Tag: Bengali-Thriler

Audience Review of New Bengali Thriller Sesh Anka in Bengali; A Film that will Never Disappoint

New-Bengali-film-Sesh-Anka

পরিচালক তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায়

মূল চরিত্রে- দীপঙ্কর দে, পার্ণো মিত্র, মীর, দেবলীনা দত্ত, শঙ্কর চক্রবর্তী, জুন মালিয়া, অরিন্দম শীল, সমদর্শী দত্ত।

বেশ কয়েকটা থ্রিলার সিনেমা এই দু তিন বছরে হয়েছে টালিগঞ্জে। ব্যোমকেশ ফেলুদার গতানুগতিকতা থেকে বেরিয়ে সন্ধ্যে নামার আগে কিংবা এবার শবরের মত ঝকঝকে সিনেমা পেয়েছি আমরা। একদিকে যেমন তামিল টোকা কমার্শিয়াল বাংলা ছায়াছবির বাজার নিম্নগামী হচ্ছে অন্যদিকে এই ধরণের মৌলিক চিন্তাভাবনার সিনেমাগুলি মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। ব্যাপারটা যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক বলে আমার মনে হয়েছে। বেলাশেষের মত সিনেমা চলছে এখনও, মধ্যবিত্ত শিক্ষিত বাঙালি দর্শক যারা হল বিমুখ হয়ে পড়েছিলেন অনাবশ্যক দক্ষিণী সিনেমার কপি দেখে দেখে, তারাও এই সিনেমাগুলিকে সাদরে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি সব সময়েই চাই বাংলা মৌলিক সিনেমা খুব খুব সফল হোক একই দিকে দক্ষিনী টোকাগুলি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ুক। মুখ থুবড়ে পড়লে বাংলার অধিকাংশ সিনেমাহল দখল করে রাখা সিনেমা প্রোডিউসাররা অন্তত কমার্শিয়াল সিনেমা নিয়ে অন্য কোন চিন্তাভাবনা করা শুরু করবেন। যেটায় আদতে লাভবান হবে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। যাই হোক, ধান ভানতে শিবের গীত হয়ে গেল খানিকটা। এই সপ্তাহেই দেখে ফেললাম তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিনেমা “শেষ অঙ্ক”।

শেষ অঙ্কর কথা মনে আসলেই সেই উত্তম-শর্মিলার মাস্টারপিসটির কথা মনে আসা স্বাভাবিক, অনেকেই এই ভেবে ভুলও করেছেন, যে হয়ত এটি সেই সিনেমার রিমেক। কিন্তু ব্যাপারটা আদপেই তা নয়। এই সিনেমার গল্পটির লেখক তথা চিত্রনাট্যকার এবং একাধারে ছবির সৃজন-এর দায়িত্বে থাকা সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় অভিষেকেই বেশ ভাল রান করে ফেলেছেন এই কথাটি বলাই যায়।

অথচ সিনেমার শুরুটা কিন্তু সেরকম ব্লাস্ট দিয়ে শুরু হয় নি। অন্ধকার গাড়িতে পার্ণো মিত্রর নেশায় জর্জরিত অবস্থায় যাওয়া দিয়ে সিনেমাটি শুরু হল। ধরা পড়লেন খুন করার অপবাদে এবং তাকে বাঁচাতে নামতে হল প্রণয় ক্রিমিনাল ল ইয়ার প্রণয় দাশগুপ্তকে। প্রণয় দাশগুপ্ত ফেলুদা কিংবা ব্যোমকেশের মত তরুণ গোয়েন্দা বা সত্যান্বেষী নন। বরং তাঁর চলনের সাথে মিল পাওয়া যায় কাঁটা সিরিজের ব্যারিস্টার বাসুর। এবং এখানেই আর পাঁচটা বাংলা থ্রিলারের থেকে শেষ অঙ্ক আর স্বকীয়তায় উজ্জ্বল।
গল্পটা বেশি বললে সিনেমা দেখার মজাটা মাটি হয়ে যেতে পারে এই আশঙ্কা যদিও থেকেই যায় তবু বলতে হয়, আমাকে যে ব্যাপারটা সব থেকে বেশি মুগ্ধ করেছে সেটা হল এই সিনেমার কাস্টিং। এক্কেবারে

appropriate casting বলতে যা বোঝায় সেটা দেখতে পাওয়া গেছে শেষ অঙ্কতে। শঙ্কর চক্রবর্তী, অরিন্দম শীল, দেবলীনা দত্ত, সমদর্শী দত্ত, পার্ণো মিত্র, জুন মালিয়া,শতাফ ফিগরদের মত চরিত্রাভিনেতারা এই সিনেমার সম্পদ।দেবলীনা দত্ত দিন দিন অবাক করছেন। এই সিনেমায় তার সাহসী অভিনয় মুগ্ধ করেছে একজন দর্শক হিসেবে। সমদর্শী দত্তকে দেখে বার বার মনে হয়েছে বাংলা সিনেমা তার মত অভিনেতাকে আরও বেশি করে চায়।ভবিষ্যতে তাকে আরও বেশি করে দেখতে পাব এই আশায় রাখি। পার্ণো মিত্রের যদিও এই সিনেমায় খুব বেশি কিছু দেবার ছিল না তবু তিনি তার চরিত্রঅনুযায়ী যতটা করার ততটাই করেছেন। প্রণয় দাশগুপ্তের ভূমিকায় দীপঙ্কর দে অসামান্য। তাঁর স্ক্রিন প্রেজেন্স, কথা বলা মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে এমনকি সিনেমা শেষ হবার পরেও। এবং যার কথা না বললেই হয় তিনি হলেন জন ব্রিগেঞ্জার চরিত্রে মীর। সিনেমার মাঝে জন ব্রিগেঞ্জার আসা যাওয়া, লুকিয়ে চুরিয়ে প্রণয় দাশগুপ্তকে বিভিন্ন প্রমাণ তথ্যাদি সাপ্লাই করা, সিনেমায় ফ্রেশ অক্সিজেনের সাপ্লাই করেছে বললে ভুল হবে না। মীরের স্ক্রিন প্রেজেন্স এবং স্বতঃস্ফূর্ততা এখনও একই রকম আছে, নাহ, ভুল বললাম। যত দিন যাচ্ছে, তা আসলে একটা অন্য লেভেলে পৌঁছে যাচ্ছে। এই সিনেমার এটাও বড় কথা, পরিচালক মীরকে অত্যন্ত সুনিপুণ ভাবে ব্যবহার করেছেন। ভূতের ভবিষ্যতে মীরকে দেখে ভাল লেগেছিল কিন্তু শেষ অঙ্কে মীর অতুলনীয়। জানি না, মীর না থাকলে এই চরিত্র করার মত ইন্ডাস্ট্রিতে আর দ্বিতীয় কেউ আছেন কিনা।
সিনেমার আবহসঙ্গীতে স্যাভির কাজ বেশ ভাল লেগেছে। ঊষা উত্থুপ যথারীতি কোন কথা হবে না।

সব শেষে বলব এই সিনেমা আশা জাগায়। আমরা অপেক্ষা করে থাকি শেষ অঙ্কের মত সিনেমার জন্য। ভবিষ্যতে আরও এরকম সিনেমা পাব, বাংলা সিনেমার একজন দর্শক হিসেবে সেই আশাই রাখি।

Reviewer Abhik Dutta rates New Bengali Film Sesh Anka 7/10

New Bengali Film Sesh Anka review by Abhik Dutta:

Abhik-Dutta-Review

(অভীক দত্ত ‘আদরের নৌকা’ নামক একটি বাংলা সাহিত্য পত্রিকার প্রধান কর্ণধার)