিদিমা এবং একজন স্বার্থপর N.G.O কর্মসঞ্চালক। ঋতুদার প্রয়ানের দিনেই এক এক করে কাছের মানুষদের মুখোশ খসে পড়তে শুরু করে রঞ্জনের মনের চোখের সামনে। দর্শকাসনে বসে আমাদের মনের মধ্যেও প্রশ্ন জাগতে শুরু করে নিজের অজান্তেই জীবনের অন্তীম লগ্নে পৌঁছে ঋতুপর্ণ ঘোষ-ও কি এমন আত্মপলব্ধির সম্মুখীন হয়েছিলেন? যখন তার কাছের মানুষগুলির মেকি মুখোশগুলো একে একে খসে পড়েছিল। রঞ্জন আর তার আধুনিকা তথা স্বাধীনচেতা চিনু পিসির অন্তরঙ্গ সম্পর্কের মধ্যে দিয়ে আমরা যেন ঋতুপর্ণ ঘোষ এবং তার রীনাদি অর্থাৎ অপর্ণা সেন-কে (Aparna Sen) খুঁজে নিতে পারি।

অভিনয়ে প্রত্যেক অভিনেতা/অভিনেত্রী আন্তরিক তথা অনবদ্য অভিনয়ের নিদর্শন রেখেছেন। বিশেষ করে বলতে হবে কেন্দ্রীয় চরিত্রে রঞ্জন বসুর (Ranjan Basu) কথা। রঞ্জনের অভিনয় দেখতে দেখতে ঠিক যেন মনে অল্পবয়সী ঋতুদাকে দেখছি। এই নস্টালজিয়াটার জন্যে অভিনেতা রঞ্জন এবং নাটকের রচয়িতা তথা পরিচালক রাকেশ ঘোষকে জানাই অনেক ধন্যবাদ। বাকিরাও বেশ ভাল অভিনয় করেছেন। নুপুর বন্দপাধ্যায় (Nupur Banerjee), স্বাতী চক্রবর্তী (Swati Chakraborty) এবং শম্পা দে (Shampa Dey) তিন অভিনেত্রীই খুব ভালো কাজ করেছেন। নাটকের কাহিনীর উৎস, প্রবাহ এবং ধারা তিন দিকই বেশ জোরালো। রাকেশ যে ধন্যবাদ এমন একটি সময়োপযোগী নাট্য প্রযোজনা আমাদের উপহার দেওয়ার জন্যে। সুপ্রিম কোর্ট সমকামী সম্পর্ক (Homosexuality) নিয়ে এমন এক অমানবিক রায় দেওয়ার পরে তো এমন এক নাটক কলকাতার রঙ্গমঞ্চে রীতিমতন বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। নাট্যকার-পরিচালক রাকেশ ঘোষকে (Rakesh Ghosh) অনেক অনেক অভিনন্দন এমন এক সুন্দর প্রযোজনা বাঙালি নাট্যসমাজকে উপহার দেওয়ার জন্যে। এই নাটক প্রকৃতঅর্থেই আমাদের সবার প্রানের সখা ঋতুপর্ণ ঘোষ-কে এক বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলী।

A young theatre group Shabdomugdho has created the Bengali Theater Rwituparno Ghosh. It is not a biography of the filmmaker but a tribute to one of Bengal’s most prolific and influential cultural producers, which actually shows Rituparno’s lasting impact on the younger generation.

 

Bengali Theater Rwituparno Ghosh Review By:

SanjibSanjib Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and has written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.
Sanjib can be reached at sanjib@sholoanabangaliana.com
The information and views set out in this movie review are those of the author and do not necessarily reflect the official opinion of the Publication/Organization. Neither the Publication/Organization nor any person acting on their behalf may be held responsible for the use which may be made of the information contained therein.

 

 

 

Enhanced by Zemanta

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!