Tag: Abhik Mukherjee

Kolkata Bangla Movie Review,Trailer: The very Controversial Kangal Malshat released in Kolkata

শুরুতেই জানিয়ে রাখি ‘ কাঙ্গাল মালসাট ( Kangal Malsat)’ ছবিটা কিন্তু সবার জন্যে নয় । এই ছবি এমন দর্শকদের কথা ভেবে বানানো, যাদের ছায়াছবির ভাব ও ভাষা সংক্রান্ত বিষয়ে theoretical knowledge আছে । শুধু ফিল্ম নয়, নাটক নিয়েও খানিক পড়াশুনা এবং চর্চা থাকলেও ছবিটা বুঝতে হয়তো বা খানিক সুবিধে হবে । কিছু এমন পরিচালক থাকেন, যারা নিজেদের ছবির মাধ্যমে দর্শকদের উদ্দেশে এক অহংকার মিশ্রিত সংলাপ ছুঁড়ে দেন ” আমি আমার মতন করে ছবি টা বানালাম, যা বক্তব্য রাখার রাখলাম, এবার তোদের বোঝার ক্ষমতা থাকলে বুঝে নে ! নাহলে আমার ছবি দেখতে আসার মাথার দিব্যি কেউ দেয়নি । ”

ঋত্বিক ঘটক (Ritwik Ghatak) ছিলেন এই ধরনের অহংকারের প্রবর্তক, তার কাছে সিনেমা ছিল শুধু এক ধরনের গনমাধ্যম, যা ব্যবহার করে তিনি তার বক্তব্য কে ‘তার’ দর্শকের কাছে পৌঁছে দেবেন । এখানে ‘ তার ‘ শব্দ টা খুব জরুরি কারন যারা ‘তার’ দর্শক নয়, তিনি সেই শ্রেণীর দর্শকদের কথা ভাবার প্রয়োজনীয়তা বা তাগিদ কোনোদিন সেভাবে অনুভব করেননি অথেচ সেই দর্শকদের সংখ্যা কিন্তু অনেক বেশি চিরকালই ।এমন মনভাব নাটকে চলতে পারে কিন্তু সিনেমাতে এর কি কোন তাৎপর্য আছে ? সিনেমা তো সবার জন্যে … আমার মনে হয় সিনেমা এমন হওয়া উচিৎ, যা সব শ্রেণীর শিক্ষিত দর্শক কে সমান ভাবে নাড়া দেবে, যদিও সেখানেও এমন এক দর্শক বিভাগ থাকবে, যারা হয়তো তাও বুঝবে না কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে সেই সংখ্যা টা কখনই যেন অধিকাংশ হয়ে না ওঠে !!

এই বিষয়ে এতগুলো শব্দ খরচ করলাম কারন ‘ কাঙ্গাল মালসাট ‘ ছবিটা তে আমি তেমনি এক প্রচ্ছন্ন অহমিকার গন্ধ পেয়েছি –  

” আমার কাজ আমি করলাম, এবার তোমাদের কাজ হচ্ছে, বিস্তর পড়াশুনা করে, বুদ্ধি খরচ করে আমার এই কাজটা বুঝে নেওয়া যদি পারো তবে তোমাদেরই ভালো আর না পারলে আমার আর কিছু করার নেই । ”  

এটা বুঝতে পেরে আমার একজন সাধারন দর্শক হিসাবে পরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায়র (Suman Mukhopadhyay) উপর কিঞ্ছিত অভিমান হল । এমন কেন হবে? কঠিন কথা কি সহজ ভাবে বলা যায়না?  আমরা যারা ‘ গুগা বাবা ‘ দেখেছি, ‘হিরক রাজার দেশে ‘ দেখেছি তারা তো জানি যে বিশপ লেফ্রয় রোডের বাসিন্দা, ঐ সাড়ে ছ ফিট লম্বা  ভদ্রলোক (Satyajit Ray) কেমন ভাবে কঠিন কথাকে সহজ ভাবে দর্শকদের সামনে উপস্থাপিত করেছেন। একবার নয় বারবার । ঋত্বিক ঘটক, মৃণাল সেন (Mrinal Sen) কোনদিন এই সহজ কথাটা বোঝেননি তাই তাদের কাজ ‘তাদের’ দর্শকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে ।

পরবর্তী সময়ে ‘হাটে বাজারে ‘ কিম্বা ‘গনবেদতা’ করে তপন সিংহ (Tapan Sinha), তরুন মজুমদার (Tarun Majumder)-রাও বুঝিয়ে দিয়েছেন যে একজন ছায়াছবির পরিচালককে, সব শ্রেণীর দর্শক দের কথাই ভাবতে হয়, নিজের বক্তব্য কে সাধারন ভাষায় সাধারনের জন্যে উপস্থাপনা করা । এটাই তো গনমাধ্যমের আসল কাজ এবং এখানে অহংকারের কোন স্থান নেই, যেটার আছে, সেটা হচ্ছে ছবির ভাষার স্বচ্ছ্যতা। সেটা না থাকলে, আমি মনে করি তা ছবির দোষ এবং কাঙ্গাল মালসাট সেই দোষে ‘দোষী ‘ । যদি যদি’কাঙ্গাল মালসাট’ আমার মোটামুটি ভালো লেগেছে কারন আমি বোধয় ওই অধিকাংশ দর্শকদের অন্তুরভুক্ত নই ।

এবার একটু কথা বলি সুমন মুখোপাধ্যায়র সাম্প্রতিক ছবি ‘কাঙ্গাল মালসাট’ নিয়ে । নবারুন ভট্টাচার্য (Nabarun Bhattacharya)-এর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই ছবির উৎস, প্রবাহ, ধারা সবটাই রাজনৈতিক এবং treatment wise surreal, কিছুটা উড়ুক্কু বলা চলে । শুরু থেকেই দর্শকদের টেনে নিয়ে যাওয়া হয় এমন এক জগতে, যেখানে উড়ুক্কু মানুষ (যারা সময় সুযোগ মতন আকাশে উড়তে পারে) ফ্যাতারু দের বাস । এই শ্রেণীর মানুষরা মিশে থাকে রাজ্যের এককোনে, অনেকটা সামাজিক আবর্জনার মতন। এদের রাজ্যের রাজনীতিতে নামিয়ে আনে চোকতার পরিবার, যে পরিবারের প্রধানের নাম ‘ মার্শাল ভদি ‘ (কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় ) আর তার আবার এক সহকারি আছে, জার নাম ‘সরখেল’, যে সর্বক্ষণ মাটি খুড়ে তেল খোঁজে । ভদির স্ত্রী বেচামনি’ ( কমলিকা বন্দপাধ্যায় ), তাদের চাকর, নাম তার নলীন । এরা সবাই ম্যাজিক জানে, তাও আবার যে সে ম্যাজিক নয়, ব্ল্যাক ম্যাজিক । এই ম্যাজিকের সাহায্যে নলীন একদিন গঙ্গার পার থেকে তুলে নিয়ে আসে তিন চালচুলোহীন মাতাল ফ্যাতারু কে ভদির আস্তানায় । তারপর সংগঠিত হয় ফ্যাতারু + চোকতার রাজনৈতিক মহাজোট এবং এই জোটের পুরধা রূপে আবির্ভাব হয় ভদির বাবা দণ্ডবায়সের ( কবির সুমন ), যিনি ত্রিকালজ্ঞ্য এবং সর্বত্র বিচরণ করেন এক দাঁড় কাকের রূপধারন করে । তার একজন বান্ধবী আছে ‘বেগম জনসন’ (জোজো ) । এরাএরাএরাসেইসেই যুদ্ধে যু  প্রএরা সবাই মিলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে, সেই যুদ্ধে আবার strategist হিসাবে যোগ দেয় প্রাক্তন আর্মি ম্যান, সরকারি খোঁচড় ‘গোলাপ ‘ । এই গোপন জ

এই পুরো ঘটনার একজন সাক্ষী কিন্তু থেকেই যায়, সে হল খেলনার দোকানের মালিক শঙ্কর দেবনাথ । যদিও মার্শাল ভদি জানে যে একজন সাক্ষী আছে কিন্তু তার ভাষায় “সবকিছুরই সাক্ষী থাকে , থাকতে হয় ।” রাজ্যের বামপন্থী সরকার এই ফ্যাতারু দের সামলাতে হিমশিম খেয়ে যায় কারন এদের মতন opposition তাদের ৩৩ বছরেও কোনদিন সামলাতে হয়নি । এর মধ্যে আবার ঘুরতে শুরু করে দণ্ডবায়সের ‘ চাকতি ‘। সেইসসসসেই চাকতি নানান রকমের কাণ্ড ঘটাতে থাকে।  শিল্পপতিরা মহাকরনে মিটিং করতে এসে ‘ ইনক্লাব জিন্দাবাদ ‘হুঙ্কার’ দেয় ।

এর মধ্যেই আবার কট্টড় বামপন্থি নেতা পার্টি অফিসে স্তালিনের ছায়ুরূপ দেখে । স্তালিন আবার নেতার নরমপন্থি বকবকানি শুনে বিরক্ত হয়ে, তাকে ভদকা খাইয়ে অজ্ঞ্যান করে দেয় । এর মধ্যেই চাকতি পুলিস কমিশনারের মুণ্ডু কেটে নেয়, সেই কাটা মুণ্ডু আবার তিনি নিজেই নিজের ঘাড়ে বসিয়ে নেন ।

আকাশ থেকে জঞ্জাল বৃষ্টি হতে থাকে, কামানের গোলা ছোটে জাঙ্গিয়ার পোষ্টার ভেদ করে । অগত্যা স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী কে ভদির বাড়িতে এসে শান্তি প্রক্রিয়ায় বসতে হয়, তাতে ফ্যাতারু- চোকতার জোট নানারকম সুবিধে আদায় করে নেয় মেরুদণ্ডহীন বামপন্থি সরকারের থেকে। এখানে সুমন বামপন্থি সরকারের পুরো খিল্লি উড়িয়েছেন । যে সরকারের আগা-ল্যাজা কিছুই নেই । সোজা কথায় – ঢাল নেই, তরোয়াল নেই – নিধিরাম সর্দার ।

পুরো treatment -টাই surreal এবং magic realism দিয়ে সাজানো । রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাস নখদর্পণে না থাকলে ‘কাঙ্গাল মালসাট ‘ মাঝখানটা বুঝে ওঠা অত্যন্ত দুস্কর ।

অভিক মুখপাধ্যায়ের (Abhik Mukherjee) চিত্রগ্রহন ও অর্ঘকমল মিত্রের (Arghakamal Mitra) সম্পাদনা এই ছবির রত্নবিশেষ । অভিনয়ে নজর কেড়েছেন – কবির সুমন (Kabir Suman), কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় (Kaushik Ganguly) , কমলকা বন্দ্যোপাধ্যায় (Kamalika Banerjee), শান্তিলাল মুখপাধ্যায় (Shantilal Mukherjee) , দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য (Dibyendu Bhattacharya) , জয়রাজ ভট্টাচার্য (Joyraj Bhattacharya), বিশ্বজিত চক্রবর্তী (Biswajit Chakraborty), শঙ্কর দেবনাথ (Shankar Debnath) , সুমন্ত মুখোপাধ্যায় (Sumanta Mukherjee), প্রদীপ পাধি (Pradip Padhi) প্রমুখ ।

প্রযোজক পবন কানরিয়া (Pawan Kanoriya) কে ধন্যবাদ, এমন একটি ছবি তে লগ্নি করার জন্যে, যেখান থেকে টাকা উঠে আসার সুযোগ খুব কম । সুমন মুখোপাধ্যায় এই ছবি টি করে খুব তৃপ্তি পেয়েছেন, এ কথা বুঝতে আমাদের কষ্ট হয়না । এখন আমরা  বরং তার পরবর্তী ছবি  ‘শেষের কবিতা’ -র জন্যে  অপেক্ষা করি ।

শেষ কথা ঃ

এই ছবিতে যে পরিমান বাংলা গালি / খিস্তি আছে, তাতে ‘বাইশে শ্রাবন- ও লজ্জা পাবে তাই এমন কারো সঙ্গে আপনি ‘কাঙ্গাল মালসাট’ দেখতে যাবেন না যার সঙ্গে এমন ছবি দেখতে আপনি সচ্ছন্দ বোধ করবেন না । এমন করলে কিন্তু আপনাকে যথেষ্ট অপ্রসস্তুতে পড়তে হতে পারে, যেমন আমাকে হয়েছে এবং তাতে ছবি উপভোগ করার আনন্দ-টাই না মাটি হয়ে যায় ।

Kangal Malsat(Official Trailer) (You Tube)

 

Kolkata Bangla Movie Review by:
Sanjib BanerjiSanjeeb Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and have written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.

Sanjib can be reached at sanjib@sholoanabangaliana.com

 

Enhanced by Zemanta