Legendary Singer Manna Dey is no more; Sholoana Bangaliana salutes the Musical Maestro

0
85
manna dey

(May 1, 1919 – October 24, 2013)

Prabodh Chandra Dey (1 May 1919 − 24 October 2013) popularly known by his stage name Manna Dey was an eminent vocalist, who has innumerable private albums to his credit and also has sung for Hindi and Bangla movies. Manna Dey debuted with the film Tamanna in 1942, and thereafter went on to record more than 4000 songs during 1942-2013. The Central Government of India honored him with the Padma Shri in 1971, the Padma Bhusan in 2005 and the most prestigious film award, which is the Dadasaheb Phalke Award in 2007. Manna Dey also recorded songs in several other regional languages, apart from Hindi and Bengali. His best years in the Hindi playback singing can be outlined as 1953-1976. Manna Dey’s Gurus were Krishna Chandra Dey, who was a blind singer-composer and Ustad Dabir Khan, who was a master of traditional Indian classical music. Manna Dey has also sang duet songs with other male singers like Kishore Kumar, Md. Rafi, Bhupinder Singh, apart from leading female playback singers like Suraiya, Geeta Dutt, Asha Bhonsle and Lata Mangeskar.

যে নামে আপামর ভারতবাসী তাঁকে চেনেন নামটির অন্য একটি মানে আছে “মান্না” স্বর্গ থেকে পাঠানো খাবার বা ঈশ্বর প্রেরিত খাবার। ঈশ্বর যখন বিশ্বসৃষ্টি করেছিলেন তখন ষষ্ঠ দিবসের গোধুলি লগ্নে এই অপরূপ বস্তু সৃষ্টি করেছিলেন তাঁর সৃষ্টি কে জীবিত রাখার জন্যে। কথাটা হয়ত অনেকের মানতে অসুবিধা হতে পারে, কিন্তু মান্না দে মহাশয়ের অপরুপত্ত্ব মানতে কোন মানুষের কোন রকমের সন্দেহের অবকাশ নেই।

উপরের লেখা সন তারিখ গুলিকে কেবলমাত্র দুটি দিন হিসাবে আমরা যদি দেখি তাহলে প্রথম দিনটিতে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন পূঁর্ণ চন্দ্র দে ও মঁহামায় দেবীর সংসারে আর দ্বিতীয় দিনটি আমরা হারালাম তাঁর পার্থিব দেহটিকে। কিন্তু যে স্বর্গীয় সৃষ্টি তিনি আমাদের মধ্যে রেখে দিয়ে গেলেন তা অবিনশ্বর বলেই চিহ্নিত ও স্বীকৃত।

লেখাপড়া শুরু ‘ইন্দুবাবুর পাঠশালা’ নামক অনাম্নি এক পাঠশালায় তারপরে স্কটিশ চার্চ কলিজিয়েট স্কুল  আর বিদ্যাসাগর কলেজ থেকে স্নাতক। এই সময় তাঁর ছোটকাকা সঙ্গীতাচার্য কৃঁষ্ণ চন্দ্র দে মহাশয়ের তত্ত্বাবধানে তাঁর তালিমের শুরু ও পরে স্বর্গীয় ওস্তাদ দবীর খাঁ সাহেবের কাছেও তিনি তাঁর মার্গীয় সঙ্গীতের তালিম নেন। ছোট কাকার প্রভাব ছিল ওনার সাঙ্গীতিক জীবনে প্রচুর। তবে কলেজ জীবনে কুস্তি ও বক্সিং করতেন বলে, এই দুই ক্ষেত্রে তাঁর খ্যাতি ছিল ভালোই এবং সেই সঙ্গে তিন বছর পরপর আন্তঃকলেজ সঙ্গীত প্রতিযোগীতায় তিনিই প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। বৈপরীত্য বোধহয় প্রতীভাশালীদের একটা চারিত্রিক বৈশিষ্ট।

এই লেখাটা যখন লিখতে শুরু করেছি তখন কোলকাতার সবকটা এফ FM Channel-এ বেজে চলেছে তাঁর গাওয়া অসাধারন সব গান। তাঁর গাওয়া গান দিয়েই তাঁকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি আমরা। কারন Kabir Suman-এর লেখা “তোমার তুলনা আমি খুঁজিনি কখনো, বহু ব্যবহার করা কোন উপমায়” এই রকম হৃদয়স্পর্শী গান সমসাময়িক বাংলায় বোধহয় খুব বেশী নেই। তিনি কত গান গেয়েছিলেন, কোন কোন সুরকারের সুরে গান গেয়েছিলেন এগুলো কেবলমাত্র তথ্য। শ্রদ্ধ্যাঞ্জলীকে তথ্য ভারাক্রান্ত করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য হল স্রষ্টা কে বিনম্র প্রণাম জানানো।

গান সৃষ্টি হয় অনেকের সম্মিলিত চেষ্টায়, তাতে সামিল থাকেন গীতিকার, সুরকার, গায়ক ও বাদ্যযন্ত্রীরা। সেই মিলিত চেষ্টাকে যিনি প্রান প্রতিষ্টা করেন তিনি গায়ক। তাঁর জন্যে গান লিখেছিলেন প্রখ্যাত গীতিকারেরা, সুর সৃষ্টি করে দিয়েছিলেন সেই রকম দিকপাল সুরকারেরা। কিন্তু তিনি যখন তাঁর কন্ঠ দিয়ে সেই মিলিত সৃষ্টিকে আমাদের কাছে পৌছে দিয়েছেন তখন যেন তাঁর প্রানের বা আত্মার অংশ সেই গানের মধ্যে মিশিয়ে দিয়ে গেছেন, তা নাহলে তাঁর গাওয়া ১৯৫০ এর দশকের গান আজও এত জনপ্রিয় থাকে কী করে?

তাঁর প্রথম প্লেব্যাক স্বর্গীয় কৃষ্ণ চন্দ্র দে মহাশয়ের সুরারোপিত একটি ডুয়েট সহশিল্পী ছিলেন ‘সুরাইয়াজী’ (Suraiya) ছবির নাম “তামান্না” গানটির কথা ছিল বড় সুন্দর “জাগো আয়া ঊষা, পঞ্ছি বোলে জাগো” এ গান যেন আমাদের জানিয়ে দিচ্ছে ওঠ জাগো, দেখ গানের রাজত্ব্যে রাজা তার সভায় প্রবেশ করছেন। অজান্তেই মুহুর্তরা বোধহয় এইভাবেই তৈরী হয়ে যায়। সেই সময়ের বম্বেতে কাকা কৃষ্ণ চন্দ্রের সহকারি সুরকার হিসাবে ছবিতে গানের সুর দিয়ে জীবন শুরু করেছিলেন, কিন্তু ভারতীয় মার্গ সঙ্গীতের তালিম বন্ধ হতে দেন নি তাঁর কাকা। স্বর্গীয় ওস্তাদ আমন আলী খাঁ সাহেব (Ustaad Aman Ali Khan) ও ওস্তাদ আব্দুল রহমান খাঁ (Ustaad Abdul Rehman Khan) সাহেবের কাছে পুরোদস্তুর তালিম চলেছিল তাঁর সেই সময়।

ভারতীয় মার্গ সঙ্গীতের (Indian Classical Music) এই সুদীর্ঘ তালিম যে তাঁর গায়কিকে আনায়াস ও সাবলীল করে রেখেছিল সেকথা তিনি সব সময়েই স্বীকার করে গেছেন। তাঁর সময়ে সমসাময়িক গায়ক গায়িকাদের মধ্যে একটা আলাদা জায়গা করে নিতে তাঁর খুব বেশীদিন সময় ও লাগেনি তার এই অনায়াস ও সাবলীল গায়কির জন্যে। তাঁর গানের একটা মজার ব্যাপার ছিল এই যে শুনলে গায়কদের বা সাধারন মানুষের সবারই মনে হত এত সহজ, এতো গেয়ে ফেলা যায়, কিন্তু সে ফাঁদে যে পরেছে সেই জেনেছে যে ভিতরে কি সুক্ষতা দিয়ে তিনি সুরের জাল বুনে গেছেন।

উনি সরলতাই শিল্পের অন্যতম শর্ত এই মতে বিশ্বাসী ছিলেন আজীবন তাই কী রেকর্ডিং এ কী মঞ্চে হাজার হাজার মানুষের সামনে, অতি বিনম্র ভাবে শুরু করতেন তিনি তাঁর গান,  সেই চিরাচরিত হাফ হাতা রঙ্গীন বুশ শার্ট আর গাঢ় রঙের ট্রাউজার্সে মাথায় থাকত টুপি। কিছুক্ষনের মধ্যে দর্শক বুঁদ হয়ে যেতেন সুরের মায়াজালে। নাহলে রেকর্ডিং  স্টুডিওতে তৈরী হত আরো একটি নতুন কোন অনবদ্য গান। স্টাইল স্টেটমেন্টে উনি এবং শ্রদ্ধেয় হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এক অদ্ভুত বৈপরিত্য বজায় রাখতেন। ইনি রঙ্গিন আর উনি সাদা-কালো।

উনি ১৮ই ডিসেম্বর ১৯৫৩ তে সুলোচনা কুমারন (Sulochona Kumaran) এর সাথে বিবাহ সুত্রে আবদ্ধ হন, তাঁদের দুই মেয়ে সুরোমা ও সুমিতা জন্ম গ্রহণ করেন ১৯৫৬ ও ১৯৫৮ সালে। দীর্ঘ ৫০ বছরের মূম্বাই এর বাস ত্যাগ করে তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ব্যাঙ্গালোর (Bangalore) বাসী রয়ে গেলেন। স্ত্রী সুলোচনা র মৃত্যু হয় ২০১২ ক্যান্সারে।

ওনার যে সাঙ্গিতিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৪২ তা মোটামুটি জারি ছিল ১৯৯২ সাল অবধি, তাঁর পরে তিনি গানের অনুষ্ঠান,করেছেন রেকর্ড করেছেন তবে অনেক বাছাই করে। ভারতবর্ষে এবং বিদেশে অজস্র পুরস্কারের প্রাপক ছিলেন উনি। যেগুলি ওনাকে যতটা সম্মানিত করেছেন নিজেরা সম্মানিত হয়েছেন সমপরিমাণে। সর্বশেষ দাদা সাহেব ফালকে (Dada Saheb Phalke) পুরষ্কার। গান থাকবে শ্রোতারা থাকবে, শুধু হয়ত কোন এক অলস দুপুর মনে মনে গেয়ে উঠবে “মুকুটটা তো পড়েই আছে রাজাই শুধু নেই”।

Contributor: Sri Somankar Lahiri

Enhanced by Zemanta

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!