Bengali Literature and Its Adorable Ghosts; Special Feature by Somankar Lahiri

0
159
ghost stories

ghost storiesGhosts have made their presence felt in literature of all regions, specially that of Bengal and Bengali Literature is the proud custodian of some of the most adorable ghosts that children and adults alike have connected with and loved since ages. It is also the Bengali’s uncanny ability of busting the ghost myths that has led to blockbuster’s like Anik Dutta’s Bhooter Bhabisyat that has now been adapted into a Bollywood Film Gang of Ghosts with an ensemble cast of talented actors from Bollywood and Tollywood alike. Here’s more to read about these adorable ghosts ……

আজকে সঞ্জীব যখন লেখার জন্য বলল আর বিষয় সম্পর্কে জানাল তখন আমি ভাবলাম যাই আমার ল্যাপটপ টা নিয়ে ‘কাপে কফি দে’ নামক কফি শপে ব’সে লেখাটা শুরু করি, (কিছুই না শ্রেফ কায়দা মারার চেষ্টা, আর শুনেছি আজকাল এই সব বড় বড় কফি শপে নাকি সেলেবরা তাদের নিজেদের সব ব্যবসায়িক কথাবার্তা ইন্টারভিউ ইত্যাদি চালায়, তা সেখানে হেব্বি ড্রেস ট্রেস দিয়ে সামনে ল্যাপটপ খুলে কায়দা মেরে আমিও সেলেব সাজার চেষ্টা করলুম আর কি) কারন আজকের যে বিষয় নিয়ে লিখতে হবে তার সোর্স এন্ড সাপ্লায়ার মেজদা, এই মেজদা আমায় প্রায় সমস্ত ব্যাপারে খবরাখবর যোগান দিয়ে থাকে। তাই সেখানে পৌছে মনে মনে ভাবতে লাগলাম মেজদা যেন তাড়াতাড়ি চলে আসে। আসলে এক কাপ কফি নেওয়ার পরে বুঝলাম যদি দেরি করে আজ তবে আমার খরচা আছে। বেশী দেরি করলে ‘খবর আছে’।

যাই হোক মেজদা ঠিক পাঁচ মিনিট লেটে এলো, এসেই একগাল হাসি দিয়ে বলল

–   জামাই কিছু মনে করনিতো, জাস্ট পাঁচ মিনিট, ওক্কে?

এই একটা ব্যাপার আমার খুব বিটকেল লাগে আমায় জামাই বলে ডাকাটা, সে যাই হোক, আমি হেসে বললাম

–   আরে না না এই কোলকাতা শহরে পাঁচ মিনিট লেট একটা লেট হল, তা আছ কেমন?

–   তোফা বললে কম বলা হয়, তা আজকে কিসের খবরাখবর লাগবে?

বিষয়টা শোনার পরে হেসে বলল

–   আজ বরং ফরম্যাটটা একটু চেঞ্জ কর জামাই, আপত্তি নেই তো?

–   না না আপত্তি আর কিসের, তা কিরকম ফরম্যাট করতে চাইছ তুমি?

–   ব্যাপারটা একটু ইন্টারভিউ টাইপের কর, তোমার ফোনটা আমার সামনে কথা বলার সময় ধরবে, আর মাঝে মাঝে নিজের ল্যাপটপের স্ক্রীনের দিকে মুখ গোমড়া করে তাকাবে, মাঝে মাঝে একটু আধটু দাড়ি খুজলাবে, বেশ একটা ঘ্যাম মিডিয়া পার্সোনালিটির মত লাগবে তোমায়, আর আমিও সেই বুঝেই উত্তর টুত্তর দেবো বেশ জমে যাবে ব্যাপারটা কি বল?’

আমার ব্যাপারটা ভালোই লাগল,

–   তা তোমায় কি বলে প্রশ্ন শুরু করব ‘মেজদা’ বলে?

–   আরে ওটাই তো ট্রেন্ড বেশ একটা ইয়ে ফিলিং আছে, মানে নিজের লোক নিজের লোক ব্যাপার আর কি।

প্রশ্নঃ – আচ্ছা মেজদা ভুত সম্পর্কে তোমার কি ধারনা?

মেঃ- ভুত হচ্ছে মানুষের মৃত্যু আর পুনর্জন্মের মাঝখানের একটা বেশ ফুরফুরে অবস্থা, এই ধর চাকরীতে রিটায়ার হলে ৫৮তে বা ৬০এ আর রোগের ভোগের খপ্পরে গিয়ে পড়লে বা ট্যেঁসে গেলে ৭৫এ বা তার কিছু পরে, এর মাঝে এই যে তুমি চাকরি করছ না, শরীর স্বাস্থ সেই রকম ভাবে জ্বালাচ্ছে না, রিটায়ার্মেন্টের টাকা সারদা টারদার গব্বে যায় নি, তুমি এম.আই.এস আর ফিক্সড এর উপর গিন্নী কে নিয়ে আইনক্স, একাডেমি করছ ছেলে বৌমা মেয়ে জামাই কে সেক্টর ফাইভ, ব্যাঙ্গালোর, সিলিকন ভ্যালিতে পাঠিয়ে দিয়েছ, সেখান থেকে একটা রসদ এসে মোটা হয়ে যাচ্ছে আচমকা, এই যে ফুরফুরে অবস্থা ভুত ও হচ্ছে অনেকটা সেই রকম।

আমি একটু দাড়ি চুলকে নিয়ে আবার জিজ্ঞাসা করলাম

প্রশ্নঃ – যদি আরো একটু সোজা করে বল তবে পাঠক দের সুবিধা হয় আর কি

মেঃ- আরে আরো সোজা করার কি আছে, এই ধর তোমার ইচ্ছে আছে অনেক রকম, কিন্তু সেটা পুরন করতে পারছ না, কারন তোমার বিভিন্ন রকমের সামাজিক দায় ইত্যাদি, নিজের শরীর ও একটা ব্যাপার, কিন্তু যেই না শরীরটা ছাড়তে পারলে অমনি ব্যাস, ফুস করে এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াও। যা ইচ্ছে করে বেড়াও কেউ কিচ্ছু বলবার পথটি পাবে না। সামাজিক দায় দায়িত্ব হাওয়া, ব্যাস! ‘রায় মশাই’ তো দেখিয়ে দিয়েছিলেন অনেক আগেই। আরে ‘ভুতের রাজা’ তিনটে বর দিল, তা নিজের না থাকলে বর দিতে পারত? এতো আর ওভার ড্রাফটে দেশ চালান নয়।

প্রশ্নঃ – কিন্তু সেটা তো একটা গল্প, আর তার থেকে সিনেমা

মেঃ- অ.. তা ম্যালকম এক্স, নো ওয়ান কীলড জেসিকা এগুলো কী? শুধুই সিনেমা? পিছনে কোন ঘটনা নেই বলতে চাও, আর টাইটানিক? ওরে বাবা সবই গল্প আবার সবই সত্যি।  ট্রুথ ইস স্ট্রেঞ্জার দ্যান ফিকশান আর গ্রেটার দ্যান অ্যাকশান।

প্রশ্নঃ – আচ্ছা তুমি ভুতে বিশ্বাস কর?

মেঃ- সেটা বড় কথা নয়, যেটা বড় সেটা হল এই যে বছরের পর বছর ধরে সারা পৃথিবী জুড়ে যে ব্যাপারটা রয়েছে সেটাকে আমি বিশ্বাস করি কি না করি তাতে কিছুই আসে যায় না। ধর আমি বললাম বিশ্বাস করি না, তাতে তো আর ব্যাপারটা নস্যাৎ হয়ে যায় না, যায় কি? খামোকা খানিক তর্ক বিতর্ক বাড়ে আরে কিছু দোকানে চা কফির বিক্রি বাট্টা ভাল হয়।

প্রশ্নঃ – তাহলে তুমি ভুত ব্যাপারটাকে ডিফাইন করবে কি করে?

মেঃ- এতো আচ্ছা জ্বালায় ফেললে, পৃথিবীর সব ব্যাপারটাকে ডিফাইন করতে হবে এমন মাথার দিব্যি কে দিয়েছে? এই যে তুমি অফিস পালিয়ে এখানে বসে কফি খাচ্ছ আর আমার সাথে ভাটাচ্ছ, এর যে মজা সেটাকে যদি তোমায় ডিফাইন করতে বলা হয় তুমি পারবে? না অন্য কেউ যে তোমার বন্ধু বা চেনা বা অচেনা সে পারবে? এটা একটা অনুভুতি, ভুত ও সেই রকম একটা অনুভুতি। একে ডিফাইন করতে গেলে হাজার হাজার শব্দ ছবি ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে, কিন্তু যে এই অনুভুতির মধ্যে দিয়ে যাবে শুধু মাত্র সেই বুঝবে কি হল।

প্রশ্নঃ – তা হলে সাধারন পাঠক কে আমি কি বোঝাব? ভুত নিয়েই বা কি লিখব?

মেঃ- অমন কাজটি করতে যেও না, প্রথমটা তুমি পাঠক কে হাজার চেষ্টা করেও ভুত বোঝাতে পারবে না। কারন তুমি তো তোমার পাঠক কুল কে নির্দিষ্ট পরিবেশের মধ্যে ফেলতে পারবে না, পারবে? এই যে শীত কাল চলে গেল সেই শীতের শেষে বৃষ্টির সন্ধ্যা ছিল সেই স্যাঁত স্যাঁতে ঠান্ডা সন্ধ্যায় নিভু নিভু একটা লম্ফের আলোয় গায়ে পায়ে একটা ঝুব্বুশ লেপ বা কম্বল চাপাদিয়ে বসে সামনে এক কাঁসি মুড়ি মাখা এইসব সহযোগে তুমি তোমার পাঠক দের নিয়ে ভুতের গল্পের বা ঘটনার মুখোমুখি হলে বরং পারতে। কিন্তু এখন তো শহরে সেই পরিবেশ ই পাবে না। আর দ্বিতীয় ব্যাপারটা দয়া করে ট্রাই কর না ভুত নিয়ে লেখার পথে পরমপুজ্য ‘পরশুরাম’ ভুশুণ্ডির মাঠের মত লেখা লিখে গেছেন। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় মশাই এর কলমে ভুতেদের অনায়াস আনাগোনার পরে ও পথে আর তুমি হাঁটতে যেও না হড়কে যাবে।

প্রশ্নঃ – কিন্তু ভুত নিয়ে লেখার তবে কি হবে আমি কোন আঙ্গেলটা ট্রাই করব?

মেঃ- খুব সোজা এখন যা জামানা পরেছে মানুষ কেবল তথ্য চাইছে, ইনফরমেশন ইস পাওয়ার, তুমি বরং প্রশ্ন কর মেজদা ভুত কয় প্রকার ও কি কি? ওসব অনুভুতি টনুভুতির ধার দিয়েও হাঁটতে হবে না, আর লোকেও ভাববে তুমি কত জান। একটু সমঝে চলবে। বাবা মায়েরা তোমায় দেখিয়ে ছেলে মেয়েদের বলতেও পারে “ঐ দ্যাখ জি কে আঙ্কেল যাচ্ছে”

এই বলে মেজদা খ্যা খ্যা করে খানেক হাসল, আমার একটু চিড়বিড়িনি ধরেছিল কিন্তু কি আর করা যাবে লিখতেই হবে ভুত নিয়ে অগত্যা.. আমি মুখ গোঁজ করে বললাম – আচ্ছা তবে তাই করি, আমার পরের প্রশ্ন

প্রশ্নঃ- আচ্ছা মেজদা ভুতকে অনুভব করতে গেলে কি কেবল ঐ শীতের রাত, বা বৃষ্টির রাত এই সবই হতে হবে? না হলে কি কেউ ভুত কে ফীল করতে পারবে না?

মেঃ- না না তা কেন, তুমি ধর ঘোর গ্রীষ্মে হাড়োয়াতে বা সুন্দরবনের গোসাবা থেকে ৪৫ কিমি ভেতরে কোন ফ্রী প্রাইমারী স্কুলে পঞ্চায়েত ভোট করতে গেছ প্রিসাইডিং অফিসার হয়ে দু দলের উগ্র সমর্থকরা তোমায় হাড়মাস ভাজা ভাজা করে দিচ্ছে ঠিক এই রকম সময়ে তুমি দেখলে তুমি গ্রাম পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদ, ইত্যাদির ব্যালট গুলিয়ে ফেলেছ আর ব্যালট আকাউন্ট মেলাতে পারছ না, বুঝতে হবে যে তোমায় পেঁচোয় পেয়েছে।

প্রশ্নঃ- সে আবার কি পেঁচো আবার কি? ভুত?

মেঃ- এই রে জানো না? শোন তবে, পেঁচো হল সেই ভুত যে তোমার কানের ভেতর দিয়ে মাথায় ঢুকে পরে তার পরে তোমার চিন্তা করার রাস্তা গুলোকে জট পাকিয়ে দেয়, তুমি কিছুতেই আর ঠিকঠাক চিন্তা ভাবনা করতে পারবে না। এই একটা ব্যাপার তুমি বাড়িতেও দেখতে পাবে, মাসের শেষে বৌকে হয়ত বললে সংসারের হিসেব মিলছে না, দেখবে বৌ তখন হঠাৎ এমন চিল্লা চিল্লি শুরু করে দিল যে তুমি পুরো ব্যাপার টাই গুলিয়ে ফেললে। এটা আর কিছুই না পেঁচোর উৎপাত।

প্রশ্নঃ- আচ্ছা তবে এর থেকে বাঁচার উপায়।

মেঃ- খুবই সোজা, চোখ বন্ধ করে দাও, দু কান সজাগ হয়ে যাবে, অমনি এক কানে যা শুনবে অন্য কান দিয়ে বার করে দেবে দেখবে খানেক বাদে পেঁচোর প্রভাব কেটে যাবে।

প্রশ্নঃ- আচ্ছা মেজদা ভুত মোটামুটি কত ধরনের হয়?

মেঃ- এটা তুমি কি বললে জামাই, ভুত কত রকমের? এটা কোন প্রশ্ন হল, যত রকমের প্রানী তত রকমের ভুত, তার মধ্যে আমরা সাধারন ভাবে মানুষের ভুত নিয়েই এখানে আলোচনা করতে বসেছি, হাতির ভুত বা হাঙরের ভুত নিয়ে বা পেঙ্গুইনের ভুত নিয়ে সাধারণত মানুষ আলচনা করে না, তাই এক্ষেত্রে শুধু মানুষের মৃত্যুর পরে যে ভুতের উদ্ভব হয়ে থাকে আমরা সেটা নিয়েই আলচনা করব, কেমন? এই যে ধর আমাদের সমাজে যত রকমের মানুষ আছে, মরে ঠিক ততরকমেরই ভুত হয়ে থাকে। শুধু নমেনক্লেচারের সুবিধার জন্যে আমরা তাদের বিভিন্ন নামে ডেকে থাকি, ব্রহ্মদত্তি, সাধারন ভুত, পেত্নী, শাঁখচুন্নী, মেছো, পেঁচো, পেঁচি, চোরাচুন্নী, কুনি, বুনি, মামদো, কন্ধকাটা, নিশি, কানাখোলা, জলাডাকা, ফলাডাকা, ইত্যাদি। আর আমাদের বায়ু মণ্ডলে যে রকম স্ট্রাটোস্ফিয়ার, আয়োনোস্ফিয়ার, এই সব স্তর থাকে ভুতেদের ও সেই রকম থাকে, এক দল থাকে যারা বেশ ফুরফুরে স্বভাবের, তোমার মাছটা কলাটা মুলোটা, হাপিস করে দিল, তোমায় পথ ভুলিয়ে দিল, এইসব ছোট খাট দুষ্টুমি করবে। প্রান নিয়ে টানাটানি করবে না, আবার আরো একদল থাকে দরজা, জানলা খুলে দিয়ে ছাদে আওয়াজ করে, চেয়ের টেবিল উলটে পালটে তোমার ঘর নোংরা করে তোমায় বিরক্ত করে মারবে। এরা সাধারণত মানুষ জীবনে ছাপোষা জীবন যাপন করত, তাই এদের ধক বলতে এইটুকুই। কিন্তু আরো একটা স্তর আছে যারা তোমায় মেরে ধরে প্রান ছাড়া করিয়ে নিজেদের দলে টানার চেষ্টা করবে সেগুলো মহা সব্বোনেশে। সাধারণত ভুতসমাজের বাইরেই থাকে, মাঝে মাঝে আসে আর হুজ্জত বাধায়। ট্রেন উল্টোয়, গাড়ীতে বাসেতে ধাক্কা লাগায়, জলে লঞ্চ স্টিমার ডোবায়, আরো বড় ভাবে চেষ্টা করে যুদ্ধ টুদ্ধ বাধিয়ে দিয়ে মহা কেলেংকারী করে ছাড়ে।  মানুষ জীবনে এরা ঠিক কি ধরনের ছিল সেটা তোমায় নিশ্চই বলে দিতে হবে না।

আমার মাথা ভোঁ ভোঁ করতে লাগল, আমি মেজদার দিকে তাকিয়ে হাত তুলে থামতে বললাম, মেজদা মাথা নেড়ে সায় দিয়ে এদিক ওদিক দেখতে লাগল, আমি ভেবে নিলাম এর পরে কী প্রশ্ন করব।

প্রশ্নঃ- আচ্ছা মেজদা আমার ধারনা অপঘাতে মরলেই নাকি ভুত হয়, না হলে হয় না? সেটা কি ঠিক?

মেঃ- দেখো টোটাল ব্যাপারটাই থিওরি অফ রিবার্থ আর এফেক্ট অফ কর্মার উপর ডিপেন্ডেন্ট। সৃষ্টির আদিতে ব্রহ্ম যে মুহুর্তে নিজেক বহুধা বিভক্ত করতে চাইলেন এবং করলেন ঠিক সেই সময় থেকেই তিনি টোটাল যে পরিমাণ ভেঙ্গে ছিলেন সেটার একটা পারফেক্ট হিসেব মেন্টেন করেছিলেন আর এখনও করছেন, নো ফাঁকিবাজী বিজনেস, ডেবিট ক্রেডিট মেন্টেন করে জীবাত্মাকে বহু জন্মে বহু প্রানী করে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তবে আবার পরমাত্মায় মিলিত করে থাকেন। শাস্ত্রে সেই রকমই বলেছে। তা প্রত্যেক জন্মে তুমি আলাদা আলাদা প্রানী হচ্ছ, এই জন্মে মানুষ তো পরের জন্মে হাতি, তো তার পরের জন্মে বটগাছ। কিন্তু প্রত্যেক জন্মের পরেই কিন্তু তুমি মরছ। মশা হলে চড় খেয়ে, হাতি হলে গুলি বা ট্রেনে কাটা। এই মৃত্যুর পরে আবার নতুন করে জন্মানর মাঝে তুমি ভুত। কারন স্টোরে রিসিভিং আর ডেসপ্যাচের মাঝখানের সময়টা তো তোমায় কাটাতে হবে ওভার হোলিং এর জন্যে। তাই না? তাই শুধু অপঘাতে নয় সাধারন মৃত্যুতেও ভুত হয়ে থাকতে হয়। তবে হ্যাঁ তুমি একজন্মে প্রায় নব্বই বছর বাঁচলে, মরলে পর তোমার ব্যাটারী এমনিতেই টোটাল ডিসচার্জ হয়ে গেছে, তুমি সেই অবস্থাতে ভুত হলেও ঐ ডিসচার্য হয়ে যাওয়া জীবাত্মার জন্যে আর বেশী তিড়িং বিড়িং করতে পারবে না, লেটকে থাকবে। কিন্তু অপঘাতে মরলে ব্যাটারী ডিসচার্জ সেই রকম ভাবে হয় না, তাই সেই রিমেনিং পাওয়ার নিয়ে তোমার দাপাদাপি চলতে থাকবে ‘আন্টিল ডিসচার্জ অর ডেসপ্যাচ’। বোঝা গেল কিছু?

–   তুমি কিন্তু ব্যাপারটাকে খুব ভারী করে দিচ্ছ মেজদা, এতো ভারী পাঠক নেবে?

–   শোন জামাই, তুমি চিত্রপরিচালক নও যে মিডিয়ার সামনে তোমার নতুন ছবির প্রোমো দিতে বসে হ্যা হ্যা করে বলতে থাকবে যে প্রোডিউসারের পয়সা ফেরত দেওয়াটাই আমার প্রধান উদ্দ্যেশ্য আপনারা আসুন আমার ছবি দেখুন এই সব ফ্যাত্রা কথা। তুমি ভুতের মত একটা সিরিয়াস ব্যাপার নিয়ে আলচনায় বসেছ। সেখানে তোমায় কোয়ালিটি এবং কোয়ান্টিটি দুটোই মেন্টেন করতে হবে। দত্ত বাবু তো দেখিয়ে দিয়েছেন শুধু কনটেন্ট আর প্রেজেন্টেশান এর দিকে নজর দিলে পাবলিক খায়। শুধু খায় না চেটেপুটে খায়। তুমি লিখবে, সাব্জেক্টে দম থাকলে পাঠক আটকে যাবে বঁড়শির মাছের মত। তুমি শুধু তোমার সাব্জেক্টের কাছে দায়বদ্ধ অন্যের কাছে নও। আচ্ছা তোমার কথাও থাক তুমি এবারে কিছু র‍্যাপিড ফায়ার টাইপ কর দেখি ব্যাপারটা হালকা করতে পারি কি না

প্রশ্নঃ- ব্রহ্মদত্যি খড়ম পরে কেন?

মেঃ- পুজারি বামুন গুলো এমনিতেই একটু কিপটে হয় আর কাঠ আমাদের দেশে সস্তা ছিল একসময়, এখন তেনারা খালি পায়ে নয়ত রবারের চটি পরেন।

প্রশ্নঃ- পেত্নী নাকি সুরে চীৎকার করে কথা বলে কেন?

মেঃ- ওটা চীৎকার নয় পিচ এফেক্ট। গলা যদি ন্যাসাল হয় তবে আস্তে আওয়াজও হাই পিচের শোনাবে।

প্রশ্নঃ- ভুতপেত্নী সবসময় ভাঙ্গা বাড়ীতেই থাকে কেন?

মেঃ- পূরো ভুল ধারনা, দত্ত বাবু তেনাদের এই ব্যাপারটা কে ফোকাস করেছিলেন যথাযত ভাবে। কিন্তু এখন সমস্ত সরকারী অফিসের ভেতরে, শপিং মলের দোকান গুলোর ভেতরে তেনারা থাকেন, দেখনা মলের করিডরে আর ফুড কোর্টেই যত ভীড়, আর দোকান গুলোর ভেতরের হাল দেখেছ?

প্রঃ- ভটক্তি আত্মা ব্যাপারটা কি?

মেঃ- আরে ওটা তো হিন্দি বলয়ের ব্যাপার। আমাদের দেশে ব্যাপারটাকে পাড়াবেড়ানি বলে, মানুষ জন্মে একদল মহিলা ও পুরুষ কিছুতেই নিজেদের ঘরে কাজকম্ম করে শুয়ে বসে থাকতে পারে না, পাড়ায় না ঘুরলে তাদের শান্তি হয় না। ভুত জন্মে এরাই ভটক্তিআত্মা, খালি নিজে নিজেই ঘুরে বেড়ায় আর কথা চালাচালি করে ঝগড়া বাড়ায়। এখন তো আর পাড়া ব্যাপারটা সেই রকম ভাবে নেই। তাই সন্ধ্যে হলে এদের বিভিন্ন চ্যানেলে দেখা দেন। রাত প্রায় সাড়ে দশটা অবধি।

প্রশ্নঃ- পেত্নীরা সর্বদা সাদা শাড়ী পরে ঘোরে কেন?

মেঃ- আরে মরে ভুত হওয়ার পরে তো আর বাড়ীশুদ্ধু লোকের জামা কাপড় কাচতে হয় না, তাই নিজেরটার দিকে বেশী সময় দিতে পারে ।

প্রশ্নঃ- নিশি ডাকে সাড়া পেলে মানুষের আত্মাকে ডাবের মধ্যে ভরে নেয় কেন?

মেঃ- জল ফেলে দিলে ডাবের ভেতরে খানেক ফাঁকা যায়গা থাকে আত্মাটাকে সেখানে রাখা যায় তাই।

প্রশ্নঃ- কুনি আর বুনি কে?

মেঃ- যে মহিলা ভুত ঘরের কথা বাইরে বলে দিয়ে ঝগড়া লাগায় সে কুনি, আর বাইরের ঝামেলা বাড়ীতে নিয়ে আসে যে সে হল বুনি। মানুষ জন্মে ডমেস্টিক হেল্পিং হ্যান্ড আর বরের সেক্রেটারি এরাই হল আদর্শ উদাহরণ।

প্রশ্নঃ- ভুতেরা কি রাম নামে সত্যি ভয় পায়?

মেঃ- ওটা একটা মিথ ছিল ৬ই ডিসেম্বরের পরে ওটা অচল হয়ে গেছে। নিজেরাই ভেঙ্গে দিয়েছে।

প্রশ্নঃ- এটা একটা ব্যাক্তিগত প্রশ্ন, করব?

মেঃ- কর, কোন ব্যাপার নয়

প্রশ্নঃ- তোমার সাথে আমার পরিচিতি তো কম দিনের নয় তবু তুমি আমায় জামাই বলে ডাক কেন?

মেঃ- আরে বাবা আমি তো তারকেশ্বর লোকালে যাতায়াত করতাম আর তাতেই কাটা পরে মরেছি, আর তারকেশ্বর লোকালে তো সব চেনা ছেলেই ‘জামাই’ আর মেয়ে হলে ‘বৌদি’।

এই বলে মেজদা উপে গেল, অন্য দিন যেমন যায়। আর ‘কাপে কফি দে’ র ছেলেটা যখন কফির বিলটা নিয়ে সামনে রাখল, আমি উপে গেলাম! যা দাম!

Article By:

bengali writer

Shri Somankar Lahiri was born on 17th of January 1967, in a small town name Serampore, in Hooghly district. His parents were Late D.S.Lahiri and Late Mukul Lahiri. Shri Lahiri completed his schooling from Mahesh Sri Ramkrishna Ashram, (1982) Chatra Nandalal Institution (1984) and graduated from Calcutta University in 1986. At present he is working with National Sample Survey Office, which belongs to The Ministry of Statistics and Program Implementation, as a Data Processing Asst. Along with adeptly managing his professional life, Shri. Lahiri also zealously follows his passion for writing and has many a beautiful short stories and excerpts to his credit.

Image Credits: Google Images

Enhanced by Zemanta

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!