Tag: Anandabazar Patrika

Chander Pahar Review, Poster, Theatrical Trailer; New Kolkata Bangla Movie Made to Make a Mark

chander pahar review

যেদিন প্রথমবার আনন্দবাজারে (Anandabazar Patrika) পড়েছিলাম যে পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Bibhutibhuisan Bandopadhyay) চিরস্মরণীয় সাহিত্য ‘চাঁদের পাহাড়’-কে ছবির পর্দায় নিয়ে আসতে চলেছেন, সেদিন থেকেই অধীর আগ্রহে এই ছবির সমস্ত খবরাখবর সংগ্রহ করে শুরু করেছিলাম। চাঁদের পাহাড় আমার প্রিয় উপন্যাসগুলির অন্যতম কারন এই কাহিনী আমাদের জীবনের প্রতিকলুতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে শেখায়। একজন সাধারন গ্রাম্য বাঙালি যুবকের অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানতে হয় রহস্যময় আফ্রিকা (Africa) মহাদেশ। এই রোমাঞ্চকর কাহিনী বড় পর্দায় দেখার জন্য বাঙালি দর্শকদের উদ্গ্রীবতা ক্রমশই বাড়ছিলো, বিশেষত এই ছবির নায়ক শঙ্করের নামভূমিকায় যখন নির্বাচন করা হল বর্তমান বাংলা বানিজ্যিক ছবির সবচেয়ে সফল রোম্যান্টিক নায়ক দীপক অধিকারী ওরফে দেব-কে। দেব এযাবৎ শুধুমাত্র দক্ষিণ ভারতীয় ছবির বাংলা সংস্করণেই নায়ক সেজে এসেছেন, চাঁদের পাহাড় (Chander Pahar) ছিল তার প্রথম সেই অর্থে অন্যধরনের ছবি। গ্রাম বাংলা জয় করার পরে শহুরে শিক্ষিত দর্শকদের মনে স্থান করে নেওয়ার এইটাই ছিল দেব-এর আদর্শ সুযোগ। অন্যদিকে ‘উড়ো চিঠি’ এবং ‘মেঘে ঢাকা তারা’-র বানিজ্যিক ব্যর্থতার (যদিও মেঘে ঢাকা তারা-কে সেই অর্থে ঠিক কমার্শিয়াল সিনেমার গোত্রে ফেলা যায়না।) পরে পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের (Kamaleswar Mukherjee) কাছে নিজেকে বক্স অফিসে সফল ডিরেক্টর প্রমান করার সুবর্ণ মাধ্যম ছিল চাঁদের পাহাড়। চলুন দেখা নেওয়া যাক, চাঁদের পাহাড়ের হাত ধরে কে কতখানি পথ এগোতে পারলেন?

শুরুতেই আসা যাক দেব-শঙ্করের-এর কথায়। Dev- কে আজ পর্যন্ত তেমনভাবে কখন অভিনয় করতে হয়নি কারন দক্ষিন ভারতীয় ছবির বঙ্গীয় সংস্করনে অভিনয় করার খুব একটা বেশি প্রয়োজন পড়ে না কারন নেচে-মেরেই সেখানে কাজ হয়ে যায়। তাই শহুরে শিক্ষিত দর্শকদের অভিনেতা দেব সম্মন্ধে খুব একটা উচ্চমানের ইম্প্রেশন কোনদিনই ছিলনা। অনেকে তো দেবকে অভিনেতা হিসাবে গন্যই করেন না। চাঁদের পাহাড় হয়তো বা  সেইসব ধারনা কিছুটা হলেও গোচাবে, এমন আশা রাখাই যায়। এই ছবির জন্য দেব প্রচুর খেটেছেন, সেটা কিছু দৃশ্যে তার অভিব্যক্তি দেখেই বোঝা গেছে। বিশেষত কালাহারি মরুভূমির মাঝখানে পরিশ্রান্ত শঙ্কর যখন নিঃসহায় তথা নিঃসম্বল। ক্ষুধা এবং তৃষ্ণা যখন তাকে প্রায় উন্মাদ করে দিচ্ছে, এমন দৃশ্যগুলিতে দেব-এর অভিনয় এটা প্রমান করে দেয় যে দীপক অধিকারীর মধ্যে কিছুটা হলেও অভিনয় ক্ষমতা আছে কিন্তু সেই ক্ষমতাকে দক্ষ্যতায় রূপান্তরিত করতে গেলে প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম এবং সর্বোপরি উচ্চমানের পরিচালকদের অধীনে বিভিন্ন প্রকারের চরিত্রে অভিনয় করার। অন্যান্য বাণিজ্যিক ছবির মতনই চাঁদের পাহাড়েও দেব-কে অতিমানবীয় রূপে অব্যবহার করার এক প্রচেষ্টা লক্ষ্য করলাম। শঙ্কর রুপী দেব এই ছবিতে দু-বার বন্ধু-হত্যার প্রতিশোধ নিয়েছেন। প্রথমবার পশুরাজ সিংহকে সম্মুখসমরে বধ করে এবং দ্বিতীয়বার বুনীপ-কে বন্য প্রজাতি মাসাইদের ফাঁদে ফেলে সংহার করে। লেখক বিভূতিভূষণ কিন্তু তার নায়ক শঙ্করকে এতোটা অতিমানবীয় (Larger then life) রূপে মেলে ধরেননি গল্পে। মনে হয় পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় তার নায়ক দেব-কে দিয়ে এই হিরো-সুলভ কাজগুলি করিয়ে দেব-এর প্রথাগত ভক্তদের সিনেমা হলে টেনে আনতে চেয়েছেন। বিশুদ্ধবাদীদের কাছে এই দৃশ্যগুলি বেশ অবিশ্বাস্য ঠেকবে। বাকি দৃশ্যগুলিতে কিন্তু দেব-কে বেশ ভালোই বলা চলে।

chander pahar review

ডিয়েগো আল্ভারেজ-এর ভূমিকায় সাউথ আফ্রিকান অভিনেতা জেরারড রুডলফ (Gerard Rudolf) দারুন অভিনয় করেছেন। এই চরিত্র চাঁদের পাহাড় কাহিনীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক চরিত্র এবং আমি কমলেশ্বরদা কে সাধুবাদ জানাই আল্ভারেজ-এর ভূমিকায় এমন এক দুর্দান্ত অভিনেতাকে নির্বাচন করার জন্য। কিন্তু কেন যে কমলেশ্বরদা আল্ভারেজ-কে দিয়ে অহেতুক বাংলা বলাতে গেলেন! অদ্ভুত অবোধগম্য সেই বাংলা ভাষা। দর্শক কিছু খাপছাড়া শব্দ ব্যতিত কিছুই বুঝতে উঠতে পারেনি। মিঃ রুডলফ বরং ইংরাজীতে বেশ স্বচ্ছন্দ। পাহাড়ে চড়ার দৃশ্যগুলিতে এই দক্ষিণ আফ্রিকান অভিনেতা বেশ সাবলীল। কিন্তু আল্ভারেজ এবং শঙ্করের ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠার প্রক্রিয়াটি চিত্রনাট্যে তেমনভাবে প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠেনি। গল্পের বই-এর পাতায়-পাতায় যে মাধুর্যয়ের আস্বাদ পেয়েছিলাম, ছবির পর্দায় কিন্তু সেই রসে বঞ্চিত থেকে গেলাম কমলেশ্বরদা। এই সুক্ষ্ম জায়গাগুলি আরেকটু যত্নসহকারে লিখতে পারতেন! ভালো লাগার মতন মুহূর্ত খুব কম তৈরি হয়েছে আল্ভারেজ এবং শঙ্করের মধ্যে। আরও দুই বিদেশী চরিত্র আত্তিয় গাত্তি এবং জিম কার্টারকেও সেভাবে জায়গা দেওয়া হয়নি চিত্রনাট্যে।

চাঁদের পাহাড় বইটির অন্যতম আকর্ষণীয় অধ্যায় হচ্ছে কুলিদের তাঁবুতে সিংহের বারবার হানা দেওয়ার ঘটনাগুলি। জানিনা কি কারনে এমন এক আকর্ষণীয় অধ্যায়টিকে কমলেশ্বরদা কেটে বাদ দিয়ে দিলেন! শঙ্করের দক্ষিণ ভারতীয় কুলি বন্ধু তিরুমল আপ্পাকে এখানে আনা হোল রেলের কর্মচারি হিসাবে। অবশ্য ভবিতব্য তার একই রয়ে গেল, সিংহের দ্বারা নিধন। অতঃপর সিংহ বধ করে শঙ্করের বন্ধু-হত্যার প্রতিশোধ। পুরো ঘটনাটিকেই ছবির পর্দায় বেশ রং চড়ানো বলে মনে হয়েছে।

চাঁদের পাহাড় বইটি পড়ে চিত্রনাট্য লেখার কাজটিতে আরও কিছুটা মনঃসংযোগের প্রয়োজন ছিল কমলেশ্বর দা! অনেক খেটেছেন আপনি, আমরা সবাই জানি কিন্তু বেশির ভাগ মনোযোগ-ই দেব-কে শঙ্কর করে তোলায়, সাউথ আফ্রিকায় রেকি করায়, সউমিক হালদারের (Soumik Halder) ক্যমেরায় আফ্রিকাকে মোহময় করে তোলাতে দিয়ে ফেলেছেন আপনি। যদি গল্প বলাটিতেও একইরকম নজর দিতেন আপনি। চাঁদের পাহাড়-এর মতন গল্পে চিত্রনাট্যটাই আসল নায়ক। আপনার মতন বিচক্ষণ পরিচালক সেটা বুঝলেন না? রবিরঞ্জন মৈত্রের সম্পাদনা নিয়ে যত কম লেখা যায়, ততোই শ্রেয়! এই ছবি নিঃসন্দেহে ২০ থেকে ৩০ মিনিট স্বল্প হতেই পারত বলা আমার বিশ্বাস। বেশ হতাশ লাগছে আমাদের মতন দর্শকদের কথা ভেবে, যারা আপনার ছবিটিকে বিভূতিভূষণের বইটির মতনই ভালবাসতে চেয়েছিল। হ্যাঁ ! এই ছবির চিত্রগ্রহণ আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে। Soumik Halder প্রমান করেছেন যে তিনি এখন আর শুধু টলিউডের নন, সারা দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক। আমরা খুব তাড়াতাড়ি Soumik-কে বলিউডে কাজ করতে দেখতে চাই। কিন্তু তাতে কি যায় আসে? আমরা তো আর আফ্রিকা নিয়ে ডিসকভারি চ্যানেলে তথ্যচিত্র দেখতে বসিনি! আমরা অনেক আশা নিয়ে, টিকিট কেটে প্রেক্ষাগৃহে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘চাঁদের পাহাড়’-এর চিত্ররূপ দেখতে গেছি। তাই ছবির চিত্রনাট্য যদি বই-এর পাতা ভেদ করে অন্তরাত্মাকে ছুঁতে না পারে তাহলে কিছু অপ্রিয় কথা তো প্রযোজক-পরিচালককে শুনতেই হবে। ভেবেছিলাম যে কলকাতায় অন্তত ‘ধুম থ্রি’ -কে বাংলার নিজেস্য ‘চাঁদের পাহাড়’ টেক্কা দেবে! কিন্তু …… এই শীতের সন্ধেবেলায় অতন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে এই প্রতিবেদন লিখতে বসেছি। জানি, একজন চিত্রসমলোচকের আবেগপ্রবনতা শোভা পায়না তাও বাংলা ছবির একজন গুণগ্রাহী হিসাবে আমি নিজের হতাশাকে অন্তরালে রাখতে অপারগ। এই রিভিউ লিখতে বসা, ঠিক যেন অবিচুয়ারি লিখতে বসার মতন। এবার নম্বর দিই ? দিতেই যখন হবে … দিয়েই দিই … আশ্চর্য প্রদীপের (Aschorjyo Prodeep) থেকে বেশি দিতে পারলাম না – 5 /10 ।  কি আর করা যাবে? জীবনে আশা যেমন থাকে – তেমনই আশাহীনতাও থাকে!

পরিশেষে কিছু কথা না লিখে পারলাম না …

পনের কোটি টাকা খরচ করেও ‘চাঁদের পাহাড়’ -কে সঠিকভাবে ছবির পর্দায় মেলে ধরা এক অসম্ভব কাজ। এই পনেরোর সঙ্গে আরও তিরিশ কোটি টাকা যোগ করলে হয়ত বা কিছুটা সুরাহা হত পরিচালকের। কিন্তু এই টাকাটাই যে আমাদের টলিউডে অনেক বড় বাজেট। আমরা যদি ভবিষ্যতে এতো বড় কাজ করতে চাই তাহলে সমস্ত বিভেদ ভুলে তিন বড় প্রযোজক-কে একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে – ‘ তিনে মিলে করি কাজ – হারি জিতি নাহি লাজ’ !!! রিলায়েন্স (Reliance Entertainment), শ্রী ভেঙ্কটেশ (Shree Venkatesh Films) এবং Eskay Movies কি একবার একসঙ্গে একটা ‘বড়’ ছবি পরিচালনা করে বাকি ভারতবর্ষ -কে দেখিয়ে দিতে পারে না? শ্রীকান্ত মোহতা (Srikant Mohta), জে.কে রায় (J.K Ray) এবং অশোক ধানুকা (Ashok Dhanuka) যদি একটু ভেবে দেখেন! আপনারা বাংলা ছবি প্রযোজনা করেন তাই বাংলা ছবিকে আন্তর্জাতিক স্থরে আরো উপরে তুলে নিয়ে যাওয়াটাও আপনাদের যৌথ দায়িত্ত্ব! তাই নয় কি ?


Chander Pahar | Theatrical Trailer | Dev | Kamaleswar Mukherjee | 2013 (You tube)

 

 

Chander Pahar Review By:

SanjibSanjib Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and has written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.
Sanjib can be reached at sanjib@sholoanabangaliana.com

The information and views set out in this movie review are those of the author and do not necessarily reflect the official opinion of the Publication/Organization. Neither the Publication/Organization nor any person acting on their behalf may be held responsible for the use which may be made of the information contained therein.

 

 

Enhanced by Zemanta

Bangla Theater Altaf Gomes Review; Strictly For Adults

Bangla Theater Altaf Gomes

এই মাসের শুরুর দিকে আনন্দবাজার পত্রিকার (Anandabazar Patrika) অন্তর্গত সচিত্র ক্রোড়পত্র আনন্দ-প্লাসে প্রথম যখন পড়েছিলাম যে ব্রাত্য বসুর লেখা নতুন নাটক ‘আলতাফ গোমস’ পরিচালনা করবেন দেবেশ চট্টোপাধ্যায় এবং সেই নাটকে নিজেদের অভিনয় জীবনে প্রথমবার একসঙ্গে একই মঞ্চে অভিনয় করতে চলেছেন  আধুনিক বাংলা গ্রুপ থিয়েটরের দুই দিকপাল অভিনেতা গৌতম হালদার এবং দেবশঙ্কর হালদার, তখন উত্তেজনার পারদ আরো বেড়ে গেছিলো।  ষোলআনা বাঙালীআণা পক্ষ থেকে আমরা সবসময় চেষ্টা করি আমাদের নাট্যমোদী পাঠক/পাঠিকাদের কথা ভেবে বাংলা রঙ্গমঞ্চের নবনির্মিত প্রযোজনাগুলির সমলোচণা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের সাইটে প্রকাশ করতে। যাতে আমাদের পাঠক-পাঠিকাদের মধ্যে যারা নাটক ভালোবাসেন, তারা টিকিট কেটে নাটক দেখতে যান কারন বাংলা নাটক আমাদের বাঙালীয়াণার এমন এক অংশ, যাকে কোনমতেই অবহেলা করা যায়না। এই কথা মাথায় রেখে আমরা এর আগে ‘থানা থেকে আসছি’, ‘নিঃসঙ্গ সম্রাট’ এবং ‘পরশপাথর’ নাটকের রিভিউ আমাদের পাঠক-পাঠিকাদের জন্য আপলোড করেছি।

‘আলতাফ গোমস’ (Altaf-Gomes) -এর প্রথম শো দেখে আমাদের পাঠক-পাঠিকাদের নাটকটির বিষয়ে জানানোর অদম্য ইচ্ছে নিয়ে রবিবাসরীয় সন্ধেবেলায় মধুসূদন মঞ্চে পৌঁছে গেছিলাম। দর্শকদের মধ্যে অনেক নাট্যপ্রেমী অভিনেতা/অভিনেত্রীরাও ছিলেন, যেমন পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায়, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়, দ্বিজেন বন্দ্যোপাধ্যায়দের দেখলাম অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ব্রাত্য-দেবেশ জুটির প্রথম প্রযোজনা ‘আলতাফ গোমস’ দেখার জন্যে। যথাসময়ে নাটক শুরু হল এবং আমরাও ক্লান্তিহীন চোখ মেলে দেখতে শুরু করলাম ‘সংস্কৃতি’ নাট্যগোষ্ঠীর নতুন প্রযোজনা, আমাদের রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মাননীয় শ্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) রচিত নতুন নাটক ‘আলতাফ গোমস’।

Bangla Theater Altaf Gomes

এই নাটক লেখা হয়েছে আধুনিক মিডিয়ার সর্বগ্রাসী প্রভাববিস্তারের উন্মাদনাকে সামনে রেখে। পিটার গোমস একজন ধুরন্ধর মিডিয়া ব্যারন। স্বনামে ‘চ্যানেল মুন’ নামের এক নিউজ চ্যানেল ছাড়াও মালিক পিটার গোমসের আরও সংবাদপত্র তথা বিভিন্ন ধরনের মিডিয়ার মালিকানা আছে, তবে সেগুলি বেনামে। এইসব মিডিয়াকে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করে পিটার গোমস অফিসে বসেই দেশ বিদেশের রাজনীতিকে, সমাজব্যবস্থাকে নিজের মনের মতন করে নিয়ন্ত্রন করে। অদ্ভুত এই পিটার গোমসের সাজ পোশাক, বিচিত্র তার বাচনভঙ্গি। তার অধস্তন কর্মচারি টেলিভিশন রিপোর্টার মনোজ মৃধা নিজের বস তথা গুরুর মতনই স্বার্থপর তথা ধুরন্ধর। চ্যানেলের অ্যাংকর উৎকর্ষার বিবেক মাঝে মাঝে খোঁচা মারলেও সে পিটার গোমসের তালেই তাল মিলিয়ে চলে কারন তাতেই তার উন্নতি তথা প্রগতি। সংবাদপত্রের সম্পাদকও পিটার গোমসের কেনা গোলাম।

মিডিয়ার পেশিশক্তির নির্লজ্জ নির্মম ব্যবহারে তথা প্রহারে পিটার গোমস সমাজের উচ্চ-মধ্য-নিম্ন সব বিত্তকেই নিজের ‘দম দেওয়া’ পুতুল বানিয়ে ফেলে। এমন সময় তার সামনে আসে এমন একজন মানুষ, যে নিজের বিবেককে মিডিয়ার পায়ে সমর্পণ করতে রাজী হয়না। সেই মানুষটি পেশায় একজন দোর্দণ্ডপ্রতাপ পুলিশ অফিসর এবং নাম ‘আলতাফ হোসেন’। আলতাফের নামে বাঘে গরুতে একঘাটে জল খায়, কুখ্যাত সমাজবিরোধী থেকে শুরু করে নামজাদা রাজনৈতিক নেতা সবাই আলতাফ দারোগাকে সমঝে চলে নাহলে ভয় পেয়ে বদলি করে দিয়ে নিজেদের এলাকাছাড়া করে। আলতাফ নিজের কাজটি মন দিয়ে করে এবং বাইরের কোন প্রভাবের দ্বারা নিজের কাজকে নিয়ন্ত্রিত হতে দেয়না। মিডিয়া সম্মন্ধেও আলতাফের বিশেষ কোন ধ্যানধারণা নেই।

Bangla Theater Altaf Gomes

এহেন আলতাফের দিকে নজর গিয়ে পড়ে পিটার গোমসের এবং আলতাফকে নিজের ‘পোষা কুকুর’ বানিয়ে ফেলতে চায়। মনোজের মাধ্যমে পিটার আলতাফকে সে ডেকে পাঠায় চ্যানেল মুন-এর অফিসে কিন্তু আলতাফ সেই ‘সমন’ অস্বীকার করে। প্রতিহিংসাপরায়ন পিটার গোমস এরপর আলতাফ হোসেনকে খুনের দায়ে ফাঁসিয়ে দেয় এবং পিটার গোমসের পোষা হিংস্র রিপোর্টাররা কুটিল হায়নার মতন পাশবিক আক্রোশে আলতাফের উপর ঝাঁপিয়ে পরে ধর্ষণ করে তার সুনামকে। কালি ছিটিয়ে দেয় আলতাফের নৈতিক চরিত্রে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পরে সর্বহারা আলতাফ বন্য উদ্যমে পিটার গোমসের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। নাটকের পরিশেষে নাট্যকার ব্রাত্য বসু দর্শকদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন – এই সমাজে শুধুমাত্র মেয়েদেরই কি ধর্ষণ হয়? পুরুষদের আত্মসম্মান কি ধর্ষিত হয়না?

ব্রাত্য বসুর লেখা নাটকের বক্তব্য যথেষ্ট সবল। কিন্তু নাটকের প্রবাহ এবং ধারাতে সমস্যা রয়ে গেছে বিস্তর। ঘটনাগুলিকে রম্যরসে সাজাতে গিয়ে মাঝে মধ্যেই সেগুলির শৈল্পীক মর্যাদাহানী ঘটেছে। এই নাটকের সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন জনপ্রিয় গায়ক-সুরকার-অভিনেতা শিলাজীৎ মজুমদার (Silajit Majumder)। শিলাজীৎ-এর পুরুষালী গায়কি নাটকের উগ্র মেজাজের সঙ্গে মানানসই। আমার সমূহ আপত্তি আছে এই নাটকের সংলাপে ‘খিস্তী’-র অবাধ ব্যবহারে। সপরিবারে বসে দেখার মতন নাটক ‘আলতাফ গোমস’ নয়। এরপর কি নাটকের পোস্টার-এও ‘এ’ লেখা থাকবে? এমন প্রযোজনায় সেটাই কাম্য। গতকালই আমি বেশ কিছু অভিভাবককে অতিশয় বিব্রতবোধ করতে নিজের চোখে দেখেছি।

মনোজ মৃধার ভূমিকায় নীল মুখোপাধ্যায় (Neel Mukhopadhyay) বেশ সপ্রতিভ। পিটার গোমস-এর আরেক অনুচরের ভূমিকায় স্বয়ং পরিচালক দেবেশ চট্টোপাধ্যায় সাবলীল অভিনয় করেছেন। উৎকর্ষার চরিত্রে বিন্দিয়া ভালো অভিনয় করেছেন। আলতাফ হোসেনের ভূমিকায় দেবশঙ্কর হালদার নিজের মতন করে অভিনয় করেছেন।

দেবশঙ্কর হালদার (Debshankar Halder) অভিনীত ‘আলতাফ হোসেন’-কে খারাপ বলা না গেলেও খুব ভালোও বলা বোধয় যাবেনা। ‘অতি-অভিনয়’ চরিত্রটির গতিপথকে মাঝে মাঝেই  বিঘ্নিত করেছে।

bangla-natok

পিটার গোমস রূপী গৌতম হালদার (Goutam Halder) অত্যন্ত কুরুচিকর অভিনয়ের নিদর্শন রেখেছেন। যবে থেকে গৌতম হালদারের অভিনয় দেখছি আমি, প্রায় একইরকম অভিনয় করে চলেছেন এই অভিনেতা। কি সিনেমা – কি নাটক – সেই এক নপুংসক-এর মতন অভিনয় শৈলী গৌতম হালদারের। এই অভিনেতার একক অভিনয় ‘মেঘনাদ বধ কাব্য’ দেখে আমি ছেলেবেলায় মুগ্ধ হয়েছিলাম। সেই অভিনেতাকে কোথায় যেন হারিয়ে ফেলেছি। গতকাল তো রীতিমতন মাথা ধরে যাচ্ছিলো। পিটার গোমস যদি কর্পোরেট – শভ হত তাহলে কি নাটকের বক্তব্য পাল্টে যেত? পরিচালক দেবেশ চট্টোপাধ্যায় (Debesh Chattopadhyay) কিন্তু এখনো ভেবে দেখলে পারেন। সবে তো প্রথম শো হোলো।

 

Bangla Theater Altaf Gomes Review By:

SanjibSanjib Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and has written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.
Sanjib can be reached at sanjib@sholoanabangaliana.com

 

 

Enhanced by Zemanta