New Bengali Film Taan Movie Review and Premiere Report in Pics

0
171
sexy-rituparna-sengupta-poster

পরিচালক মুকুল রায় চৌধুরী-র নতুন ছবি ‘টান’ (Taan) শুরু হয় তথ্যচিত্রের মতন করে। মুম্বই থেকে কলকাতায় আসে লিজা এবং তার বন্ধু জন। লিজার উদ্দেশ্য তার নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া বন্ধু ‘সাজু’-কে খুঁজে বার করা। সাজু ফটোগ্রাফি করতে সুন্দরবনে যায় এবং সেখান থেকে সে আর কলকাতায় ফিরে আসেনা। লিজা আর জন সুন্দরবনে পৌঁছে যায় এবং সাজুর সন্ধানে সুন্দরবনের ‘কোর’ এরিয়ায় ঢুকে পড়ে। সেই অঞ্চলে সন্ত্রাসের রাজত্ব চালায় স্থানীয় মাফিয়া ‘জাহাঙ্গীর সর্দার’। সাজুকে খুঁজতে গিয়ে লিজা মুখোমুখি হয় ‘জলবেশ্যা’ দের। সালেয়া বিবি, মেঘনা দের মাধ্যমে লিজার সামনে খুলে যায় এক অদেখা অন্ধকার জগতের বন্ধ দরজা। এই বিষয়ে লিজা-কে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন স্থানীয় ডাক্তার এবং তার বিদেশিনী স্ত্রী। সুন্দরবনে নেমেই লিজা ও জন জাহাঙ্গীর সর্দারের মুখোমুখি হয় এবং জাহাঙ্গীর তাদের দুজনকে সুন্দরবন ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্যে হুমকি দেয়। জাহাঙ্গীরের হুমকিতে ভীত জন সুন্দরবন থেকে কলকাতা হয়ে মুম্বইতে ফিরে যায় কিন্তু লিজা সাজুকে খুঁজতে কলকাতা থেকে আবার সুন্দরবনেই ফিরে আসে।

জলবেশ্যাদের মাধ্যমে লিজা চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে জাহাঙ্গীরের অন্দরমহলে ঢুকে সাজুকে খুঁজতে। সৌভাগ্যবশতঃ সেই সময় পুলিশের সঙ্গে লড়াই-এ গুলি খেয়ে মারাত্মক জখম হয় জাহাঙ্গীর সর্দার। সেই সুযোগে জাহাঙ্গীরের ডেরায় ঢোকার আমন্ত্রন পেয়ে যান ডাক্তারবাবু এবং তিনি নার্স পরিচয়ে সঙ্গে নিয়ে নেন লিজাকে।

bengali film taan posterজাহাঙ্গীরের আস্তানায় গিয়ে লিজা জানতে পারে সেই গল্প, যার পিছনে সে এতদিন ধাওয়া করে যাচ্ছে। সে জানতে পারে ‘সুন্দরী’-র কাহিনি। সুন্দরী ছিল জাহাঙ্গীর সর্দারের ‘বাঁধা’ বেশ্যা কিন্তু সে প্রেমে পড়ে যায় সুন্দরবনে নব্যাগত সুদর্শন সাজু-র। প্রথমে নিজেকে সামলে চললেও যখন সুন্দরী বুঝে ফেলে যে জাহাঙ্গীর সর্দার এখন ‘মেঘনা’-র প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং সুন্দরী জাহাঙ্গীরের কাছে শুধুমাত্র একটা ‘পুরনো’ শরীর বৈ আর কিছু নয়। তখন সুন্দরী সাজুর কাছে নিজেকে সমর্পণ করে। সালেয়া বিবির মাধ্যমে সেই খবর পেয়ে জাহাঙ্গীর সাজুর উপর হামলা চালায় এবং সুন্দরীকে তার ডেরায় আটকে রাখে। মেঘনা সুন্দরীকে মুক্ত করে দেয় … সাজু জাহাঙ্গীরের দলবলের হাতে মরে না। সুন্দরী সাজুকে নিয়ে সুন্দরবনের আরও গভীরে হারিয়ে যায়। তাদের খোঁজ কেউ কোনদিন রাখেনা। শুধু মেঘনা জানে তারা কোথায় আছে। ছবির শেষে সে লিজা-কে নিয়ে যায় সেই জায়গার খুব কাছে কিন্তু লিজা তার বন্ধু সাজুর কাছে যেতে পারেনা কারন সেই জায়গা বর্ডারের অন্তর্গত।

টান দেখতে দেখতে আমার বারবার মনে হয়েছে যে চিত্রনাট্যকার শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় (Shibashis Bandyapadhyay) বুঝে উঠতে পারেননি, তিনি ছবির স্ক্রিনপ্লে ঠিক কেমনভাবে লিখবেন ডকুমেন্টরি ধর্মী হবে নাকি ফিকশন !!! আমার বিশ্বাস পরিচালক মুকুলবাবু নিজেও বোধয় নিশ্চিত ছিলেন না যে তিনি ‘টান’-এর মাধ্যমে কি বোঝাতে চাইছেন (আদৌ কিছু চাইছেন কিনা।) এবং কোন শ্রেণীর দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে টানতে চাইছেন। শিক্ষিত বাঙালির কাছে এই ছবি নিছক হাসির খোরাক অথবা মাথা যন্ত্রণার কারন ব্যতীত অন্য কিছু নয়।

বাংলাদেশের বিখ্যাত লেখক জনাব আল-মেহমুদ ( Author Janab Al-Mahmood from Dhaka, Bangladesh) লেখা বিতর্কিত উপন্যাস ‘জলবেশ্যা’ (Controversial Bangla Novel ‘Jolbeshya’) এবং মুকুল রায় চৌধুরী (Mukul Roy Chaudhuri) পরিচালিত বাংলা ছবি ‘টান’-এর মধ্যে অনেকটাই সৃজনজনিত দুরত্ব। আমরা জানি যে ছবির ভাষা এবং বই-এর ভাষার মধ্যে বেশ কিছুটা ফারাক কিন্তু আমি এখানে সেই ফারাক-এর কথা লিখছি না … আমি বলতে চাইছি যে মুকুলবাবু মেহমুদ সাহেবের উপন্যাসের মূল রসটাই ছবির পর্দায় তুলে ধরতে পারেননি।

অভিনয়ে পামেলা সিং ভুতরিয়া (Pamela Singh Bhutoria) ভীষন নড়বড়ে। অভিনয়ের থেকে তার নিজেকে সেক্সি রূপে ছবির পর্দায় মেলে ধরাতেই বেশি আগ্রহ। বাংলা ভাষা তিনি এখনো ভাল করে বলে উঠতে পারেননা। দেবদূত ঘোষ (Debdut Ghosh) এবং ডাক্তার (Kaushik Sen) তাদের নিজের মতন করে কাজ করেছেন। জাহাঙ্গীর সর্দারের ভূমিকায় ‘রাজেশ শর্মা’ (Rajesh Sharma) বেশ বিশ্বাসযোগ্য অভিনয় করেছেন। সাজু-র চরিত্রে সুমন্ত চট্টোপাধ্যায় (Sumanto Chattapadhyay) খুব খারাপ অভিনয় করেছেন। শুধু লম্বা চুল রাখলে এবং বারমুডা পরে ঘুরলেই এমন চরিত্র-কে সিনেমার পর্দায় ফুটিয়ে তোলা যায়না। সালেয়া বিবির চরিত্রে নন্দিনী চট্টোপাধ্যায় (Nondinii Chatterjee) নিজের সাধ্যমতন চেষ্টা করেছেন, তবে তার অভিনয়ে ছোট পর্দার প্রভাব বড্ড প্রকট।

এই ছবিতে সবথেকে ভালো কাজ করেছেন মেঘনার ভূমিকায় দেবলীনা দত্ত (Debleena Dutta)। তার মতন প্রতিভাময়ী অভিনেত্রী কেন যে ছোট পর্দায় নিজেকে বন্দিনী করে রেখেছেন, সেটাই বোঝা যায়না। দেবলীনা দত্ত আরও বেশি বড় পর্দার কাজ করবেন, এমন আশা রাখলাম। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত (Tollywood Heroine Rituparna Sengupta) আর কবে বুঝবেন যে এইসব চরিত্রে, তিনি কতটা বেমানান? সময়ের সঙ্গে তার শরীরেও যে বয়সের ছাপ পড়েছে, এটা এবার ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত-কে বুঝতে হবে, মানতে হবে। নাহলে এমনই হবে … তিনি এমন কাজ করেই যাবেন এবং তা দেখে দর্শকদের মাথার যন্ত্রণা বাড়বে। ঋতুপর্ণা ভাল অভিনেত্রী, তার এখনকার বয়সের সঙ্গে খাপ খায় এমন চরিত্রে কাজ করুন … যেমন বুম্বাদা (Prosenjit Chatterjee) করছেন। নিজের সম্মান নিজের কাছে … যত তাড়াতাড়ি তিনি এটা বুঝবেন … বাংলা ছবির ক্ষেত্রে ততই মঙ্গল! এই ছবির সবথেকে ভাল বিভাগ হচ্ছে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্তের (Indraadip Dasgupta) সঙ্গীত পরিচালনা। লোকসঙ্গীতের সঙ্গে আধুনিক সুরের মিশ্রণ শুনতে মন্দ লাগেনা।

কিছু ছবি আমি সযত্নে এড়িয়ে যেতে পছন্দ করি কারন আমি জানি সেই ছবি গুলি নিয়ে লেখার কিছু থাকেনা। এই ছবিগুলির থেকে বিরসা দাশগুপ্তের (Birsa Dasgupta) ‘অভিশপ্ত নাইটি’ (Obhishopto Nighty) হাজারগুনে ভালো কারন নিম্নমানের ছবি হলেও সেই ছবির সমালোচনায় অনেকটা লিখে ফেলা যায়। কিন্তু ‘মাসুম (Masum)’ কিম্বা ‘টান’-এর মতন ছবি নিয়ে কিছুই লিখতে ইচ্ছে করেনা। এই ছবি যারা প্রযোজনা অথবা পরিচালনা করেন, তাদের আদৌ ‘ভাল’ ছবি করার সদিচ্ছে আছে কিনা, সেই বিষয়ে আমার মনে বিস্তর সন্দেহ জাগে।

 

In the Taan Movie Review I have tried to highlight the fact that lack of research can present even interesting subjects in a very poor light and while writing the scripts it is very important to delve deep into the subject in order to avoid such bad misses. The movie whose saving grace was only its music had a bad script and was miserably directed. Debleena Dutta and Rajesh Sharma are only worth watching and Rituparna Sengupta is looking absolutely gross as the Jalvaishya.

 

Taan Movie Review by:

SanjibSanjib Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and has written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.
Sanjib can be reached at sanjib@sholoanabangaliana.com
The information and views set out in this movie review are those of the author and do not necessarily reflect the official opinion of the Publication/Organization. Neither the Publication/Organization nor any person acting on their behalf may be held responsible for the use which may be made of the information contained therein.

Enhanced by Zemanta

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!