Apur Pachali Bengali Movie Review; Revisiting a Ray Classic on His 93rd Birthday

1
205
Apur-Panchali-Bengali-movie-review

Apur-Panchali-Bengali-movie-reviewআজ ভারতীয় তথা বাংলা ছায়াছবির ‘মহারাজা’ প্রয়াত সত্যজিৎ রায় (Satyajit Ray)-এর জন্মদিন। আমরা যারা বাংলা ছবি দেখতে ভালবাসি, ছবি নিয়ে ভাবতে ভালোবাসি, ছবির কাজ শিখতে চাই, ভবিষ্যতে ছবি করতে চাই, তাদের কাছে মানিকবাবুর এক একটি ‘সিনেমা’ যেন এক একটি পাঠ্যপুস্তকের সমতুল্য। আমি এই কথা জোর দিয়ে বলতে পারি যে কোন ইউনিভার্সিটির ফিল্ম স্টাডিজ কোর্সেই এমন কিছু এক্সট্রা শেখানো যাবেনা, যার উল্লেখ সত্যজিৎ রায়-এর কোন না কোন ছবিতে নেই। তাই আজকের দিনটাকেই বেছে নিলাম এমন এক ছবির কথা লেখার জন্যে, যে ছবির রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিলে মিশে একাকার হয়ে আছেন মানিকবাবু। হ্যাঁ, ঠিকই অনুমান করেছেন পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের (Kaushik Ganguly) ‘অপুর পাঁচালির’ কথা লিখতে বসেছি আজ।

সত্যজিৎ রায়-এর প্রথম বাংলা ছবি ‘পথের পাঁচালী’-র  ছোট্ট ‘অপু’-র ভূমিকায় যে শিশু শিল্পী অভিনয় করেছিলেন সেই অখ্যাত সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Subir Banerjee) ব্যক্তিগত জীবন পথের পাঁচালি পড়ে কৌশিকদা এই ছবির নির্মাণ করেছেন। ছবিটা যদিও সুবীরবাবুর জীবন নিয়ে কিন্তু তাও চিত্রনাট্যের বাঁকে-বাঁকে যেন জড়িয়ে রয়েছে সত্যজিৎ-এর ‘অপু’। শুধু ছোট অপু নয় … কিশোর অপু … যুবক অপু … অপুর পাঁচালী অপূর্বরূপে অপুময়। ২০১৩ সালে গোয়াতে অনুষ্ঠিত ইন্ডিয়ান প্যানো্রামা-তে ‘অপুর পাঁচালী’ ছবিকে ‘স্বর্ণময়ূর’ সম্মানে ভূষিত করা হয়। পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় লাভ করেন ‘সেরা পরিচালক’-এর সম্মান। আমরা যারা বড় পর্দায় ‘পথের পাঁচালী’ দেখার সুযোগ পায়নি, সেই অভাগা-রা কৌশিকদার এই বিরল প্রয়াসের মাধ্যমে এমন এক অনন্য সুযোগ লাভ করলো। অজস্ত্র ধন্যবাদ কৌশিকদা কে সুধি দর্শকমণ্ডলী-কে এমন এক ‘গায়ে কাঁটা দেওয়া’ একাধারে অশ্রুসজল অভিজ্ঞ্যতার সম্মুখীন করার জন্যে। এই ছবিকে ৮/১০ কিম্বা ৯/১০-এর মাধ্যমে বিচার করা আমার অসাধ্য, তাই একটু অন্যভাবে চেষ্টা করি। বরং আমি ‘অপুর পাঁচালী’-র মাধ্যমে কি কি পেয়েছি, সেগুলিকে এক এক করে আপনাদের জানাবার চেষ্টা করি। সব হয়ত পারবো না কারন বাহ্যিক ‘ভাষা-হীনতা’ই অনেক গভীর অনুভবের প্রকৃত সারাৎসার।

সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়(Bibhutibhusan Bandopadhyay)মধ্যবিত্ত বাঙালি জীবনকে ঠিক কতোটা বাস্তবরূপে নিজের সাহিত্যকীর্তির মাধ্যমে মেলে ধরেছেন বারবার। বিভূতি সাহিত্যের বাস্তবিকতা আমরা সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়-এর জীবন নিরীক্ষণ করলেই বুঝতে পারবো। বিভূতিবাবু নাহয় ‘অপু’-র সৃষ্টিকর্তা, কিন্তু তিনি তো আর সুবীরবাবুর ভাগ্যনিয়ন্তা নন। তাহলে সুবীরবাবুর জীবনের সঙ্গে আমরা বিভুতি সাহিত্যের এমন নিবিড় সংযোগ তথা অদ্ভুত মিল খুঁজে পাই কিভাবে? যে ট্র্যাজিক রোম্যান্টিসিজম আমরা বিভুতিভূষণের রচনায় খুঁজে পাই, তাই যেন সুবীরবাবুর জীবনের সারাংশ। এসব কথা জানতে, বুঝতে, অনুধাবন করতে, মর্মে অনুভব করতে ‘অপুর পাঁচালী’ ছবিটা প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখে আসুন। আমার বিশ্বাস, আপনারা কেউ নিরাশ হবেন না।

সুবীরবাবুর স্ত্রী অসীমার ভূমিকায় অভিনেত্রী পার্ণ মিত্র (Parno Mitra) এমন অবিস্মরণীয় অভিনয় কীর্তির নিদর্শন রেখেছেন, যার জন্যে কোন প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। পার্ণ মিত্র আমার খুব প্রিয় অভিনেত্রী। অঞ্জন দত্তের (Anjan Dutt) ‘রঞ্জনা আমি আর আসবো না’, মৈনাক ভৌমিক (Mainak Bhaumik)-এর ‘আমি আর আমার গার্লফ্রেন্ডস’ প্রভৃতি ছবিতে দুর্দান্ত কাজ করে পার্ণ মিত্র বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি আধুনিকা, স্বাধীনচ্বেতা নারী চরিত্রে অভিনয় করতে ভীষণ সাবলীল। আমিও তেমনই ভাবতাম। পার্ণ আমাকে প্রথমবার চমকে দেন রাজা সেন (Raja Sen)-এর ‘খাঁচা’ ছবিতে একটি নির্যাতিতা গ্রামীন সাধারন মেয়ের ভূমিকায় ‘ভালো’ অভিনয় করে। ‘খাঁচা’ ছবি হিসাবে খুব খাজা ছিল, হয়ত তাই পার্ণ-র অমন ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা অনেকের চোখ এড়িয়ে একরকম হারিয়েই গেছিলো। কিন্তু এবার সেটি হবার যো নেই। নিজের প্রায় প্রত্যেকটি দৃশ্যেই নায়ক ‘পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়’-(Parambrata Chattopadhyay)-কে টেক্কা দিয়ে বাজিমাত করেছেন পার্ণ মিত্র। গ্রামের বর্ধিষ্ণু পরিবারের শান্ত, সুশীলা, ঘরোয়া অসীমা-কে দর্শকদের মনে থেকে যাবে অনেক অনেকদিন। জহুরি জহর চেনেন, এই কথা আরও একবার প্রমান করে দিলেন পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়।

ছবির মূল চরিত্রটি ভাগাভাগি করে নিয়েছেন অর্ধেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। পরম-কে আমি বলি ডেসটিনিজ চাইল্ড। গৌতম ঘোষের (Goutam Ghose) কালবেলা-তে ‘অনিমেষ’, সুমন ঘোষের (Suman Ghosh) ‘কাদম্বরী’-তে ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর’ (Rabindranath Tagore), কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়েইয়ের ‘অপুর পাঁচালী’-তে ‘সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়’ … জানিনা আরও কত কি মনিমুক্ত খচিত চরিত্র অপেক্ষা করে বসে আছে অভিনেতা পরমব্রত-র জন্যে!!! পরমব্রত-র প্রতি পরিচালকদের আশা-আস্থা তার সমবয়স্ক অন্য অভিনেতাদের কাছে ঈর্ষার বিষয় হতেই পারে। কিন্তু একথাও বলব যে পরম-কে নিজের অভিনয় ক্ষমতাকে আরও অনেক তীক্ষ্ণ করে তুলতে হবে নাহলে সব চরিত্রকেই একরকম দেখতে লাগবে পর্দায়। এই ছবিতে পরম আপ্রান চেষ্টা করেছেন সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায় হয়ে উঠতে। কিন্তু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরাজী শিক্ষা, ‘বোস্টনে’ ফিল্ম স্কুলিং, এইসব চারিত্রিক বৈশিষ্ট পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়-কে পুরোপুরি ‘সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়’ হয়ে উঠতে দেয়নি। জীবনে জয়ী পরমব্রত হয়ত জীবনযুদ্ধে পরাজিত সুবীরবাবুর সাইকোলজিক্যাল ক্রাইসিস-টাকেই ঠিকমতন বুঝে উঠতে পারেননি। তাতে অবশ্য পরমের কিই বা যায় আসে? সবাই যখন তার প্রশংসাই করছে। আমার ছবিতে পরম-কে দেখে যা মনে হয়েছে, সেটাই অকপটে লিখে ফেললাম। বয়স্ক সুবীরবাবুর ভূমিকায় অর্ধেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় (Ardhendu Banerjee)অবশ্য ‘মনে রাখার মতন’ অভিনয় করেছেন। সন্দিপ রায়-এর কিছু টেলিছবিতে আমরা অর্ধেন্দুবাবুকে কাজ করতে দেখেছি কিন্তু তার অভিনয় জীবনের প্রানপ্রতিষ্ঠা বোধয় ঘটলো আপন জামাতা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ছবিতেই। এটাই বোধয় অভিনেতা অর্ধেন্দুবাবুর নিয়তি।

ছোট ছোট কিছু চরিত্রে বেশ অভিনয় করেছেন ঋত্বিক চক্রবর্তী (Ritwick Chakraborty), গৌরব চট্টোপাধ্যায় (Gaurav Chatterjee), পদ্মনাভ দাশগুপ্ত (Padmanabha Dasgupta), কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় স্বয়ং। কৌশিকদার বাঙাল ভাষার সুন্দর ব্যবহার এবং ঋত্বিক চক্রবর্তীর নির্বাক অভিব্যক্তি এই ছবির অন্যতম সেরা সম্পদ। গল্পের সূত্রধরসম চরিত্রে অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তীর সুযোগ্য পুত্র গৌরব চক্রবর্তী বেশ ভালো কাজ করেছেন। অতনু ঘোষের ‘রূপকথা নয়’-এর পরে ‘অপুর পাঁচালী’ গৌরব চক্রবর্তী অভিনেতা হিসাবে ক্রমশ উন্নতি করছেন। এই ধরনের ছবিতে যে ঘরানার চিত্রগ্রহনের প্রয়োজন হয়, শীর্ষ রায় (Sirsha Roy) সেই ঘরানার। তাই ‘অপুর পাঁচালীর’ চিত্রগ্রহণ মনে দাগ কেটে যায়। বিশেষত সাদা কালো দৃশ্যগুলি থেকে চোখ সরাতে মন চায় না। বোধাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় (Bodhaditya Banerjee) সম্পাদক হিসাবে কখনো খুব ভালো আবার কোন কোন ক্ষেত্রে বেশ সাধারন। শ্রীকান্ত মোহতা এবং মহেন্দ্র সোণী- (Srikant Mohta & Mahendra Soni)কে ধন্যবাদ এমন এক ছবিতে অর্থলগ্নি করার জন্যে।

পরিশেষে লিখি, বড় পর্দায় সত্যজিৎ রায়-এর ‘পথের পাঁচালী’ (Pather Panchali)-র সাদা কালো সিনেম্যাটিক ম্যাজিক আস্বাদ করতে, টিকিট কেটে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে, ঠাণ্ডায় বসে দেখে আসুন এই ছবি। কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় ভারতীয় তেনেমাপ্রেমীদের আবার সেই ভিসুয়াল ম্যাজিক-এর টুকরো টুকরো অংশ বড় পর্দায় দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন। এই সুযোগ হেলায় হারালে নিজেরাই এক বড় প্রাপ্তির থেকে নিজেদের বঞ্চিত করে ফেলবেন।

 

Apur Pachali Bengali Movie Review By:

SanjibSanjib Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and has written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.

The information and views set out in this movie review are those of the author and do not necessarily reflect the official opinion of the Publication/Organization. Neither the Publication/Organization nor any person acting on their behalf may be held responsible for the use which may be made of the information contained therein.

 

 

 

 

1 COMMENT

  1. দেখে এসেছি একবার, তবে লেখাটা পড়ে ভাবছি আর একবার দেখব তোমার মতো করে… :)

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!