Tag: buylovependant

Valentines Day and its Materialistic Gains; A Sholoana Bangaliana Feature

Valentines Day১৯৯৭ সাল। বাংলার ভাগ্যাকাশে তখন ঘোর দুর্যোগের ঘনঘটা। বাংলা সিনেমার (Bangla Cinema)স্বর্ণযুগ গত হয়েছে। বাঙ্গালীর প্রেম চলছে গতে বাঁধা রাস্তা ধরে। কিছু কবিতার লাইন, কিছু বিশেষ গান আর মধ্যে মধ্যে চিঠি। ইন্টারনেট তখনো চেখে দেখে নি বাঙ্গালী। মোবাইল ফোন দেখতে অবিকল পেন্সিল বক্সের মত। শুধু আউটগোয়িং নয়, ইনকামিং এও পয়সা কাটে। স্বভাব প্রেমিক বাঙ্গালী প্রেমের নতুন পথের খোঁজে দিশেহারা। প্রেমিক মন পাগল পাগল।

ঠিক এমন সময় মুক্তি পেল যশ চোপড়ার (Yash Chopra) ছবি, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ (Dil To Pagal Hain)। অমনি সেকী মারকাটারি লম্ফঝম্ফ। সুপারহিট ছবি। শাহরুখ খানের চুল (Shahrukh Khan), মাধুরী দীক্ষিতের (Madhuri Dixit) হাসি, করিশমা কাপুরের (Karishma Kapoor) কিছু একটা ছাপিয়েও এই ছবি জন্ম দিল এক নতুন আইডিয়ার। সেই আইডিয়ার নাম ভ্যালেন্টাইন্স ডে। প্রেমের উৎসব। আমি তখন সন্ধি বয়স, আমি তখন তেরো। ক্লাশ পালিয়ে হিন্দী ছবি লুকিয়ে দেখা হল। আর দেখামাত্রই সটান তৃতীয় নয়নের উন্মোচন। আপামর বাঙ্গালী বুঝতে শিখল ফেব্রুয়ারি মাসের চোদ্দ তারিখ রাত বারোটার আগের সেই পূণ্য মাহেন্দ্রক্ষণে দেখা মেলে মনের মানুষটির। ব্যস, আর পায় কে। ১৪ই ফেব্রুয়ারি (Valentines Day) হয়ে উঠল প্রেম নিবেদনের দিন।

এতদিন অবধি বাঙ্গালী অন্ধের মত ফলো করে চলত এই নিয়ম। এরপর এল ইন্টারনেটের যুগ। জন্ম নিল এক নতুন সবজান্তা সিধুজ্যাঠা, যার নাম গুগল (Google)। সঙ্গে সঙ্গে ক্যুইজপ্রিয় বাঙ্গালী মুখস্থ করে নিল Valentines Day-এর যাবতীয় ঠিকুজি কুষ্ঠী। এবার শুরু প্রেম বিলানোর পালা। সকাল সকাল ফিটফাট হয়ে সাজুগুজু করে মোবাইল ফোন আঁকড়ে সটান SMS ফিরি করার পালা শুরু। রাত বারোটা বাজতে না বাজতেই ছেলে, মেয়ে, পিসি, মাসি, দাদু, ঠাকুমা, জ্যাঠা, জ্যেঠি নির্বিশেষে সক্কলকে হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন্স ডে। আফটার অল, ভ্যালেন্টাইন্স ডে তো আর শুধু প্রেমিক প্রেমিকার জন্য নয়। এ সক্কলের জন্য। তাই যাকে যাকে ভালোবাস, তাদের প্রত্যেককে Valentines Day-এর প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেলাটা মহৎ কর্তব্য। কিন্তু ভালোবাসারও তো রকমফের হয়। যতই মুখে সাম্যবাদ কপচাই না কেন, বাড়ির বৃদ্ধা পিসিমা আর টলটলে প্রেমিকার প্রতি ভালোবাসা তো কখনো একরকমের হতে পারে না। পিসিমাকে মুখে ভালোবাসার কথা বললেই তিনি খুশী। কিন্তু প্রেমিকা নামের ভবি তো অত সহজে ভোলার নয়। অতএব জন্ম নিল গিফট শপ।

Valentines Day gift

সাধে কথায় বলে Necessity is the mother of invention। প্রেম তো আর মাগনায় আসে না। তার জন্য গাঁটের কড়ি খসাতে হয়। অতএব পুরুষ নারী নির্বিশেষে সক্কলে হুড়মুড়িয়ে একযোগে গিফট শপ মুখী। সেখানে হরেক রকমের জিনিস। আলপিন থেকে এলিফ্যান্ট, সব মজুত। ফেল কড়ি মাখো তেল। বিজ্ঞাপনে হরবখত দেখিয়ে চলেছে রকমারি উপহারের ছবি। খবরের কাগজ থেকে টেলিভিশনে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা বসে আছেন বিনি পয়সায় সাজেশন দেবার জন্য। ভ্যালেন্টাইন্স ডে এর দিন প্রেমিককে অমুক জিনিস দিলে সে খুশী হবে, প্রেমিকাকে অমুক জায়গায় খাওয়াতে নিয়ে গেলে সে আপনার প্রেমে পড়ে হাবুডুবু খাবে। প্রেমিকার সামনে এটা করবেন, ওটা করবেন না। প্রেমিককে ওই কথাটা বলবেন, ওই কথাটা বলবেন না। আমি কীভাবে প্রেম করব, সেটাও আমাকে বলে দেবে অন্যলোক। কী আশ্চর্য। সারাক্ষণ আকাশবাণীকে ছায়াসঙ্গী করে প্রেম করা যায়? তাও আবার ভ্যালেন্টাইন্স ডে এর দিন? এ দিন হল পূণ্যতিথি। ওই দিন একটা প্রেম তো আমাদের করতেই হয়। নইলে অনেকের যে ব্যবসা লাটে উঠবে।

Valentines day gift online

প্রেম তো এখন আর শুধু মনের ভাষা নয়, সে এখন চাহিদা। সেই চাহিদার চাপের ফাঁদ কেটে বেরনো সম্ভব নয়। চারপাশে প্রিয়ার প্রেশার থুড়ি পিয়ার প্রেশারের ছড়াছড়ি। আজকের দিনে আমার সব বন্ধুর প্রেমিকা আছে। অতএব আমারও একখান মিষ্টি প্রেমিকা না হলেই নয়। পার্টিতে যাব অথচ বোর হলে করার কিছু নেই? উপায় একটাই। বয়ফ্রেন্ড জোটাও। কিছু করার না থাকলেই ফোনটা বের করে তাকে মেসেজের পর মেসেজ। অটো হোক কি বাস বা মেট্রো। আমাদের এখন চারপাশের জগৎ দেখার সময় নেই, প্রকৃতি দেখার সময় নেই। একা দাঁড়িয়ে থাকার মানসিকতা নেই। কিছু না করে একা একা দাঁড়িয়ে থাকাটা তো ক্যাবলামির লক্ষ্মণ। সব সময় কিছু না কিছুর মধ্যে তো আমাদের থাকতেই হবে। তাই উঠেই সবার আগে মোবাইল ফোন। তারপর এসে এম এস। এসে মেশার দিন ফুরিয়েছে। এখন SMS-এর দিন। ভাগ্যিস কালিদাসের সময় ভ্যালেন্টাইন্স ডে ছিল না। তাহলে হয়ত বিরহী যক্ষ মেঘের হাতে প্রেমের বার্তা নয়, বরং ভ্যালেন্টাইন্স ডে এর গিফট পাঠাত।

Consumerism and Publicity has invaded human emotions and the new generation is blindly giving in to the clutches of materialistic consumerism.

Valentines Day Special Article by Sagnik Roy Chowdhury

sagnik roychowdhury

Sagnik Roy Chowdhury is an upcoming young & talented screenplay writer from Tollywood. He has got movies like “Bicycle Kick” to his credit as a script & dialogue writer. He also writes occasional columns for various Bengali newspapers and magazines.

Enhanced by Zemanta