Tag: book-review

BATMAN : THE LONG HALLOWEEN – A Review

Batman-review

গথাম শহরের অপরাধের দুনিয়ায় রাজত্ব করছে এক হাড় হিম করা আতঙ্ক, যার নাম ‘হলিডে কিলার’। হ্যালোউইন উৎসবের

সন্ধিক্ষণে, শহরের অন্যতম অপরাধগুরু কারমাইন ‘দি রোমান’ ফ্যালকনের ভাইপো জনি ভিট্টির শরীর এফোঁড় ওফোঁড় করে দিলো একটি বুলেট। কায়মনোবাক্যে ফ্যালকন সাম্রাজ্যের পতন চেয়ে আসা ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি হার্ভে ডেন্ট, নিজের মতো করে তদন্ত শুরু করলেন। আর তারপরেই আততায়ীর রেখে যাওয়া বোমার বিস্ফোরণে উড়ে গেলো তাঁর আবাসস্থল। এরপর থ্যাঙ্কসগিভিং, ক্রিসমাস, নিউ ইয়ার, প্রতিটি ছুটির দিনে তার রক্তাক্ত স্বাক্ষর রেখে গেল এই সার্থকনামা খুনী। শুধু ফ্যালকনের পরিবার নয়, হলিডে কিলারের অভ্রান্ত নিশানা থেকে রেহাই পেলো না বিরুদ্ধপক্ষের ক্রাইমবস্‌ সল মারোনির দলের লোকেরাও। শহরজুড়ে যখন এই টালমাটাল অবস্থা তখন উদ্‌ভ্রান্ত হয়ে সমাধানের সূত্র খুঁজে চলেছে ব্রুস ওয়েন ওরফে ব্যাটম্যান। পুলিশ কমিশনার জিম গর্ডন, রহস্যময়ী ক্যাটওম্যান সময়বিশেষে বাড়িয়ে দিচ্ছে সাহায্যের হাত, তবুহলিডে কিলার রয়ে যাচ্ছে সেই ধরাছোঁয়ার বাইরে। দেখতে দেখতে বছর ঘুরে চলে এলো আরেক হ্যালোউইন। এবার কে হবে হলিডের শিকার…… নাকি ব্যাটম্যানের ক্ষুরধার বুদ্ধির ফাঁদে পড়ে শিকারী নিজেই পরিণত হবে শিকারে ?

প্রশ্নের উত্তর রয়েছে যে বইটিতে, তার নাম ‘ব্যাটম্যান: দ্য লং হ্যালোউইন’। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৭, এই একবছরে মোট ১৩টি

সংখ্যায় এই কমিক্স সিরিজ বেরিয়েছিলো ডি. সি. কমিক্সের প্রকাশনায়। জেফ লোয়েবের জমজমাট গল্প আর টিম সেলের আঁকা দুর্দ্ধর্ষ ছবি এই বইয়ের অন্যতম সম্পদ। একটি থ্রিলার কাহিনীর পরতে পরতে জড়িয়ে থাকা রহস্যের ভাঁজকে জেফ লোয়েব তাঁর নিয়ন্ত্রিত লেখনীর মাধ্যমে সযত্নে উন্মোচন করেছেন। আর এই টানটান গল্পের সুযোগ্য সঙ্গত করে গেছে টিম সেলের আঁকা প্যানেলগুলি। দেহরূপকে ঠিক কতটা ভাঙ্গচুর করলে তা বিকৃত দেখায় না বরং আখ্যানের অন্তর্লীন অ্যাকশন্‌কে পাতায় পাতায় জীবন্ত করে তোলে, ‘ব্যাটম্যান: দ্য লং হ্যালোউইন’ গ্রাফিক নভেলটিতে তারই আদর্শ রচনা করেছেন শিল্পী টিম সেল।

তাহলে ‘ব্যাটম্যান: দ্য লং হ্যালোউইন’ কোন পরিচয়ে পরিচিত হবে ? কমিক্স না গ্রাফিক নভেল ? মতামত দেওয়ার আগে অন্য আরেকটি কথা বলি বরং। ভারতে তথা এই বাঙলায় বর্তমানে গ্রাফিক নভেল তৈরি করে ফেলার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু যে দেশের পাঠক কমিক্স বলতে মজারু কিছু চরিত্র অথবা বিদ্‌ঘুটে সুপারহিরোর গল্প বা গদ্যসাহিত্যের কমিক্সায়ন নয়তো বিদেশী কমিক্সের বাংলা অনুবাদ বোঝে, সেই দেশে, সেই পাঠকসমাজে, গ্রাফিক নভেলের বোধ কি করে আসা সম্ভব ? দীর্ঘ আলোচনার অবসর কালান্তরে রইল, আপাততঃ এইটুকু বুঝে নিতে হবে যে, বিদেশে গ্রাফিক নভেলের বাজার তখনই তৈরি হয়েছে, যখন একটি দীর্ঘ কাহিনীকে খন্ডে খন্ডে ভেঙ্গে বলা হয়েছিলো, যেমন ‘মাউস’ বা ‘ওয়াচমেন’। আমাদের দেশের ভাষায় এই বিস্তৃত গল্প বলার ধারাটি অন্ততঃ কমিক্সের ক্ষেত্রে অনুপস্থিত।তাই মনে হয়, এই দেশে কমিক্স নামক সাহিত্য মাধ্যমটি আগে নিজের পায়ের তলায় জমি খুঁজে নিক, বুঝে নিক যে সব গ্রাফিক নভেলই আদতে কমিক্স কিন্তু কমিক্স মানেই সেটা গ্রাফিক নভেল নয়। আর হ্যাঁ, ‘ব্যাটম্যান: দ্য লং হ্যালোউইন’ এমন একটি কমিক্স সিরিজ, অখন্ডভাবে পড়তে গেলে যাকে নির্দ্ধিধায় গ্রাফিক নভেলের তক্‌মা দেওয়া যেতে পারে। কাহিনীর বিস্তার থেকে চরিত্রের বিবর্তন, অর্থাৎ একটি নভেলের যা যা অন্যতম বৈশিষ্ট্য, তার উপস্থিতি এই বইটিতে পাঠকের চোখ এড়িয়ে যাওয়ার কথা নয়।

Review By:

Indranil-Kanjilal

 

Professionally a high school teacher, Dr.Indranil Kanjilal has a passion for comics. Not only reading, he loves to explore this medium of visual storytelling by going through the history of comics’ universe. He also has a knack for writing short features. Being a post graduate student of Bengali literature he has completed his Ph.D. on eminent Bengali author Shirshendu Mukhopadhay.

 

 

Collection of Fairy Tales in Bangla ‘Nanan Desher Nana Ranger Roopkotha’ Launched in Kolkata

Bengali-short-stories-collection

Albert Einstein — ‘If you want your children to be intelligent, read them fairy tales. If you want them to be more intelligent, read them more fairy tales.’ With this idea in mind octogenarian Ram Mihir Sen released a book on fairy tales named “Nanan Desher Nana Ranger Roopkotha” at Starmark in the presence of Dr. Satyabrata Bhattacharya.

The book Nanan Desher Nana Ranger Roopkotha is a collection of twenty fairy tales from countries like India, Arabia, Austria, Denmark, France, Hungary, Italy, Ireland, Malaysia, Nepal, Norway, Russia, Spain, United Kingdom and Poland. With as many as nineteen of them translated in Bengali for the first time ever, a conscious effort has been made not to include those stories which are already very popular among the Bengali readers. This has been done so as to increase the interest levels of the readers to a great extent in reading the stories in the book.

Bengali-Fairy-Tales-collection

Speaking at the occasion Ram Mihir Sen said “There is a growing tendency among the children not to read story books-especially those of fairy tales. Even I have seen parents who dislike their children reading such fairy tales. They approve of Harry Potter series but they disapprove of the fairy tales written by the various authors. But I will like to highlight on the fact that reading fairy tales is a good thing in developing the imagination of children. Moreover it helps in development of language too”.

The proceeds from the sale of this book will be donated to the Binapani Ashram, Moldanga in Sriniketan.

Priced at Rs. 150, this will be a good gift for your children and also help in enhancing the literary skills and imagination of the younger audience considerably in the long run.

Priyanka Dutta

 

 

Review of Graphic Novel Chander Pahar; The Classic in its Many Forms

Chander-Pahar-Graphic-Novelকলকাতা বইমেলা ২০১৪, ‘পারুল প্রকাশনী’ থেকে আত্মপ্রকাশ করলো ‘চাঁদের পাহাড়’- একটি গ্রাফিক নভেল। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী রচনাকে যুগপোযুগী চিত্রনাট্য ও ছবিতে সাজিয়ে তুলে ধরলেন যে শিল্পী, তাঁর নাম সপ্তর্ষি দে। পেশায় তিনি একজন আর্ট ডিরেক্টর, কলকাতা তাঁর কর্মক্ষেত্র। বর্তমানে টাইমস অফ ইন্ডিয়া গ্রুপের বাংলা সংবাদপত্র ‘এই সময়’- এ প্রকাশিত হচ্ছে তাঁর দৈনিক কমিক স্ট্রীপ ‘প-ফ’। ‘চাঁদের পাহাড়’ সপ্তর্ষির প্রথম প্রকাশিত গ্রাফিক নভেল। গোটা ষাটেক পাতার মধ্যে মূল কাহিনীর সারবস্তুকে জায়গা দিতে গিয়ে গল্পের অনেক ডালপালাকেই কাটছাঁট করতে হয়েছে। শ্বাপদসঙ্কুল আফ্রিকায় গ্রামবাংলার ছেলে শঙ্করের দামাল অ্যাড্‌ভেঞ্চারকে রেখায় ও লেখায় পাঠকের দরবারে পেশ করার যে প্রয়াস করেছেন সপ্তর্ষি, তাতে তিনি একশভাগ সফল একথা হয়ত বলা যায় না। গ্রাফিক নভেলটির নিসর্গনির্ভর প্যানেলগুলি যতটা দৃষ্টিনন্দন, চরিত্রসমূহের দেহরেখা অঙ্কন ততটা মুন্সীয়ানার পরিচয় দেয় না। তবুও আলাদা করে বলতেই হয় সপ্তর্ষির রঙ সংক্রান্ত চিন্তাভাবনার কথা। গোটা বইটির বেশিরভাগ ছবি বহুবর্ণে রঞ্জিত হলেও আলভারেজ যেখানে শঙ্করকে পূর্বকথা শোনাচ্ছে, সেই অংশটিতে ব্যবহার করা হয়েছে মাত্র দুটি রঙ। চলচ্চিত্রে আমরা যেমন অনেকসময় অতীতের দৃশ্যকে সিপিয়া টোনে দেখি, সপ্তর্ষি তাঁর এই সৃষ্টিতে সেই মান্য ধারারই বুদ্ধিদীপ্ত স্বাক্ষর রেখেছেন।

কথাশিল্পী বিভূতিভূষণের কাহিনী অবলম্বনে সপ্তর্ষির এই গ্রাফিক নভেল সচেতন পাঠকের মনে কিছু চিন্তাভাবনার অবসর এনে দেয়। আজ সারা বিশ্বে কমিক্স ইন্ডাস্ট্রীর যে রমরমা বাজার সেই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা কমিক্সের অবস্থান ঠিক কোন জায়গায়? শ্রী নারায়ণ দেবনাথ, ময়ূখ চৌধুরী, তুষারকান্তি চট্টোপাধ্যায়, শৈল চক্রবর্তীর মত কিংবদন্তীদের উত্তরাধিকারে সমৃদ্ধ বাংলা কমিক্সের জগৎ। নন্টে-ফন্টে, বাঁটুল দি গ্রেট, প্রফেসর ত্রিবেদী, গোয়েন্দা নিশীথ রায়, ডাকু- এই সব চরিত্র আজও বাঙ্গালীর স্মৃতিতে অম্লান। এই সৃষ্টিসম্পদ যেমন বাঙ্গালীর গর্বের ভাণ্ডার, একই সঙ্গে অতীত গৌরবের অদ্যাবধি এই রোমন্থনেই কোথাও উঁকি মারে ভয়াবহ ভবিষ্যতের সিঁদুরে মেঘ। অতীত বিলাসিতার মসনদ থেকে নেমে বর্তমান বাস্তবের দিকে চোখ ফেরালে এই দৃশ্য নজরে আসতে বাধ্য যে বাংলা কমিক্স ইন্ডাস্ট্রী আজ ধুঁকছে অরিজিনাল কন্টেন্ট বা মৌলিক বিষয় তৈরি করতে না পারার ক্ষয়রোগে। সপ্তর্ষির ‘চাঁদের পাহাড়’ কিন্তু তার মেরুদন্ড ধার করেছে চিরকালীন বাংলা সাহিত্য থেকেই। প্রকাশকের কাছে হয়ত এটা পিঠ বাঁচিয়ে খেলা। নব্য ট্রেন্ড অনুযায়ী একটা গ্রাফিক নভেল বানানোও হল আবার বাজার ধরতেও অসুবিধা নেই যেহেতু উপন্যাস হিসেবে ‘চাঁদের পাহাড়’ অনেকদিন ধরেই বইপাড়ায় বেস্টসেলার তালিকার অন্তর্ভূক্ত। সঙ্গে সঙ্গে একই গ্রন্থনির্ভর টলিউডি সংস্করণের ‘দেব’তুল্য সাফল্য তথা ব্যাবসার স্রোতে গা ভাসানোর ইচ্ছাও যে প্রকাশকের মনে নড়েচড়ে ওঠে নি, সে কথাও হলফ করে বলা যায় না।

কেউ কেউ হয়তো বলবেন, এটা তো খারাপ কিছু নয়, চিরায়ত বাংলা সাহিত্য থেকে আজকের প্রজন্ম মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, সেখানে গ্রাফিক নভেলের মাধ্যমে যদি তাদের আগ্রহকে উস্‌কে দেওয়া যায় তো ক্ষতি কী? আসলে অনেক সময় প্রশ্নোত্তরের ঝড়ের ঠেলায় আসল সত্য চাপা পড়ে যায়। একটি ব্র্যান্ড যখন বাজারে প্রতিষ্ঠা খোঁজে তখন সেই প্রতিষ্ঠার জন্য লাভক্ষতির হিসেবের বাইরে গিয়ে, সেই ব্র্যান্ডটির একটি নিজস্ব চরিত্র গড়ে তোলাটা খুব জরুরী। বাংলা কমিক্স ও গ্রাফিক নভেল নামক ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এই ব্র্যান্ড, এই ইন্ডাস্ট্রী আজ যদি বাজারের মুখ চেয়ে শুধুই সাহিত্যনির্ভর হয়ে পড়ে তাহলে মৌলিক বিষয় ও ভাবনা নিয়ে কাজের কোনো সম্ভাবনাক্ষেত্রই হয়তো গড়ে উঠবে না। বাংলা কমিক্স ইন্ডাস্ট্রীও স্বাবলম্বনের পথ খুঁজে না পেয়ে আত্মপরিচয়হীনতার কানা গলিতে হারিয়ে যাবে।

Indranil Kanjilal
Indranil-Kanjilal

Professionally a high school teacher, Dr.Indranil Kanjilal has a passion for comics. Not only reading, he loves to explore this medium of visual storytelling by going through the history of comics’ universe. He also has a knack for writing short features. Being a post graduate student of Bengali literature he has completed his Ph.D. on eminent Bengali author Shirshendu Mukhopadhay.

 

 

 

Graphic Novel Three Shadows – ‘সন্তানের মুখ ধরে একটি চুমো খাবো’

graphic-novel-three-shadows

আদিম প্রবৃত্তি কথাটা আদতে খারাপ নয়। প্রাণীজগতের আদিম প্রবৃত্তির তালিকায় অন্যতম স্থান অধিকার করে আছে ‘অপত্য স্নেহ’। শাহেন্‌শা বাবর আল্লার নিকট প্রার্থনা করেছিলেন তাঁর সন্তান হুমায়ুনের পরমায়ু, নিজের আয়ুর বিনিময়ে। আর LOUIS তার ছেলেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য রূপান্তরিত হয়েছিল পাহাড়প্রমাণ এক দানবে। বাবরের ঘটনা ঐতিহাসিক কিন্তু দ্বিতীয় প্রসঙ্গটি একটি কাহিনীর অংশবিশেষ। যে গল্পের শুরুয়াৎ শহর থেকে দূরে এক নিরিবিলি জায়গায়, যেখানে একটি খামারবাড়িতে বাস করত ছোট এবং ভীষণ সুখী এক পরিবার।

ক্ষেতে ফলানো ফসল, একটু হুটোপাটি খেলাধূলা, অনেকটা পারিবারিক সম্পর্কের মজবুত জোড় আর খুব গরম লাগলে বাড়ির পিছনের পুকুরটায় সপরিবারে ঝপাং …… এই ছিল বাবা LOUIS, মা LUIS এবং তাদের ছোট্ট ছেলে JOACHIM- এর পরম শান্তির রোজনামচা। তবুও বিপদ এল। এক রাত্তিরে দূরের টিলার উপরে ঘোড়সওয়ার তিন ছায়ামূর্তির আদলে JOACHIM- দের জীবনে প্রবেশ করল দম চেপে ধরা আতঙ্ক। LOUIS প্রথমে গোটা ব্যাপারটাকে পাত্তা দিতে না চাইলেও, ঘটনাপ্রবাহ তার চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিল, তিন ছায়ামূর্তির আগমনের হেতু তার সন্তান JOACHIM। মা- এর বুক খালি করে দিয়ে সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে ছেলেকে নিয়ে নিরুদ্দেশে পাড়ি দিল LOUIS। অথৈ নদীতে ভেসে, তারপর নাম না জানা দ্বীপে আশ্রয় নিয়ে, কোনোভাবেই সেই তিন করাল ছায়ার হাত এড়াতে না পেরে, শেষমেষ অলৌকিক উপায়ে LOUIS এক বিশাল ‘GOLEM’- এর রূপ ধারণ করল। JOACHIM- কে বাঁচাতে সে তাকে তার প্রকাণ্ড হাতের তালুর মধ্যে লুকিয়ে রাখলো। এত করেও কিন্তু …… কিন্তু, তবু, হয়তো, যদিও, কথাগুলি এই কাহিনীর ক্ষেত্রে একেবারেই লাগসই নয়। সন্তানস্নেহের তীব্র রূপের পাশাপাশি পাতার পর পাতা জুড়ে সাদাকালো চিত্ররেখায়, কখনো J.R.R. TOLKIEN- এর ঘরানায়, কখনো DISNEY- কে মনে পড়িয়ে আবার কিছু ক্ষেত্রে  Gabriel García Márquez অথবা HORHE LUIS BORHES- এর রচনারীতি অনুসরণে জাদুবাস্তবতার ছোঁয়ায়, নির্বিকার, কিছুটা নিষ্ঠুর অথচ তারই মধ্যে ফুটে ওঠা মানবিকতার আলো ছড়ানো নক্ষত্রের দিকনির্দেশ করেছে ‘THREE SHADOWS’।

graphic-novel-three-shadows

ফরাসী লেখক CYRIL PEDROSA-  র লেখা ‘THREE SHADOWS’ একটি গ্রাফিক নভেল। ‘HUNCHBACK OF NOTRE DAME’ বা ‘HERCULES’- এর মতো ডিজ্‌নী অ্যানিমেশন ফিল্মের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর তিনি চলে আসেন গ্রাফিক নভেল রচনার জগতে। ২০০৮- এ ‘FIRST SECOND’ প্রকাশনা থেকে ইংরাজীতে অনূদীত হয় তাঁর অন্যতম সৃষ্টি ‘THREE SHADOWS’, মূল ফরাসী ভাষায় যার নাম ‘TROIS OMBRE’,  প্রকাশক – DELCOURT(২০০৭)। এই গ্রাফিক নভেলটির অন্যতম দিক‌‌চিহ্ন স্বয়ং লেখকের অঙ্কনশৈলী। PEDROSA-  র সাদাকালো রেখাগুলির প্রতিটি আঁকেবাঁকে রয়েছে এমন এক স্বতঃস্ফূর্ততার ভাণ্ডার যা এই গ্রাফিক নভেলের কাহিনীকে করে তুলেছে ভীষণ প্রাণবন্ত। বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্যানেলগুলিতে কোনো স্পীচ্‌ বেলুন ব্যবহার করা হয় নি। তা স্বত্বেও শুধুমাত্র আঁকার জাদুতে চরিত্রগুলি তাদের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, উল্লাস-আতঙ্কের সম্ভার নিয়ে লাভ করেছে প্রয়োজনীয় রক্তমাংস। CYRIL PEDROSA-  র ‘THREE SHADOWS’ এভাবেই একটি পরিবারের গল্পকে দেশ-কাল-সীমানার গন্ডী অতিক্রম করিয়ে পৌঁছে দেয় সেই জগতে যেখানে মরণের কালোছায়ার হাতছানি অস্বীকার করে, মানুষ নিজেই গড়ে তোলে নিজের পরিচয় – সে মৃত্যুঞ্জয়।

 

Graphic Novel Three Shadows Review By:

Indranil-Kanjilal

 

Professionally a high school teacher, Dr.Indranil Kanjilal has a passion for comics. Not only reading, he loves to explore this medium of visual storytelling by going through the history of comics’ universe. He also has a knack for writing short features. Being a post graduate student of Bengali literature he has completed his Ph.D. on eminent Bengali author Shirshendu Mukhopadhay.