Tag: Anik Dutta

Shooting Starts for New Anik Dutta Film Meghnadbodh Rohoshyo; A Nail Biting Mystery from the Maker of Bhooter Bhobishyot

Anik-Dutta-New-film

Anik Dutta is back again. The director who kept us entertained with his first two films namely Bhooter Bhobishyot and Aschorjo Padip is returning again with a mystery story for the audience. Titled Meghnadbodh Rohoshyo, the film boasts of a stellar casting consisting of Abir Chatterjee, Sabyasachi Chakraborty, Gargee Roychowdhury and Vikram Chatterjee.

The film is about Asimava Bose (Sabyasachi), who in jest is called as Asimov Bose. A professor at Oxford University, he is also a science fiction writer. The latest novel of Asimava is The Big Bong Theory which also has been a recipient of an international award. He comes back to Kolkata to spend some time in the company of his second wife Indrani (Gargee). Indrani is a former actress who now runs a NGO. A dramatic twist happens next.

The film maker began writing the script way back in 2014. He also highlighted that this is not the typical detective film and neither is it a thriller.

Anik-Dutta-film

Abir will be seen as filmmaker Kunal Sen, Sohag Sen will play Sharama, the first wife of Asimava. Kalyan Roy will be seen as Asimava’s close friend Nikhilesh who is a curator by profession. Vikram is Wrik, Asimava’s son from his first marriage. Saayoni Ghosh will be essaying the role of a journalist Elena who has helped Asimava in translating his book in Bengali.

Produced by Friends Communication in association with Mundas Services Pvt Ltd and Kalyanmoy Chatterjee, the shooting of the film has already started.

Priyanka Dutta

Connect with us on Facebook at: https://www.facebook.com/sholoanabangaliana?ref=hl

Our You Tube Channel: https://www.youtube.com/channel/UC2nKhJo7Qd_riZIKxRO_RoA

Our Twitter Handle: @Sholoana1

Google+ ID: +Sholoana

Directors Anik Dutta and Srijit Mukherjee at Dolna Day School’s Musical Extravaganza

The-Lion-King

Dolna Day School, hosted a musical extravaganza on The Lion King. This was performed by the third to twelfth standard students of the institution. Two noted film directors Anik Dutta and Srijit Mukherjee, who is also an Alumni were present to grace the occasion.

Director-Srijit-Mukherjee

A lively stage adaptation of the Academy Award-winning 1994 Disney film, The Lion King is the story of a young lion prince living in the flourishing African Pride Lands. Born into the royal family, the lively cub Simba, spends his days exploring the sprawling savanna grasslands and idolizing his kingly father, Mufasa. When an unthinkable tragedy, orchestrated by Simba’s wicked uncle, Scar, takes his father’s life, Simba flees Pride Land, leaving his family and the life he knew behind. Eventually, Simba starts anew in the company of two unusual friends a meerkat and a warthog. But when the weight of responsibility and a desperate plea from the now ravaged Pride Land come to find the adult prince, Simba must take on a formidable enemy, and fulfill his destiny to be king. A vibrant and exciting tale from the great creatives at Disney, The Lion King is a great story of love and redemption.

The-Lion-King

The Lion King musical performance was directed and choreographed by Ms Neelanjana Dasgupta, with great support, overall advice and supervision by Mrs M Dasgupta, Founder.

Priyanka Dutta

Connect with us on Facebook at: https://www.facebook.com/sholoanabangaliana?ref=hl

Our You Tube Channel: https://www.youtube.com/channel/UC2nKhJo7Qd_riZIKxRO_RoA

Our Twitter Handle: @Sholoana1

Google+ ID: +Sholoana

Bengali Literature and Its Adorable Ghosts; Special Feature by Somankar Lahiri

ghost storiesGhosts have made their presence felt in literature of all regions, specially that of Bengal and Bengali Literature is the proud custodian of some of the most adorable ghosts that children and adults alike have connected with and loved since ages. It is also the Bengali’s uncanny ability of busting the ghost myths that has led to blockbuster’s like Anik Dutta’s Bhooter Bhabisyat that has now been adapted into a Bollywood Film Gang of Ghosts with an ensemble cast of talented actors from Bollywood and Tollywood alike. Here’s more to read about these adorable ghosts ……

আজকে সঞ্জীব যখন লেখার জন্য বলল আর বিষয় সম্পর্কে জানাল তখন আমি ভাবলাম যাই আমার ল্যাপটপ টা নিয়ে ‘কাপে কফি দে’ নামক কফি শপে ব’সে লেখাটা শুরু করি, (কিছুই না শ্রেফ কায়দা মারার চেষ্টা, আর শুনেছি আজকাল এই সব বড় বড় কফি শপে নাকি সেলেবরা তাদের নিজেদের সব ব্যবসায়িক কথাবার্তা ইন্টারভিউ ইত্যাদি চালায়, তা সেখানে হেব্বি ড্রেস ট্রেস দিয়ে সামনে ল্যাপটপ খুলে কায়দা মেরে আমিও সেলেব সাজার চেষ্টা করলুম আর কি) কারন আজকের যে বিষয় নিয়ে লিখতে হবে তার সোর্স এন্ড সাপ্লায়ার মেজদা, এই মেজদা আমায় প্রায় সমস্ত ব্যাপারে খবরাখবর যোগান দিয়ে থাকে। তাই সেখানে পৌছে মনে মনে ভাবতে লাগলাম মেজদা যেন তাড়াতাড়ি চলে আসে। আসলে এক কাপ কফি নেওয়ার পরে বুঝলাম যদি দেরি করে আজ তবে আমার খরচা আছে। বেশী দেরি করলে ‘খবর আছে’।

যাই হোক মেজদা ঠিক পাঁচ মিনিট লেটে এলো, এসেই একগাল হাসি দিয়ে বলল

–   জামাই কিছু মনে করনিতো, জাস্ট পাঁচ মিনিট, ওক্কে?

এই একটা ব্যাপার আমার খুব বিটকেল লাগে আমায় জামাই বলে ডাকাটা, সে যাই হোক, আমি হেসে বললাম

–   আরে না না এই কোলকাতা শহরে পাঁচ মিনিট লেট একটা লেট হল, তা আছ কেমন?

–   তোফা বললে কম বলা হয়, তা আজকে কিসের খবরাখবর লাগবে?

বিষয়টা শোনার পরে হেসে বলল

–   আজ বরং ফরম্যাটটা একটু চেঞ্জ কর জামাই, আপত্তি নেই তো?

–   না না আপত্তি আর কিসের, তা কিরকম ফরম্যাট করতে চাইছ তুমি?

–   ব্যাপারটা একটু ইন্টারভিউ টাইপের কর, তোমার ফোনটা আমার সামনে কথা বলার সময় ধরবে, আর মাঝে মাঝে নিজের ল্যাপটপের স্ক্রীনের দিকে মুখ গোমড়া করে তাকাবে, মাঝে মাঝে একটু আধটু দাড়ি খুজলাবে, বেশ একটা ঘ্যাম মিডিয়া পার্সোনালিটির মত লাগবে তোমায়, আর আমিও সেই বুঝেই উত্তর টুত্তর দেবো বেশ জমে যাবে ব্যাপারটা কি বল?’

আমার ব্যাপারটা ভালোই লাগল,

–   তা তোমায় কি বলে প্রশ্ন শুরু করব ‘মেজদা’ বলে?

–   আরে ওটাই তো ট্রেন্ড বেশ একটা ইয়ে ফিলিং আছে, মানে নিজের লোক নিজের লোক ব্যাপার আর কি।

প্রশ্নঃ – আচ্ছা মেজদা ভুত সম্পর্কে তোমার কি ধারনা?

মেঃ- ভুত হচ্ছে মানুষের মৃত্যু আর পুনর্জন্মের মাঝখানের একটা বেশ ফুরফুরে অবস্থা, এই ধর চাকরীতে রিটায়ার হলে ৫৮তে বা ৬০এ আর রোগের ভোগের খপ্পরে গিয়ে পড়লে বা ট্যেঁসে গেলে ৭৫এ বা তার কিছু পরে, এর মাঝে এই যে তুমি চাকরি করছ না, শরীর স্বাস্থ সেই রকম ভাবে জ্বালাচ্ছে না, রিটায়ার্মেন্টের টাকা সারদা টারদার গব্বে যায় নি, তুমি এম.আই.এস আর ফিক্সড এর উপর গিন্নী কে নিয়ে আইনক্স, একাডেমি করছ ছেলে বৌমা মেয়ে জামাই কে সেক্টর ফাইভ, ব্যাঙ্গালোর, সিলিকন ভ্যালিতে পাঠিয়ে দিয়েছ, সেখান থেকে একটা রসদ এসে মোটা হয়ে যাচ্ছে আচমকা, এই যে ফুরফুরে অবস্থা ভুত ও হচ্ছে অনেকটা সেই রকম।

আমি একটু দাড়ি চুলকে নিয়ে আবার জিজ্ঞাসা করলাম

প্রশ্নঃ – যদি আরো একটু সোজা করে বল তবে পাঠক দের সুবিধা হয় আর কি

মেঃ- আরে আরো সোজা করার কি আছে, এই ধর তোমার ইচ্ছে আছে অনেক রকম, কিন্তু সেটা পুরন করতে পারছ না, কারন তোমার বিভিন্ন রকমের সামাজিক দায় ইত্যাদি, নিজের শরীর ও একটা ব্যাপার, কিন্তু যেই না শরীরটা ছাড়তে পারলে অমনি ব্যাস, ফুস করে এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াও। যা ইচ্ছে করে বেড়াও কেউ কিচ্ছু বলবার পথটি পাবে না। সামাজিক দায় দায়িত্ব হাওয়া, ব্যাস! ‘রায় মশাই’ তো দেখিয়ে দিয়েছিলেন অনেক আগেই। আরে ‘ভুতের রাজা’ তিনটে বর দিল, তা নিজের না থাকলে বর দিতে পারত? এতো আর ওভার ড্রাফটে দেশ চালান নয়।

প্রশ্নঃ – কিন্তু সেটা তো একটা গল্প, আর তার থেকে সিনেমা

মেঃ- অ.. তা ম্যালকম এক্স, নো ওয়ান কীলড জেসিকা এগুলো কী? শুধুই সিনেমা? পিছনে কোন ঘটনা নেই বলতে চাও, আর টাইটানিক? ওরে বাবা সবই গল্প আবার সবই সত্যি।  ট্রুথ ইস স্ট্রেঞ্জার দ্যান ফিকশান আর গ্রেটার দ্যান অ্যাকশান।

প্রশ্নঃ – আচ্ছা তুমি ভুতে বিশ্বাস কর?

মেঃ- সেটা বড় কথা নয়, যেটা বড় সেটা হল এই যে বছরের পর বছর ধরে সারা পৃথিবী জুড়ে যে ব্যাপারটা রয়েছে সেটাকে আমি বিশ্বাস করি কি না করি তাতে কিছুই আসে যায় না। ধর আমি বললাম বিশ্বাস করি না, তাতে তো আর ব্যাপারটা নস্যাৎ হয়ে যায় না, যায় কি? খামোকা খানিক তর্ক বিতর্ক বাড়ে আরে কিছু দোকানে চা কফির বিক্রি বাট্টা ভাল হয়।

প্রশ্নঃ – তাহলে তুমি ভুত ব্যাপারটাকে ডিফাইন করবে কি করে?

মেঃ- এতো আচ্ছা জ্বালায় ফেললে, পৃথিবীর সব ব্যাপারটাকে ডিফাইন করতে হবে এমন মাথার দিব্যি কে দিয়েছে? এই যে তুমি অফিস পালিয়ে এখানে বসে কফি খাচ্ছ আর আমার সাথে ভাটাচ্ছ, এর যে মজা সেটাকে যদি তোমায় ডিফাইন করতে বলা হয় তুমি পারবে? না অন্য কেউ যে তোমার বন্ধু বা চেনা বা অচেনা সে পারবে? এটা একটা অনুভুতি, ভুত ও সেই রকম একটা অনুভুতি। একে ডিফাইন করতে গেলে হাজার হাজার শব্দ ছবি ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে, কিন্তু যে এই অনুভুতির মধ্যে দিয়ে যাবে শুধু মাত্র সেই বুঝবে কি হল।

প্রশ্নঃ – তা হলে সাধারন পাঠক কে আমি কি বোঝাব? ভুত নিয়েই বা কি লিখব?

মেঃ- অমন কাজটি করতে যেও না, প্রথমটা তুমি পাঠক কে হাজার চেষ্টা করেও ভুত বোঝাতে পারবে না। কারন তুমি তো তোমার পাঠক কুল কে নির্দিষ্ট পরিবেশের মধ্যে ফেলতে পারবে না, পারবে? এই যে শীত কাল চলে গেল সেই শীতের শেষে বৃষ্টির সন্ধ্যা ছিল সেই স্যাঁত স্যাঁতে ঠান্ডা সন্ধ্যায় নিভু নিভু একটা লম্ফের আলোয় গায়ে পায়ে একটা ঝুব্বুশ লেপ বা কম্বল চাপাদিয়ে বসে সামনে এক কাঁসি মুড়ি মাখা এইসব সহযোগে তুমি তোমার পাঠক দের নিয়ে ভুতের গল্পের বা ঘটনার মুখোমুখি হলে বরং পারতে। কিন্তু এখন তো শহরে সেই পরিবেশ ই পাবে না। আর দ্বিতীয় ব্যাপারটা দয়া করে ট্রাই কর না ভুত নিয়ে লেখার পথে পরমপুজ্য ‘পরশুরাম’ ভুশুণ্ডির মাঠের মত লেখা লিখে গেছেন। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় মশাই এর কলমে ভুতেদের অনায়াস আনাগোনার পরে ও পথে আর তুমি হাঁটতে যেও না হড়কে যাবে।

প্রশ্নঃ – কিন্তু ভুত নিয়ে লেখার তবে কি হবে আমি কোন আঙ্গেলটা ট্রাই করব?

মেঃ- খুব সোজা এখন যা জামানা পরেছে মানুষ কেবল তথ্য চাইছে, ইনফরমেশন ইস পাওয়ার, তুমি বরং প্রশ্ন কর মেজদা ভুত কয় প্রকার ও কি কি? ওসব অনুভুতি টনুভুতির ধার দিয়েও হাঁটতে হবে না, আর লোকেও ভাববে তুমি কত জান। একটু সমঝে চলবে। বাবা মায়েরা তোমায় দেখিয়ে ছেলে মেয়েদের বলতেও পারে “ঐ দ্যাখ জি কে আঙ্কেল যাচ্ছে”

এই বলে মেজদা খ্যা খ্যা করে খানেক হাসল, আমার একটু চিড়বিড়িনি ধরেছিল কিন্তু কি আর করা যাবে লিখতেই হবে ভুত নিয়ে অগত্যা.. আমি মুখ গোঁজ করে বললাম – আচ্ছা তবে তাই করি, আমার পরের প্রশ্ন

প্রশ্নঃ- আচ্ছা মেজদা ভুতকে অনুভব করতে গেলে কি কেবল ঐ শীতের রাত, বা বৃষ্টির রাত এই সবই হতে হবে? না হলে কি কেউ ভুত কে ফীল করতে পারবে না?

মেঃ- না না তা কেন, তুমি ধর ঘোর গ্রীষ্মে হাড়োয়াতে বা সুন্দরবনের গোসাবা থেকে ৪৫ কিমি ভেতরে কোন ফ্রী প্রাইমারী স্কুলে পঞ্চায়েত ভোট করতে গেছ প্রিসাইডিং অফিসার হয়ে দু দলের উগ্র সমর্থকরা তোমায় হাড়মাস ভাজা ভাজা করে দিচ্ছে ঠিক এই রকম সময়ে তুমি দেখলে তুমি গ্রাম পঞ্চায়েত, জেলা পরিষদ, ইত্যাদির ব্যালট গুলিয়ে ফেলেছ আর ব্যালট আকাউন্ট মেলাতে পারছ না, বুঝতে হবে যে তোমায় পেঁচোয় পেয়েছে।

প্রশ্নঃ- সে আবার কি পেঁচো আবার কি? ভুত?

মেঃ- এই রে জানো না? শোন তবে, পেঁচো হল সেই ভুত যে তোমার কানের ভেতর দিয়ে মাথায় ঢুকে পরে তার পরে তোমার চিন্তা করার রাস্তা গুলোকে জট পাকিয়ে দেয়, তুমি কিছুতেই আর ঠিকঠাক চিন্তা ভাবনা করতে পারবে না। এই একটা ব্যাপার তুমি বাড়িতেও দেখতে পাবে, মাসের শেষে বৌকে হয়ত বললে সংসারের হিসেব মিলছে না, দেখবে বৌ তখন হঠাৎ এমন চিল্লা চিল্লি শুরু করে দিল যে তুমি পুরো ব্যাপার টাই গুলিয়ে ফেললে। এটা আর কিছুই না পেঁচোর উৎপাত।

প্রশ্নঃ- আচ্ছা তবে এর থেকে বাঁচার উপায়।

মেঃ- খুবই সোজা, চোখ বন্ধ করে দাও, দু কান সজাগ হয়ে যাবে, অমনি এক কানে যা শুনবে অন্য কান দিয়ে বার করে দেবে দেখবে খানেক বাদে পেঁচোর প্রভাব কেটে যাবে।

প্রশ্নঃ- আচ্ছা মেজদা ভুত মোটামুটি কত ধরনের হয়?

মেঃ- এটা তুমি কি বললে জামাই, ভুত কত রকমের? এটা কোন প্রশ্ন হল, যত রকমের প্রানী তত রকমের ভুত, তার মধ্যে আমরা সাধারন ভাবে মানুষের ভুত নিয়েই এখানে আলোচনা করতে বসেছি, হাতির ভুত বা হাঙরের ভুত নিয়ে বা পেঙ্গুইনের ভুত নিয়ে সাধারণত মানুষ আলচনা করে না, তাই এক্ষেত্রে শুধু মানুষের মৃত্যুর পরে যে ভুতের উদ্ভব হয়ে থাকে আমরা সেটা নিয়েই আলচনা করব, কেমন? এই যে ধর আমাদের সমাজে যত রকমের মানুষ আছে, মরে ঠিক ততরকমেরই ভুত হয়ে থাকে। শুধু নমেনক্লেচারের সুবিধার জন্যে আমরা তাদের বিভিন্ন নামে ডেকে থাকি, ব্রহ্মদত্তি, সাধারন ভুত, পেত্নী, শাঁখচুন্নী, মেছো, পেঁচো, পেঁচি, চোরাচুন্নী, কুনি, বুনি, মামদো, কন্ধকাটা, নিশি, কানাখোলা, জলাডাকা, ফলাডাকা, ইত্যাদি। আর আমাদের বায়ু মণ্ডলে যে রকম স্ট্রাটোস্ফিয়ার, আয়োনোস্ফিয়ার, এই সব স্তর থাকে ভুতেদের ও সেই রকম থাকে, এক দল থাকে যারা বেশ ফুরফুরে স্বভাবের, তোমার মাছটা কলাটা মুলোটা, হাপিস করে দিল, তোমায় পথ ভুলিয়ে দিল, এইসব ছোট খাট দুষ্টুমি করবে। প্রান নিয়ে টানাটানি করবে না, আবার আরো একদল থাকে দরজা, জানলা খুলে দিয়ে ছাদে আওয়াজ করে, চেয়ের টেবিল উলটে পালটে তোমার ঘর নোংরা করে তোমায় বিরক্ত করে মারবে। এরা সাধারণত মানুষ জীবনে ছাপোষা জীবন যাপন করত, তাই এদের ধক বলতে এইটুকুই। কিন্তু আরো একটা স্তর আছে যারা তোমায় মেরে ধরে প্রান ছাড়া করিয়ে নিজেদের দলে টানার চেষ্টা করবে সেগুলো মহা সব্বোনেশে। সাধারণত ভুতসমাজের বাইরেই থাকে, মাঝে মাঝে আসে আর হুজ্জত বাধায়। ট্রেন উল্টোয়, গাড়ীতে বাসেতে ধাক্কা লাগায়, জলে লঞ্চ স্টিমার ডোবায়, আরো বড় ভাবে চেষ্টা করে যুদ্ধ টুদ্ধ বাধিয়ে দিয়ে মহা কেলেংকারী করে ছাড়ে।  মানুষ জীবনে এরা ঠিক কি ধরনের ছিল সেটা তোমায় নিশ্চই বলে দিতে হবে না।

আমার মাথা ভোঁ ভোঁ করতে লাগল, আমি মেজদার দিকে তাকিয়ে হাত তুলে থামতে বললাম, মেজদা মাথা নেড়ে সায় দিয়ে এদিক ওদিক দেখতে লাগল, আমি ভেবে নিলাম এর পরে কী প্রশ্ন করব।

প্রশ্নঃ- আচ্ছা মেজদা আমার ধারনা অপঘাতে মরলেই নাকি ভুত হয়, না হলে হয় না? সেটা কি ঠিক?

মেঃ- দেখো টোটাল ব্যাপারটাই থিওরি অফ রিবার্থ আর এফেক্ট অফ কর্মার উপর ডিপেন্ডেন্ট। সৃষ্টির আদিতে ব্রহ্ম যে মুহুর্তে নিজেক বহুধা বিভক্ত করতে চাইলেন এবং করলেন ঠিক সেই সময় থেকেই তিনি টোটাল যে পরিমাণ ভেঙ্গে ছিলেন সেটার একটা পারফেক্ট হিসেব মেন্টেন করেছিলেন আর এখনও করছেন, নো ফাঁকিবাজী বিজনেস, ডেবিট ক্রেডিট মেন্টেন করে জীবাত্মাকে বহু জন্মে বহু প্রানী করে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তবে আবার পরমাত্মায় মিলিত করে থাকেন। শাস্ত্রে সেই রকমই বলেছে। তা প্রত্যেক জন্মে তুমি আলাদা আলাদা প্রানী হচ্ছ, এই জন্মে মানুষ তো পরের জন্মে হাতি, তো তার পরের জন্মে বটগাছ। কিন্তু প্রত্যেক জন্মের পরেই কিন্তু তুমি মরছ। মশা হলে চড় খেয়ে, হাতি হলে গুলি বা ট্রেনে কাটা। এই মৃত্যুর পরে আবার নতুন করে জন্মানর মাঝে তুমি ভুত। কারন স্টোরে রিসিভিং আর ডেসপ্যাচের মাঝখানের সময়টা তো তোমায় কাটাতে হবে ওভার হোলিং এর জন্যে। তাই না? তাই শুধু অপঘাতে নয় সাধারন মৃত্যুতেও ভুত হয়ে থাকতে হয়। তবে হ্যাঁ তুমি একজন্মে প্রায় নব্বই বছর বাঁচলে, মরলে পর তোমার ব্যাটারী এমনিতেই টোটাল ডিসচার্জ হয়ে গেছে, তুমি সেই অবস্থাতে ভুত হলেও ঐ ডিসচার্য হয়ে যাওয়া জীবাত্মার জন্যে আর বেশী তিড়িং বিড়িং করতে পারবে না, লেটকে থাকবে। কিন্তু অপঘাতে মরলে ব্যাটারী ডিসচার্জ সেই রকম ভাবে হয় না, তাই সেই রিমেনিং পাওয়ার নিয়ে তোমার দাপাদাপি চলতে থাকবে ‘আন্টিল ডিসচার্জ অর ডেসপ্যাচ’। বোঝা গেল কিছু?

–   তুমি কিন্তু ব্যাপারটাকে খুব ভারী করে দিচ্ছ মেজদা, এতো ভারী পাঠক নেবে?

–   শোন জামাই, তুমি চিত্রপরিচালক নও যে মিডিয়ার সামনে তোমার নতুন ছবির প্রোমো দিতে বসে হ্যা হ্যা করে বলতে থাকবে যে প্রোডিউসারের পয়সা ফেরত দেওয়াটাই আমার প্রধান উদ্দ্যেশ্য আপনারা আসুন আমার ছবি দেখুন এই সব ফ্যাত্রা কথা। তুমি ভুতের মত একটা সিরিয়াস ব্যাপার নিয়ে আলচনায় বসেছ। সেখানে তোমায় কোয়ালিটি এবং কোয়ান্টিটি দুটোই মেন্টেন করতে হবে। দত্ত বাবু তো দেখিয়ে দিয়েছেন শুধু কনটেন্ট আর প্রেজেন্টেশান এর দিকে নজর দিলে পাবলিক খায়। শুধু খায় না চেটেপুটে খায়। তুমি লিখবে, সাব্জেক্টে দম থাকলে পাঠক আটকে যাবে বঁড়শির মাছের মত। তুমি শুধু তোমার সাব্জেক্টের কাছে দায়বদ্ধ অন্যের কাছে নও। আচ্ছা তোমার কথাও থাক তুমি এবারে কিছু র‍্যাপিড ফায়ার টাইপ কর দেখি ব্যাপারটা হালকা করতে পারি কি না

প্রশ্নঃ- ব্রহ্মদত্যি খড়ম পরে কেন?

মেঃ- পুজারি বামুন গুলো এমনিতেই একটু কিপটে হয় আর কাঠ আমাদের দেশে সস্তা ছিল একসময়, এখন তেনারা খালি পায়ে নয়ত রবারের চটি পরেন।

প্রশ্নঃ- পেত্নী নাকি সুরে চীৎকার করে কথা বলে কেন?

মেঃ- ওটা চীৎকার নয় পিচ এফেক্ট। গলা যদি ন্যাসাল হয় তবে আস্তে আওয়াজও হাই পিচের শোনাবে।

প্রশ্নঃ- ভুতপেত্নী সবসময় ভাঙ্গা বাড়ীতেই থাকে কেন?

মেঃ- পূরো ভুল ধারনা, দত্ত বাবু তেনাদের এই ব্যাপারটা কে ফোকাস করেছিলেন যথাযত ভাবে। কিন্তু এখন সমস্ত সরকারী অফিসের ভেতরে, শপিং মলের দোকান গুলোর ভেতরে তেনারা থাকেন, দেখনা মলের করিডরে আর ফুড কোর্টেই যত ভীড়, আর দোকান গুলোর ভেতরের হাল দেখেছ?

প্রঃ- ভটক্তি আত্মা ব্যাপারটা কি?

মেঃ- আরে ওটা তো হিন্দি বলয়ের ব্যাপার। আমাদের দেশে ব্যাপারটাকে পাড়াবেড়ানি বলে, মানুষ জন্মে একদল মহিলা ও পুরুষ কিছুতেই নিজেদের ঘরে কাজকম্ম করে শুয়ে বসে থাকতে পারে না, পাড়ায় না ঘুরলে তাদের শান্তি হয় না। ভুত জন্মে এরাই ভটক্তিআত্মা, খালি নিজে নিজেই ঘুরে বেড়ায় আর কথা চালাচালি করে ঝগড়া বাড়ায়। এখন তো আর পাড়া ব্যাপারটা সেই রকম ভাবে নেই। তাই সন্ধ্যে হলে এদের বিভিন্ন চ্যানেলে দেখা দেন। রাত প্রায় সাড়ে দশটা অবধি।

প্রশ্নঃ- পেত্নীরা সর্বদা সাদা শাড়ী পরে ঘোরে কেন?

মেঃ- আরে মরে ভুত হওয়ার পরে তো আর বাড়ীশুদ্ধু লোকের জামা কাপড় কাচতে হয় না, তাই নিজেরটার দিকে বেশী সময় দিতে পারে ।

প্রশ্নঃ- নিশি ডাকে সাড়া পেলে মানুষের আত্মাকে ডাবের মধ্যে ভরে নেয় কেন?

মেঃ- জল ফেলে দিলে ডাবের ভেতরে খানেক ফাঁকা যায়গা থাকে আত্মাটাকে সেখানে রাখা যায় তাই।

প্রশ্নঃ- কুনি আর বুনি কে?

মেঃ- যে মহিলা ভুত ঘরের কথা বাইরে বলে দিয়ে ঝগড়া লাগায় সে কুনি, আর বাইরের ঝামেলা বাড়ীতে নিয়ে আসে যে সে হল বুনি। মানুষ জন্মে ডমেস্টিক হেল্পিং হ্যান্ড আর বরের সেক্রেটারি এরাই হল আদর্শ উদাহরণ।

প্রশ্নঃ- ভুতেরা কি রাম নামে সত্যি ভয় পায়?

মেঃ- ওটা একটা মিথ ছিল ৬ই ডিসেম্বরের পরে ওটা অচল হয়ে গেছে। নিজেরাই ভেঙ্গে দিয়েছে।

প্রশ্নঃ- এটা একটা ব্যাক্তিগত প্রশ্ন, করব?

মেঃ- কর, কোন ব্যাপার নয়

প্রশ্নঃ- তোমার সাথে আমার পরিচিতি তো কম দিনের নয় তবু তুমি আমায় জামাই বলে ডাক কেন?

মেঃ- আরে বাবা আমি তো তারকেশ্বর লোকালে যাতায়াত করতাম আর তাতেই কাটা পরে মরেছি, আর তারকেশ্বর লোকালে তো সব চেনা ছেলেই ‘জামাই’ আর মেয়ে হলে ‘বৌদি’।

এই বলে মেজদা উপে গেল, অন্য দিন যেমন যায়। আর ‘কাপে কফি দে’ র ছেলেটা যখন কফির বিলটা নিয়ে সামনে রাখল, আমি উপে গেলাম! যা দাম!

Article By:

bengali writer

Shri Somankar Lahiri was born on 17th of January 1967, in a small town name Serampore, in Hooghly district. His parents were Late D.S.Lahiri and Late Mukul Lahiri. Shri Lahiri completed his schooling from Mahesh Sri Ramkrishna Ashram, (1982) Chatra Nandalal Institution (1984) and graduated from Calcutta University in 1986. At present he is working with National Sample Survey Office, which belongs to The Ministry of Statistics and Program Implementation, as a Data Processing Asst. Along with adeptly managing his professional life, Shri. Lahiri also zealously follows his passion for writing and has many a beautiful short stories and excerpts to his credit.

Image Credits: Google Images

Enhanced by Zemanta

Obhishopto Nighty Movie Review, Poster, Trailer; Quirky or Bizarre, Decide For Yourself

Obhishopto Nighty Review

অভিশপ্ত নাইটি দেখতে দেখতে মনে পড়ে যাচ্ছিলো, বিরসা দাশগুপ্তের (Birsa Dasgupta) পূর্ববর্তী ছবি ‘জানি দেখা হবে’ (Jani Dekha Hobe)-র কথা। ওই ছবির রিভিউ লিখতে বসে আমার বেশ কষ্ট হয়েছিল কারন অনেক চেষ্টা করেও আমি ‘জানি দেখা হবে’ নিয়ে ভালো কিছু লিখতে পারিনি অথচ ০৩৩ আমার কিন্তু ‘খুব খারাপ’ লাগেনি। বরং মনে হয়েছিল বিরসার মধ্যে সেই মশলা আছে, যা প্রয়োজন হয় ‘ভালো ছবি’ ভেবে বানানোর জন্যে। এরপর যখন ২৬শে নভেম্বর ২০১১ ‘জানি দেখা হবে’ মুক্তি পেল তখন আশা করেছিলাম যে ০৩৩-র ভ্রান্তি-খামতি গুলিকে নিজগুনে শুধরে নিয়ে বিরসা নিজের বাবা শ্রী রাজা দাশগুপ্ত এবং যশস্বী দাদু প্রয়াত হরিসাধন দাশগুপ্তের আভিজাত্য, সৃজন তথা কুলীন বংশমর্যাদাকে স্বসম্মানে ভবিষ্যতের উদ্দেশে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। কিন্তু ‘জানি দেখা হবে’ দেখে আমি এক ধাক্কা খেয়েছিলাম এবং বেশ বুঝতে পেরেছিলাম যে সিনেমার ভাষায় গল্প বলা বিরসার দ্বারা হবেনা। একথা ঠিক যে বিরসা ছবির কারিগরি দিকগুলি খুব ভালো বোঝেন কিন্তু সিনেমা মানেই তো কিছু ফ্রেমের সমষ্টি নয়। সিনেমা আরও বড় – আরও গভীর কিছু! এই ভাবনার গভীরতাটাই বিরসার পরিচালনার মধ্যে ভীষণভাবে অনুপস্থিত। এদিক থেকে বিচার করলে রাজ চক্রবর্তী (Raj Chakraborty)অনেক চালাক। তিনি এমন একধরনের ছবি বেছে নিয়েছেন, যা তার কাজের ধারাকে অন্য এক মাত্রা দেয়। রাজ জোর জবরদস্তি ‘আতেল’ সাজার চেষ্টা করেন না।

ফিরে আসি বিরসার কথায়। এই ছবির ‘অভিশপ্ত’ চিত্রনাট্য লেখার দায়িত্ব তিনি তুলে দিয়েছিলেন দেবালয় ভট্টাচার্য-র (Debaloy Bhattacharya) হাতে এবং দেবালয় যে সেই চিত্রনাট্যটিকে ঠিক কেমনভাবে সাজাতে চেয়েছিলেন, সেটা তিনিই বলতে পারবেন। আমি যতটুকু বুঝলাম, দেখলাম, জানলাম তার উপর ভিত্তি করে এটা লিখতে পারি যে ‘অভিশপ্ত নাইটি’ হচ্ছে একটি রংবেরঙের সার্কাস। যেখানে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের এক-একজন ‘ক্লাউন’-এর মতন লেগেছে। চিত্রনাট্যের মাথামুণ্ডু কিছুই বোধগম্য ঠেকেনা মাঝে মাঝেই। সেক্স, ভূত, কমেডি এই তিনটে জিনিসকে একটা টেস্টটিউবে সমপরিমানে মিশিয়ে কিছু একটা উপভোগ্য প্রোডাক্ট আবিষ্কার করতে গিয়ে দেবালয়-বিরসা জুটি ছড়িয়ে ছয়লাপ করেছেন। কেমিস্ট্রি না জেনে, ভুলভাল কেমিক্যাল ফরমুলা ব্যবহার করে এক্সপেরিমেন্ট করতে গেলে যা হয়, এখানেও তাই ঘটেছে। টেস্টটিউব ফেটে গিয়ে এমন এক দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে, যা আমার মতন দর্শকদের অনুভব করিয়ে ছেড়েছে যে চোখেরও ‘নাক’ আছে। দুর্গন্ধে চোখের নাক মাঝে মাঝেই বন্ধ হয়ে আসছিলো ছবির গল্পের ‘নোংরা’ গতিপ্রকৃতি দেখতে দেখতে।

অভিশপ্ত নাইটি ছবির গল্প শুরু হয় ১৯৮৫ সালে যখন বড়লোকের বখাটে ছেলে ‘রাজা’ বার গায়িকা সুন্দরী মনিকাকে নিজের লাম্পট্যের শিকার বানায় তারপর শারীরিক ক্ষুধা মিটে যাওয়ার পরে ব্ল্যাকমেলের ভয়ে তাকে খুন করে। এরপর কেটে যায় ৩০ বছর, সেই লম্পট রাজা আজ জন্ম নিয়েছে গ্রামের শান্ত, ভদ্র অলোক-রূপে। অলোকের প্রেমিকা বৃষ্টি তাকে ছেড়ে শহরে চলে আসে টলিউড ছবিতে নায়ক দেব-এর বিপরীতে নায়িকা হবে বলে। পূর্বজন্মে ‘প্রেম’-কে হেলায় ঝেড়ে ফেলা পুরুষ এই জন্মে ‘প্রেম’-কে হারিয়ে ফেলে। কিন্তু এমন পোয়েটিক জাস্টিসে গল্প থেমে থাকলে চলবে কিভাবে? আর সিনেমার নামকরণই বা ‘অভিশপ্ত নাইটি’ করা যাবে কি করে? তাই আমদানি করতে হল সেই নাইটির, যে নাইটি মনিকাকে পূর্বজন্মে সহবাস করার আগে উপহার দিয়েছিল রাজা, ছদ্ম-আদরে নাম দিয়েছিল ‘ম্যাক্সিমনিকা কস্তূরিকা’।

অতঃপর, সেই গোলাপি সেক্সি নাইটি কলকাতায় এসে নানারকম যৌনময় হাঙ্গামার সৃষ্টি করে। সেই অভিশপ্ত নাইটি যে মহিলাই গায়ে দেয়, তারই শরীরে জেগে ওঠে তীব্র যৌন-কামনার অন্ধ আগুন। সেই আগুনে তার এও মনে থাকে না কোন শ্রেণীর পুরুষের সঙ্গে সে সহবাস করছে। বাড়ির গৃহবধু থেকে কাজের মেয়ের হাত হয়ে নাইটি বাড়ির বৃদ্ধা ঠাকুমার কাছেও পৌঁছে যায় এবং এই ক্ষেত্রে বলির পাঁঠা হতে হয় নাতির গানের মাস্টারমশায়-কে। এরপরে সেই নাইটি পরিহিতা এক নব্যবিবাহিতা পুরীর সমুদ্রে এক নুলিয়ার সঙ্গে প্রথমে সঙ্গম করে তারপর স্বামীকে ছেড়ে পালিয়ে যায়। কি পাঠকগন, কেমন লাগছে গল্পটা শুনতে? আমার তো রীতিমতন নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হচ্ছিল।

এর বেশি আর লিখছি না গল্প নিয়ে কারণ এমন কুরুচিপূর্ণ অশ্লীল কাহিনী বাংলা ছবিতে পূর্বে দেখেছি কিনা তা নিয়ে আমার মনে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। ম্যাজিক রিয়ালিজম এবং আঁতলামির নাম করে যা একখানি চিত্রনাট্য খাড়া করেছেন বিরসা-দেবালয় জুটি, সেটা একেবারে ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতন। জানিনা বাঙালি দর্শক কিভাবে এই ছবি গ্রহন করবেন তবে আমি সর্বতভাবে এমন বাংলা ছবির বিপক্ষে যেখানে ক্যামোফ্লাজ করে সেক্সুয়াল তথা সাইকোলজিক্যাল পারভারসনকে এমন নির্লজ্জরূপে তুলে ধরা হয়। নাইটি নামক বস্তুটি এখানে শুধুই সেক্স শোকেস করার ক্যামোফ্লাজ। বিরসা-দেবালয় জুটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) থেকে শুরু করে সদ্যপ্রয়াত কৃতি পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ (Rituparno Ghosh) কাউকেই রেয়াৎ করেননি। একেবারে রাস্তায় নামিয়ে অপমান করে তবে ক্ষান্ত দিয়েছেন। আমি অত্যন্ত অবাক হচ্ছি এই ভেবে যে সেন্সর-বোর্ড (Censor Board) কর্তারা কিভাবে এমন এক গর্হিত ছবিকে এভাবে অবাধ ছাড়পত্র দিলেন? তারা কি তখন কোন কারনবশতঃ ঘুমিয়ে পড়েছিলেন? শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস (Shree Venkatesh Films Private Limited)-কে একটা প্রশ্ন না করে পারছি না। ঋতু-দা আজ আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকলে কি মোনি-শ্রীকান্ত আজ বিরসা-দেবালয় জুটিকে এমনভাবে ঋতুদা-কে অপমান করার অনুমতি দিতে পারতেন?

অভিনয়ে সবাই একে অন্যকে পাল্লা দিয়ে ভাঁড়ামো করেছেন। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (Parambrata Chatterjee) আরও একবার প্রমান করলেন যে তিনি এক একজন পরিচালকের অধীনে একেকরকম কাজ করেন। অপরেশ চরিত্রটি নিয়ে পরম আরও অনেককিছু করতে পারতেন কিন্তু বিরসা চাইলেন না আর পরমব্রত-ও নিজের পুরোটা দিলেন না। রাজা এবং অলোকের চরিত্রে ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত (Indraniel Sengupta) নিজের কাজটুকু বেশ উতরে দিয়েছেন। লকেট চট্টোপাধ্যায় (Locket Chatterjee), লাবনী সরকার (Laboni Sarkar), কউশানী চক্রবর্তী (Koushani Chakraborty), তনিমা সেন (Tanima Sen), ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (Bhaskar Banerjee), কাঞ্চন মল্লিক (Kanchan Mulllick), পরান বন্দ্যোপাধ্যায় (Paran Bandopadhyay), সুপ্রিয় দত্ত (Supriyo Dutta), সুজন নীল মুখোপাধ্যায় (Sujan Neel Mukhopadhyay), মিস জোজো (Miss Jojo), সুমিত সমাদ্দার (Sumit Samaddar), বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী (Biswajit Chakraborty) একে অন্যকে ভাঁড়ামিতে টেক্কা দেওয়ার আপ্রান চেষ্টা করে গেছেন। বিশেষত লাবনী সরকার-এর এমন নিম্নমানের এর আগে কখনো মনে হয়নি। সুচিত্রা মিত্র (Suchitra Mitra) অথবা গীতা ঘটকের (Gita Ghatak) মতন প্রবাদপ্রতীম রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পীদের  ক্লাসিকাল ঘরানাকে এমনভাবে অপমান না করলেই বোধয় পারতেন বিরসা দাশগুপ্ত। নায়িকা হিসাবে তনুশ্রী (Tanushree Chakraborty) একাই ছবিকে টানার চেষ্টা করেছেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেরেছেন কি?

ছোট্ট দুই চরিত্রে রাহুল (Rahul Banerjee)এবং প্রিয়াঙ্কা বন্দ্যোপাধ্যায় (Priyanka Sarkar Banerjee) দুজনে বেশ জমাটি কাজ করে দিয়েছেন। ছবির খলনায়ক মীর আফসর আলি (Mir Afsar Ali) একেবারে বেমানান। এমন এক ছবিতে দেব (Tollywood hero Dev)-এর ক্যামিও-র কোনরকম যৌক্তিকতা আমি খুঁজে পাইনি। সউমিক হালদার (Soumik Halder)-এর চিত্রগ্রহণ এবং বোধাদিত্ত্য বন্দ্যোপাধ্যায় (Bodhaditya Banerjee) এই ছবিতে বেশ সাধারনমানের। ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত (Indraadip Dasgupta)-এর সঙ্গীত পরিচালনা এই ছবির কোনোরকম শ্রীবৃদ্ধি করতে পারেনি। এই ছবিতে চারজন পরিচালক মুখ দেখিয়েছেন, যথাক্রমে কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় (Kamaleshwar Mukherjee), ঋতব্রত ভট্টাচার্য (Rhitobrata Bhattacharya), সুদেশ্না রায় এবং অভিজিৎ গূহ (Sudeshna Roy & Abhiijit Guha)।

এক লেখিকা নিজস্ব রিভিউ কলামে ‘অভিশপ্ত নাইটি’-কে পরিচালক অনীক দত্ত (Anik Dutta)-এর ‘ভূতের ভবিষ্যত’ (Bhooter Bhobisyot)-এর থেকে এগিয়ে রেখেছেন, এমনটাই পড়লাম এক সংবাদপত্রে। বোঝাই যাচ্ছে এমন উদ্ভট তথা বিপদজনক অভিমত ওই লেখিকার নিজস্ব কারন এমন অভিমত কোনও দায়িত্বশীল সংবাদমা্ধ্যমের হতেই পারেনা। এমন অভিমতকে পাগলের প্রলাপ ব্যতীত আর কিই বা বলা যায়? সেই লেখিকা আবার এই ছবিকে 9/10 নম্বর দিয়েছেন। কি আর বলবো ? যাদের এই ছবি দেখার ইচ্ছে করছে, দেখে এসে ষোলআনা বাঙালিয়ানা –কে আপনাদের মুল্যবান সুচিন্তিত অভিমত জানান।

‘অভিশপ্ত নাইটি’ নিয়ে আমার আর বেশি কিছু লিখতে ইচ্ছে করছে না কারণ এই ছবির সেই যোগ্যতা নেই। যে ছবিতে “খাবার বলতে ভাত/পরার বলতে নাইটি/ এছাড়া বাঙালির আর কি আছে ভাইটি” ? -র মতন সংলাপ থাকে… সেই ছবিকে 2.5/10 বেশি নম্বর দিতে আমি পারলাম না। আর বিরসাকে বিনীতভাবে অনুরোধ করবো – এমন কাজ আর করবেন না কারন বাঙালি সংস্কৃতি এমন নয়। বাংলা ছবির পরম্পরা এমন নয়।


Obhishopto Nighty | Theatrical Trailer | Parambrata | Paoli | Indraneil | Tanusree | Birsa | 2014 (You Tube)

 

Obhishopto Nighty Movie Review By:

SanjibSanjib Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and has written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.
Sanjib can be reached at sanjib@sholoanabangaliana.com
The information and views set out in this movie review are those of the author and do not necessarily reflect the official opinion of the Publication/Organization. Neither the Publication/Organization nor any person acting on their behalf may be held responsible for the use which may be made of the information contained therein.

 

 

Enhanced by Zemanta

Jatra in Bengal – Its Evolution, Phases and Trends; A Sholoana Bangaliana Feature

Jatra in Bengal

যাত্রা-র জয়যাত্রা

নাট্যরঙ্গ বা নাটক, লোকায়ত ভাষ্যে বর্তমানে যার আরেক নাম যাত্রা তাকে বৈদিক কালে নাকি বলা হত পঞ্চম বেদ। মানে সেই বেদের কাল থেকে মানুষের মনরঞ্জনের গুরুদ্বায়িত্ব নিয়ে আর ঠাকুরের ভাষায় “লোকশিক্ষের” মাধ্যম হয়ে তিনি মানুষের মধ্যে বিরাজমান।

বেদ হল জীবনধারণের নিয়ামক এক শ্রুতিমাধ্যম, পরে তাঁকে লিখিত ও গ্রন্থিত করা হয়েছে। তা জীবন ধারন হবে তাতে মনরঞ্জন থাকবে না তা কি হয়? তাই ইনি পঞ্চম বেদ। সে যুগে মানুষকে কিভাবে মনরঞ্জিত করত নাট্যরঙ্গ তার বহুবিধ বর্ননা আমরা পুরাণ কাহিনীতে পেয়ে থাকি। কিন্তু তা সবই রাজাগজাদের সভার ভেতরের ব্যাপার, আম জনতার সেখানে প্রবেশ নিষেধ। কিন্তু তাঁরা তো কোন দোষ করেন নি, যে তাঁদের জীবনে মনরঞ্জনের কোন প্রবেশাধিকার থাকবে না, সে দ্বায়িত্ব পেলেন কথক ঠাকুরেরা, তাঁরা পুজা পার্বনে মানুষের জমায়েতে দেবদেবীর লীলামাহাত্ব বর্ননা করতেন, শাস্ত্রের ব্যাখ্যা করতেন, নিজেরা গান গাইতেন। মানুষ শুনত, জানত, আনন্দও পেত।

Jatra in Bengal

সময় বদলাল, সাথে রুচিও। তখন মানুষ ব্রাহ্মন্যবাদকে আর মানতে রাজী হচ্ছিল না। নিজেদের তাগিদে তাঁরা নিজেদের সামগ্রিক ও সামাজিক আনন্দমাধ্যমকে বেছে নিল। সমবেত ভাবে এবং সবার যোগদানের মধ্যদিয়ে তারাও বলতে লাগল দেবমাহাত্বের কথা নিজেদের মত করে। কথকতা থাকল, কীর্তন থাকল, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর হাত ধরে সাধারনের মাঝে নেমে এল নামসংকীর্তন যার অপর নাম ভক্তি আন্দোলন। রাধাকৃষ্ণে লীলা বৈচিত্রের বিবরণকে সাধারনের বোধগম্য করে শুরু হল পালাগান। মহাপ্রভু নিজে “রুক্মিণী হরণ” পালায় রুক্মিণী ভুমিকায় অভিনয় করেছিলেন সেই সময়।

পালাগান মানে যাতে থাকবে এক একটা অংশের বর্ননা আর তারই সাথে গান। তা বর্ননা তো কথকঠাকুররা আগেও করতেন কিন্তু সেখানে সাধারনের কোন যোগদান সে অর্থে ছিল না শ্রোতা হওয়া ছাড়া, এবারে সেই বর্ননাকে আরো মনগ্রাহী করার জন্য একাধিক মানুষ বিভিন্ন চরিত্রে রুপদান, কণ্ঠদান করা শুরু করলেন। পাত্রপাত্রীরা উঠে এলেন সাধারন ঘর থেকে।

jatra in bengal

তাঁরা কথাও বলতেন সাধারনের ভাষায়। পালাগান জনপ্রিয় হতে সময় নিল না। গ্রামের মানুষ সারাদিনের কাজের শেষে নিজেদের আনন্দের খোঁজ পেতেন এখানে। তখন পর্যন্ত সে পালাগান হয়েই মানুষের কাছে পরিচিত ছিল। আসলে সে বলত দেব মাহাত্ব।

তাহলে আদতে যা নাট্যরঙ্গ তা একাধারে নাটক নামে পরিচিত হল শহরে আর যাত্রা হিসাবে পরিচিত হল গ্রামে, কি ভাবে? রাজতন্ত্রে যখন কোন কিছু উপস্থাপন করা হত ধরেই নেওয়া হত যে রাজাই প্রধান এবং তাঁকেই দেখান ছিল মূল উদ্দ্যেশ্য তাই বাকিরা কে দেখতে পেল বা কিভাবে দেখতে পেল সেটা বিচার্য ছিল না তেমন করে।

পরে সমাজে রাজপ্রথার অবশান ঘটে, জমিদারি প্রথার প্রারম্ভ ঘটলো বটে কিন্তু মূল ব্যাপারটা একই রয়ে গেল। তৎকালীন নাগরিক সমাজের নব নির্মিত নাট্যশালা হল তিনদিক বন্ধ, একদিক খোলা এবং রাজার বদলে সর্বশ্রেণীর দর্শকরা জাতিধর্ম নির্বিশেষে পাশাপাশি বসে দেখতে শুরু করে দিলেন এই পালা অভিনয়।

jatra in bengal

রাজার, জমিদারের বদলে একঘর মানুষ, যাঁরা সবাই রয়েছেন সামনে, তাঁরাই হয়ে গেলেন রাজসম, তাঁদের মনরঞ্জনের জন্যে কুশীলবেরা তাদের অভিনয় গান সবকিছুই পরিবেশন করতে লাগলেন সেই সমস্ত নাট্যশালায়। আর সমস্ত গ্রামের মানুষকে যদি শুধু সামনের দিকে বসিয়ে পালাগানের অভিনয় ও গান পরিবেশন করা হয় তবে শেষের দিকের মানুষের কাছে পৌছানো সম্ভব হবে না এটা মাথায় রেখেই কুশীলবেরা রইল মাঝখানে আর দর্শক রইল চারপাশে যাতে সবাই শুনতে পায় কি কথা হচ্ছে কি গান হচ্ছে, কে হাসছে আর কে কাঁদছে।

jatra in bengal

কিন্তু নাট্যরঙ্গ যাত্রা হল কী করে?

এই যে বিভিন্ন দেব দেবীর কাহিনী, রাজা রানীর কাহিনী এতো শুনতে পারে সবাই কিন্তু একে যে তৈরী করা যার তার কম্ম নয়। সমগ্র গ্রামবাসীদের মধ্যে কতিপয় লোক সে কাজ পারে, তাই সেই কতিপয় লোক দলবধ্য হয়ে বিভিন্ন যায়গায় গিয়ে সেই নাট্যরঙ্গ, বা পালাগান মানুষের সামনে তুলে ধরত। এই যে চলা এর থেকেই নাম হয়ে গেল যাত্রা।

যেখানে থামা সেখানে সেখানকার লোকেদের সাথ একাত্ম হয়ে তাদের মত করে তাদের আনন্দ দেওয়াই হয়ে উঠল যাত্রাপালার কুশীলবদের প্রধান উদ্দ্যেশ্য। শুধু যে আনন্দ দেওয়া তা নয়, অনেক সময় জনজাগরনের কাজের ব্যাপারেও যাত্রাপালার ছিল অগ্রনী ভুমিকা। তাতে যে তাকে কম ভোগান্তি পোয়াতে হয়েছে তা কিন্তু নয়। কিন্তু যেজন মানুষের সাথে নিজেকে জড়াতে পারে, সে কি মানুষের দুঃখে নিজেকে এড়াতে পারে? তাই এই মানুষেরা নিজেদের বিপদের তোয়াক্কা না করে সময় বিশেষে মানুষকে জাগানর কাজ ও করে গেছেন নিরলস ভাবে।

যাত্রা বা পালাগান বহু কাল ধরেই ছিল মুলত সাধারনের অর্থানুকুল্যে চলা একটা ব্যাপার, বেশ কিছু ক্ষেত্রে আঞ্চলিক জমিদার ও বেশ কিছু ধর্মীয় সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতাও এই সব পালার কুশীলবেরা পেয়েছিলেন। কিন্তু সেটাও কোন অর্থ উপার্জনের মুল মাধ্যম ছিল না। সোজা কথায় দিনে চাষবাস রাতে আসরে পালায় অভিনয় করাই ছিল অভিনেতাদের উদ্দেশ্য।

এই ব্যাপারটা ক্রমে সংগঠিত রুপে আমরা দেখতে পাই প্রথম ১৮৬৯ সালে, শ্রী বৈকুণ্ঠ নট্ট তার ভাই শ্রীনাথ নট্টের অনুপ্রেরনায় প্রথম এক যাত্রার দল গঠন করেন নাম দেন “মাছরঙ্গ বৈকুন্ঠ সঙ্গীত সমাজ” পরে সাধারনের মুখে তার নাম হয় নট্টদের দল, আর নট্ট কোম্পানী নামে পরিচিতি হয় তার ও অনেক পরে। এই পালাগান বা যাত্রা পালার ব্যাপ্তি ছিল কিন্তু অনেক দূর পর্যন্ত অবিভক্তবাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম, ত্রিপুরা এই সব যায়গায় পালাগান ছিল অতি জনপ্রিয়, আগে হত সারারাত বর্তমানে কমে হয়েছে চারঘন্টা মাত্র।

গোড়ারদিকে একদল লোক ঢোল, হারমোনিয়াম, বাঁশী, ক্লেরিয়নেট, ঝাঁঝর নিয়ে মঞ্চের পিছনের দিকে বা দুইপাশের দিকে বসতেন এবং বাজানা সুরু হতেই ছোটরা জড় হতে শুরু করত। তারপরে আসত সখীর দল, এই দুই দলের প্রদর্শন যখন শেষ হত তখন শুরু হত আসল পালা। অনেক সময়েই দেখা যেত ছোটরা ততক্ষনে ঘুমিয়ে পড়েছে। কিন্তু তাতে কি আসল মজাই তো আসত শেষে যখন তীর ধনুক, গদা অথবা তলোয়ারের যুদ্ধ হত আর দুষ্টের দমন হত। বড়দের সাথে কড়ার থাকত যে আগে গিয়ে সামনের জায়গা আমি রাখব, কিন্তু যুদ্ধের সময় আমায় জাগিয়ে দিতে হবে।

যেহেতু যাত্রা দর্শকদের একবারে মাঝখানে অভিনীত হত তাই সেখানে স্টেজে কোন আসবাবপত্র থাকত না। আর পরের দিকে স্টেজের মাঝখানে একটা উচু বেদীর মত বানিয়ে দেওয়া হত, যে সিনের যে বা যারা মুল চরিত্র তারা সেই বেদীর উপরে উঠে পার্ট বলত, এতে সুবিধা হত যারা পিছনের দিকে বসতেন তাদের।

২০০৯ সালের হিসাব অনু্যায়ী কোলকাতার যাত্রাপাড়ায় প্রায় ৫৫টি রেজিস্ট্রিকৃত দল আছে, আগে দলের মালিক কে বলা হত অধিকারী বা নায়েক, বর্তমানে তিনি পরিচিত হন ম্যানেজার নামে। অফিসের নাম কিন্তু গদিঘর আজও, সেই গদিঘরে যাত্রার বুকীং ইত্যাদির শুরু হয় রথযাত্রার দিন থেকে। সারা পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৪০০০ জায়গাতে যাত্রা পালা অভিনীত হয়ে থাকে বিহার উড়িষ্যা আসাম বাংলাদেশ ধরলে সেটা এক বিরাট সংখ্যা। আনুমানিক ২০,০০০ লোকের জীবিকা জড়িয়ে আছে বর্তমানে যাত্রা শিল্পের সাথে। অর্থলগ্নীর ব্যাপারটাও সাঙ্ঘাতিক রকমের।

যাত্রায় যাদের নামে লোক জড়ো হয়, অর্থাৎ কিনা নায়ক নায়িকা ভিলেন ইত্যাদি তাদের একটা সুন্দর নাম আছে “টপা, টপি”। এরাই বেশী টাকায় চুক্তি বদ্ধ হন দলের সাথে। কলকাতার যাত্রাদলগুলির একটা প্রবণতা আছে যে সিনেমার জনপ্রিয় মুখেদের নিজদের দলে চুক্তিবদ্ধ করান এবং সেই সিনেমা আর্টিস্ট এর উপস্থিতি হলে বুকীং এর পরিমাণ ও বেড়ে যায় স্বাভাবিক ভাবেই, আর সেই শিল্পীর অনুপস্থিতির ফল যে কী হয় তাও সহজেই অনুমেয়।

যাত্রায় সবচাইতে খারাপ অবস্থা হয় খলনায়ক বা ভিলেনদের। জমিদার বাড়িতে যাত্রার দল এসেছে, দুপুরের খাওয়া দাওয়া জমিদার মশাই নিজে তদারকি করছেন, সবার পাতে বড় বড় মাছের দাগা পেটি পড়ছে, সে এক এলাহী কান্ড। রাতে পালা হল “শকুনির পাশা”। পরদিন দুপুরে বিদায়ী খাওয়ার সময় শকুনি, দুর্যধন পেল মাছের ল্যাজা তাও ছোট, বেচারা দুঃশাষনের ভাগ্যে তাও জুটল না।

যাত্রার সবচাইতে দুরুহ জিনিস হল ম্যানেজ, চারদিকে শ’য়ে শ’য়ে লোক, তারমাঝে লড়াই হচ্ছে সিকান্দর শা আর দিল্লীর শাহেনশা ফিরোজ শার মধ্যে, দৈনন্দিন জীবনে দুজনেই একই পরিবারের ফিরোজ শার ভুমিকায় যে পাঠ করছে সে বড়ভাই আর সিকান্দর শা হল ছোট। মঞ্চের মাঝখানে মাথার উপর যে চাদর দিয়ে সামিয়ানা হয়েছে সেটা বড় ভাইয়ের বিয়েতে পাওয়া। সিকান্দর এর তলোয়ারের খোঁচা চাদর দিয়েছে ছিড়ে। আর তলোয়ার গেছে আটকে। দুই ভাই বুঝেছে যে আজ যাত্রার শেষে অবধারিত ভাবে ঝামেলা হবে বাড়িতে। সিকান্দর উপরে আটকে থাকা তলোয়ারের দিকে একবার তাকাল নিজের বড় বৌদির দিকে একবার তাকিয়ে যাত্রার মত উচ্চগ্রামে বলে উঠল “সেলাই করিয়ে নিলে চলবে” বলেই ফিরোজ শার দিকে তাকিয়ে বলে উঠল “আজ সামিয়ানা এখানে তোমায় বাঁচালেও গৃহে মৃত্যু অবধারিত”। চারিদিকে হাততালির ফোয়ারা ফুটে গেল।

This well researched and exhaustive article on Jatra in Bengal traces this ancient art form which is the foundation stone of the Celluloid and has been contributed by:

bengali writer

Shri Somankar Lahiri was born on 17th of January 1967, in a small town name Serampore, in Hooghly district. His parents were Late D.S.Lahiri and Late Mukul Lahiri. Shri Lahiri completed his schooling from Mahesh Sri Ramkrishna Ashram, (1982) Chatra Nandalal Institution (1984) and graduated from Calcutta University in 1986. At present he is working with National Sample Survey Office, which belongs to The Ministry of Statistics and Program Implementation, as a Data Processing Asst. Along with adeptly managing his professional life, Shri. Lahiri also zealously follows his passion for writing and has many a beautiful short stories and excerpts to his credit.

Image Credits: Google Images

Enhanced by Zemanta