Jodi Love Dile Na Prane Review in Bangla; A Good Film that has Not Has been Able to Reach Out

0
594
Jodi Love Dile Na Prane movie review

Jodi Love Dile Na Prane Review

আমি বাংলা ছবি দেখতে ভালোবাসি তাই সুযোগ পেলেই টিকিট কেটে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে বাংলা সিনেমা দেখি। এখন তো রিভিউ লিখতে হয় বলে প্রায় সব ছবিই দেখা হয়ে যায়। এই কাজের জন্যে অনেকসময় সৃষ্টির নামে তৈরি কিছু অনাসৃষ্টিও দেখতে হয়। ভালো ছবি দেখলে মন ভালো হয় আর বাজে ছবি দেখলে মনটা কেমন যেন তেতো হয়ে ওঠে। তারপর যখন বাড়ি ফিরে ওইসব বাজে ছবিগুলোর রিভিউ লিখতে বসি তখন মনটা একেবারেই বীতশ্রুদ্ধ হয়ে যায়। এই তেতোভাব মনে থেকেই যায়, যতক্ষণ না আবার একটা মন ভাল করে দেওয়া বাংলা ছবি দেখতে পাই। জাতিস্মর দেখে মন ভালো হয়ে গেছিলো আর তারপরই এলো এক অভিশপ্ত সন্ধে। সেই অভিশাপ কাটলো ‘প্রেমের কুঞ্জবনে’ এসে। ধন্যবাদ দিতে চাই পরিচালকদ্বয় সুদেশ্না রায় (Sudeshna Roy) এবং অভিজিৎ গুহ (Abhijit Guha)-কে আমাদের এই প্রেমের কুঞ্জবনে ভ্রমন করিয়ে আনার জন্যে।

সাল ২০০৪ পূজাবার্ষিকী আনন্দবাজার পত্রিকায় এক নিঃস্বাসে পড়ে ফেলেছিলাম লেখক সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায় (Sukanta Gangopadhyay) রচিত তৎকালীন নবতম উপন্যাস ‘অবুঝ মেয়ে’। বেশ অন্যধরনের এক প্রেমের কাহিনী পড়ে বেশ আনন্দ পেয়েছিলাম। উপন্যাসের নায়ক মৈনাকের চরিত্রের আদল ছিল বেশ খানিকটা সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের (Sunil Gangopadhyay) ‘নীললোহিত’-এর মতন। বেকার, ভবঘুরে মৈনাক-কে কেন্দ্র করে তার মাসতুতো দাদা অনীশ (সোনা) এবং পাড়া তুত দিদি পারমিতার একসময়ের বিফল প্রেমের গল্পের আবার পুনর্জন্ম ঘটে। সোনা ততদিনে সময়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিলেও পারমিতা কিন্তু নিজের প্রথম প্রেমের ঘোর কাটিয়ে উঠতে পারেনি। মেনে নিতে পারেনি নিজের স্বামী সুললিত-কেও। এমন কি সুললিত-কে নিজের মেয়ে আহেলীর পিতৃত্বের স্বীকৃতি পর্যন্ত দিতে অস্বীকার করে এসেছে পারমিতার ‘অবুঝ’ মন। আহেলী নিজের শিকড়ের সন্ধান করতে মৈনাকের সঙ্গে বন্ধুত্ত্ব করে। এরপর কি হল? জানতে হলে দেখে আসুন ‘যদি লভ দিলেনা প্রানে’।

হ্যাঁ, একথা ঠিক যে সময় এবং ছবির সৃজনের প্রয়োজনে চিত্রনাট্যকার অনিন্দ্য বোস (শহর বাংলা ব্যান্ড) গল্পের চরিত্রগুলির বেশকিছু রদবদল ঘটিয়েছেন। যেমন ‘যদি লভ দিলেনা প্রান’-এর মৈনাক বেকার নয়, সে এক চিত্রপরিচালকের অধীনে সহকারীর কাজ করে। সিনেমার জন্যে এক নতুন প্রেমের গল্পের খোঁজে চিত্রপরিচালক রানা মজুমদার তার ছাত্র মৈনাককে ঠেলে দেয় এমন এক সত্যিকারের প্রেমের গল্পের দিকে যার অসমাপ্তি অবরুদ্ধ করে রেখেছিলো এক অবুঝ মেয়ের জীবনের গতিপথ-কে।

অভিনয়ে অবাক করে দিয়েছেন আবির চট্টোপাধ্যায় (Tollywood actor Abir Chatterjee)। যতদিন যাচ্ছে আবির যেন আরও বেশি পরিনত হচ্ছেন। এই ছবিতে আবির নিজের বয়সের থেকে বেশ খানিকটা বেশি বয়সের এক চরিত্রে সাবলীল অভিনয় করেছেন। অনীশ-এর ভূমিকায় আবিরের চেয়ে যথাযথ অভিনেতাকে বোধয় খুঁজে পাওয়া যেতনা। পারমিতার ভূমিকায় অনন্যা চট্টোপাধ্যায় (Ananya Chatterjee) খুব যে একটা ‘দারুন’ কাজ করেছেন এইকথা বলা যাবেনা। অল্পবয়স্কা পারমিতা রূপে অনন্যাকে তেমন মানায়নি কারন তিনি নিজের চেহারার যত্ন নিচ্ছেন না এবং নিজের ওজন প্রয়োজনের অতিরিক্ত বাড়িয়ে ফেলেছেন। ফলস্বরূপ অনন্যাকে তার নিজের বয়সের থেকে বেশি বয়স্কা দেখাচ্ছে ছবির পর্দায়। অথচ মধ্যবয়স্কা পারমিতা রূপে অনন্যাকে বেশ মানিয়ে গেছে। শুচিস্মিতা দাশগুপ্তের (Suchishmita Dasgupta) ‘পোশাক’ পরিকল্পনা তথা সৃজনভাবনায় অনন্যা চট্টোপাধ্যায়কে বড় পর্দায় দেখতে মন্দ লাগেনা। তবে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে আবির এবং কৌশিক সেন – Kaushik Sen (সুললিত)দুজনের অভিনয়ের সামনেই অনন্যাকে বেশ ম্লান লেগেছে।

মৈনাকের ভূমিকায় অর্জুন চক্রবর্তীকে (Arjun Chakraborty) (অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তীর – Sabyasachi Chakraborty ছোট ছেলে) যথেষ্ট সপ্রতিভ লেগেছে। প্রসঙ্গত অর্জুনের আগের ছবি ‘বাপী বাড়ি যা’ (Bapi Bari Ja)–ও পরিচালনা করেছিলেন সুদেস্না রায় এবং অভিজিৎ দে জুটি কিন্তু সেই ছবি বক্স অফিসে তথা দর্শকদের মনে কোনরকম দাগ কাটতে পারেনি। ‘যদি লভ দিলেনা প্রানে’ ছবিতে অর্জুন বেশ পরিনত কাজ করেছেন। তার আগামী ছবি ‘চিরদিনই তুমি যে আমার-২’ (Chirodini Tumi Je Aamar 2)-তে অর্জুনকে আরও পরিনত তথা সপ্রতিভ দেখবো, এই আশা রাখলাম। সৃজিৎ মুখোপাধ্যায়ের (Srijit Mukherji) ‘মিশর রহস্যে’ (Mishawr Rawhosyo) রিনির চরিত্রে অভিনয় করার পরে অভিনেত্রী ত্রিধা চৌধুরীকে (Tridha Chaudhury) এবার আমরা দেখতে পেলাম ‘আহেলী’-র ভূমিকায়। ত্রিধা প্রমান করে দিয়েছেন যে তিনি বাংলা ছবিতে আগামী বেশ কয়েক বছর নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করার যোগ্যতা রাখেন। আমি আশা রাখবো যে ত্রিধা কোনরকম নির্দিষ্ট ইমেজে নিজেকে আটকে না রেখে বিভিন্নরকমের চরিত্রে কাজ করবেন। এরপরেই মুক্তি পাবে কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের (Kaushik Ganguly) ‘খাদ’, আমি নিশ্চিত সেখানেও ত্রিধা এমনই ভালো কাজ করবেন।

অনিন্দ্য বোস (Anindya Bose) ‘তিন ইয়ারির কথা’-র পরে আবার এই পরিচালকদ্বয়ের জন্যে ছবির চিত্রনাট্য এবং সংলাপ লিখলেন। এই ছবির পরিনত সংলাপ এবং আড়ম্বরহীন চিত্রনাট্য মধ্যবিত্ত সৃজনশীল বাঙালির মন টানতে পারবে, এই বিষয়ে আমার কোনও সন্দেহ নেই। কিন্ত আমার এও মনে হচ্ছে যে এই ছবির যতটা প্রচার হওয়া উচিৎ ছিল, ততোটা হয়নি এবং হচ্ছেও না। রাজা নারায়ন দেব (Raja Narayan Deb)-এর সঙ্গীত পরিচালনা ছবির মেজাজের সঙ্গে খাপ খেয়েছে। চিত্রগ্রহন কখনো বেশ মনগ্রাহী হয়েছে আবার কখনো বা বেশ ‘সাধারন’ মানের মনে হয়েছে। কে যেন বাজায় বাঁশী / এ ভাঙ্গা কুঞ্জবনে…এই বিখ্যাত দ্বীজেন্দ্রগীতি-কে বেশ সুন্দরভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

সবদিক বিচার করে আমি ষোলোআনা বাঙ্গালিয়ানার পক্ষ্য থেকে ‘যদি লভ দিলেনা প্রানে’ ছবিকে আমি 7.5/10 নম্বর দিলাম।

Jodi Love Dile Na Prane Review in Bangla by:

SanjibSanjib Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and has written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.
Sanjib can be reached at sanjib@sholoanabangaliana.com
The information and views set out in this movie review are those of the author and do not necessarily reflect the official opinion of the Publication/Organization. Neither the Publication/Organization nor any person acting on their behalf may be held responsible for the use which may be made of the information contained therein.

 

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!