The Royal Bengal Tiger Movie Review, Poster, Trailer; Abir Chatterjee at his Career’s Best

0
127
The Royal Bengal Tiger poster

The Royal Bengal Tiger Movie Reviewএই শীতে বাঙালির সিনেমার পোয়াবারো!!!

প্রথমে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের (Srijit Mukherji) ‘জাতিস্মর’ এবং সেটির পিছু পিছুই মুম্বই-প্রবাসী বাঙালি পরিচালক রাজেশ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Rajesh Ganguly) প্রথম বাংলা ছবি ‘দ্য রয়াল বেঙ্গল টাইগার’। সৃজিত যেমন এক প্রকৃত বাঙালি ব্রাহ্মন গৃহস্তের মতন বাড়িতে আপ্যায়ন করে, পাত পেড়ে নিরামিষ ভোজন সহ পরিশেষে সুস্বাদু পুলী পিঠে, পাটি সাপটা খাইয়ে ভুরি ভোজ করাচ্ছেন, ঠিক তেমনই রাজেশ খাওয়াচ্ছেন খাঁটি দরবারি বিরিয়ানি সহ জম্পেশ সব মুঘলিয়া আমিষ খানা। এক খাওয়াতে মন ভরে তো অন্যটাতে পেট কিন্তু এই কথা আদি সত্য যে এই দুরকম ‘ভোজ-এর’ প্রয়োজনীয়তাই বাঙালির জীবনে ভরপুরভাবে বর্তমান।

রাজেশ গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালক হিসাবে সবসময় স্লিক থ্রিলার সিনেমা বানাতে আগ্রহী, এই কথা তার পরিচালিত প্রথম হিন্দি ছবি ‘দ্য ব্লু অরেঞ্জেস’ দেখেই বুঝেছিলাম। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই যে তিনি বাংলা অথবা হিন্দি যে ভাষাতেই ছবি ডিরেক্ট করুন না কেন, ছবির শিরোনাম কিন্ত ইংরাজী হরফে তথা ইংরাজী ভাষাতেই হবে, যদিও এই ছবির পরিকল্পনায় রাজেশ ব্যতিত-ও আরো দুজন পাকা মাথা জুড়ে আছে, স্বনামধন্য বলিউড পরিচালক নীরজ পাণ্ডে (Neeraj Pandey) এবং আমাদের বাংলা কমার্শিয়াল ছবির অন্যতম সুপারস্টার জিৎ (Tollywood Superstar Jeet)। বিশেষত নীরজ এই ছবির প্রযোজক হওয়ায় দর্শকদের এই ছবিকে ঘিরে আশা ছিল অনেক এবং আমাদের সেই আশা-কে রাজেশ পূর্ণ করতে পেরেছেন (পরিপূর্ণ শব্দটাকে এখানে  ইচ্ছে করেই এড়িয়ে গেলাম)।

এই ছবির ‘অভিরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়’-কে  নির্দ্বিধায় তথা নিঃসন্দেহে এযাবৎ আবির চট্টোপাধ্যায় (Tollywood Actor Abir Chatterjee) অভিনীত সবরকমের চরিত্রগুলির মধ্যে ‘সেরা’ বলা চলে। অভিরূপের যাবতীয় ভিরুতা, কমনিয়তা, অসহায়তাকে আবির এমনভাবে ছবির পর্দায় মেলে ধরেছেন যে মাঝে মাঝে মনে করতে কষ্ট হয় যে এই অভিনেতাকেই আমরা অঞ্জন দত্তের ছবিতে দু-বার ‘ব্যোমকেশ বক্সী’ রূপে দেখে ফেলেছি। Jeet কে ধন্যবাদ দেবো যে সহ প্রযোজক তথা ‘হিরো’ হওয়ার সুবাদে এমন এক লোভনীয় চরিত্রে তিনি নিজে কাজ না করে ‘আবির’-কে এগিয়ে দিয়েছেন। বাঙালির প্রিয়তম চরিত্র ‘ফেলুদা’ রূপে আবির্ভূত হওয়ার আগে আবির নিজের যোগ্যতার প্রমানস্বরূপ ‘অভিরূপ’-কে রেখে গেলেন আমাদের জন্যে।

আমি এর আগেও নানান জায়গায় বহুবার লিখেছি যে প্রিয়াঙ্কা সরকার বন্দ্যোপাধ্যায় (Priyanka Sarkar Banerjee)  নিজের অভিনয় প্রতিভার প্রতি বিন্দুমাত্র সুবিচার করছেন না এবং  সমকালীন পরিচালকরা এই প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী –কে শুধুমাত্র অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) স্ত্রী হিসাবেই দেখছেন। আমি রাজেশ-কে আবার ধন্যবাদ দেবো যে এমন এক অভিনেত্রীকে নিজের যোগ্যতা প্রমানের সুযোগ করে দেওয়ার জন্যে এবং প্রিয়াঙ্কাকে অভিনন্দন সেই সুযোগকে সথিকভাবে ব্যবহার করার জন্যে। অভিরূপের স্ত্রী অপর্ণা-র চরিত্রে প্রিয়াঙ্কা সাবলীল তথা অনবদ্য অভিনয়ের সাক্ষর রেখেছেন। এই ছবির হাত ধরে বাংলা ছবিতে প্রথমবার অভিনয় করতে এলেন বলিউড অভিনেত্রী শ্রদ্ধা দাশ (Shraddha Das), যিনি ইতিমধ্যেই মধুর ভাণ্ডরকার (Bollywood Director Madhur Bhandarkar) পরিচালিত ‘দিল তো বাচ্চা হ্যাঁয় জী’ (Dil to Baccha Hain Ji) –কে অভিনয় করেছিলেন। অভিরূপের বান্ধবী তথা কলিগ ‘নন্দিনী’ রূপে শ্রদ্ধা –কে এক-কথায় ‘দারুন’ লেগেছে। শাড়ি এবং স্লিভলেস ব্লাউসে যে এতটাও যৌন আবেদন তৈরি করা যায়, সেটা এই ছবিতে শ্রদ্ধা-কে না দেখলে আমার বিশ্বাস হতনা। অভিরূপের বাড়ির ভাড়াটে ‘পাকরাশি’ –র ভূমিকায় খরাজ মুখোপাধ্যায় (Kharaj Mukherjee) ভীষনরকম বিশ্বাসযোগ্য। বিশেষত হঠকারিতার ফলে অভিরূপকে ‘থাপ্পড়’ মারার পরে খরাজ-দার মৌখিক অভ্যবক্তি সত্যি ‘অনন্য’। ছবির প্রধান খলনায়ক দীপঙ্কর ওরফে দিপু-দার ভূমিকায় শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় (Shantilal Mukherjee)-কে দেখলে মনে ঘৃণার উদ্রেক ঘটে আর সেখানেই শান্তিলালের অভিনয়ের বিজয়। ছোট্ট অথচ গুরুত্বপূর্ণ তিনটি চরিত্রে দেবরঞ্জন নাগ (Debranjan Nag), রাজেশ শর্মা (Rajesh Sharma) এবং বরুণ চন্দ (Barun Chanda) বেশ ভালো কাজ করে দিয়েছেন।

আপনারা অনেকেই হয়ত অপেক্ষা করে আছেন কখন আমি জিৎ-কে নিয়ে লেখা শুরু করবো। কিন্তু বিশ্বাস করুন এই ছবিতে জিতের (Tollywood Hero Jeet) অভিনয় নিয়ে লেখার মতন বিশেষ মশলাপাতি নেই। হ্যাঁ, নীরজ এবং রাজেশ জিতের লিপে কিছু চটকদার সংলাপ রেখেছেন বটে কিন্তু ‘অঞ্জন’ –এর ভূমিকায় ‘জিৎ’-কে কষ্ট করে অভিনয় করতে হয়নি। অঞ্জনের চরিত্রটিকে একেবারে জিতের কমার্শিয়াল ইমেজের আদলেই গড়ে তোলা হয়েছে তাই একটি ‘অন্যধারার’ ছবিতে কাজ করেও জিৎ কিন্তু সেই গ্রাম-মফঃসল-জেলার ‘Boss’ হয়েই রয়ে গেলেন।

ছবির শুরু থেকে শেষ –পুরোটাই বেশ টানটান এবং চমকপ্রদ। যে শ্রেণীর দর্শকরা সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে একজন ভেতো-ভীতু বাঙালি পুরুষের হঠাৎ নিজের বিবেক-কে কুম্ভমেলায় হারিয়ে যাওয়া যমজ ভাইয়ের মতন খুঁজে পেয়ে আচমকা বাংলার বাঘের মতন গর্জে ওঠার সংগ্রামী গল্প দেখতে এসেছিলেন, তারা নীরজ এবং রাজেশের লেখা চিত্রনাট্যের আকস্মিক প্যাঁচে পড়ে, পথ হারিয়ে, গল্পের খেই-কে নতুন ভাবে ধরার চেষ্টায় হিমসিম। ছবির গানগুলি মনে তেমন দাগ কাটে না, যদিও এই ছবিতে সুর দিয়েছেন প্রয়াত সঙ্গীত কিংবদন্তী সলিল চৌধুরীর ছেলে সঞ্জয় (সলিল) চৌধুরী।  প্রতাপ চন্দ্র রাউথের (Pratap Rout) চিত্রগ্রহণ ছবির গতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যায়। আলাদা করে বলবো ছবির সম্পাদক Shree Narayan Singh-এর কথা। এই ছবির অন্যতম সম্পদ হচ্ছে ক্ষুরধার সম্পাদনা।

রাজেশ এই ছবির মাধ্যমে কোন নীতিকথার  ইতিবৃত্ত শোনাতে চাননি। তিনি বরং নিজের মতন করে আপ্রান চেষ্টা করেছেন একটি হলিউডই মেজাজের থ্রিলারকে বাঙালি দর্শকদের জন্যে বাংলা ভাষাতে রুপান্তরীত করতে। যেহেতু বাঙালি দর্শক মাত্রই একটু বেশিমাত্রায় আবেগপ্রবন তাই তাদের আবেগে অযথা সুড়সুড়ি দেওয়ার জন্যে ‘The Royal Bengal Tiger’ নামক টাইটেলটিকে ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। নাহলে এই ছবির নাম আর যাই হোক ‘দ্য রয়াল বেঙ্গল টাইগার’ কোনভাবেই হয়না। যাই হোক … “ নামে কি বা এসে যায় ~ শুধু ‘কে’ তা চেনা যায় !”

রাজেশ গঙ্গোপাধ্যায়ের এই বাংলা ছবির গল্পের সঙ্গে ২০০০ সালের মাঝামাঝি মুক্তিপ্রাপ্ত জন আব্রাহাম এবং বিপাশা বসু অভিনীত হিন্দি ছবি ‘মদহশীর’ (Bollywood Movie ‘Madhoshi’, starring John Abraham & Bipasha Basu) মূল কাঠামোগত বেশ কিছু সাদৃশ্য আছে। সেই ছবি যেন আবার কোন এক বিদেশী থ্রিলার ছবির হিন্দি সংস্করণ ছিল, নাম এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না এবং সেটা খুব একটা জরুরীও হয়। এই রিভিউ-এর পরিশেষে আমি রাজেশ – নীরজ –জিত কে কোনোভাবেই ছোট না করেই কয়েকটা প্রশ্ন তুলে ধরছি …

1) সেই কোনকালে কোন ‘ম্যায়নে প্যার কিয়া’ (Maine Pyar Kiya)-তে মনীশ বেহল (Mohnish Behal) নামক এক ভিলেন বলে গেছিলেন যে ‘ এক লড়কা অউর এক লড়কি কভি দোস্ত নাহি হোতে’। সেই স্ক্রিপ্ট-ফিলসফি কি আজও বলিউড ফিল্মমেকরদের মধ্যে বিদ্যমান? নাহলে অভি এবং নন্দিনীর এমন মিষ্টি –নির্ভেজাল একটা বন্ধুত্ত্ব-কে এক্সট্রা ম্যারিটাল সেক্সুয়াল রিলেশনে রূপান্তরিত করে ফেলতেই হল চিত্রনাট্যকার-কে। কেন ভাই? আমার কোন বান্ধবীকে একদল ছেলে উত্যক্ত করলে আমার পুরুষত্বে আঘাত লাগবে না? এমন মনোভাব আমার কাছে দাবী করার জন্যে জন্যে সেই বান্ধবি-কে কি আমার সঙ্গে শুতেই হবে কিংবা আমাকে প্রেমিকা হতেই হবে? আমার মনে হয়না। অধুনা যুগের চিত্রপরিচালক হয়েও রাজেশ – নীরজ কি এমনটাই ভাবেন যে এক পুরুষ এবং এক নারীর মধ্যে নিখাদ বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকা অসম্ভব? বন্ধুত্ত্ব গভীরে পৌঁছলে সেই সম্পর্কে সেক্স এসে দখল বসাবেই?

Schizophrenia- -তে আক্রান্ত মনরোগী-রা তাদের অবচেতন মনের গভীরে অবলম্বন খোঁজে … সেক্স খোঁজে না! তাই স্ক্রিপ্টের এই অংশটা আমার কাছে ভীষণ গড়পড়তা এবং অগ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়েছে।  

2) সমস্যা দেখালেন অথচ সমাধান দেখালেন না? মদহশী-তে কিন্তু সমাধান দেখানো হয়েছিল। একজন বিখ্যাত মনের ডাক্তারের মেয়ে বিয়ে করে বসলো বাবার-ই এক রোগী-কে। তা বেশ করলো। কিন্তু প্রথম দৃশ্যে দেখানো হল অপর্ণা অভি-কে উত্তেজিত করার, রাগানোর চেষ্টা করছেন। একজন সাইক্রাটিসট-এর মেয়ের জন্য কাজটা কি খুব বোকাবোকা নয়? ওই ধরনের রোগীদের জন্যে তো রাগ/উত্তেজনা একেবারে বারন। ছবির শেষ দৃশ্য খুব Weakly Scripted.

3) ছবিতে দেখানো হয়েছে যে অভিরূপ কাজ করে এক সরকারি অফিসে। এই ধরনের চাকরি জয়েন করতে গেলে সবরকমের পরীক্ষা দিতে হয়। দৈহিক এবং মানসিক। একজন মনরোগী, যে কিনা চিকিৎসাধীন, সে কিভাবে সরকারি কর্মচারী হিসাবে কাজে যোগ দেয়? নীরজ পাণ্ডে এবং রাজেশ গাঙ্গুলি এটা ভেবে দেখেছেন কি?

এতকথা লিখে ফেললাম মানে এটা নয় যে আমার ‘দ্য রয়াল বেঙ্গল টাইগার’ ভালো লাগেনি। ওই যে শুরুতেই লিখেছিলাম যে উচ্চমানের মশালাদার মোগলাই খানা এই সিনেমা। যা খেয়ে মুখের রসনা তৃপ্তিলাভ করে, মেজাজ-টা বেশ ফুরফুরে হয়ে যায় কিন্তু তাতে জাতিস্মরের মতন হ্যাং অভার থাকেনা।

ষোলআনা বাঙ্গালিয়ানার পক্ষ্য থেকে আমি রাজেশ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম বাংলা ছবি ‘দ্য রয়াল বেঙ্গল টাইগার’ –কে নম্বর দিলাম 6.5/10. এই প্রাপ্ত নম্বরের সিংহভাগটাই আবির চট্টোপাধ্যায়ের দুর্দান্ত অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ দেওয়া হল। শুধু আবিরের অভিরূপের জন্যেই বাঙালি এই ছবিকে মনে রাখবে।


The Royal Bengal Tiger – Official Trailer | Jeet, Abir Chaterjee, Priyanka Sarkar, Shraddha Das (You Tube)

 

The Royal Bengal Tiger Movie Review by:

SanjibSanjib Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and has written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.
Sanjib can be reached at sanjib@sholoanabangaliana.com
The information and views set out in this movie review are those of the author and do not necessarily reflect the official opinion of the Publication/Organization. Neither the Publication/Organization nor any person acting on their behalf may be held responsible for the use which may be made of the information contained therein.

 

 

Enhanced by Zemanta

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!