Tag: bengali-essays

Football and its Love Affair with Cinema: A Football World Cup Special Feature

world-cup-entertainment

–         হ্যালো? এটা কী ডিরেক্টার মিঃ অনিকেশ চট্টোচৌধুরীর মোবাইল নাম্বার?

–         হ্যাঁ কথা বলছি, আপনি কে?

–         স্যার আমি “দুঃখ মাইনাস” ম্যাগাজিন থেকে রিরি কথা বলছি, আমাদের আপনি একটা এপোয়েন্টমেন্ট দিয়েছিলেন আপনার আপ কামিং প্রোজেক্টের ব্যাপারে কিছু বলবেন বলে, স্যার সেই ব্যাপারেই আমি আরকি….

–         ওঁ হ্যাঁ হ্যাঁ আপনাদের সাথে একটা এপোয়েন্টমেন্ট এর ব্যাপারে আমার সেক্রেটারি আমাকে বলছিল বটে আসলে আমার এত ব্যাস্ত শিডিউল না, বুঝতেই তো পারছেন… হ্যাঁ বলুন কী জানতে চান?

–         স্যার প্রথমেই একটা কথা স্যার আপনার সেক্রেটারি কী আপনার কোন আত্মীয়, আই মীন আপনার ভাই বা দাদা বা ছেলে টেলে…

–         এ প্রশ্নের মানে???

–         না স্যার ঐ এপোয়েন্টমেন্ট টার জন্যে পত্রিকার তরফ থেকে আমিই ফোন করেছিলাম আর যিনি ফোন ধরেছিলেন তাঁর গলাটা একদম, মানে একদম আপনার মত তো! তাই…

–         রিরি আপনার আওয়াজটা ঠিক আসছে না….. আওয়াজটা কেটে কেটে যাচ্ছে

–         যাগ গে স্যার ও প্রসঙ্গটা না হয় থাক স্যার, এই যে এখন আমরা শুনতে পাচ্ছি আপনি আপনার নতুন প্রোজেক্টের প্রি প্রোডাকশনের কাজ প্রায় শেষের মুখে যদি সে ব্যাপারে আমাদের কিছু বলেন

–         রিরি আমি সব সময় টিম ওয়ার্কে বিশ্বাস করি, আর এটা বলতে আমার গর্ব হয় যে আমার পাশে আমার যে টিমটা কাজ করে দে আর জাস্ট মার্ভেলাস! অসাধারন! ওরা প্রায় সব কাজ শেষ করেই এসে আমাকে ধরেছে ওদের ক্যাপ্টেন হবার জন্যে, আর বুঝতেই তো পারছেন পোস্ট কাটলেট রেজিমে আমার পলিটিকাল এজেন্ডাও আমাকে আর বিশেষ স্টিম্যুলেট করতে পারছে না তাই আর কি এটা আমাকে নিতেই হল।

–         তারমানে ওরাই সব করেছেন?

–         দেখ রিরি তুমি ব্যাপারটা কে একটা অন্য এঙ্গেল দেওয়ার চেষ্টা করছ, তুমি কখনো তোমার ব্রেন কে কাজ করতে দেখেছে? দেখনি, কিন্তু তার এফেক্ট স্বরুপ তোমার বাকি কাজগুলো তুমি করতে পারছ, কী তাই না?

–         কিন্তু স্যার আপনার আগের কথায় আমি একটু কনফিউজড হয়ে গেছিলাম, আপনি বললেন ওরা প্রায় সব কিছু রেডি….

–         তোমাদের এই একটা প্রবলেম রিরি তোমরা সবকিছু কে বড় টেক্সটচুয়ালি নিয়ে ফেল, ইন বিটুইন লাইন্সগুলোকে ধরতে পার না, এনিওয়ে লেটস কাম টু আওয়ার ইন্টারভ্যু, বল…

–         স্যার আমার কাছে খবর আছে আপনার রিসেন্ট ছবির বিষয় নাকি ফুটবল?

–         তুমি কি আমাকে ইন্টারভ্যু করতে চাও না কি তোমার স্কুপের ভেরিফিকেশান করাতে চাও, দ্যাটস এম্ব্যারাসিং রিরি..

–         সরি স্যার, আমার ভুল হয়ে গেছে, আপনি কিছু….

–         শোন তুমি যা শুনেছ সেটা পারর্শিয়ালি ঠিক, অর্ধ সত্য, আসলটা এবারে শোন, তুমি বলত আমাদের বাঙ্গালীদের প্যাসান কি কি?

–         স্যার ইলিশ মাছ, উত্তমকুমার, সুচিত্রা সেন, রসোগোল্লা, কমিউনিজম, হেমন্ত, মান্না, মুড়ি তেলেভাজা, বাংলা সিনেমা, সুনীল, শক্তি, লঙ্কা পিয়াজ দিয়ে আলুমাখা, সত্যজিৎ মৃনাল, ফুটবল

–         আরে থামো থামো তোমার লিস্টের বহরে তো তোমার ইন্টারভ্যু ভেসে যাবে। ছোট কর ছোট কর, খাওয়া, খানিক বিপ্লব বিপ্লব ভাব, আর রোমান্টিসিজম এই তিনটে ই হল মেন সেগমেন্ট, আমি তো তাই মনে করি। আমি এই তিনটের একটা কে ধরতে চেয়েছি।

–         কোনটা স্যার? রোমান্টিসিজম? মানে আপনার আপকামিং প্রোজেক্ট তাহলে রোমান্টিক মুভি, ফুটবল নয়?

–         না রিরি না, ফুটবল বাঙালীর রোমান্টিকতার মধ্যে পড়ে না এমন ধারনা তোমার হল কি করে? এই যে বিশ্বকাপের জন্যে বাঙালী রাত জাগছে তুমি এর মধ্যে রোমান্টিকতা খুঁজে পাচ্ছে না?

–         স্যার ফুটবলের জন্য রাত জাগার পিছনে রোম্যান্টিকটা…. ব্যাপারটা..

–         প্রেমে পড়েছ কখনো?

–         না মানে…

–         মানুষ একমাত্র প্রেমে পরলেই দয়িতের জন্য এইভাবে আকুল হয়ে রাত জাগে আর বাঙালী ফুটবলের জন্য, অন্য কোন কারন দেখাতে পার তুমি?

–         হ্যাঁ স্যার দাঁতব্যাথা

–         উঃ রিরি!!! আমি তোমার থেকে আরো একটু বেশী সেন্সেব্ল আন্সার আশা করেছিলাম। উঃ!!

–         সরি স্যার

–         আমি আমার নতুন ছবিতে দেখাতে চাই এই রকম ই একটা রোম্যান্টিকতা যেখানে ফুটবল ই হবে তার একটা মিডিয়াম।

–         মানে স্যার ধন্যিমেয়ের মত সিনেমা?

–         দেখ যে গল্প বলা হয়ে গেছে তাকে আবার নতুন করে বলার মধ্যে কোন কৃতিত্ব আছে কি? বাংলা ছবিতে ফুটবল এসেছে ধন্যিমেয়ে, মোহনবাগানের মেয়ে, বাইসাইকেল কিক ইত্যাদি কিছু ছবিতে, কিন্তু সেখানে শুধুই ফুটবল এসেছে এম্ন নয়, হয় প্রেমের গল্পের প্যারালাল প্লটে ফুটবল, না হলে কোন একটা চক্রান্তের প্যারালাল প্লটে ফুটবল, কিন্তু টোটাল ফুটবল নিয়ে কোন সিনেমা বাংলায় হয় নি, তাই না, তাই আমি ঠিক করেছি এবারে এমন ছবি করব যা কিনা টোটাল ফুটবল!!! আইডিয়াটা দারুন না?

–         হ্যাঁ স্যার নিশ্চই, কিন্তু এই টোটাল ফুটবল ব্যাপারটা ঠিক…

–         মানে হলে দর্শক যখন ঢুকবে সেই সময় থেকে তাকে সিনেমা নয় ফুটবলের ফিলটা দেওয়া হবে এই ছবিতে।

–         কিভাবে স্যার?

–         থ্রি ডি ছবিতে হলে ঢোকার আগে যেমন চশমা দেওয়া হয় এখানে হলে ঢোকার আগে বল, জার্সি, বুট, স্কস, সিনবোন গার্ড, তারপরে ঐ ঐ.. গার্ড, সব দর্শকদের দেওয়া হবে, দু দলের বসার জায়গা আলাদা রাখা হবে, ভুভুজেলা দেওয়া হবে এইসব শুধু শুরুর সময়ে ফিলটা আনবার জন্যে। কোলকাতা তে তো বিশেষ বিশেষ মাল্টিপ্লেক্সের লাইন মেন্টেন করতে আমরা হলের বুকীং এর কাছে মাউন্টেড পুলিশ ও রাখার বন্দোবস্ত করছি।

–         কিন্তু স্যার যদি স্টোরি লাইনটা যদি একটু হিন্ট দেন…

–         সেটা তো রিরি পুরোটা বলা সম্ভব না আর উচিত ও নয় তাহলে লোক হলে আসবে কেন টিকিট কেটে…

–         না মানে একটু..

–         এটা হচ্ছে একটা গল্প যেখানে একটা চিরাচরিত কনফ্লিক্ট কে আমরা ফোকাসে রেখেছি।

–         চিরাচরিত কনফ্লিক্ট বলতে…..

–         পুরুষ ও নারীর দ্বন্দ!!! বুঝতে পারলে না

–         তারমানে ?

–         আমার গল্পের নায়ক হল ফুটবল আর ভিলেন হল এই সমাজ, আর তার বাসিন্দারা পুরুষ ও মহিলা কুল। এই দুই দলের মধ্যে চিরাচিরত যুদ্ধের ফয়সলা হবে ফুটবল মাঠে। আর পুরুষদের কোচ একজন মহিলা ফুটবলার, আর মহিলাদের একজন পুরুষ। বাকি টুকু হলে।

–         কিন্তু স্যার এখানে তো সেই পুরুষ নারির যুদ্ধের গল্প বলা হচ্ছে, সেই প্রেম একটু অন্য ভাবে।

–         ঐখানেই তো গল্পের মোচড়, বাকিটা তো বলা যাবে না।

–         স্যার আপনার টেকনিকাল টিম শুনেছি না কি দারুন

–         এই দারুন কথাটা একটা আন্ডার স্টেটমেন্ট, সুপার্ব! সুপার্ব! আমরা মাঠের প্রপার ফিলের জন্য বলের মধ্যেও মাইক্রোফোন আর ক্যামেরা রেখেছি, অতেই তো প্রপার স্ক্রীপ্ট আর ফোটোগ্রাফির একটা মেজর পোর্সান হয়ে যাচ্ছে আমাদের। আর বাকিশুট টুকুর জন্যে আমরা যে কতগুলো ক্যামেরা রেখেছি সেটাও ভীষন গোপনীয়। কিছু মনে কর না।

–         না না ঠিক আছে, ঠিক আছে… কিন্তু স্যার একটা কৌতূহল চাপতে পারছি না, এই খেলায় শেষমেশ জিতছে কে? ওটা আপনি যদি আমাকে বলেন আমি কথা দিচ্ছি সেটা অফ দ্য রেকর্ড রাখব..

–         বলছ…

–         না মানে যদি.. কোন

–         ছবির শেষটা বেশ ভায়লেন্ট, মানে সিচুয়েশান টা সেই রকম ই ডিমান্ড করছে আর কি, খেলেতে খেলতে দুদলের প্লেয়ারদের মধ্যে একটা চাপা প্রেমের উদ্রেক হয়ে যায়, আরকি, তখন পুরুষদের সেন্টার ফরোয়ার্ড মহিলাদের গোল মুখে এসে বল না ঠলে গোলকিপারকে জড়িয়ে ধরে বলে “আমি তোমায় ভালবাসি”। ফলে গোল হয় না খেলা ড্র!, এদিকে হয়েছে কি এই পরাজয় মহিলা কোচ সহ্য করতে পারে না। সে হিতাহিত জ্ঞ্যন শুন্য হয়ে পুরুষ কোচ কে কামড়ে দেন। ক্যামেরা ফেড আউট করতে থাকে।

–         স্যার ব্যাপারটা উরুগুয়ের স্যুয়ারেজের ঘটনার মত হয়ে যাচ্ছে না?

দেখ উরুগুয়ে না হাঁটুগুয়ে জানি না, এই জন্যেই বলে ফিল্ম লাইনে চিত্রনাট্য কে যে কখন চুরি করছে ধরা দায়।

Article By:

bengali writer

Shri Somankar Lahiri was born on 17th of January 1967, in a small town name Serampore, in Hooghly district. His parents were Late D.S.Lahiri and Late Mukul Lahiri. Shri Lahiri completed his schooling from Mahesh Sri Ramkrishna Ashram, (1982) Chatra Nandalal Institution (1984) and graduated from Calcutta University in 1986. At present he is working with National Sample Survey Office, which belongs to The Ministry of Statistics and Program Implementation, as a Data Processing Asst. Along with adeptly managing his professional life, Shri. Lahiri also zealously follows his passion for writing and has many a beautiful short stories and excerpts to his credit.

Image Credits: Google Images