Tag: Bharati Achrekar

Bollywood Hindi Movie The Lunch Box – Movie Review (In Bengali for the Bangali)

lunch box movie review

The Lunch Box ইচ্ছে থাকলেই উপায় হয়! একটি ভালো, সুস্থ রুচির ছবি করতে গেলে যেটার প্রয়োজন হয়, সেটা হল একটি উপভোগ্য গল্প এবং এমন চিত্রনাট্য, যেটির উৎস – প্রবাহ – ধারা ছবিটিকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। দ্য লাঞ্চবক্স ছবিটির ভাষা হিন্দি হলেও,আবেদন কিন্তু সার্বজনীন। পরিচালক রিতেশ বাত্রা একটি সাধারন বিষয় অসাধারন করে তুলেছেন, নিজের গল্প বলার স্টাইলকে সঠিক পথে ব্যবহার করে। বাংলাতে ছবিটি করলে হয়ত বা নামকরন করা যেতো ” হঠাৎ বসন্ত ” কিম্বা “বিকেলে ভোরের ফুল”। এই ছবিতে Irrfan Khan এমন এক চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যা এক কথায় যেকোনো অভিনেতার কাছে ঈর্ষার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। The Lunch Box -কে একটি romantic গল্পই বলা চলে তবে একটু অন্যধরনের প্রেমের উপাখ্যান শোনানো হয়েছে। যে কাহিনীর কেন্দ্রে আছেন এমন দুজন নারী -পুরুষ, যাদের সামাজিক অবস্থান সম্পূর্ণ ভাবে স্বতন্ত্র। একপ্রান্তে যেমন আছেন এমন একজন বিপত্নীক পুরুষ,যার জীবনে ধীরে ধীরে সন্ধ্যে ঘনিয়ে এসেছে। কাহিনীর অপরপ্রান্তে ঠিক তেমনই আছেন এমন এক বিবাহিতা নারী, যিনি জীবনের এমন এক সন্ধিক্ষণে দাড়িয়ে আছেন, যেখান থেকে তার পথ বেঁকে গেছে এক অজানা অচেনা ভবিষ্যতের দিকে।

কর্মজীবনের অবসরপ্রান্তে পৌঁছে যাওয়া সেই পুরুষ এবং দিশাহীনা সেই নারীর আকস্মিকভাবে আলাপ হয়ে যায়, একটি সামান্য লাঞ্চবক্স-এর সূত্র ধরে। কথায় বলে, মনের গভীরে পৌঁছতে গেলে, পেটের পথ ধরতে হয় … ঠিক ওইভাবেই প্রায় বৃদ্ধ Saajan Feranandez-এর সঙ্গে লাঞ্চবক্সের পাল্টাপাল্টির পথ ধরে যোগাযোগ হয়ে গেলো মধ্য তিরিশের গৃহবঁধু ইলার (Ila)-র সঙ্গে। সাজন এবং ইলার মধ্যে কথোপকথন শুরু হাওয়ার ইতিবৃত্ত-খানি বেশ মিষ্টিভাবে শুনিয়েছেন রিতেশ বাত্রা (Ritesh Batra)। আমার সবথেকে যেটা মন টেনেছে, তা হল এই মোবাইল-এর যুগে গল্পকার কিন্তু অগ্রাধীকার দিয়েছেন প্রেমের আদি-বাহকরূপে স্বীকৃতি পাওয়া চিঠি-কেই।

ইরফান খান এবং নিম্রাত কাউর (Nimrat Kaur) এই অসমবয়স্ক প্রেমিকযুগলের চরিত্রে প্রান ঢেলে অভিনয় করেছেন। বিশেষত নিম্রাত এমন অভিনয় যে করবেন, এটা বোধয় কোন সমলোচক-ই আন্দাজ করে উঠতে পারেনি। কিন্তু নিম্রাত কাউর কাজটি করে ফেললেন এবং এমনভাবে নিজের অভিনয় দক্ষ্যতার প্রমান রাখলেন, যে স্বয়ং ইরফান খান-কেও নির্মিতের সঙ্গে তুলনা করলে মাঝে মাঝেই একটু যেন ‘কম’ ভালো বলে মনে হয়েছে। ইলার চরিত্রটি গল্পে খুব লাজুক এবং সংবেদনশীলা, তাই বোধয় নিম্রাতের চেহারা তথা ব্যক্তিত্ত খুব ভালোভাবে ইলার সঙ্গে মিশে গিয়ে একাকার হয়ে গেছে। অন্যদিকে ইরফান খানের চরিত্রটি বেশ কঠিন ছিল বলে আমার মনে হয়েছে। প্রথমতঃ, সাজন-এর থেকে ইরফানের বয়স অনেকটা কম তাই ইরফান-কে নিজের বয়সের থেকে নিজের অভিনেতা স্বত্বাটাকে অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছে। দ্বিতীয় কারন হচ্ছে, শুরুর দিকে সাজন একজন নির্বিকার প্রকৃতির বেশ কটুভাষী মানুষ এবং এমন চরিত্রে অভিনয় করাটা সবসময় কঠিন কাজ। কিন্তু অভিনেতার নাম যখন ‘ইরফান খান’, তখন সেই অভিনেতার কাছে অসম্ভব বলে কিছু আছে নাকি? সব অসম্ভবকেই সম্ভব করে ফেলার অদ্ভুত ক্ষমতার অধিকারী এই শক্তিশালী মঞ্চাভিনেতা। যদিও সাজন চরিত্রে আজকের মিঠুন চক্রবর্তী-কেও খুব ভালো মানাত বলে আমার বিশ্বাস। ছবির চিত্রগ্রহণ আমার বেশ ভালো লাগেছে,চিত্রগ্রাহক মাইকেল সিমন্দস (Michael Simmonds) দারুন ক্যামেরার কাজ করেছেন। সম্পাদনার কাজও বেশ টানটান, তাই জন এফ লিওন্স (John . F. Lyons)-এর থেকেও মার্কস কাটা গেলো না।

এবার “দ্য লাঞ্চবক্স” নামক রান্না-টিকে সর্বাঙ্গসুন্দর করে তুলতে প্রয়োজন ছিল শুধু একটু ঝাল লঙ্কার। রিতেশ এই রান্নাতে পাকা রাঁধুনির মতন মিশিয়ে দিলেন এমন এক ধানি লঙ্কাকে, যিনি নিজগুনে “দ্য লাঞ্ছবক্স” -কে করে তুললেন অতি উপাদেয়। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন আমি বলছি আসলাম শেখ অর্থাৎ নাওজুদ্দিন সিদ্দখির কথা। এই গল্পে তার প্রত্যক্ষভাবে করনীয় তেমন বিশেষ কিছুই নেই কিন্তু তাও তাকে ছাড়া “দ্য লাঞ্চবক্স” কেমন যেন বিস্বাদ ঠেকতো, একথা সব দর্শকদেরই স্বীকার করে নিতেই হবে। একটি মজার নিম্নবিত্ত, মুসলিম চরিত্রে ফাটাফাটি অভিনয় করেছেন ‘কাহানি’ ছবির ধুরন্ধর এ. সি. পি. খান । তিনি পর্দায় এসে সংলাপ বললেই সমস্ত দর্শক হেসে লুটিয়ে পড়েছে। সাজন-এর জীবনে যদি আসলামের আগমন না হত তাহলে কি সাজন নিজের মনে কোনে লুকিয়ে থাকা মমতঃ বোধকে উপলব্ধি করতে পারতো? এই ছবিতে আসলামের মুখে নানান ধরনের মজার সংলাপ রেখেছেন পরিচালক রিতেশ বাত্রা এবং পরিচালকের আস্তাকে যথাযোগ্য মর্যাদা দিয়েছেন নাওয়াজ (Nawazuddin Siddiqui)।

আরো একটি অন্যধরনের চরিত্র এই ছবিতে ভীষনভাবেই আছেন, যদিও তাকে দেখা যায়নি একবারের জন্যেও। শুধু উপর থেকে ভগবানের মতন শোনা গেছে সেই ভদ্রমহিলার কণ্ঠস্বর। তিনি হচ্ছেন ইলার প্রতিবেশিনী মিসেস দেশমুখের চরিত্রে ভারতি আচেরকর (Bharati Achrekar)। শুধুমাত্র কণ্ঠস্বর দিয়েই তিনি মাত করে দিয়েছেন। ইলার প্রতিবেশিনীর এই কণ্ঠস্বরকে আমার মনে হয়েছে যেন শুদ্ধ দেশী নুন।

আরেকজনের কথা এখানে উল্লেখ করতে মন চাইছে, তিনি হলেন বাঙালির প্রিয় গায়ক কুমার শানু (Kumar Sanu)। রিতেশ ‘সাজনের’ (Saajan) সেই পুরনো গান “ মেরা দিল ভি কিতনা পাগল হ্যাঁয়” গানটিকে এতো সুন্দরভাবে খাপ খাইয়ে দিয়েছেন এই রান্নাতে, যে কুমার শানুর সেই কণ্ঠকে মনে হয়েছে যেন খাঁটি সর্ষের তেল। সঙ্গীত পরিচালনায় যদিও ম্যাক্স রিচটার (Max Richter)-এর নাম আছে কিন্তু ‘সাজনের’ এই গানটিকে ব্যবহার করার সিদ্ধান্তটা আমার মনে হয় রিতেশ বাত্রা নিজেই নিয়েছেন।

তাহলে কি দাঁড়ালো পুরো রান্নার রেসিপি ?

নিম্রাত =  ভাত

ইরফান = পেঁয়াজ

ভারতি = নুন

নাওয়াজ = লঙ্কা

কুমার শানু = তেল

কি জমে গেলো না বাঙালির দুপুরের লাঞ্চটা ? পান্তাভাতের মতন সুস্বাদু কোন লাঞ্চ আছে নাকি?

আমার তো দুপুর 1:45 শো দেখে নন্দন প্রেক্ষাগ্রহ থেকে বাইরে বেরোবার সময় বেশ কয়েকবার রীতিমত ঢেঁকুর উঠেছে … তাই বাইরে বেরিয়েই এক ভাঁড় গরম চা খেয়ে ফেললাম।

Synopsis of the The Lunch Box: “Kabhi kabhi galat train bhi sahi jagah pahuncha deti hai” (Sometimes even a wrong train can get you to the right destination).


The Lunchbox | Official Trailer | Irrfan Khan | Nimrat Kaur | Nawazuddin Siddiqui (You Tube)

 

 

Movie review by:

SanjibSanjib Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and have written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.
Sanjib can be reached at sanjib@sholoanabangaliana.com

Enhanced by Zemanta