Rituparno Ghosh: For All Reasons and All Seasons, ছয় ঋতু , A special thought on his birthday

14
1514
Rituparno Ghosh

On Rituparno Ghosh’s 50th Birthday we have tried to refresh the memories of the master film maker by highlighting six of his movies that in a very subtle way are in sync with the mood of the six seasons that mother nature has bestowed upon us. The article thus goes as “Ritu’s 6 ritus”

ছয় ঋতু 

আজ ৩১শে আগস্ট, আমাদের মধ্যে থাকলে আজ ৫০ বছরে পা দিতেন ঋতুদা । কিন্তু তা তো আর হবার নয়, গত ৩০ শে মে ২০১৩, আমাদের সবার প্রিয় পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ কলকাতা কে চোখের জলে ভাসিয়ে দিয়ে হারিয়ে গেলেন চিরকালের জন্যে। এখন বর্ষাকাল, আর কিছুদিন পরেই শরৎকালে ‘ মা ‘ আসছেন, সারা শহরে এখন সাজো সাজো রব কিন্তু এই শারদীয়ার আমেজেও কোথায় যেন এক বিষাদ মাখা সুর সারা শহরটাকে মৃদু ধাক্কা দিয়ে যাচ্ছে। এই সময়টা খুব প্রিয় ছিল ঋতুদার, খুব প্রয়োজন না হলে প্রাক-শারদীয়া এই সময়টায় কলকাতা ছেড়ে কোথাও যেতেন না ঋতুদা । বাড়িতে একা বসে লিখে ফেলতেন কবিতা কিম্বা কোন চিত্রনাট্য। গতকাল রাত থেকেই ভাবছিলাম ঋতুদাকে নিয়ে এমন কি লিখবো,যা আগে কেউ কোনদিন লেখেনি কিন্তু মাথায় আসছিলো না কারন ঋতুদার মৃত্যুর পরে মানুষটাকে নিয়ে এত বেশি লেখালেখি হচ্ছে যে তার কাজের কথা কিম্বা ব্যক্তিগত জগত নিয়ে কোনকিছুই আর কারো জানতে বাকি নেই। তাই আমি আজ বেছে নিয়েছি এমন এক বিষয়, যা সবার চোখের সামনে থেকেও হয়তো অনেকেরই অদেখা।

 

গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত বঙ্গ প্রকৃতির এই ছয় ঋতু যেন ঋতুদার ছবির সম্ভারের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে। এই ছয় ঋতু যেমন আমাদের জীবনের সঙ্গে সংযুক্ত তেমনই ঋতুপর্ণর সিনেমাও আমাদের দৈনন্দিন জীবনের নানান স্বাদ,গন্ধ,রসের সঙ্গে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। ঋতুদার কাজের ব্যপ্তি অসীম তাই আমি আজ এমন টি ছবি বেছে নেবো, যে ছবি গুলি এক একটি ঋতুর flavour-এর সঙ্গে মিশে আছে। 

Rituparno ghosh movie dahan

দহন (Dahan) 1997 – The Summer ( গ্রীষ্ম ঋতু )

সুচিত্রা ভট্টাচার্য -র (Suchitra Bhattacharya) উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে নির্মিত এই ছবিটি ঋতুদার দ্বিতীয় মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা। সামাজিক অবক্ষয়ের এক জ্বলন্ত দলিল এই ছবি। পুরো কাহিনী জুড়ে অসহনীয় তাপ ও জ্বালা। গ্রীষ্মের সমস্ত রুক্ষতা, সুস্কতা যেন ছবিটির রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে। দুই মহিলা পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহিণী হয়ে ওঠে কিন্তু তাদের পুরুষ সঙ্গীরা তাদের পাশ থেকে সরে যায়। নারী শক্তির তাপে শেষ পর্যন্ত জ্বলে যায় সব অবিচার। ‘দহনে’ অভিনয় করে একই বছরে যুগ্ম ভাবে জাতীয় পুরস্কার (National Award) পেয়েছিলেন ঋতুপর্ণা সে্নগুপ্ত (Rituparna Sengupta) এবং ইন্দ্রাণী হালদার (Indrani Haldar)।

 

Raincoat  (Hindi) 2004 – Rainy (বর্ষা ঋতু ) aishwarya rai raincoat

মথুরা নগরপতি, কাহে তুম গকুল যাও?” 

ঋতুদার লেখা, দেবজ্যোতি মিশ্রের সুরে, শুভা মুদ্গলের (Subha Mudgal) গাওয়া এই গান মুম্বইকেও মাতিয়ে তুলেছিল । ঋতুদার প্রথম হিন্দি ছবির পটভূমি বৃষ্টিস্নাত কলকাতা। Ajay Devgan এবং Aiswariya Rai Bacchan -এর অসামান্য অভিনয় এই Hindi ছবিটি কে এক অন্য মাত্রা দিয়েছিল। প্রথম হিন্দি ছবিতেই ঋতুপর্ণ ঘোষ ‘সেরা গল্পের’ এবং ‘শ্রেষ্ঠ হিন্দি সিনেমা’ -র জন্যে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। এই নিম্ন মধ্যবিত্ত প্রেমের কাহিনী সমগ্র দেশের হৃদয় কে দোলা দিয়ে গিয়েছিল। অজয় দেবগনের দুর্দান্ত অভিনয় এই ছবির এই ছবির অন্যতম সম্পদ।

 

উৎসব (Utsab) 2000 – Autumn ( শরৎ ঋতু ) rituparno ghosh utsab poster

শরৎ মানেই দুর্গা পুজা। সারা বাংলা মেতে ওঠে শারদ আনন্দে । Rituparno Ghosh-এর ছবি ‘উৎসব’ -এর পটভূমিকা হচ্ছে বাঙ্গালির সেই সাধের শারদ উৎসব। এক বাঙালি বনেদি পরিবারিক পুজা কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সদস্যদের নানান ঘাত প্রতিঘাত নিয়ে এই ছবি জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিল। সমগ্র ছবি জুড়ে শারদ উৎসবের আবহাওয়া, এই ছবিকে অনন্য করে তুলেছে। জনপ্রিয় বাণিজ্যিক ছবির নায়ক  Prosenjit Chatterjee কে এই ছবি এক অন্য মাত্রা এনে দিয়েছিলো দর্শক মহলে। মমতা শঙ্কর-ও দুর্দান্ত অভিনয় করেছিলেন এই ছবিতে। এখানে সারা ছবি জুড়ে শুধু দুর্গা পুজা এবং সেটাই এই ছবি কে ‘শরৎ’ মাখা ছবি করে তোলে। তাই শরৎ বলতেই আমার মনে পড়ে যায় ঋতুদার ‘উৎসব’ ।

 

অসুখ (Ashukh) 1999 – The Winter (শীত ঋতু ) rituparno ghosh film asookh

ঋতুদার তৃতীয় মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘অসুখ’ আসলে এক মনস্তাতিক জটিল গল্প, যে গল্পের কেন্দ্রে আছেন এক অভিনেত্রী। সেই নায়িকার সমস্ত সম্পর্ক গুলি কেমন যেন কুঁকড়ে যাচ্ছে। সমগ্র ছবি জুড়ে এক প্রবল শৈত্য বিরাজ করেছে। শীত মানে ঠাণ্ডায় মানুষের কুঁকড়ে যাওয়া । শৈত্য শুধু শরীরে আসেনা, মাঝে মধ্যে মনেও আসে। তেমনই এক mentally frigid হয়ে যাওয়া মানুষের কুঁকড়ে যাওয়া জীবনের ইতিকথা শুনিয়েছেন ঋতুদা অসুখে। অসুখ-এর নায়িকা দেবশ্রী রায় (Debosree Roy) নিজেকে ছাপিয়ে গিয়ে এমন অভিনয় করেছিলেন অসুখে, যা তাকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দিয়েছিলো। ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবিতে এই প্রথম তথা শেষবার অভিনয় করেছিলেন Soumitra Chattopadhyay এবং “অসুখ”-এ প্রথমবার অভিনয় করেছিলেন জনপ্রিয় গায়ক শিলাজিৎ মজুমদার, যিনি আজ নিজের গায়কির সঙ্গে সঙ্গে অভিনেতা রূপেও বেশ সফল। যথারীতি অসুখ ১৯৯৯ সালে ‘শ্রেষ্ঠ’ বাংলা সিনেমা হিসাবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করে।

 

The Last Lear (English) – 2007 – হেমন্ত ঋতু amitabh bachhan last lear

ঋতুদার প্রথম English ছবি The Last Lear ছবি জুড়ে পাতা ঝরা হেমন্ত মরসুমের কথা বলা হয়। এক বিশাল বৃক্ষের শুকিয়ে যাওয়ার গল্পকে সিনেমার ভাষায় সাজিয়েছিলেন ঋতুপর্ণ ঘোষ। Amitabh Bacchan-এর অবিস্মরণীয় অভিনয় এই ছবিকে আন্তর্জাতিক মহলে বিপুল খ্যাতি এনে দিয়েছিলো। ইংরাজি ভাষায় ছবি বলে ভারতে খুব একটা বেশি সাফল্য না পেলেও The Last Lear ছবি হিসাবে উচ্চমানের, সেটা শিক্ষিত দর্শক মহল স্বীকার করে নিয়েছিলো। একজন প্রতিভাশালী নটের নিজের বিস্তৃতি কে আস্তে আস্তে গুটিয়ে নেওয়ার মর্মান্তিক কাহিনীকে ঋতুদা ভারি সুন্দররূপে বর্ণনা করেছিলেন চিত্রনাট্যের বাঁকে বাঁকে। হেমন্ত মরসুম এলেই আমার The Last Lear -এর কথা মনে পড়ে যায়।

 

খেলা (Khela) – 2008 – বসন্ত ঋতু prosenjit chatterjee khela

ঋতুদার খুব কম ছবি আনন্দের গান গায়,খুশির কথা বলে। তাই ‘খেলা’ ছবি টি দেখে আমরা সবাই ছেলেমানুষের মতন আনন্দ পেয়েছি, হেসেছি, কেঁদেছি। নায়ক রাজার সঙ্গে আমরাও অভিরূপ কে নিয়ে ‘নালক’ ছবির shoot করতে জঙ্গলে পৌঁছে যাই। অসময়ের বৃষ্টিতে অকারন ভিজতে ভালো লাগে। ছবির শেষে যখন নায়ক Prosenjit যখন নায়িকা Manisha Koirala-র মধ্যে আবার মিল হয়ে যায় যখন সমস্ত দর্শকের মনে ওঠে আনন্দের জোয়ার। Anjan Dutt-র ভাষা ধার করে বলে উঠতে ইচ্ছে করে ফুল ফুটুক না ফুটুক আজ বসন্ত !!!

 

আজ ঋতুদার জন্মদিনে আমার এই ছোট্ট উপহার আশা রাখলাম ঋতুদার পছন্দ হবে। না জন্ম বার্ষিকী বলতে পারছি না, আজ আমার কাছে ঋতুপর্ণ ঘোষের জন্মদিন

By:
Sanjib BanerjiSanjeeb Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and have written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.

Image Credits: Google Images

 

Enhanced by Zemanta

14 COMMENTS

  1. অনেকগুলো গল্পের মধ্যে একবারে সঠিক ছবি গুলো কে বেছে সেই গুলো কে বিভিন্ন রিতুর সাথে মিলিয়ে লেখা, পরে বেশ ভালো লাগল। আরো আসুক আমরা পরতে চাই সিনেমা নিয়ে অন্য রকম লেখা।

  2. This can only be expected from a maestro in the making like Sanjeeb Banerjee. What an unique analytic representation of ideas. Thanks to http://www.sholoanabangaliana.in for publishing such a masterpiece. Expectations are now gearing up really very fast. Congrats to the creative team of the portal.
    Keep up this great work.

  3. hmmm, eta besh avinobo angik e vebechis sanjib. nice one. asole rituda holo ek ramdhonu jar nana ronger chotay, nana ritur rong fute othe, nana moner goveere giye satyanewshir moto kore tule dhoren ek eketa sunflower! ei bochor rituda nei ekebari thik kotha noy, amader modhye darun vabe rituda ache ar sobcheye anodner kotha holo ritudar du dukhana cinema eibochor release korte choleche, satyaneshi and sunglass! :) rituda tomar ei upohaar amader khub valo lagbe obossoi :) ar er songe songe amader mon er veotr theke notun noutn rituporjay prosfutito hobe nischoi :)

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!