Tag: Aschorjyo-Prodeep

Chander Pahar Review, Poster, Theatrical Trailer; New Kolkata Bangla Movie Made to Make a Mark

chander pahar review

যেদিন প্রথমবার আনন্দবাজারে (Anandabazar Patrika) পড়েছিলাম যে পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Bibhutibhuisan Bandopadhyay) চিরস্মরণীয় সাহিত্য ‘চাঁদের পাহাড়’-কে ছবির পর্দায় নিয়ে আসতে চলেছেন, সেদিন থেকেই অধীর আগ্রহে এই ছবির সমস্ত খবরাখবর সংগ্রহ করে শুরু করেছিলাম। চাঁদের পাহাড় আমার প্রিয় উপন্যাসগুলির অন্যতম কারন এই কাহিনী আমাদের জীবনের প্রতিকলুতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে শেখায়। একজন সাধারন গ্রাম্য বাঙালি যুবকের অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মানতে হয় রহস্যময় আফ্রিকা (Africa) মহাদেশ। এই রোমাঞ্চকর কাহিনী বড় পর্দায় দেখার জন্য বাঙালি দর্শকদের উদ্গ্রীবতা ক্রমশই বাড়ছিলো, বিশেষত এই ছবির নায়ক শঙ্করের নামভূমিকায় যখন নির্বাচন করা হল বর্তমান বাংলা বানিজ্যিক ছবির সবচেয়ে সফল রোম্যান্টিক নায়ক দীপক অধিকারী ওরফে দেব-কে। দেব এযাবৎ শুধুমাত্র দক্ষিণ ভারতীয় ছবির বাংলা সংস্করণেই নায়ক সেজে এসেছেন, চাঁদের পাহাড় (Chander Pahar) ছিল তার প্রথম সেই অর্থে অন্যধরনের ছবি। গ্রাম বাংলা জয় করার পরে শহুরে শিক্ষিত দর্শকদের মনে স্থান করে নেওয়ার এইটাই ছিল দেব-এর আদর্শ সুযোগ। অন্যদিকে ‘উড়ো চিঠি’ এবং ‘মেঘে ঢাকা তারা’-র বানিজ্যিক ব্যর্থতার (যদিও মেঘে ঢাকা তারা-কে সেই অর্থে ঠিক কমার্শিয়াল সিনেমার গোত্রে ফেলা যায়না।) পরে পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের (Kamaleswar Mukherjee) কাছে নিজেকে বক্স অফিসে সফল ডিরেক্টর প্রমান করার সুবর্ণ মাধ্যম ছিল চাঁদের পাহাড়। চলুন দেখা নেওয়া যাক, চাঁদের পাহাড়ের হাত ধরে কে কতখানি পথ এগোতে পারলেন?

শুরুতেই আসা যাক দেব-শঙ্করের-এর কথায়। Dev- কে আজ পর্যন্ত তেমনভাবে কখন অভিনয় করতে হয়নি কারন দক্ষিন ভারতীয় ছবির বঙ্গীয় সংস্করনে অভিনয় করার খুব একটা বেশি প্রয়োজন পড়ে না কারন নেচে-মেরেই সেখানে কাজ হয়ে যায়। তাই শহুরে শিক্ষিত দর্শকদের অভিনেতা দেব সম্মন্ধে খুব একটা উচ্চমানের ইম্প্রেশন কোনদিনই ছিলনা। অনেকে তো দেবকে অভিনেতা হিসাবে গন্যই করেন না। চাঁদের পাহাড় হয়তো বা  সেইসব ধারনা কিছুটা হলেও গোচাবে, এমন আশা রাখাই যায়। এই ছবির জন্য দেব প্রচুর খেটেছেন, সেটা কিছু দৃশ্যে তার অভিব্যক্তি দেখেই বোঝা গেছে। বিশেষত কালাহারি মরুভূমির মাঝখানে পরিশ্রান্ত শঙ্কর যখন নিঃসহায় তথা নিঃসম্বল। ক্ষুধা এবং তৃষ্ণা যখন তাকে প্রায় উন্মাদ করে দিচ্ছে, এমন দৃশ্যগুলিতে দেব-এর অভিনয় এটা প্রমান করে দেয় যে দীপক অধিকারীর মধ্যে কিছুটা হলেও অভিনয় ক্ষমতা আছে কিন্তু সেই ক্ষমতাকে দক্ষ্যতায় রূপান্তরিত করতে গেলে প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম এবং সর্বোপরি উচ্চমানের পরিচালকদের অধীনে বিভিন্ন প্রকারের চরিত্রে অভিনয় করার। অন্যান্য বাণিজ্যিক ছবির মতনই চাঁদের পাহাড়েও দেব-কে অতিমানবীয় রূপে অব্যবহার করার এক প্রচেষ্টা লক্ষ্য করলাম। শঙ্কর রুপী দেব এই ছবিতে দু-বার বন্ধু-হত্যার প্রতিশোধ নিয়েছেন। প্রথমবার পশুরাজ সিংহকে সম্মুখসমরে বধ করে এবং দ্বিতীয়বার বুনীপ-কে বন্য প্রজাতি মাসাইদের ফাঁদে ফেলে সংহার করে। লেখক বিভূতিভূষণ কিন্তু তার নায়ক শঙ্করকে এতোটা অতিমানবীয় (Larger then life) রূপে মেলে ধরেননি গল্পে। মনে হয় পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় তার নায়ক দেব-কে দিয়ে এই হিরো-সুলভ কাজগুলি করিয়ে দেব-এর প্রথাগত ভক্তদের সিনেমা হলে টেনে আনতে চেয়েছেন। বিশুদ্ধবাদীদের কাছে এই দৃশ্যগুলি বেশ অবিশ্বাস্য ঠেকবে। বাকি দৃশ্যগুলিতে কিন্তু দেব-কে বেশ ভালোই বলা চলে।

chander pahar review

ডিয়েগো আল্ভারেজ-এর ভূমিকায় সাউথ আফ্রিকান অভিনেতা জেরারড রুডলফ (Gerard Rudolf) দারুন অভিনয় করেছেন। এই চরিত্র চাঁদের পাহাড় কাহিনীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ এক চরিত্র এবং আমি কমলেশ্বরদা কে সাধুবাদ জানাই আল্ভারেজ-এর ভূমিকায় এমন এক দুর্দান্ত অভিনেতাকে নির্বাচন করার জন্য। কিন্তু কেন যে কমলেশ্বরদা আল্ভারেজ-কে দিয়ে অহেতুক বাংলা বলাতে গেলেন! অদ্ভুত অবোধগম্য সেই বাংলা ভাষা। দর্শক কিছু খাপছাড়া শব্দ ব্যতিত কিছুই বুঝতে উঠতে পারেনি। মিঃ রুডলফ বরং ইংরাজীতে বেশ স্বচ্ছন্দ। পাহাড়ে চড়ার দৃশ্যগুলিতে এই দক্ষিণ আফ্রিকান অভিনেতা বেশ সাবলীল। কিন্তু আল্ভারেজ এবং শঙ্করের ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠার প্রক্রিয়াটি চিত্রনাট্যে তেমনভাবে প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠেনি। গল্পের বই-এর পাতায়-পাতায় যে মাধুর্যয়ের আস্বাদ পেয়েছিলাম, ছবির পর্দায় কিন্তু সেই রসে বঞ্চিত থেকে গেলাম কমলেশ্বরদা। এই সুক্ষ্ম জায়গাগুলি আরেকটু যত্নসহকারে লিখতে পারতেন! ভালো লাগার মতন মুহূর্ত খুব কম তৈরি হয়েছে আল্ভারেজ এবং শঙ্করের মধ্যে। আরও দুই বিদেশী চরিত্র আত্তিয় গাত্তি এবং জিম কার্টারকেও সেভাবে জায়গা দেওয়া হয়নি চিত্রনাট্যে।

চাঁদের পাহাড় বইটির অন্যতম আকর্ষণীয় অধ্যায় হচ্ছে কুলিদের তাঁবুতে সিংহের বারবার হানা দেওয়ার ঘটনাগুলি। জানিনা কি কারনে এমন এক আকর্ষণীয় অধ্যায়টিকে কমলেশ্বরদা কেটে বাদ দিয়ে দিলেন! শঙ্করের দক্ষিণ ভারতীয় কুলি বন্ধু তিরুমল আপ্পাকে এখানে আনা হোল রেলের কর্মচারি হিসাবে। অবশ্য ভবিতব্য তার একই রয়ে গেল, সিংহের দ্বারা নিধন। অতঃপর সিংহ বধ করে শঙ্করের বন্ধু-হত্যার প্রতিশোধ। পুরো ঘটনাটিকেই ছবির পর্দায় বেশ রং চড়ানো বলে মনে হয়েছে।

চাঁদের পাহাড় বইটি পড়ে চিত্রনাট্য লেখার কাজটিতে আরও কিছুটা মনঃসংযোগের প্রয়োজন ছিল কমলেশ্বর দা! অনেক খেটেছেন আপনি, আমরা সবাই জানি কিন্তু বেশির ভাগ মনোযোগ-ই দেব-কে শঙ্কর করে তোলায়, সাউথ আফ্রিকায় রেকি করায়, সউমিক হালদারের (Soumik Halder) ক্যমেরায় আফ্রিকাকে মোহময় করে তোলাতে দিয়ে ফেলেছেন আপনি। যদি গল্প বলাটিতেও একইরকম নজর দিতেন আপনি। চাঁদের পাহাড়-এর মতন গল্পে চিত্রনাট্যটাই আসল নায়ক। আপনার মতন বিচক্ষণ পরিচালক সেটা বুঝলেন না? রবিরঞ্জন মৈত্রের সম্পাদনা নিয়ে যত কম লেখা যায়, ততোই শ্রেয়! এই ছবি নিঃসন্দেহে ২০ থেকে ৩০ মিনিট স্বল্প হতেই পারত বলা আমার বিশ্বাস। বেশ হতাশ লাগছে আমাদের মতন দর্শকদের কথা ভেবে, যারা আপনার ছবিটিকে বিভূতিভূষণের বইটির মতনই ভালবাসতে চেয়েছিল। হ্যাঁ ! এই ছবির চিত্রগ্রহণ আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে। Soumik Halder প্রমান করেছেন যে তিনি এখন আর শুধু টলিউডের নন, সারা দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিত্রগ্রাহক। আমরা খুব তাড়াতাড়ি Soumik-কে বলিউডে কাজ করতে দেখতে চাই। কিন্তু তাতে কি যায় আসে? আমরা তো আর আফ্রিকা নিয়ে ডিসকভারি চ্যানেলে তথ্যচিত্র দেখতে বসিনি! আমরা অনেক আশা নিয়ে, টিকিট কেটে প্রেক্ষাগৃহে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘চাঁদের পাহাড়’-এর চিত্ররূপ দেখতে গেছি। তাই ছবির চিত্রনাট্য যদি বই-এর পাতা ভেদ করে অন্তরাত্মাকে ছুঁতে না পারে তাহলে কিছু অপ্রিয় কথা তো প্রযোজক-পরিচালককে শুনতেই হবে। ভেবেছিলাম যে কলকাতায় অন্তত ‘ধুম থ্রি’ -কে বাংলার নিজেস্য ‘চাঁদের পাহাড়’ টেক্কা দেবে! কিন্তু …… এই শীতের সন্ধেবেলায় অতন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে এই প্রতিবেদন লিখতে বসেছি। জানি, একজন চিত্রসমলোচকের আবেগপ্রবনতা শোভা পায়না তাও বাংলা ছবির একজন গুণগ্রাহী হিসাবে আমি নিজের হতাশাকে অন্তরালে রাখতে অপারগ। এই রিভিউ লিখতে বসা, ঠিক যেন অবিচুয়ারি লিখতে বসার মতন। এবার নম্বর দিই ? দিতেই যখন হবে … দিয়েই দিই … আশ্চর্য প্রদীপের (Aschorjyo Prodeep) থেকে বেশি দিতে পারলাম না – 5 /10 ।  কি আর করা যাবে? জীবনে আশা যেমন থাকে – তেমনই আশাহীনতাও থাকে!

পরিশেষে কিছু কথা না লিখে পারলাম না …

পনের কোটি টাকা খরচ করেও ‘চাঁদের পাহাড়’ -কে সঠিকভাবে ছবির পর্দায় মেলে ধরা এক অসম্ভব কাজ। এই পনেরোর সঙ্গে আরও তিরিশ কোটি টাকা যোগ করলে হয়ত বা কিছুটা সুরাহা হত পরিচালকের। কিন্তু এই টাকাটাই যে আমাদের টলিউডে অনেক বড় বাজেট। আমরা যদি ভবিষ্যতে এতো বড় কাজ করতে চাই তাহলে সমস্ত বিভেদ ভুলে তিন বড় প্রযোজক-কে একসঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে – ‘ তিনে মিলে করি কাজ – হারি জিতি নাহি লাজ’ !!! রিলায়েন্স (Reliance Entertainment), শ্রী ভেঙ্কটেশ (Shree Venkatesh Films) এবং Eskay Movies কি একবার একসঙ্গে একটা ‘বড়’ ছবি পরিচালনা করে বাকি ভারতবর্ষ -কে দেখিয়ে দিতে পারে না? শ্রীকান্ত মোহতা (Srikant Mohta), জে.কে রায় (J.K Ray) এবং অশোক ধানুকা (Ashok Dhanuka) যদি একটু ভেবে দেখেন! আপনারা বাংলা ছবি প্রযোজনা করেন তাই বাংলা ছবিকে আন্তর্জাতিক স্থরে আরো উপরে তুলে নিয়ে যাওয়াটাও আপনাদের যৌথ দায়িত্ত্ব! তাই নয় কি ?


Chander Pahar | Theatrical Trailer | Dev | Kamaleswar Mukherjee | 2013 (You tube)

 

 

Chander Pahar Review By:

SanjibSanjib Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and has written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.
Sanjib can be reached at sanjib@sholoanabangaliana.com

The information and views set out in this movie review are those of the author and do not necessarily reflect the official opinion of the Publication/Organization. Neither the Publication/Organization nor any person acting on their behalf may be held responsible for the use which may be made of the information contained therein.

 

 

Enhanced by Zemanta

Aschorjyo Prodip (2013): Movie Review, Premiere pics and Trailer; Watch It to Believe It

Aschorjyo Prodip (2013)

A batsman who elegantly scores a double hundred in his debut match and thereafter scores a decent half century in his second match, then also some negative minded critics would say that his maiden double century was only a fluke. However, ones, who are the true observers of the game, would detect his flaws and speak about those in order to make him a better player in the years to come. Despite being an ardent fan of Director Anik Dutta, I am here to write a criticism of Aschorjyo Prodip as I intend to be transparent towards that person, whom I respect.

Apart from the usages of fantabulous dialogues, Aschorjyo Prodip doesn’t fall anywhere even close to the territory marked by Anik’s debut feature film ‘Bhooter Bhobisyot’. But still the glimpses of a classy storyteller peeped every now and then throughout this black comedy. After witnessing the last innings of Sachin Tendulkar, we mustn’t have any doubts in admitting that ‘form’ is temporary whereas ‘class’ is permanent. After the stupendous double century, which was scored by ‘Bhooter Bhobisyot’, Anik Dutta’s 2nd film ‘Aschorjyo Prodip’ now scores a decent half century but this is not the ultimate parameter of judging a rare talent like Anik Dutta, who is perhaps the best satirical dialogue developer after Satyajit Ray. So, let’s wait for another big innings from this crafty storyteller in the days to come.

A decent half century after the stupendous double century doesn’t make Anik Dutta an ordinary filmmaker whatsoever. Let’s accept Anik Dutta’s Aschorjyo Prodeep (2013) with the same positive spirit with which we have earlier accepted his Bhooter Bhobisyot.

এই সমালোচনার শুরুতেই একটা কথা পরিস্কার করে লিখে দেওয়া যুক্তিযুক্ত বলে মনে করলাম যে কোন দর্শক যদি ‘আশ্চর্য প্রদীপ’ ছবিতে ‘ ভুতের ভবিষ্যৎ’ -এর খোঁজ করেন তাহলে তাকে যথেষ্ট পরিমানে হতাশ হয়ে, বিষণ্ণ হৃদয়ে প্রেক্ষাগৃহ থেকে বেরোতে হবে। ভালো মন্দের তর্কে না গিয়ে এটাই বলি যে ‘আশ্চর্য প্রদীপ’ অনীক দত্তের আগের ছবির থেকে সম্পূর্ণরূপে ভিন্ন। এই ছবির মাধ্যমে পরিচালক অনীক দত্ত এমন এক সমাজের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরতে চেয়েছেন, যে সমাজে সম্মান অর্থের বিনিময়ে কিনতে পাওয়া যায়। যে সমাজে ভাব, ভালবাসা, বিবেক সবই আজ পণ্য সামগ্রীর মতন বাজারে বিক্রি হয়। অনীকের ‘ভুতের ভবিষ্যৎ’ ছবিতে ভুত-দের রূপক রূপে তুলে ধরে বলা হয়েছিলো বর্তমানের সঙ্গে যুদ্ধে অতীতের অস্তিত্ব সঙ্কটের ইতিবৃত্তান্ত এবং ‘আশ্চর্য প্রদীপ’ ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে বিশ্বায়নের করালগ্রাসে লুপ্তপ্রায় মধ্যবিত্ত মূল্যবোধের করুন কাহিনী।

মধ্যবিত্ত সেলস অফিসর অনিলবাবু নিজের পাড়ার রাস্তায় কুড়িয়ে পান সেই আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ এবং সেটিকে ঘষার সঙ্গে সঙ্গে অনিলবাবুর সামনে এসে উপস্থিত হয় প্রদীপের দৈত্য, যার চলিত বাংলায় অনিলবাবু নামকরন করে ফেললেন ‘ প্রদীপ দত্ত ‘। তারপর প্রদীপ দত্তের জাদুতে অনিলবাবু পেয়ে গেলেন, স্বপ্নের গাড়ি, স্বপ্নের বাড়ি কিন্তু আঁতকে উঠতে হল স্বপ্নের নারীতে পৌঁছেই … কেন ? গল্পটা বলে দিলে আপনার আর সিনেমাটা দেখতে ইচ্ছে করবেনা তাই শেষের ধাক্কাটুকু নাহয় বড় পর্দার জন্যেই তোলা থাকলো। টিকিট কেটে, সিনেমা হলে গিয়ে দেখেই আসুন বাংলা ছবির জগতের কয়েকজন প্রতিভাশালী নবীন -প্রবীন অভিনেতা এবং অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের সমন্বয়ে নির্মিত অনীক দত্তের দ্বিতীয় বায়স্কোপ ‘আশ্চর্য প্রদীপ’। এই ছবিতে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় (Saswata Chatterjee) দারুন অভিনয় করেছেন কিন্তু ‘মেঘে ঢাকা তারা’-র (Meghe Dhaka Tara 2013) নীলকণ্ঠ বাগচি অথবা ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ -এর ‘হাত-কাটা কার্তিকের পৌছতেও পারেনি ‘আশ্চর্য প্রদীপ’ -এর ‘অনীল’। বরং প্রদীপের দৈত্যের ভূমিকায় রজতাভ দত্ত (Rajatava Dutta) একদম জমিয়ে দিয়েছেন। মশলাদার বাণিজ্যিক ছবিতে ভিলেন সাজতে সাজতে ক্লান্ত রজতাভ অনায়াস দক্ষ্যতায় উপস্থাপিত করেছেন এই আপাত মজাদার অথচ সুক্ষ তাৎপর্যময় চরিত্রটিকে। ছোট্ট ছোট্ট চরিত্রে পরান বন্দ্যোপাধ্যায় (Paran Bandopadhyay), মনোজ মিত্র (Manoj Mitra), সুমিত সমাদ্দার (Sumit Samaddar), মীর (Mir Afsar Ali), খরাজ মুখোপাধ্যায় (Kharaj Mukherjee) সহ  সব অভিনেতাই দর্শকদের সাধ্যমতন হাসিয়েছেন। Sexy Bollywood Heroine মালা মালের চরিত্রে মুমতাজ সরকারকে দারুন মানিয়েছে এবং অনীলের স্ত্রীর চরিত্রে শ্রীলেখা মিত্র-ও (Sreelekha Mitra)  খুব ভালো অভিনয় করেছেন। অভীক মুখোপাধ্যায়ের (Aveek Mukhopadhyay) চিত্রগ্রহণ এবং অর্ঘ্য কমল মিত্র-র (Arghya Kamal Mitra) সম্পাদনা যথাযথ। রাজা নারায়ণ দেবের (Raja Narayan Deb) সংগীত পরিচালনা মোটামুটি কিন্তু অনীক দত্তের লেখা গানের কথাগুলি কিন্তু জম্পেশ। অনেক বছর পরে অমিতকুমার (Amit Kumar) কে বাংলা ছবিতে তার বাবা কিশোরকুমারের (Kishore Kumar) গান গাইতে শোনা গেল, এও এক বড় প্রাপ্তি।

তবে ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ যেমন পারিবারিক বিনোদনমূলক সিনেমা রূপে সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে, ‘আশ্চর্য প্রদীপ’ কিন্তু সেই তৈরি করে দেওয়া রাস্তায় হাঁটতে আসেনি। বরং লেখা ভালো অনীক দত্ত এবার নিজেই নিজের পূর্ববর্তী পথ বর্জন করে, খানিক অন্য রাস্তায় হেঁটেছেন। যদিও এই পথ পূর্ববর্তী পথের মতন মসৃণ হয়, তাই এবার মাঝে মাঝেই চিত্রনাট্যের হাস্যরস হোঁচট খেয়েছে। হাসতে হাসতে দর্শক ভেবেছেন, ভাবতে ভাবতে হেসেছেন। কিন্তু হাসতে হাসতে হঠাৎ কেঁদে ফেলতে কি সবাই রাজি হবেন? এই ছোট্ট হ্যাঁ কিম্বা না-এর সরু দড়ির উপরই ঝুলছে অনীক দত্তের দ্বিতীয় বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ।

আমার ব্যক্তিগত মত যদি এই ক্ষেত্রে বিচার্য হয় তবে অনীক দত্ত এই দ্বিতীয় ছবির বিষয়ের উৎকর্ষতাকে আমি নম্বর দেব ৫/১০। চিত্রনাট্যকে দেব – ৫/১০,  সংলাপকে দেব – ৮/১০ এবং কলাকুশলীদের অভিনয়কে দেব –  ৯/১০।  সংলাপ রচয়িতা অনীক দত্ত-র ব্যক্তিগত পারদর্শিতাকে স্বতন্ত্র রাখলে ‘আশ্চর্য প্রদীপ’ কে ৫০% বেশি নম্বর দিতে আমি অপারগ। অনীক দত্তের অন্ধ গুণগ্রাহীদের শুনতে খারাপ লাগলেও, এই কথা স্বীকার করে নিতেই হবে ‘আশ্চর্য প্রদীপ’ বিষয়ের উৎকর্ষতা তথা চিত্রনাট্যের চমক, কোন বিভাগেই  ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ -কে টক্কর দিতে পারেনি। আসল কথা হচ্ছে ক্রিকেটের সচিনের মতনই অনীক দত্তের প্রতিযোগিতা অন্য কোন পরিচালকের সঙ্গে নয়, তার নিজের সঙ্গেই। জীবনের প্রথম ম্যাচেই যে ব্যাটসম্যান মাঠে নেমে ‘দুশো’ রান করে বসেন, তিনি যদি ঠিক পরের ম্যাচটাতেই ‘পঞ্চাশ’ রান করেন তাহলে সবাই তো বলবেই ‘ না এবারটা ঠিক জমল না … দেখা যাক পরের ম্যাচে অন্তত একশো রান করতে পারে কিনা ? হয়ত অনীক দার প্রতি কিছুটা অন্যায়ই করে ফেলছি আমরা কিন্তু সত্যজিৎ পরবর্তী যুগে বাংলা সিনেমায় এমন চিত্তাকর্ষক হাস্যরসাত্মক সংলাপ লেখককে এহেন শ্রেষ্ঠতার মাপকাঠির বিচারে তো পড়তেই হবে? এটাই যে তার নিয়তি। তৃতীয় ছবির জন্যে এখন থেকেই অনীকদাকে আমার শুভেচ্ছা জানিয়ে সর্বদিক বিচার করে ‘আশ্চর্য প্রদীপ’কে ষোলোআনা বাঙ্গালিয়ানার পক্ষ্য থেকে আমি 5/10 দিলাম।

 


Ashchorjyo Prodeep Official Trailer (You Tube)

Movie Review By:

SanjibSanjib Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and have written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.
Sanjib can be reached at sanjib@sholoanabangaliana.com

 

Premiere Pics: Pratik Banerjee

 

 

 

Enhanced by Zemanta