Tag: Bharatiya Janata Party

Saraswati Puja 2014, An Insight into Bengal’s Day of Love (Sholoana Bangaliana Feature)

Saraswati Puja 2014

সে একটা সময় ছিল যখন সুবে বাংলায় ছয়টি ঋতুর মধ্যে পাঁচটিকে বোঝা যেত। এখন যেমন শীতের পরেপরেই গরমকাল লফিয়ে পরে মানুষকে ক্ষত বিক্ষত করে দেয় সেই সময় তার মাঝে আরো একটা কাল ছিল, যার নাম বসন্ত। ঋতুরাজ। সেই ঋতুরাজ পৃথিবীকে সাজাত নিজের মনেরমত করে। মানুষের মনকে নিয়ে নিত নিজের কব্জায়। ঘোর বেরসিকও তখন মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকাত, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের, মান্না দের, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় বা লতা মঙ্গেশকর এর গান সুরে না পারলে বেসুরে গুনগুন করত। আর রসিকের জন্যে ছিল সরস্বতী পুজো।

saraswati puja 2014

এই একটা ব্যাপার যা দেখিয়ে দিতে পারত যে এলাকার কোন ছেলেটা বড় হলে কী হবে আর কোন মেয়েটা এলাকায় থাকবে নাকি পগারপার হবে বড় হলে। যে পড়ালেখার তিনি দেবী সেই পড়ালেখা তখন নতুন ক্লাসে জোর কদমে শুরু হত না, কারন পরীক্ষার রেজাল্ট ইত্যাদি ঘোরতর ষড়যন্ত্রের ফল তখন প্রকাশিত হয়ে যেত ২৪শে ডিসেম্বর তারপরে ১য়লা জানুয়ারী অবধি সার্কাস, চিড়িয়াখানা, (চুপি চুপি বলে রাখা দরকার এই রেজাল্ট ইত্যাদি ঘোরতর ষড়যন্ত্রের ফল প্রকাশের ফলে যারা আহত বা নিহত হত মানে অঙ্কে ১৫ বা ডাহা ফেল ইত্যাদি তারাও দিন দুয়েক কানমলা কীল চড়ের পরে এই সার্কাস বা চিড়িয়েখানা বা পিকনিকে অংশগ্রহণ করতে পারত, মুখটা প্রথমে কাঁচুমাঁচু থাকত পরে সব ঠিক হয়ে যেত) তারপরে নতুন ক্লাস, নতুন বই। কিন্তু সেটা দেবীর পায়ে না ঠেকিয়ে নিলে যে চলবে না, তাই সরস্বতী পুজোয় সেটা “মা” কে দিয়ে শুদ্ধ করিয়ে নিয়ে পড়াশোনা শুরু হত। এরমধ্যে পড়াশোনার মানত কার কি হত সেটা বলা যাবে না, কারন সেটা ভক্ত ভগবানের ভিতরের ব্যাপার, কিন্তু কমন ফ্যাক্টার একটা থাকত সেটা হল “মা সন্ধ্যা বেলা ঠাকুর দেখতে যাওয়ার সময় যেন সন্ধ্যা বা রীতা একটু আমার দিকে তাকায়, (কথা বললে ‘উঃ!!’, আর ঠাকুর দেখতে যদি যায় মা পরেরবার জোড়া পাঁঠা বলি, থুড়িথুড়ি তুমি তো মা নিরামিশ, আচ্ছা আচ্ছা পুজোর আগে টোপা কুল খাবো না, ‘মা ক্কালী’ তুমি দেখে নিও), একটু ম্যানেজ করে দিও মা, ওর মেজকা আর দুই দাদা আবার ব্যায়াম ভাঁজে, লোহাফোহা তোলে সে গুলোকে একটু সামলে রেখো মা”। উল্টোদিকেও যে ব্যাপারটা থাকত না তা বলা যাবে না। “মাগো বড় বৌদিকে একটু ম্যানেজ করে দিও মা, আর ওর বন্ধুগুলোকেও, (কে তা তো তুমি বুঝতেই পারছ, হবু হলেও বর তো, নামটা কি করে মুখে আনি বল?) ওর বন্ধুগুলো যা অসভ্য মা তোমায় কি বলব, যেই না একটুস খানি ওর দিকে তাকিয়েছি ওমনি হাড়হাভাতেগুলো বৌদি বৌদি করে কি অসভ্যতাই না করে পাড়ায়, আমার বুঝি লজ্জা করেনা বল”?

saraswati puja 2014

এই যে সন্ধ্যা বা রিতার জন্যে আকুলি বিকুলি বা পল্টু বা অতনুর জন্য লুকানো হাপিত্যেশ এটা কিন্তু এই পুজোরই বাই প্রোডাক্ট। প্রোডাক্ট হচ্ছে সরস্বতী পুজো। এটা আমরা যারা স্কুলের থেকে শুরু করি তাদের ট্রেনিং হয় নতুন আলুর খোসা ছাড়ান দিয়ে। তারপরে ধাপে ধাপে এগিয়ে ফাইনালি মেয়েদের স্কুলে নিমন্ত্রণ করতে যাওয়ায় শেষ হয়। আর পুজোর দিনে কে কোন স্কুল থেকে আসবে তার একটা প্রাথমিক ধারনা করে নিয়ে তার মধ্যে থেকে যিনি আমার পছন্দ তাঁকে প্রপার ইম্প্রেস করার জন্যে কি কি করা উচিত তার একটা মক্স করে রাখা। মেয়েদের স্কুলের হেড দিদিমণিরা বা অন্য দিদিমণিরা একএকজন ঝানু ফিল্ডার, নিমন্ত্রণ করলেও ভিতরে ঢোকার সাথে সাথে ফিল্ডিং শুরু করে দিতেন।

saraswati puja 2014

আর যারা পাড়ার পুজো দিয়ে হাতেখড়ি করেছি তাদের শুরু চাঁদা আদায় থেকে। সেই সময় চাঁদা চাইতে গেলে অনেক  বাড়ীতে সরস্বতী বানান লিখতে দিত। আমাদের মন্টু প্রায় চার পাঁচ রকমের সরস্বতী বানান লিখতে পারত। যেবাড়ীতে যেমন চাঁদা সেই বাড়ীর সরস্বতী বানান ও সেই রকম। তারপরে ডেকরেটার্স এর সাথে হাতে পায়ে ধরাধরি করে প্যান্ডেলের বাজেট কমানো, আর অবধারিত ভাবে আগের বছরের বাকীর দায় আগেরবছরের উদ্যোক্তাদের ঘাড়ে চালান দেওয়ার চেষ্টা। কিন্তু তিনিও তো ঘাসে মুখ দিয়ে চলেন না। তাই ঝগড়া থামাতে পাড়ার বড়দের কাছেই হাত পাততে হত, সেখানে সব পাশ করা উকিল, দুর্গা পুজোর ফাঁদ পেতে সরস্বতী পুজো ম্যানেজ সেখানে আকছার। আর এরই মধ্যে দেখা যেত যে কর্মকর্তাদের কয়েকজনের রিক্সা চড়া আর ফিল্টার সিগারেট খাওয়া বেড়ে গেছে কারনটা… বলাই বাহুল্য।

উন্মুখ হওয়া, ছটফট করা শুরু হত পাড়ায় অঞ্জলীর আগে থাকতে, কি করে পাশে দাঁড়ান যায় সে স্কীম চলত বেশ কয়েক ঘ্নটা আগের থাকতে। আর সেটাই ছিল সাটিং এর প্রথম ধাপ। যদি দেখা যেত ইপ্সিতা বা ইপ্সিতের পাশে দাঁড়ানর পরে অন্য দিক থেকে হালকা ফুরফুরে হাওয়া আসছে তবেই নেক্সট স্টেপ। আর অন্য দিকে ঝড় থাকলে সেটা সামলাতে যারা পারত তারা পরে অনেক বড় বড় পদে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। কেউ নেতা, কেউ আমলা, নিদেন পক্ষে এলাকার প্রোমোটার।

saraswati puja 2014

মহিলা কুল যে স্কীমিং করতেন না তা নয়, সেটার প্রথম ধাপ ছিল ‘তিরছি নজরিয়া কে বান’ বাঁচিয়ে কাটিয়ে যারা বেরতে পেরেছে বড় হয়ে ডক্টরেট করেছে, আমেরিকা চলে গেছে, নাসার বিজ্ঞানী হয়েছে কী না হয়েছে। কিন্তু সেই সংখ্যা খুব ই কম। তিরছি নজরিয়া তে কাজ না হলে তখন ‘কবুতর কে খোঁজমে’ আসেপাসের বাসিন্দা পরিচিত মেয়ে কে আছে, তখন তাকে পটিয়ে পায়রা বানিয়ে কাজ হাসিল করা। এতে ঘায়েল হয়েছে প্রচুর, আর পাড়ায় শ্বশুরবাড়ি করে জেরবার হয়েছে উত্তর চল্লিশে। আর তিন নম্বরে যারা ছিল তারা খালি হাতে মানুষ খুনও করে ফেলতে পারত। একেবারে সরাসরি ঝাঁপাতে পারত তারা। তবে তাদের হাতে যারা পরেছে তারা পরে পাগলাগারদে মাঝেমাঝে গেছে এমন খবর অনেকের কাছেই আছে কিন্তু কেউ সাহস করে বলতে পারে না।

স্কীমিং পর্বের পরে দয়িত বা দয়িতা কে নিজের হৃদয় উন্মুক্ত করে দেখান যে সেখানে কত ব্যাথা, এই পর্বটার জন্যে দায়ী ছিল উত্তমকুমার সুচিত্রা সেনের অভিনীত সিনেমা গুলো, আরে বাবা তাদের ব্যাপার, মানে এই সব ব্যাথা ট্যাথা সব কিছু কাহিনীকার, পরিচালক এরা ঠিকঠাক করে রাখতেন, আম জনতার সেই জিনিস নাড়াচাড়া না করাই শ্রেয় ছিল। কত মাখোমাখো হবোহবো প্রেম এই কেলোটা করার জন্যে কেঁচে কঁকিয়ে একসা হয়েছে সে আর বলার নয়। এইটা ম্যানেজ করতে পারলে তবে রাতে লুকীয়ে ঠাকুর টাকুর দেখতে যাওয়ার ব্যাপারটা হলেও হতে পারেত। না হলে আঙুল চোষা ছাড়া গত্যান্তর থাকত না।

kolkata book fair 2014

ফাইনান্স এমন একটা সাবজেক্ট যে সব সময় তার চাহিদা ছিল আছে থাকবে। বাঙালী সেই সাবজেক্ট কে কেন যে এত হেনস্থা করত কে জানে? আমি আমার অনেক বন্ধুকে জানি যাঁরা বর্তমানে দেশ বিদেশের বহু বড় বড় কোম্পানীর ফিনান্স ডিপার্টমেন্ট কাঁপাচ্ছে তাদের প্রায় সবাই দুর্গা পুজোর একাদশীর দিন থেকে বাজারের পয়সা ঝাড়ত, বাড়ীর পুরানো খবরের কাগজ বেচে সেখান থেকে পয়সা বাঁচাত এই সরস্বতী পুজোকে টার্গেটে রেখে। আর এদের মধ্যে সবচেয়ে ওস্তাদ যারা তারা আবার তাদের সরস্বতী পুজোর প্রেমিকার ট্যাঁক খালি করতে পারত। এদের অনেকে ভারত বা রাজ্য সরকারের রেভিনিউ ডিপার্টমেন্টে চাকরি করছে অথবা ট্যাক্স কন্সালটেন্ট হয়েছেন।

kolkata book fair 2014

কলকাতা প্রেমিক প্রেমিকাদের জন্যে বড় নিষ্ঠুর শহর ছিল এক সময়। এই শহর কেন জানি না প্রেমিক প্রেমিকাদের দেখলেই এক ধরনের ধর্ষকামী আচরণ করতে চাইত। অনেকটা আইবুড়ো জ্যাঠা বা পিসির মত। সেখান থেকে কলকাতাবাসী একটা মুক্তির জায়গা পেয়েছে বিগত প্রায় ৩৫ বছর ধরে, সেটা হল বইমেলা। বই না পড়লে আপত্তি নেই, কিনতে হবে এমন মাথার দিব্যি কেউ দেয় নি, শুধু হাতে হাত রেখে যদি ধুলো আর মুরগী খাওয়ার দম থাকে তবে এই স্থান প্রেমিক প্রেমিকাদের জন্য আদর্শ কিন্তু মুশকীল একটাই এই মেলা সবসময় একটা নির্দিষ্ট সময়েই হয়। গীল্ড যদি মায়ের পুজোর সাথে তাদের মেলার দিনের একটা মেলবন্ধনের চিন্তা করেন তবে কলকাতার প্রেমিককুল দুহাত তুলে যে তাদের আশির্বাদ করবেন সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।

 

Photographs:

Amitav Sarkar and Bitan De

Saraswati Puja 2014 special feature by:

bengali writer

Shri Somankar Lahiri was born on 17th of January 1967, in a small town name Serampore, in Hooghly district. His parents were Late D.S.Lahiri and Late Mukul Lahiri. Shri Lahiri completed his schooling from Mahesh Sri Ramkrishna Ashram, (1982) Chatra Nandalal Institution (1984) and graduated from Calcutta University in 1986. At present he is working with National Sample Survey Office, which belongs to The Ministry of Statistics and Program Implementation, as a Data Processing Asst. Along with adeptly managing his professional life, Shri. Lahiri also zealously follows his passion for writing and has many a beautiful short stories and excerpts to his credit.

Enhanced by Zemanta