The Indian Election Hullabaloo; Exploring the Funny Side of India’s Biggest Festival “Elections”

0
584
Election-2014
View album

The Indian Election Hullabaloo

 

ক্যালকুমেট্রি

গত কয়েকমাস ধরে বিনোদন দুনিয়ায় কীরকম একটা পূজো পূজো গন্ধ ছড়িয়ে গেছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ নিজেদের কাজের বাইরে চায়ের দোকানে দোকানে, বাড়ির সামনের রোয়াকে, রাস্তার কোনায়, ক্লাবঘরে এমনকি বাথরুমে মোবাইল ফোনে এই পূজো নিয়ে আলোচনায় মত্ত। তাতে কতটা তারা আলো জ্বালাতে পারবেন নাকি খালি চোনাই পরে থাকবে সেটা নিয়ে কেউ নিশ্চিত নন। যাইহোক সাধারণ ভারতবাসী এই চোদ্দ নম্বর পার্বণে নিজেদের বেশ ভাসিয়ে দিতে পারে। এর মধ্যে যারা আমরা মানসিক এবং আর্থিক শান্তি পাই এই বিনোদনের দুনিয়ায় কলম পিষে তাদের হাল তথৈবচ। এক একটা করে খবর খাচ্ছি বা পয়দা করছি আবার সেটাকে নিজের মতন করে উগ্রাচ্ছি কিন্তু পাঠকগণ সেই পাতে মুখই দিতে চায় না। রানি মুখার্জি (Rani Mukherjee) আর আদিত্য চোপড়া (Aditya Chopra) চুপি চুপি ইতালিতে বিয়ে সেরে ফেললো। কিন্তু জনতা তাতেও কীরকম গাম্ভীর্য দেখিয়ে দাঁত না বের করে মাইক ছারা অমাইক হাসি হেসেছেন। অন্যদিকে সুভাষ ঘাই (Subhash Ghai) এর মতন পরিচালক অখ্যাত এক বঙ্গ ললনা মিষ্টিকে (Mishti) তার নতুন সিনেমার নায়িকা করে রাতারাতি বিখ্যাত করে দিলেন। কিন্তু জনতা তাতেও উচ্ছে, বেগুনের মতন মুখ করে রইলেন। এদিকে দিল্লীর মৌসম ভবন সদর্পে ঘোষণা করেছে যে এবছর বর্ষা স্বাভাবিকের চেয়ে একটু কম হবে। বর্ষা ভালো না হলে দেশের অর্থনীতির ওপর প্রচুর চাপ বাড়বে বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা। “হায়রে ভারত হায়রে বঙ্গ, পূজোর বাজারে বৃষ্টি রঙ্গ”। যাইহোক না পাত্তা পাওয়ার একটা পরিবেশে বিনোদন দুনিয়ার মিডিয়ার ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আমরা যারা হাইটেক যুগে হাই না তুলে হাঁই হাঁই করে হামলে পড়া ডিজিটাল পাঠকগণের মনোরঞ্জনের জন্য পঞ্চব্যাঞ্জন লিখি। বেধড়ক রিডিং বা নব্য ভাষায় হিট ফল করেছে। আগে আমরা হিট বলতে তাপ বুঝলাম, কাউকে ঘুসি (পড়ুন ‘টিক’) মারা এবং খেলাধুলোর ভাষায়। মদ্যা কথা গুরু এই হট প্যান্টের যুগে আপনারা ওয়েবসাইটে হিট(পড়ুন চড় থাপ্পড়) না মারলে আমাদের পসার অসময় অবসরও নিতে পারে। অথচ দেখুন এই শহরে দিন দিন যেভাবে হিট রাইজ করছে তাতে যেকোনো মানুষের চাঁদি ফুরে বিরল প্রজাতির ক্যাকটাস গজিয়ে যেতে পারে।

এহন পরিস্থিতিতে কাঁদো কাঁদো অবস্থায় একদিন মা সারদাকে স্মরণ করলাম। মা দেখা দিলেন ঠিকই কিন্তু তারপর যা হল সেটা একটা অদ্ভুত ক্যালকুমেট্রি। দেখলাম মা সারদা আমার থেকে বেশী হাপুশ নয়নে কাঁদছেন।

আমি বললাম “মা তোমার কি হল? কোথায় তুমি আমার চোখের জল মোছাবে বলে ডাকলাম…তুমি না কি গো’

মা বললেন “কিগো কিগো কি বলছিস বাছা মন থেকে মাগো বলতে পারছিস না? তোদের এইরকম ভুলভাল কাজের জন্য আমার চোখের জলের ট্যাঙ্কে মরচে পড়ে ফুটো হয়ে গেছে…জল থামতেই চায়না।“

আমি বললাম “মা তুমি পাগল হলে নাকি? আমি তোমায় ডাকলাম হিট পড়ে যাচ্ছে বলে আর তুমি কিনা আমায় কিসব বলছ?”

মা বললেন “হিট পরছে কি বলছিস বাছা? ৪০ ডিগ্রীর ওপর কম মনে হচ্ছে নাকি? তোরা তো রোজ আমায় হিট করছিস তার বেলা?”

আমি বললাম “আমরা আবার তোমায় কিভাবে হিট করলাম?”

মা বললেন “এই যে তোরা খবরের কাগজে, টি ভি চ্যানেলে আর এখন তোদের নতুন আকর্ষণ ঘরে ঘরে ঢুকে গেছে কি যেন বলিস? হ্যা ইন্টারনেট। সর্বত্র তো আমার নাম করে বলা হচ্ছে যে আমি নাকি চিট্ করেছি দেশের মানুষদের মানে আমার সন্তানদের। এতা কি হিট নয়?”

আমি বললাম “মা ওটা তো অন্য কেস। একজন বীপ্তময় পুরুষ ফাকা ময়দানে গোল দিতে গিয়ে নিজেই বামাল সমেত গোল পোস্টে ঢুকে গেছে। এতে তুমি কেন এত দুঃখ পাচ্ছ?”

মা বললেন “অভিধানে এত নাম থাকতে আমার নাম নিয়ে কেন এত অভিযান বাছা? তোদের কি মায়া মমতা বলে কিছুই নেই?

আমি বললাম “আছে বলেই তো গণ্ডগোল… লোকসভা ভায়া রাজ্যাসভা হয়ে বিধানসভা পুরা হিলাকে রাখ দিয়া।“

মা বললেন “তোদের বাংলা ভাষার কি হাল করেছিস রে? বলার ধরন তো কবেই ভুলে গেছিস, কীরকম হিন্দি আর ইংরেজি ভাষা বলার ধরন মিশিয়ে দিয়েছিস, তারপরে বাংলা বানান নিয়ে কি নানান পরীক্ষা নিরীক্ষা শুরু করেছিস। যখন তখন বানান বদলে দিস পদবির ওপরে একটা চন্দ্রবিন্দু বসিয়ে একটা খিচুরি উচ্চারণের জন্ম দিস। সেই নিয়ে গণ্ডগোল বেঁধে যায় আমাদের চিত্রগুপ্তের খাতায়। নতুন করে বাংলা ভাষা তৈরি করছিস নাকি? মা এর সাথে এই নিয়ে কথা চলছে আমি মাকে বোঝানোর চেষ্টা করছি, প্রায় বাগে এনেও ফেলেছি এমন সময় আমার চারিদিক দিয়ে জল পরতে শুরু করল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখি আমার সামনে আমারি ঠাকুমার জপের আসনে ব্রহ্মদেব তার চার মাথা নিয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছেন। এতক্ষণে বুঝলাম আমার চারদিক দিয়ে জল পরার কারন।

আমি বললাম “ এ কি ব্রহ্মদেব আপনি পদ্মফুল ছেড়ে আমার ঠাকুমার জপের আসনে বসে আছেন?

ব্রহ্মদেব ফুপিয়ে ফুপিয়ে বললেন “আমি যে পদ্মফুলে বসব তার অবকাশ কি তোরা রেখেছিস?

আমি বললাম “কেন গুরু আমরা তোমার কেস কিচাইন করলাম কিভাবে?

ব্রহ্মদেব বললেন “তোদের এই শাস্ত্রহীন পুজোয় বাড়ি, বাড়ি, রাস্তায়, রাস্তায়, চায়ের দোকানে, পাড়ার রোয়াকে যত্রতত্র পদ্মফুল ফ্রী তে বিলি করে বেরাচ্ছিস অঞ্জলি পাওয়ার লোভে। মানুষকে মানুষ বলে গন্য করিস না, দাঙ্গা করিস, মন্দির মসজিদ ভেঙ্গে তারপর দাড়িয়ে উল্লাস করিস, আবার অন্যদিকে ন্যাকামো করে আমার বসার জায়গা ফ্রী তে বিলি বণ্টন করছিস। মারব টেনে এক চড় ভেদবমি করতে করতে মরে যাবি।”

আমি বললাম “চিথুর ল্যাপু কি বলছে?

উনি বললেন “চিথু কে?”

আমি বললাম “ও আপনি বুঝবেন না। যেমন এটাও বুঝছেন না এখনকার যুগটা পাবলিসিটির। ফেসবুক টুইটার এইসব কিছু করেন?”

ব্রহ্মদেব বললেন “তুই কি মাঝে মাঝে বাংলা ভাষার বাইরে কথা বলিস? তা তোদের দেশে এত ভালো ভালো সিটি থাকে ওটা আবার কোন সিটির কথা বল্লি বাবা? এতেও পোষাচ্ছে না? আবার নতুন সিটি চাই?”

ব্রহ্মদেব আর কিছু এলোপাথাড়ি বাউন্সার ছুড়তে যাচ্ছিলেন হঠাৎ বাইরে থেকে একটা হাতির বীভৎস চিৎকারের আওয়াজ ভেসে এলো। দরজার দিকে এগোতে যাব হঠাৎ দেখি বিশ্বকর্মা হেলমেট বগলে নিয়ে ঘাম মুছতে মুছতে ঘরে ঢুকে সোজা ব্রহ্মদেবের পাশে গিয়ে বসলেন।

আমি বললাম “একি আপনার মুকুট কোথায়? আর আপনি এই হেলমেটটাই বা কোথা থেকে পেলেন?

উনি বললেন “সবে তোদের শহরে নেমেছি কিছুক্ষণ পর দেখি বেশ অনেকগুলো লোক হাতে এবং কঞ্চির ডগায় পেটা (PETA) লেখা পোস্টার নিয়ে আমায় ঘিরে ফেলেছে। আমি ভাবলাম আমি তো কোন অন্যায় করিনি তাহলে ওরা আমায় পেটাতে চাইছে কেন? আমি ভয় পেয়ে আমার বাহনকে বললাম ব্রহ্মদেব মর্তে এসে যার বাড়িতে বসে আছেন সেইখানে নিয়ে চল। বলে যেই না ওর পেছনে চিমটি দিয়েছি হতচ্ছাড়া এমন দিশাহারাভাবে ছুটতে শুরু করল যে রাস্তায় একটা অদরকারে গজিয়ে ওঠা ঢিবিতে আমার গজটি বেসামাল হয়ে পড়ল। এমনি বেসামাল হয়ে পড়ল যে আমি ওর পিঠ থেকে পড়ে গেলাম আর আমার মুকুটটি ভেঙ্গে গেল। কোনমতে তোর বাড়ির সামনে এসে দেখলাম যে কার্নিশের নিচে না স্কুটার না মোটরসাইকেল গোছের একটা দুচাকার যানের ওপর এই মুকুটটা রয়েছে। আমি তুলে নিয়ে চলে এলাম। কিছু মাথায় পড়ে ফিরতে হবে তো? তাছাড়া ঐ লোকগুলো যদি আমায় আবার পেটাতে আসে।”

আমি বললাম “করেছেন কি? ওটা তো মেনকার হেলমেট…”

উনি বললেন “মেনকা আবার কবে থেকে মর্তে এসে বেলেল্লাপনা করছে?

আমি বললাম “আরে কি কেলো… ও সেই মেনকা নয়, ও আমার বারিওয়ালার মেয়ে মেনকা।

বিশ্বকর্মা বললেন “ভাগ্য ভালো আমাদের মেনকা মর্তে আসেনি এইসময়। নাহলে তোরা কবেই ওকে লবেঞ্চুশের মত চুষে খালপারে ফেলে রাখতিস। ওর ভাগ্য ভালো। আর আমারটাও অল্প ভালো। বুদ্ধি করে বেছেছিলাম আমার বাহন কাম বসার জায়গা। তা না করলে তোরা ফ্রী তে বিলি করে দিতিস।

এই শুনে ব্রহ্মদেব বিশ্বকর্মাকে বললেন “আপনি কি বলতে চাইছেন আমার বুদ্ধি নেই?”

বিশ্বকর্মা “কিছু মনে করবেন না ব্রহ্মদেব, মর্তের এই পুজোর ধোঁয়ায় আমার কীরকম হ্যালু হয়ে গেছে। আমিও এদের মতন ব্যাক্তিগত কাদা ছোরাছুরি করতে গেছিলাম। আমায় মাফ করবেন।

ব্রহ্মদেব “ঠিক আছে মাফ করলাম”

আমি বললাম “তা আপনার কি কেস? আপনি এবার আমার ঠাকুরদার আসন গরম করতে এসেছেন কেন?”

বিশ্বকর্মা ব্রহ্মাদেবের দিকে তাকিয়ে বললেন “আসলে আপনি যেভাবে আমায় চাপ দিচ্ছেন একটা পদ্মফুল বানিয়ে দিতে… আমি তো নিরুপায় আমার হাতুড়ি কাস্তে কিছুই তো নেই।”

ব্রহ্মদেব “কেন সেগুলো কি এই পুজোর জন্য ফ্রী তে বিলি করতে দেওয়া হয়েছে?

বিশ্বকর্মা “তা না। আসলে চৌত্রিশ বছর আগে যন্ত্রপাতিগুলো ওরা ভালো কাজের জন্য চেয়ে নিয়ে গেছিল। আর সেগুলো নিয়ে ওরা ভালো কাজ না করে কাস্তে দিয়ে মানুষ কেটেছে আর হাতুড়ি দিয়ে পেরেক ঠুকে কফিন বানিয়ে তাদের মাটির নিচে পুঁতেছে। তারপর আলো পর্যন্ত নেই।”

আমি বললাম “বস্ আলোর কেসটা ঠিক খোলতাই হল না। আপনাদের ওখানে কি সারচার্জ বেড়ে গেছে?”

বিশ্বকর্মা “আমি তারাদের আলোয় কাজ করতাম। সেখানেও তো তোরা হাত মারতে ছারলি না।”

আমি বললাম “কীরকম?”

বিশ্বকর্মা “প্রায় সব তারাদের নিয়ে তো তোরা এই পুজোয় নামিয়েছিস দেবতা করবি বলে, তাই দেখে আমাদের তারারাও বন্ধ ডেকে লোডশেডিং করে রেখেছে।”

আমি কিছু বলতে যাচ্ছিলাম হঠাৎ ধর মুণ্ডু ছারা একটা হাত আমার গালে কষে একটা থাপ্পড় মেরে বলল, “সাতচল্লিশের আগে থেকে আমার একই অভ্যেস। কিছুতেই ছারতে পারছি না। কারো মাথায় আলতো করে হাত রাখলে সবাই বলে স্বজনপোষণ করছি। এই হালফীলে ঘরের কোণায় থাকা একটা ঝ্যাঁটাকে ভালো দেখে একটা থাকবার জায়গা দেব ভেবেছিলাম। কিন্তু হতচ্ছাড়া আমাকেই ঝেটিয়ে বিদায় করতে চাইছে। বুঝিনি যে যার যেখানে থাকা উচিৎ তাকে সেখানেই থাকতে দিতে হয়। হঠাৎ একটা গলার আওয়াজ পেলাম “শুনছো ফেরার সময় ছেলের জন্য একটা ডায়পার কিনে নিয়ে এসো।” আমি ভাবলাম এটাও কি আসার ছিল? ইনি আবার কোন দেবী? ঘোর কাটতেই বুঝলাম যে দেবী আর কেউ নন আমার সহধর্মিণী যিনি সত্যিই বাস্তব কথা বলছেন। আমার মতন অবাস্তব কিছু কথা বলছেন বা লিখছেন না। সত্যি এ এক আজব ক্যালকুমেট্রি।

 

 

 

Photo Feature By: Mr. Gautam Sharma

Article By:

Arnab Bhattacharya

Mr. Arnab Bhattacharya is a multi-talented television artist who brings with him 14 years of industry experience and expertise in the feilds of theater, poetry and acting. Mr. Bhattacharya has acted in popular Bangla serials like Crime Diary (ETV Bangla), Sati (Zee Bangla), Bhasha (Star Jalsha), Ishti Kutum (Star Jalsha) and is currently essaying the role of Chapal Bhairagi in one of ETV Bangla’s most popular serials Hiyar Majhe.

Arnab’s filmography includes short films like Sando Da, Magic, Calcutta -16 and a full length feature film Teen Kahon by Boudhayan Mukherjee.

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!