Tag: Antony

Antony-Soudamini Theater Review – Play by Ujjwal Chattopadhyay

Antony-Soudamini Theater

পর্তুগালের অ্যান্টনি বাংলা গানের জাদুতে মাতাল আর সে চেয়েছিল বাঙালি কবিয়াল হয়ে, গান গেয়ে মানুষের হৃদয় জয় করে নিতে। এই চেনা কাহিনীর নবতম রূপ ‘পূর্ব পশ্চিমের’ এই নতুন নাটক। চন্দননগরের অন্তর্গত ফরাসডাঙ্গার গোঁড়া ব্রাহ্মণ পরিবারের এক শ্রীময়ী বাল্যবিধবা ‘সৌদামিনীর’ প্রেমে অ্যান্টনি খুঁজে পেয়েছিল তার শক্তি তথা সাধনার সিদ্ধি। এই নাটক সেই চিরাচরিত ভালোবাসার গানের ইতিবৃত্ত।  শিল্পীর স্বদেশ – বিদেশ নেই, ভালোবাসা তেমনি কোন বিভাজন মানে না, ভালোবাসা যীশু খ্রিস্ট এবং কেষ্টঠাকুরকে একাসনে বসায়। কবিগানের ছন্দে, ঢোলের বাদ্যিতে, অ্যান্টনির হৃদয়সংবেদী গানে, সৌদামিনীর প্রেমের শক্তির মধুর উল্লাসে, ইতিহাসের সূত্র ধরে পূর্ব পশ্চিমের এই নতুন প্রযোজনা ‘অ্যান্টনি সৌদামিনী’ বর্ণে, গন্ধে রূপে রঙে আনন্দে বেদনায় আঁকা অ্যান্টনির আত্মপরিচয়ের ইতিকথা, সৌদামিনীর আত্মশক্তির প্রেমের জয়ের পালাগান।

নাটকের বুনোট এতটাই টানটান যে প্রেক্ষাগৃহে উপবিষ্ট দর্শকদের মঞ্চের দিক থেকে এক মুহূর্তের জন্যেও চোখ সরানোর কথা মনেও আসেনা। দেবী সর্পমস্তা নাটকে অসামান্য অভিনয়ের পরে নবাগত অনির্বাণের এই অ্যান্টনির চরিত্রায়ন বাঙালি দর্শকদের মনের মণিকোঠায় বহুদিন উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। অনেক বছর আগে বহুরূপীর উপস্থাপনায় ‘পিরীতি পরমনিধি’ নাটক দেখেছিলাম এই অ্যাকাডেমিতেই। সেই নাটকের কথা এইদিন আবার নতুন করে মনে পড়ে গেল কারন সেদিনের সেই নাটকের দুই প্রধান কলাকুশলী, এই নাটকেরও অন্যতম প্রধান সম্পদ। নিধুবাবুর টপ্পা গানকে কেন্দ্র করে রচিত ‘পিরিতি পরমনিধি’ নাটকে নিধুবাবুর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন রজত গঙ্গোপাধ্যায় (Rajat Gangopadhyay) এবং শ্রীময়ীর চরিত্রে রূপদান করেছিলেন সেদিনের নবাগতা নায়িকা গার্গী রায়চৌধুরী। সেই গার্গী বর্তমানের সৌদামিনী এবং রজত বন্দ্যোপাধ্যায় আজকের ‘ভোলা ময়রা’। এই দুই কলাকুশলীই সুকণ্ঠের অধিকারী তাই অ্যান্টনি সৌদামিনী নাটকের প্রধান চরিত্র হচ্ছে ‘গান’।

Antony-Soudamini Theater

রজত গঙ্গোপাধ্যায় যে ভালো গান গান, এই কথা নাট্যমোদী দর্শক মাত্রই জানেন। বিশেষত যারা ‘পিরিতি পরমনিধি’ দেখেছেন তারা জানেন যে নিধুবাবুর ভূমিকায় কেমন অবিস্মরণীয় অভিনয় তথা সঙ্গীত পরিবেশন করেছিলেন রজত গঙ্গোপাধ্যায়। সেই গান অবশ্য ছিল ভারতীয় শাস্ত্রীয় ঘরানার গান কিন্তু এই নাটকে ভোলা ময়রার কণ্ঠে এমনসব কবিগান শুনিয়েছেন রজতবাবু যে দর্শকরা যেন সেই সময়ের বাংলা কবিগানের আসরে পৌঁছে গেছিলেন।

একথা আমরা সবাই জানি যে ভোলা ময়রা খুব ‘মজাদার’ মানুষ ছিলেন। হাজার সাংসারিক অশান্তির ছাপ কোনোদিন পড়েনি তার ‘কবিয়াল’ ব্যক্তিত্ত্বে। এই শিক্ষা তিনি পেয়েছিলেন তার কবিগানের গুরুদেব হরু ঠাকুরের কাছ থেকে। ভোলা ময়রা অনেক গম্ভীর তথা তাত্ত্যিক কথা-কে গানের মাধ্যমে রম্যরূপে আসরে উপস্থিত করতে পারতেন। রজতবাবু ‘ভোলা ময়রা’-র এই রম্য ব্যক্তিত্বের প্রতি পুরোপুরি সুবিচার করতে পারেননি। ভোলা ময়রার চরিত্রেও অভিনয় করেছিলেন উত্তমকুমার, ছবির নাম ছিল ‘ভোলা ময়রা’। সৃজিতের ছবিতে ভোলা ময়রার ভূমিকায় করেছেন খরাজ মুখোপাধ্যায়, যিনি নিজের হাস্যরসাত্মক অভিনয়ের জন্যে বিখ্যাত এবং তিনি একজন সুগায়কও বটে। আমি অধীর আগ্রহে খরাজ দার (Kharaj Mukherjee) ‘ভোলা ময়রা’-কে দেখার জন্য দিন গুনছি।

অন্যদিকে গার্গী (Gargi Roychoudhury) এক-কথায় দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন সৌদামিনীর ‘শক্ত’ চরিত্রে। নাটকের প্রথমাংশে অবলা বাল্যবিধবা এবং দ্বিতীয়াংশে প্রেরনাময়ী সহধর্মিণীর দুই ভুমিকাতেই তিনি সমান স্বচ্ছন্দ তথা অনবদ্য। গার্গীকে দেখতে লেগেছে যেমন সুন্দরী, অভিনয়তেও তিনি তেমনই ‘ভালো’।

Antony-Soudamini Theater

গার্গীর বিপরীতে প্রায় নবাগত অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে দেখে মনেই হয়নি যে তিনি এমন এক চরিত্রে অভিনয় করছেন, যে চরিত্রে অভিনয় করে ১৯৬৭ সালে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন মহানায়ক উত্তমকুমার (Mahanayak Uttam Kumar) এবং এবার এই ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন বর্তমান সময়ের একনম্বর নায়ক প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prasenjit Chattopadhyay)।

অনির্বাণের গানের গলা বেশ দরাজ (যদিও আরো খানিক তেজীয়ান হলে মন্দ হতনা) এবং অভিনয়ও করেন বেশ চোস্ত-দুরস্ত। কিন্তু কিছু রোম্যান্টিক দৃশ্যে গার্গীর সঙ্গে অভিনয় করতে তথা গান গাইতে গিয়ে তিনি বেশ নড়বড়ে, এই ব্যাপারটাও বেশ নজরে পড়েছে। তাও আমি বলব অনির্বাণ বর্তমান নাট্যজগতের এক অন্যতম সেরা নবীন প্রতিভা।  এই নাটকে যদি অনির্বাণের মেক-আপ-এর দিকে আরেকটু নজর দেওয়া হত তাহলে তাকে অ্যান্টনি ফিরিঙ্গী রূপে আরও বেশী বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হত। মেক-আপ কে যে কিভাবে ব্যবহার করা যায়, তা তো সৃজিত দেখিয়ে দিয়েছেন ‘বুম্বা দা’ (Prosenjit Chatterjee) কে অ্যান্টনি ফিরিঙ্গী রূপে সামনে নিয়ে এসে।

যজ্ঞেস্বরীর (Yageswari) ভূমিকায় রায়তী বসু গানে বেশ কিন্তু অভিনয়ে তাকে আরো একটু পরিপক্ক হতে হবে কারন বইতে পড়েছি যজ্ঞেস্বরীর ব্যক্তিত্বে নাকি একধরনের ‘আভিজাত্য’ ছিল, যেটা রায়তীর মধ্যে দেখতে পাইনি। অ্যান্টনি ফিরিঙ্গী (Antony Firingee) ছবিতে দেখা ‘রুমা গুহ ঠাকুরতা’ (Ruma Guha Thakurata) কিম্বা জাতিস্মর ছবির ট্রেলরে দেখা ‘অনন্যা চট্টোপাধ্যায়’ (Ananya Chatterjee) –র মধ্যে আমরা যে আভিজাত্য খুঁজে পাই, সেটা আনতে গেলে রায়তীকে আরো পরিশ্রম করতে হবে।

এই নাটকের বাদবাকি কলাকুশলীরা প্রত্যেকেই বেশ কাজ করেছেন। আলাদাভাবে বলতে হলে, শুরুতেই বলতে হবে মামাবাবু তথা সূত্রধরের চরিত্রে স্বয়ং নির্দেশকের কথা। রসগোল্লার মতন মিষ্টি তথা সুস্বাদু সওমিত্রবাবুর (Soumitra Mitra)অভিনয়। ভজহরির তথা অ্যান্টনির দলের ঢোলবাদকের ভূমিকায় অম্রিতেন্দু কর (Amritendu Kar) চমকপ্রদ বাদ্যের নিদর্শন রেখেছেন।

আমি ঠিক করেই রেখেছিলাম যে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের (Srijit Mukherji) নতুন ছবি ‘জাতিস্মর’ দেখার আগেই আমি ‘অ্যান্টনি সৌদামিনী’ দেখবো যাতে বাংলা কবিগানের মেজাজটাকে মনের মধ্যে নিয়ে আমি জাতিস্মর দেখতে যেতে পারি। সৌভাগ্যবশতঃ আমার সেই আশাপূর্ণ হয়েছে। এখন আমার মনের মধ্যে বাংলা কবিগানের প্রতি এমন এক টান অনুভব করছি যে এই বিষয়ে আরও বেশী জানার জন্যে আর যে তর সইছে না।  জাতিস্মর ছবি হিসাবে কেমন হবে, এই কথা এক্ষুনি বলা না গেলেও ছবির গানগুলি যে অতীব উৎকৃষ্ট মানের হয়েছে, এই কথা অস্বীকার করার জায়গা নেই।

 

English Synopsis:

The Antony-Soudamini Theater is based on the life & love of Antony Kobiwala, a Portugese by origin but gave Bangla ‘Kobi Gaan’ his life and soul. The narrative tells the story in the terms of historical notes knitted with imaginations to develop dramatic moments. Antony had to struggle to establish himself as an artiste on foreign soil and that too in a foreign language.  Antony fell in love with a Hindu Brahmin Widow, Soudamini.  Being an equally gifted singer herself, Soudamini always protected and inspired Antony so that this talented singer-composer could give ultimate shape to his dream of becoming a Kobiwala.

The play tells about the power of love that creates a bond between people and culture. Jesus Christ and Lord Krishna are framed differently but there is philosophically & spiritually no difference in their core. Antony takes the path of mercy & friendship to tackle the antagonizing forces and the play gets a height. Antony gets final artistic support from his wife Soudamini when he worships Goddess Kali. The play reveals a historic time of Bengal depicting the other brilliant Kobiwalas like Bhola Moira, Yageswari, Ram Basu, Thakurdas Sinha and others to show the vibrations of local form of songs. Antony –Soudamini narrates a tale of love, life, musical philosophies and most importantly time.

Enhanced by Zemanta