Shakespeare Play Macbeth Translated in Bengali by Basu Acharya; In Continuation…..

0
60
Macbeth

Shakespeare play translation

Which smoked with bloody execution,

Like valour’s minion carved out his passage…

Till he unseam’d him from the nave to the chaps,

And fix’d his head upon our battlements. (1.2.15-20)

 

These lines from the play Macbeth am sure are not new to anyone who has read Shakespeare’s immortal dramas. While we may have read and enjoyed Shakespeare in different forms and languages, it is now time that we Bengalis get to read these classics in our own mother tongue.  (1st Part of the Play)

In Continuation ……

Macbeth translation

দৃশ্য–৩

 

[জলার ধারের পোড়ো জমি। বজ্র-বিদ্যুৎ। তিন ডাইনির প্রবেশ।]

 

প্রথম:                কোথায় ছিলি, বহিন আমার?

 

দ্বিতীয়:              করতে ছিলুম শূকর শিকার।

 

তৃতীয়:              ও বোন, তুই কোথায় ছিলি?

 

প্রথম:                ঐ তো হোথায়, নিরিবিলি।

সেথায় বসে মাঝির মাগি

কোঁচরে নিয়ে বাদাম ভাজা

খাচ্ছিল বেশ কচমচিয়ে, কচমচিয়ে, কচমচিয়ে…

আমি বললুম, “দে না দুখান। চিবিয়ে দেখি কেমন মজা!”

রান-খাগি ঐ ডবকা মাগি খেঁউড় করে বললে রেগে—

“ডাইনি বুড়ি বারোভাতারি, বাজে না বকে যা তুই ভেগে”!

ভাতারটা ওর আলেপো গেছে।

ছুটবো আমি পাছে পাছে।

ল্যাজকাটা এক ইঁদুর হয়ে

যাব নিয়ে শমন বোয়ে।

নোনা জ্বলে নাকানি চোবানি খাওয়াবো, খাওয়াবো, খাওয়াবো।

 

দ্বিতীয়:              পালে তোর আমি দেব হাওয়া।

 

প্রথম:                তোর তো দেখি বেজায় দয়া!

 

তৃতীয়:              আমিও দেবো হওয়ার দমক।

 

প্রথম:                আমারও আছে সকল চমক!

লুকক হাজার বন্দরে, নদী-নালায় কন্দরে।

মাঝিমাল্লার কেতাব ঢুঁড়ে খুঁজুক নতুন আড্ডা।

বুঝিয়ে দেবো কেমন গেঁড়ো, কি ভয়ানক গাড্ডা!

পাটের কাঠি বানিয়ে দেবো রক্ত-মজ্জা চুষে,

চোখের পাতায় ঘুম রবে না, থাকবে জেগে বসে।

হালত দেখে ঘেঁষবে না কেও, আসবে না কেও কাছে।

পোড়ারমুখীর ভাগ্যে জেনো আরও দুঃখ আছে।

নিঁদ হারানো সাতটি রাতি নয় নয়কে নয়,

তিল তিল কোরে জাদুর শরীর হবেই হবে ক্ষয়।

যদি ব্যাটার জাহাজখানা নাও ডোবাতে পাড়ি,

সাগর ঝরে উথাল-পাথাল, ঘোল খাওয়াবো ভারি।

এই দেখ, কি এনেছি।

 

দ্বিতীয়:              কি এনেছিস, দেখা দেখা।

 

প্রথম:                এক জাহাজির বুঢঢা-আঙ্গুল এটা।

ফেরার পথে জাহাজ ডুবে টেঁসে গেছে ব্যাটা।

 

[দামামা বেজে ওঠে]

Shakespeare in Bengali

 

তৃতীয়:              বাজছে দামামা

‘নিগঘাত’ আসছে ম্যাকবেথ!

 

সমবেত:             তিন বোন মিলে আয়, হাতের ওপর হাত,

জলে এবং স্থলে ঘুরি-ফিরি; কেয়া বাত!

তিন পাক তুই ঘোর, মুই ঘুরি তিন পাক,

তোর জন্যেও বোন তিন পাক তোলা থাক।

তিন তিরিককে নয়, দিলখুশ বড় আজ,

বন বন কোরে ঘোরা, এটাই মোদের কাজ।

 

[ম্যাকবেথ ও ব্যাঙ্কোর প্রবেশ]

 

ম্যাকবেথ:           এমন দিন দেখিনি আগে,

সুখ, দুঃখ জাগে একসাথে।

 

ব্যাঙ্কো:               আর কত পথ চলতে হবে? কত দূর গেলে ফোরেস?

একি! এগুলো কি! কী বিদঘুটে বেশবাস!

দেখে মনে হয় এই দুনিয়ার জীব নয়,

তবু এই মাটিতেই বাস।

ওহে, তোমরা কি জীবিত? প্রশ্ন করলে উত্তর দিতে পারবে?

ভাষা বোঝো আমাদের?

মুখ দেখে তো মনে হচ্ছে বুঝতে পারছ।

ওমা! কর্কশ আঙ্গুল দিয়ে ফ্যাকাসে ঠোঁট কেন চেপে ধরছ?

তোমাদের দেখে মহিলা মহিলা লাগে,

আবার দাড়ি দেখে কেমন অন্যরকম চিন্তা মাথায় জাগে।

 

ম্যাকবেথ:           কথা বলো,

বলে ফেল, যদি থাকে ভাষা।

 

প্রথম:                স্বাগত ম্যাকবেথ, স্বাগত হে গ্লামস্-অধিপতি।

 

দ্বিতীয়:              স্বাগত ম্যাকবেথ, স্বাগত হে কডোররাজ।

 

তৃতীয়:              স্বাগত ম্যাকবেথ, স্বাগত হে ভবিষ্যতের রাজাধিরাজ।

 

[ম্যাকবেথ চমকে ওঠেন। হাত থেকে তরবারি প’ড়ে যায়।]

 

ব্যাঙ্কো:              একি! চমকে উঠলেন কেন?

শুভ সংবাদ শুনে কেন আপনি শঙ্কিত?

[ডাইনিদের] তোমরা সত্য না মায়া!

চর্মচক্ষে যা দেখছি, তোমরা কি তাই?

আমার মহান বন্ধুকে তোমরা শুনিয়েছ

সৌভাগ্যের বাণী। বলেছ রাজকীয় ভবিষ্যতের কথা।

কিন্তু ওগো বোনেরা, আমার বেলায় কেন তোমরা চুপ?

যদি সত্যিই হও ভবিষ্যতদ্রষ্টা,

যদি অনাগত সময়ের গর্ভ বীজে পৌঁছোয় তোমাদের দৃষ্টি,

যদি প্রকৃতই তোমরা দেখতে পাও কোনটি হবে অঙ্কুরিত,

কোনটি শুকিয়ে হবে শেষ,

তাহলে বলো আমায়—কি ভবিতব্য আমার।

নির্ভয়ে বলো।

তবে মনে রেখ—তোমাদের কৃপা ভিক্ষা করি না আমি,

ভয়ও করি না!

 

প্রথম:                জয় হোক!

 

দ্বিতীয়:              জয় হোক!

 

তৃতীয়:              জয় হোক!

 

প্রথম:                ম্যাকবেথের চেয়ে কম, তবু তাঁর চেয়ে বেশী।

 

দ্বিতীয়:              নও তত সুখী, তবু অধিক ভাগ্যবান!

 

তৃতীয়:              নিজে রাজা হবে না, তবু তোমার বংশধররাই হবে সম্রাট!

তাই জয় হোক, জয় হোক ম্যাকবেথ ও ব্যাঙ্কোর!

 

প্রথম:                জয় হোক ব্যাঙ্কো ও ম্যাকবেথের!

 

ম্যাকবেথ:          দাঁড়াও! দাঁড়াও ওগো অস্পষ্টভাষিণীরা। আরও, আরও বলো আমায়!

হ্যাঁ, পিতা সিনেলের মৃত্যুতে আমি গ্লামস্-অধিপতি ঠিকই,

কিন্তু কডোরের দায়িত্ব! কীভাবে?

কডোরের সামন্তরাজ তো এখন সসম্মানে জীবিত। আর রাজা?—

স্কটল্যান্ড অধীশ্বর হওয়া! সে তো অলীক কল্পনা! স্বপ্নেরও অতীত!

কোথা থেকে পেলে এমন অদ্ভুত বার্তা?

কেন এই অভিশপ্ত উপত্যকায় এসে দ্রষ্টার বেশে

পথ-রোধ করে দাঁড়ালে আমাদের?

বলো, বলতেই হবে তোমাদের! আমি আদেশ করছি—

দাও উত্তর!

 

[ডাইনীদের অন্তর্ধান]

 

ব্যাঙ্কো:               মাটিরও কি বুদবুদ আছে জলের মতন?

কোথায় মিলিয়ে গেল ওরা?

 

ম্যাকবেথ:         হাওয়ায়। যা মনে হয়েছিল স্থূল মনুষ্য শরীর,

তাই পলকে মিলালো পঞ্চভূতে!

আরও কিছু সময় থেকে গেলে পারতো, তাই না?

 

ব্যাঙ্কো:               সত্যি কি কিছু ছিল এইখানে?

নাকি এ আফিমের নেশায়

শৃঙ্খলিত মস্তিষ্কের ঘোর?

 

ম্যাকবেথ:           তোমার সন্তানেরা রাজা হবে।

 

ব্যাঙ্কো:               আপনি নিজেই হবেন রাজ-রাজ্যেশ্বর!

ম্যাকবেথ:           কডোর-অধিপতিও হব বলে গেল না?

 

ব্যাঙ্কো:               হ্যাঁ, অক্ষরে অক্ষরে এমনই কথা করেছে বর্ণনা।

কে, কে আসছে এদিকে?

 

[রস ও অ্যাঙ্গাস-এর প্রবেশ, সাথে সৈনিক]

 

রস:                   স্বাগত, স্বাগত, স্বাগত ম্যাকবেথ ও ব্যাঙ্কো।

বীর ম্যাকবেথ, মহান নৃপতি শুনেছেন আপনাদের বিজয় বার্তা।

বিদ্রোহী দমনে আপনার বীরত্বের কথা শুনে বিস্মিত তিনি।

মহাবল নরওয়ে সেনার সম্মুখে আপনার মৃত্যু-বিভীষিকার প্রতিমূর্তি

রূপে আগমন পাঠ করে তিনি হতবাক! আনন্দিত রাজ্যেশ্বর।

চারিদিক থেকে ভেসে আসছে প্রশংসাবাণী।

 

অ্যাঙ্গাস: মহান নৃপতির তরফ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনে এসেছি আমরা।

নিয়ে যেতে এসেছি রাজ-দরবারে।

পুরস্কার প্রদানের ধৃষ্টতা নেই আমাদের।

 

রস:                   তবে হে ম্যাকবেথ, এক মহান গৌরব আছে আপনার অপেক্ষায়।

রাজাজ্ঞা বলে ঘোষণা করি—আজ থেকে আপনি কডোর অধিপতি।

 

ব্যাঙ্কো:               একি! শয়তানী বাণী সত্য হল তবে!

 

ম্যাকবেথ:          কডোরের সামন্তরাজ তো এখনও জীবিত।

কেন তাহলে ঐ উপাধিতে আমাকে ভূষিত করা?

কেন আমায় সজ্জিত করা অপরের পরিচ্ছদে?

 

অ্যাঙ্গাস:           বিচারের সরু সুতোয় ঝুলছে কডোর-অধিপতির জীবন।

প্রকাশ্যে সে যোগ দিয়েছিল শত্রু শিবিরে।

গোপনে রাজদ্রোহে সে করে এসেছিল সহায়তা—

অশেষ ক্ষতিসাধন করেছিল দেশের।

শয়তান শিরোমণি নিজে মুখে স্বীকার করেছে সে কথা—

ফলে আজ সে ক্ষমতাচ্যুত।

 

ম্যাকবেথ:           [স্বগত] গ্লামস্ এবং কডোরের অধীশ্বর আমি!

আরও বড় সৌভাগ্য কি তাহলে অনতি দূরেই!

[রস ও অ্যাঙ্গাস-কে] ধন্যবাদ বন্ধুগণ!

[ব্যাঙ্কোর প্রতি একান্তে] তোমার মনে কি এমন আশা জাগছে না

যে তোমার আপন সন্তান হবে রাজাধিরাজ?

আমায় যারা করেছিল কডোর-অধিপতির সম্ভাষণ,

তাদেরই তো ছিল এই দৈববাণী।

 

ব্যাঙ্কো:             অখণ্ড বিশ্বাসে যদি গ্রহণ করেন

ঐ বাণী, তাহলে তো কডোর অধিপতি অতিরিক্ত

আরও বৃহৎ কিছু পাওয়ার কথা আপনার—

স্কটল্যান্ডের রাজ সিংহাসন! সত্যিই, বই অদ্ভুত এ ঘটনা।

তবে এমন ঘটে কখন কখন।

ধর্ম-পথ থেকে আমাদের বেপথু করতে—

ডুবিয়ে দিতে নারকীয় পঙ্কে

আঁধারবাসীরা বলে ক্ষুদ্র সত্য বাক্য।

[রস ও অ্যাঙ্গাস-কে] হে ভ্রাতৃবৃন্দ, দয়া করে একটু গুনবেন।

 

ম্যাকবেথ:           [স্বগত] দুটি সত্য হয়েছে উচ্চারিত!

এ কি তাহলে রাজকীয় সৌভাগ্যের সূচনা!

এমন অলৌকিক ভাষণ কখনও অশুভ হতে পারে না—

অবশ্য একে শুভও বলা যায় না।

যদি অশুভই হতো,

তাহলে কেন শোনাল আমায় গৌরবময় সত্য?!

আমি তো এখন কডোরেরও অধিপতি।

কিন্তু শুভই যদি হবে তাহলে কেন শিরদাঁড়ায় খেলে যায় এমন ভয়াল শিহরণ!

কেন চিত্তে জেগে ওঠে বীভৎস ছবি, চুল হয় কণ্টক সমতুল—

শারীরবৃত্তীয় নিয়ম লঙ্ঘন ক’রে কেন পাঁজরে আঘাত হানে হৃৎপিণ্ড!

উফ! এই কল্প চিন্তা যেকোনো বাস্তব বিপদের চেয়েও ভয়ঙ্কর।

নরহত্যা এখনও এক সুদূর কল্পনা মাত্র,

তবু কেন আমার সমগ্র সত্ত্বা কম্পিত ত্রাসে?

কেন বাস্তবতার হাত ছেড়ে আমি হয়ে পড়ছি অলীকের হাতে বন্দী?!

 

ব্যাঙ্কো:               আমাদের সহযোদ্ধা কোনও গভীর চিন্তায় মগ্ন হয়েছেন?

 

ম্য্যাকবেথ:          [স্বগত] যদি দৈবের বলেই রাজা হই,

যদি ভাগ্যদেবী স্বয়ং রাজ-কিরীট পড়িয়ে দেন এই শিরে,

তাহলে আমার তো কোনও প্রচেষ্টার দরকার নেই।

 

ব্যাঙ্কো:               আচম্বিতে এসে পড়েছে নতুন সম্মান

নতুন পরিচ্ছদ অনভ্যস্ত শরীরে জাগিয়ে তোলে অস্বস্তি।

 

ম্য্যাকবেথ:          [স্বগত] যা হওয়ার তাই হোক!

কালের রথ এগিয়ে চলুক দুর্যোগময় দিনের ভেতর দিয়ে।

 

ব্যাঙ্কো:               মহান ম্যাকবেথ, আমরা আপনার অপেক্ষায় আছি।

 

ম্য্যাকবেথ:          ক্ষমা করুন ভদ্রমহোদয়গণ,

ক্লান্ত মনে ফুটে উঠছিল অতীত দিনের নানান কথা।

আপনাদের অপেক্ষা করানর জন্য সত্যি আমি দুঃখিত।

চলুন, রাজাধিরাজ সমীপে রওনা দিই।

ব্যাঙ্কো:             অতি উত্তম, চলুন তাহলে।

 

ম্যাকবেথ:           [ব্যাঙ্কো-র হাত চেপে ধরে] তত দিন নীরব থেক বন্ধু।

 

To be Contd Next Sunday …….

 

Macbeth translated in Bengali by Basu Acharya

Shakespeare play Macbeth translated

 

Basu Acharya is a freelance columnist and editor. Previously he was associated with ‘The Verdict’ as ‘Principal Correspondent’ of Bengal. His important works include ‘Sixty Years of Victory Over Fascism’ (Director), ‘Under the Red Banner’ (Author), ‘Aboruddhyer Journal’ (Compiler) ‘Mukhomukhi Stalin’ (Compiler), ‘Collected Works of Charu Mazumdar – Vol. I, Vol. II’ (Editor), ‘Charu Majumdar-parabarti Parjaye Naxal Andoloner Pramanya Dolil Sankalan’ (Editor).

 

Image Credits: Google Images

 

LEAVE A REPLY

Please enter your name here
Please enter your comment!