Tag: bengali-classics

Uttam Kumar Suchitra Sen Film Festival Organized to Mark Mahanayak’s 34th Death Anniversary

Uttam-Kumar-films-Online

The evergreen pair of Uttam Kumar and Suchitra Sen has delivered a huge number of hits. The films that they have acted in have become some of the milestone films in the history of Tollywood and also of Indian cinema. This evergreen pair never fails to recreate the magic whenever they come together on the big screen. Both the actors are now dead. However to pay tribute to Uttam Kumar on his 34th death anniversary and also to the late actress Suchitra Sen, Silpi Songsod organized the Uttam-Suchitra Film Festival. Present at the film festival inauguration ceremony were Gautam Ghoshe, Dulal Lahiri, Madhavi Mukherjee, Ranjan Bandopadhyay, Ratna Ghoshal, Reshmi Ghosh, Gautam Sushmit, Sanghamitra Banerjee and Shakuntala Barua. The inaugural film shown was Saare Chuattor.

watch-Uttam-Suchitra-Films-online

Speaking at the occasion, Gautam Ghosh said “This is indeed a great honor for any artist to get so much recognition even after his death 34 years ago. The fact that he is so popular among the people till date shows how talented a person he was. I will really urge the distributors to release the films of Uttam Kumar and Suchitra Sen on a commercial level. One will be able to judge and also understand the international standard of his acting”.

Shakuntala Barua reminisced about her acting days with Uttam Kumar. “I used to go back from shooting and go back and tell my husband that my hero will be Samit Bhanja. The other day I would tell the name of someone else. But when I finally told the final name of the hero as Uttam Kumar, my husband was apprehensive and asked me to cancel the shooting. He was so handsome that fathers and husbands feared their wives and daughters would melt after seeing him”.

uttam-kumar-films

The other films which will be shown during the course of the film festival are Sagarika, Alo Amar Alo, Indrani, Pothe Holo Deri, Agniporikha, Surjotoron, Harano Sur, Sadanander Mela, Sabar Upore and others. The film festival will continue till the 30th of July, 2014 at Nandan 1.

Priyanka Dutta

Football and its Love Affair with Cinema: A Football World Cup Special Feature

world-cup-entertainment

–         হ্যালো? এটা কী ডিরেক্টার মিঃ অনিকেশ চট্টোচৌধুরীর মোবাইল নাম্বার?

–         হ্যাঁ কথা বলছি, আপনি কে?

–         স্যার আমি “দুঃখ মাইনাস” ম্যাগাজিন থেকে রিরি কথা বলছি, আমাদের আপনি একটা এপোয়েন্টমেন্ট দিয়েছিলেন আপনার আপ কামিং প্রোজেক্টের ব্যাপারে কিছু বলবেন বলে, স্যার সেই ব্যাপারেই আমি আরকি….

–         ওঁ হ্যাঁ হ্যাঁ আপনাদের সাথে একটা এপোয়েন্টমেন্ট এর ব্যাপারে আমার সেক্রেটারি আমাকে বলছিল বটে আসলে আমার এত ব্যাস্ত শিডিউল না, বুঝতেই তো পারছেন… হ্যাঁ বলুন কী জানতে চান?

–         স্যার প্রথমেই একটা কথা স্যার আপনার সেক্রেটারি কী আপনার কোন আত্মীয়, আই মীন আপনার ভাই বা দাদা বা ছেলে টেলে…

–         এ প্রশ্নের মানে???

–         না স্যার ঐ এপোয়েন্টমেন্ট টার জন্যে পত্রিকার তরফ থেকে আমিই ফোন করেছিলাম আর যিনি ফোন ধরেছিলেন তাঁর গলাটা একদম, মানে একদম আপনার মত তো! তাই…

–         রিরি আপনার আওয়াজটা ঠিক আসছে না….. আওয়াজটা কেটে কেটে যাচ্ছে

–         যাগ গে স্যার ও প্রসঙ্গটা না হয় থাক স্যার, এই যে এখন আমরা শুনতে পাচ্ছি আপনি আপনার নতুন প্রোজেক্টের প্রি প্রোডাকশনের কাজ প্রায় শেষের মুখে যদি সে ব্যাপারে আমাদের কিছু বলেন

–         রিরি আমি সব সময় টিম ওয়ার্কে বিশ্বাস করি, আর এটা বলতে আমার গর্ব হয় যে আমার পাশে আমার যে টিমটা কাজ করে দে আর জাস্ট মার্ভেলাস! অসাধারন! ওরা প্রায় সব কাজ শেষ করেই এসে আমাকে ধরেছে ওদের ক্যাপ্টেন হবার জন্যে, আর বুঝতেই তো পারছেন পোস্ট কাটলেট রেজিমে আমার পলিটিকাল এজেন্ডাও আমাকে আর বিশেষ স্টিম্যুলেট করতে পারছে না তাই আর কি এটা আমাকে নিতেই হল।

–         তারমানে ওরাই সব করেছেন?

–         দেখ রিরি তুমি ব্যাপারটা কে একটা অন্য এঙ্গেল দেওয়ার চেষ্টা করছ, তুমি কখনো তোমার ব্রেন কে কাজ করতে দেখেছে? দেখনি, কিন্তু তার এফেক্ট স্বরুপ তোমার বাকি কাজগুলো তুমি করতে পারছ, কী তাই না?

–         কিন্তু স্যার আপনার আগের কথায় আমি একটু কনফিউজড হয়ে গেছিলাম, আপনি বললেন ওরা প্রায় সব কিছু রেডি….

–         তোমাদের এই একটা প্রবলেম রিরি তোমরা সবকিছু কে বড় টেক্সটচুয়ালি নিয়ে ফেল, ইন বিটুইন লাইন্সগুলোকে ধরতে পার না, এনিওয়ে লেটস কাম টু আওয়ার ইন্টারভ্যু, বল…

–         স্যার আমার কাছে খবর আছে আপনার রিসেন্ট ছবির বিষয় নাকি ফুটবল?

–         তুমি কি আমাকে ইন্টারভ্যু করতে চাও না কি তোমার স্কুপের ভেরিফিকেশান করাতে চাও, দ্যাটস এম্ব্যারাসিং রিরি..

–         সরি স্যার, আমার ভুল হয়ে গেছে, আপনি কিছু….

–         শোন তুমি যা শুনেছ সেটা পারর্শিয়ালি ঠিক, অর্ধ সত্য, আসলটা এবারে শোন, তুমি বলত আমাদের বাঙ্গালীদের প্যাসান কি কি?

–         স্যার ইলিশ মাছ, উত্তমকুমার, সুচিত্রা সেন, রসোগোল্লা, কমিউনিজম, হেমন্ত, মান্না, মুড়ি তেলেভাজা, বাংলা সিনেমা, সুনীল, শক্তি, লঙ্কা পিয়াজ দিয়ে আলুমাখা, সত্যজিৎ মৃনাল, ফুটবল

–         আরে থামো থামো তোমার লিস্টের বহরে তো তোমার ইন্টারভ্যু ভেসে যাবে। ছোট কর ছোট কর, খাওয়া, খানিক বিপ্লব বিপ্লব ভাব, আর রোমান্টিসিজম এই তিনটে ই হল মেন সেগমেন্ট, আমি তো তাই মনে করি। আমি এই তিনটের একটা কে ধরতে চেয়েছি।

–         কোনটা স্যার? রোমান্টিসিজম? মানে আপনার আপকামিং প্রোজেক্ট তাহলে রোমান্টিক মুভি, ফুটবল নয়?

–         না রিরি না, ফুটবল বাঙালীর রোমান্টিকতার মধ্যে পড়ে না এমন ধারনা তোমার হল কি করে? এই যে বিশ্বকাপের জন্যে বাঙালী রাত জাগছে তুমি এর মধ্যে রোমান্টিকতা খুঁজে পাচ্ছে না?

–         স্যার ফুটবলের জন্য রাত জাগার পিছনে রোম্যান্টিকটা…. ব্যাপারটা..

–         প্রেমে পড়েছ কখনো?

–         না মানে…

–         মানুষ একমাত্র প্রেমে পরলেই দয়িতের জন্য এইভাবে আকুল হয়ে রাত জাগে আর বাঙালী ফুটবলের জন্য, অন্য কোন কারন দেখাতে পার তুমি?

–         হ্যাঁ স্যার দাঁতব্যাথা

–         উঃ রিরি!!! আমি তোমার থেকে আরো একটু বেশী সেন্সেব্ল আন্সার আশা করেছিলাম। উঃ!!

–         সরি স্যার

–         আমি আমার নতুন ছবিতে দেখাতে চাই এই রকম ই একটা রোম্যান্টিকতা যেখানে ফুটবল ই হবে তার একটা মিডিয়াম।

–         মানে স্যার ধন্যিমেয়ের মত সিনেমা?

–         দেখ যে গল্প বলা হয়ে গেছে তাকে আবার নতুন করে বলার মধ্যে কোন কৃতিত্ব আছে কি? বাংলা ছবিতে ফুটবল এসেছে ধন্যিমেয়ে, মোহনবাগানের মেয়ে, বাইসাইকেল কিক ইত্যাদি কিছু ছবিতে, কিন্তু সেখানে শুধুই ফুটবল এসেছে এম্ন নয়, হয় প্রেমের গল্পের প্যারালাল প্লটে ফুটবল, না হলে কোন একটা চক্রান্তের প্যারালাল প্লটে ফুটবল, কিন্তু টোটাল ফুটবল নিয়ে কোন সিনেমা বাংলায় হয় নি, তাই না, তাই আমি ঠিক করেছি এবারে এমন ছবি করব যা কিনা টোটাল ফুটবল!!! আইডিয়াটা দারুন না?

–         হ্যাঁ স্যার নিশ্চই, কিন্তু এই টোটাল ফুটবল ব্যাপারটা ঠিক…

–         মানে হলে দর্শক যখন ঢুকবে সেই সময় থেকে তাকে সিনেমা নয় ফুটবলের ফিলটা দেওয়া হবে এই ছবিতে।

–         কিভাবে স্যার?

–         থ্রি ডি ছবিতে হলে ঢোকার আগে যেমন চশমা দেওয়া হয় এখানে হলে ঢোকার আগে বল, জার্সি, বুট, স্কস, সিনবোন গার্ড, তারপরে ঐ ঐ.. গার্ড, সব দর্শকদের দেওয়া হবে, দু দলের বসার জায়গা আলাদা রাখা হবে, ভুভুজেলা দেওয়া হবে এইসব শুধু শুরুর সময়ে ফিলটা আনবার জন্যে। কোলকাতা তে তো বিশেষ বিশেষ মাল্টিপ্লেক্সের লাইন মেন্টেন করতে আমরা হলের বুকীং এর কাছে মাউন্টেড পুলিশ ও রাখার বন্দোবস্ত করছি।

–         কিন্তু স্যার যদি স্টোরি লাইনটা যদি একটু হিন্ট দেন…

–         সেটা তো রিরি পুরোটা বলা সম্ভব না আর উচিত ও নয় তাহলে লোক হলে আসবে কেন টিকিট কেটে…

–         না মানে একটু..

–         এটা হচ্ছে একটা গল্প যেখানে একটা চিরাচরিত কনফ্লিক্ট কে আমরা ফোকাসে রেখেছি।

–         চিরাচরিত কনফ্লিক্ট বলতে…..

–         পুরুষ ও নারীর দ্বন্দ!!! বুঝতে পারলে না

–         তারমানে ?

–         আমার গল্পের নায়ক হল ফুটবল আর ভিলেন হল এই সমাজ, আর তার বাসিন্দারা পুরুষ ও মহিলা কুল। এই দুই দলের মধ্যে চিরাচিরত যুদ্ধের ফয়সলা হবে ফুটবল মাঠে। আর পুরুষদের কোচ একজন মহিলা ফুটবলার, আর মহিলাদের একজন পুরুষ। বাকি টুকু হলে।

–         কিন্তু স্যার এখানে তো সেই পুরুষ নারির যুদ্ধের গল্প বলা হচ্ছে, সেই প্রেম একটু অন্য ভাবে।

–         ঐখানেই তো গল্পের মোচড়, বাকিটা তো বলা যাবে না।

–         স্যার আপনার টেকনিকাল টিম শুনেছি না কি দারুন

–         এই দারুন কথাটা একটা আন্ডার স্টেটমেন্ট, সুপার্ব! সুপার্ব! আমরা মাঠের প্রপার ফিলের জন্য বলের মধ্যেও মাইক্রোফোন আর ক্যামেরা রেখেছি, অতেই তো প্রপার স্ক্রীপ্ট আর ফোটোগ্রাফির একটা মেজর পোর্সান হয়ে যাচ্ছে আমাদের। আর বাকিশুট টুকুর জন্যে আমরা যে কতগুলো ক্যামেরা রেখেছি সেটাও ভীষন গোপনীয়। কিছু মনে কর না।

–         না না ঠিক আছে, ঠিক আছে… কিন্তু স্যার একটা কৌতূহল চাপতে পারছি না, এই খেলায় শেষমেশ জিতছে কে? ওটা আপনি যদি আমাকে বলেন আমি কথা দিচ্ছি সেটা অফ দ্য রেকর্ড রাখব..

–         বলছ…

–         না মানে যদি.. কোন

–         ছবির শেষটা বেশ ভায়লেন্ট, মানে সিচুয়েশান টা সেই রকম ই ডিমান্ড করছে আর কি, খেলেতে খেলতে দুদলের প্লেয়ারদের মধ্যে একটা চাপা প্রেমের উদ্রেক হয়ে যায়, আরকি, তখন পুরুষদের সেন্টার ফরোয়ার্ড মহিলাদের গোল মুখে এসে বল না ঠলে গোলকিপারকে জড়িয়ে ধরে বলে “আমি তোমায় ভালবাসি”। ফলে গোল হয় না খেলা ড্র!, এদিকে হয়েছে কি এই পরাজয় মহিলা কোচ সহ্য করতে পারে না। সে হিতাহিত জ্ঞ্যন শুন্য হয়ে পুরুষ কোচ কে কামড়ে দেন। ক্যামেরা ফেড আউট করতে থাকে।

–         স্যার ব্যাপারটা উরুগুয়ের স্যুয়ারেজের ঘটনার মত হয়ে যাচ্ছে না?

দেখ উরুগুয়ে না হাঁটুগুয়ে জানি না, এই জন্যেই বলে ফিল্ম লাইনে চিত্রনাট্য কে যে কখন চুরি করছে ধরা দায়।

Article By:

bengali writer

Shri Somankar Lahiri was born on 17th of January 1967, in a small town name Serampore, in Hooghly district. His parents were Late D.S.Lahiri and Late Mukul Lahiri. Shri Lahiri completed his schooling from Mahesh Sri Ramkrishna Ashram, (1982) Chatra Nandalal Institution (1984) and graduated from Calcutta University in 1986. At present he is working with National Sample Survey Office, which belongs to The Ministry of Statistics and Program Implementation, as a Data Processing Asst. Along with adeptly managing his professional life, Shri. Lahiri also zealously follows his passion for writing and has many a beautiful short stories and excerpts to his credit.

Image Credits: Google Images

Bengali Short Story by Swedish National Mr. Annwesh Mukherjee; ‘Sakkhat O Kichu Prapti’

সাক্ষাৎ ও কিছু প্রাপ্তি

ট্যাক্সি থেকে নেমে, চার পা হেঁটে একটা দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট ধরালাম। ঠিক বুঝতে পারছিনা  কিভাবে   কাজটা শুরু   করব।  দীর্ঘ সাংবাদিক জীবনে এত বড় চ্যালেঞ্জের   মুখে কখনো  পড়েছি বলে মনে পরে না।

বেলা বারোটার গনগনে রোদ, হাতে এডিটর সাহেবের লেখা একটা চিঠি, চোখের সামনে একটা মস্ত অ্যাপার্টমেন্টের মুল দরজা, আর দরজার ওপারে দশ তলা উপরে একটা দু কামরার  ফ্ল্যাটে  বিরাজমান    বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ শ্রীযুক্ত সূর্য মুখোপাধ্যায়।

উনি এবছর সাহিত্য অ্যাকাডেমি পুরষ্কার পাচ্ছেন, তাই কাগজের মালিকের  অনুরোধ   আমি   যেন  কাল-বিলম্ব না করে ওনার একটা ইন্টারভিউ নিয়ে আসি।

এখন সমস্যাটা হল এই যে সারাজীবন আমি খেলাধুলা নিয়ে লিখে এসেছি, কেননা প্রথমত, খেলাধুলো আমি চিরকাল ভালবেসে এসেছি, আর দ্বিতীয়ত, আমি জানতাম যে ওসব নিয়ে লিখলে চাকরি আমার  চিরকাল  বজায় থাকবে। কিন্তু নতুন মালিক আমাকে   বিলকুল   পছন্দ   করে না, একটা ছুতো  খুঁজছে কি করে আমাকে তাড়াবে। আর সেই কারণেই এই বাঘের   মুখে ঠেলে দেওয়া।

বুদ্ধির গোরায় শেষ ধোঁয়াটুকু দিয়ে সাহস করে ঢুকে পরলাম  অন্দর মহলে। লিফট ছিল তাই বাঁচোয়া,       পৌঁছলাম ওনার দরজার ঠিক সামনে।

বেল বাজানোর সাথে সাথে আমারই সমবয়সী এক ভদ্রলোক বেড়িয়ে এলেন। হাত জোড়  করে  নমস্কার  করে জানালাম, “আমি ‘খবর বাংলার’ সাংবাদিক, অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনুযায়ী   সাক্ষাৎ  করতে  এসেছি   সূর্য-বাবুর  সাথে।”

ভদ্রলোক হাল্কা-স্বরে বললেন, “আমিই সূর্য মুখোপাধ্যায়, আসুন ভিতরে আসুন।”

নিতান্তই ছোট একটা বসবার ঘর – রয়েছে শুধু একটা টিভি, একটা কম্পিউটার টেবিল আর  একটা   বিশাল  বুক-শেল্ফ যার মধ্যে আরামে ঘর করছে কয়েকশো বই। মনে মনে ভাবলাম – ‘আমি  কেন  আমার  তিন  পুরুষ পড়ে শেষ করতে পারবে না।’ অগোছালো ঘরের এক কোনে দুটো সোফা কাউচ রাখা ছিল, তারই একটাতে বসতে বললেন।

“অরিত্র পাঠিয়েছে আপনাকে?”

“আজ্ঞে হ্যাঁ। আপনার মত প্রচার-বিমুখ মানুষকে নিয়ে যে লিখতে পারব ভাবতে পারিনি।”

“তাই বুঝি? হ্যাঁ, কিছুটা ঠিকই বলেছেন, আমাকে এই  অ্যাপার্টমেন্টের লোকই অর্ধেক চেনে  না।”  এই   অবধি বলে উনি বসলেন আরেকটি চেয়ারে। পাশের ঘর থেকে একটি অল্পবয়সী মেয়ে দু কাপ  চা  রেখে  দিয়ে  গেল আমাদের দুজনের সামনের টি টেবিলে।

“প্রথমেই আপনাকে অভিনন্দন জানাই আমার এবং আমাদের কাগজের তরফ থেকে।”

“ধন্যবাদ!”

মানুষটা নিতান্তই মৃদুভাষী এবং কম কথা বলেন। মনে মনে ভাবলাম টালিগঞ্জ  অগ্রগামী  নব্বইয়ের   দশকের কোচ ঠিক এরকম ছিলেন, ওনার  সঙ্গেও আড্ডা মারা খুব শক্ত ছিল। চায়ে দুবার চুমুক  দিয়ে  জিজ্ঞেস করলাম, “আপনি যে সুর বেঁধে দিলেন তাই দিয়েই শুরু করি? খুব কম লোক আপনার সম্বন্ধে  জানে,  আমি অনেক খুঁজেও খুব বেশি তথ্য সংগ্রহ করতে পারি নি, মুল কারণটা কি?”

“সেরকম কিছু নয়, সাধারণ ছাপোষা মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম, বাবা মার একমাত্র  সন্তান,  চেয়েছিলেন   বিদেশে গিয়ে ডাক্তারি পড়ি, কিংবা নিদেনপক্ষে ইঞ্জিনিয়ারিং বা ওকালতি। যখন কিছুই হল না ওনারা  নিজেদের  গুটিয়ে নিতে লাগলেন, আর ওনাদের সাথে সাথে আমিও।”

“স্যার, কিছু মনে করবেন না, এক বাক্যে আপনি কিন্তু একদম গল্পের সেন্টারে এনে  ফেললেন  আমাকে!একটু বিশদে জানতে চাই। আপনার বাবা মা চেয়েছিলেন আপনি অন্য কিছু পড়াশুনো  করুন, আপনি   গেলেন ইতিহাস-চর্চায়, এর পর বহু বছরের প্রচেষ্টা, গবেষণা, আর তার ফলস্বরূপ  ‘বাংলা – সিরাজের  আগে  ও পরে’ এই বই রচনা, আর সে বইয়ের পুরষ্কার প্রাপ্তি।”

ভদ্রলোক প্রাণ খুলে হেসে উঠলেন, পাক্কা দু মিনিট হেসে নিয়ে বললেন, “দারুণ দারুণ সারাংশ, আপনি  সফল ক্রিড়াসাংবাদিক এমনি এমনি হন নি। দারুণ ধরেছেন, তবে প্রচেষ্টার বদলে শব্দটা হবে সংগ্রাম,  জীবন  সংগ্রাম, যা আমার ক্ষেত্রে গভীর থেকে গভীরতর হয়ে ঠেকেছিল।”

উনি বলে চললেন, “আমার বাবা তিন ভাইয়ের মধ্যে সব চেয়ে ছোট ছিল, আমাদের পৈত্রিক ভিটে কামারপুকুর। বাবা পোর্টট্রাস্টে কাজ পেয়ে কলকাতায় চলে আসেন, কিন্তু  ভিটের  মায়া  ত্যাগ  করতে  পারেন  নি। আর ভিটের লোকজনের ঈর্ষার জাল থেকেও কখনো বেরতে পারেন নি। বাবা  চাইতেন আমি সবার থেকে ভালো হই পড়াশুনোয়, সব বিষয়ে ফার্স্ট হতে হবে আমাকে! বিজ্ঞান, অঙ্ক আমার বা   হাতের খেলা বানিয়ে ফেলতে হবে। কিন্তু ভবিতব্য অন্য কথা বলতে আরম্ভ করেছিল। যেদিন থেকে  স্কুলে  গৌরিশঙ্কর বাবুর কাছে প্রথম শুনেছিলাম সম্রাট অশোকের কথা, যেদিন  জেনেছিলাম  চাণক্যর  প্রখর  বুদ্ধির কথা, যেদিন অনুধাবন করেছিলাম সমুদ্র-গুপ্তের রাজকীয়তার বর্ণনা, সেদিন থেকে ইতিহাসের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম। কি অদ্ভুত সে প্রেম ? একের পর এক চরিত্র যেন আমার ভাই, বোন, মা, বন্ধু হয়ে আমার সামনে দেখা দিয়েছে। ঝাঁসির রানী, বা বঙ্কিম-চন্দ্র কেউ আমার ভালবাসার বেষ্টনী থেকে বেড়িয়ে যেতে  পারে নি। সারাজীবন ভেবে গেছি এদের কথা, মাথা নিচু করে পড়াশুনো চালিয়ে গেছি, একটার পর একটা ফলক অতিক্রম করে গেছি, আর আজ সকালে আপনার কাছে দাঁড়িয়ে সেই সব দিনগুলোর স্মৃতিচারণ  করে  যাচ্ছি। কি? কেমন লাগল?”

“হুম, অপূর্ব। কতটা বাঁধা পেয়েছিলেন আপনার বিস্তৃত পরিবার থেকে?”

“অনেক, স্বল্প পরিসরে বলে উঠতে পারব না। সব থেকে সুন্দর বললেন মেজ কাকা – ওনার ছেলে  ডাক্তার, উনি বললেন আমার মাথাটা দেখানো উচিত। সেই শুনে আমার মা খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে  দিলেন। তখন আমি বি এ পার্ট ওয়ান দেব। গৌরিশঙ্কর-বাবুর কাছে ছুটলাম, জিজ্ঞেস করলাম, এই পড়াশুনোয় কি সত্যিই কোনই ভবিষ্যৎ নেই? উনি বললেন, ‘না থাকলে বিষয়টা রইল কেন?’ এই বলে উনি একটা কথা বললেন  যা আজও মনে আছে। উনি বললেন – ‘রাজা গ্রামে ঘোড়ার গাড়ি কিনে নিয়ে এলেন, সবাই  আনন্দ  করলো,  কেউ ভাবেনি গ্রামের রাস্তায় সে গাড়ি চলতে পারে। ভেজা মাটির ওপর দিয়ে সে গাড়ি যখন ছুটে গেল তা সবাই উপভোগ করল, কিন্তু সে গাড়ি মাটির উপর যে দাগ রেখে গেল তা কেউ মনে রাখল  না ।  অর্থাৎ, রাজার পরের প্রজন্ম জানতেও পারল না যে সেই পথের, সেই ছোট গ্রামের রাস্তার কত মাহাত্ব, আর সেই রাস্তা, সেই গ্রামের ইতিহাসকে আগলে রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। একটা প্রজন্ম গৌরব  করলো, আরেকটা  প্রজন্ম সেই গৌরবকে হেলায় ভুলে গেল। কেন হল এমন ? কেননা যেদিন গাড়ি চলেছিল, সেদিন অনেক সাক্ষীদের মধ্যে কেউ কেউ সে ঘটনা লিখে রেখে গিয়েছিল, কাগজে আর মগজে। কিন্তু সে লেখা কেউ আত্মস্থ  করার প্রয়োজনবোধ করেনি।”

এর পর আরও অনেক কথা হল, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে সমগ্র পৃথিবীতে ইতিহাসের মর্যাদা নিয়ে অনেক আলোচনা হল। সূর্য-বাবুর জীবনের আরও অনেক বাধা বিপত্তির কথা নোট করলাম, কিন্তু বারে বারে ফিরে এলো সেই মুল কথাটা – ‘একজন ইতিহাসবিদ যা লিপিবদ্ধ তাকে আত্মস্থ করে।’

ওঠার আগে জিজ্ঞেস করলাম, “যদি আপনি কলেজ, বা পরে ইউনিভারসিটিতে চাকরি  না   পেতেন   তাহলে কি করতেন?”

“ইতিহাস-চর্চা, যদি তার জন্য ভিক্ষেও করতে হত, তা হলেও।”

“আরেকটা প্রশ্ন – বিয়ে করলেন না কেন?”

“ওই যে বললাম, অনেকজনকে নিজের করে ফেলেছিলাম, সবাই প্রাক্তনী ছিল। আমার বয়সী  কাউকে  সুখী করতে পারতাম না, তাই আর বিয়ের দিকে এগোলাম না।”

১৪, আমতলা রোডের বাড়ি থেকে বেড়িয়ে সোজা চৌরঙ্গী গেলাম, দপ্তরে বড়সাহেবকে  দুটো  কাগজ পাঠিয়ে দিলাম – একটা চাকরি থেকে ত্যাগপত্র, আর একটা চিঠি যাতে স্পষ্ট ভাষায় লেখা কেন চাকরি ছাড়লাম। লিখলাম, “সারা জীবন ক্রিড়াজগৎ নিয়ে লিখব, দরকার পরে ভিক্ষা করেও লিখব ।।”
The Author Anwesh Mukherjee

Anwesh Mukherjee

Mr. Anwesh Mukherjee who is a software engineer by profession and is a Swedish National is also a story-writer, a poet and an essayist, who thrives on human values and human emotions, and who embodies in his works, elements from past and present generations of human society. A formidable grip on characters allows him to document complexity and openness with equal ease. The poetic charm gets mixed with a narrative flavor which creates a unique description of incidents in Anwesh’s works. A mind molded in the realm of simplicity of yester-years yearning to reach out to the audacious vivacity of the new age life is a simple depiction of Mr. Mukherjee as an author and a smooth and lucid blend of lyrical words with some commonplace expressions best describes the language the Anwesh the author cherishes the most.

 

 

Image Credit: Google Images

 

 

Bengali Poetry Recitation by All India Radio Artist Satyaki Roy

An All India Radio artist, Satyaki Roy, right from the age of four has been ardently pursuing his dream of making it big in the field of Bengali Recitation and elocution, and his passion for the art indeed took him places. His profession was also guided by his love for the art guided by which he started working for the recitation and drama division of AIR and participated in many programs of AIR, “Golpo Dadur Asor” being one of them.

Satyaki has also participated in Rajyo Yuba Utsav, Calcutta Cine Festival, and All Bengal Vivekananda Institution’s Ceremony and mesmerized the audience with his soulful rendition of some of Bengal’s most prized poems.

Under the august banner of Sony Music, Satyaki released his recitation and song album in the year 2005 which again was highly appreciated by his fans and admirers.

Satyaki has also performed in popular Bangla Television channels namely ETV, Akash Banglaand, Zee Tv has also done live shows at Rabindra Sadan, Salt Lake Stadium, Burdwan Utsav, Kolkata Utsav Etc.

Leading regional and national newspapers like, Andabazar, Times of India,  Hindustan Times, Asian Age, Bartamaan, Protidin, Saptahik Bartamaan, Anondomela have always extensively covered Satyaki’s performances and published beautiful reviews too.

Satyaki Roy is currently working as a voice over artist and is also composing music for several new Bengali Films which are soon to be released.

Rightly termed as the ‘Man with the Golden Voice’ by an entertainment web portal, Satyaki with his beautiful voice and unbeatable command over poetic renditions is indeed a gifted artist and we wish him the Very Best for his future pursuits.

Tagore’s Timeless Women Charecters Archived in Tagore Themed Calendar

Tagore-theme-calendar

Highlights fashion studio and ad agency launched their Bengali Nababorsha Calendar at Princeton Club. The theme of the calendar is the women characters in the novels of Rabindranath Tagore. The women characters of Tagore have a distinctive personality of their own and they are a topic of much discussion among the people as these women characters of Tagore were way ahead of their times.

Taking into consideration the important woman characters created by Rabindranath Tagore, a unique calendar in Bengali was launched by the twelve leading city models. The twelve models portrayed the twelve women characters each for a different month of the Bengali calendar.

Tagore-women

The models who were part of this calendar and also their respective characters are mentioned as follows- actress Payel Roy as ELA (novel- Char Adhyay), Bibriti as BINODINI, Shree as ASHALATA (novel- Chokher Bali), Supriti as BIMALA (novel- Ghore Baire), Megha as SUSHILA and Sneha as HEMNALINI (novel- Noukadubi), Patrali as CHARULATA (novel- Nashtanirh), Saheli as LABANNYA (novel- Shesher Kabita), Mahashweta as MONIMALIKA (novel- Monihara), Rooqma as MRINMOYEE (novel- Samapti), Tanusree as DAMINI (novel- Chaturanga) and Darshana as KADAMBARI DEVI, Tagore’s sister-in-law, childhood play-mate and his inspiration.

actor-Rudranil-Ghosh

The theme and concept of the calendar was selected by Mr. Raj Saha, the managing director and the founder of the agency. The entire research work, concept development, periodical costumes and stylization has been done by stylist Oindrila Basu. The make-up has been done by famous make-up artist Nanda Majumder. Hair stylist Abinash Bhowmick is responsible for the beautiful hair styles of the models. The photography for the calendar has been done by photographer Siladitya Dutta.

This is indeed a unique initiative taken up by Highlights fashion studio and ad agency to celebrate the Bard’s 154th Birth anniversary.

Priyanka Dutta