Tag: buyonlinelingerie

Obhishopto Nighty Movie Review, Poster, Trailer; Quirky or Bizarre, Decide For Yourself

Obhishopto Nighty Review

অভিশপ্ত নাইটি দেখতে দেখতে মনে পড়ে যাচ্ছিলো, বিরসা দাশগুপ্তের (Birsa Dasgupta) পূর্ববর্তী ছবি ‘জানি দেখা হবে’ (Jani Dekha Hobe)-র কথা। ওই ছবির রিভিউ লিখতে বসে আমার বেশ কষ্ট হয়েছিল কারন অনেক চেষ্টা করেও আমি ‘জানি দেখা হবে’ নিয়ে ভালো কিছু লিখতে পারিনি অথচ ০৩৩ আমার কিন্তু ‘খুব খারাপ’ লাগেনি। বরং মনে হয়েছিল বিরসার মধ্যে সেই মশলা আছে, যা প্রয়োজন হয় ‘ভালো ছবি’ ভেবে বানানোর জন্যে। এরপর যখন ২৬শে নভেম্বর ২০১১ ‘জানি দেখা হবে’ মুক্তি পেল তখন আশা করেছিলাম যে ০৩৩-র ভ্রান্তি-খামতি গুলিকে নিজগুনে শুধরে নিয়ে বিরসা নিজের বাবা শ্রী রাজা দাশগুপ্ত এবং যশস্বী দাদু প্রয়াত হরিসাধন দাশগুপ্তের আভিজাত্য, সৃজন তথা কুলীন বংশমর্যাদাকে স্বসম্মানে ভবিষ্যতের উদ্দেশে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। কিন্তু ‘জানি দেখা হবে’ দেখে আমি এক ধাক্কা খেয়েছিলাম এবং বেশ বুঝতে পেরেছিলাম যে সিনেমার ভাষায় গল্প বলা বিরসার দ্বারা হবেনা। একথা ঠিক যে বিরসা ছবির কারিগরি দিকগুলি খুব ভালো বোঝেন কিন্তু সিনেমা মানেই তো কিছু ফ্রেমের সমষ্টি নয়। সিনেমা আরও বড় – আরও গভীর কিছু! এই ভাবনার গভীরতাটাই বিরসার পরিচালনার মধ্যে ভীষণভাবে অনুপস্থিত। এদিক থেকে বিচার করলে রাজ চক্রবর্তী (Raj Chakraborty)অনেক চালাক। তিনি এমন একধরনের ছবি বেছে নিয়েছেন, যা তার কাজের ধারাকে অন্য এক মাত্রা দেয়। রাজ জোর জবরদস্তি ‘আতেল’ সাজার চেষ্টা করেন না।

ফিরে আসি বিরসার কথায়। এই ছবির ‘অভিশপ্ত’ চিত্রনাট্য লেখার দায়িত্ব তিনি তুলে দিয়েছিলেন দেবালয় ভট্টাচার্য-র (Debaloy Bhattacharya) হাতে এবং দেবালয় যে সেই চিত্রনাট্যটিকে ঠিক কেমনভাবে সাজাতে চেয়েছিলেন, সেটা তিনিই বলতে পারবেন। আমি যতটুকু বুঝলাম, দেখলাম, জানলাম তার উপর ভিত্তি করে এটা লিখতে পারি যে ‘অভিশপ্ত নাইটি’ হচ্ছে একটি রংবেরঙের সার্কাস। যেখানে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের এক-একজন ‘ক্লাউন’-এর মতন লেগেছে। চিত্রনাট্যের মাথামুণ্ডু কিছুই বোধগম্য ঠেকেনা মাঝে মাঝেই। সেক্স, ভূত, কমেডি এই তিনটে জিনিসকে একটা টেস্টটিউবে সমপরিমানে মিশিয়ে কিছু একটা উপভোগ্য প্রোডাক্ট আবিষ্কার করতে গিয়ে দেবালয়-বিরসা জুটি ছড়িয়ে ছয়লাপ করেছেন। কেমিস্ট্রি না জেনে, ভুলভাল কেমিক্যাল ফরমুলা ব্যবহার করে এক্সপেরিমেন্ট করতে গেলে যা হয়, এখানেও তাই ঘটেছে। টেস্টটিউব ফেটে গিয়ে এমন এক দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে, যা আমার মতন দর্শকদের অনুভব করিয়ে ছেড়েছে যে চোখেরও ‘নাক’ আছে। দুর্গন্ধে চোখের নাক মাঝে মাঝেই বন্ধ হয়ে আসছিলো ছবির গল্পের ‘নোংরা’ গতিপ্রকৃতি দেখতে দেখতে।

অভিশপ্ত নাইটি ছবির গল্প শুরু হয় ১৯৮৫ সালে যখন বড়লোকের বখাটে ছেলে ‘রাজা’ বার গায়িকা সুন্দরী মনিকাকে নিজের লাম্পট্যের শিকার বানায় তারপর শারীরিক ক্ষুধা মিটে যাওয়ার পরে ব্ল্যাকমেলের ভয়ে তাকে খুন করে। এরপর কেটে যায় ৩০ বছর, সেই লম্পট রাজা আজ জন্ম নিয়েছে গ্রামের শান্ত, ভদ্র অলোক-রূপে। অলোকের প্রেমিকা বৃষ্টি তাকে ছেড়ে শহরে চলে আসে টলিউড ছবিতে নায়ক দেব-এর বিপরীতে নায়িকা হবে বলে। পূর্বজন্মে ‘প্রেম’-কে হেলায় ঝেড়ে ফেলা পুরুষ এই জন্মে ‘প্রেম’-কে হারিয়ে ফেলে। কিন্তু এমন পোয়েটিক জাস্টিসে গল্প থেমে থাকলে চলবে কিভাবে? আর সিনেমার নামকরণই বা ‘অভিশপ্ত নাইটি’ করা যাবে কি করে? তাই আমদানি করতে হল সেই নাইটির, যে নাইটি মনিকাকে পূর্বজন্মে সহবাস করার আগে উপহার দিয়েছিল রাজা, ছদ্ম-আদরে নাম দিয়েছিল ‘ম্যাক্সিমনিকা কস্তূরিকা’।

অতঃপর, সেই গোলাপি সেক্সি নাইটি কলকাতায় এসে নানারকম যৌনময় হাঙ্গামার সৃষ্টি করে। সেই অভিশপ্ত নাইটি যে মহিলাই গায়ে দেয়, তারই শরীরে জেগে ওঠে তীব্র যৌন-কামনার অন্ধ আগুন। সেই আগুনে তার এও মনে থাকে না কোন শ্রেণীর পুরুষের সঙ্গে সে সহবাস করছে। বাড়ির গৃহবধু থেকে কাজের মেয়ের হাত হয়ে নাইটি বাড়ির বৃদ্ধা ঠাকুমার কাছেও পৌঁছে যায় এবং এই ক্ষেত্রে বলির পাঁঠা হতে হয় নাতির গানের মাস্টারমশায়-কে। এরপরে সেই নাইটি পরিহিতা এক নব্যবিবাহিতা পুরীর সমুদ্রে এক নুলিয়ার সঙ্গে প্রথমে সঙ্গম করে তারপর স্বামীকে ছেড়ে পালিয়ে যায়। কি পাঠকগন, কেমন লাগছে গল্পটা শুনতে? আমার তো রীতিমতন নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড় হচ্ছিল।

এর বেশি আর লিখছি না গল্প নিয়ে কারণ এমন কুরুচিপূর্ণ অশ্লীল কাহিনী বাংলা ছবিতে পূর্বে দেখেছি কিনা তা নিয়ে আমার মনে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। ম্যাজিক রিয়ালিজম এবং আঁতলামির নাম করে যা একখানি চিত্রনাট্য খাড়া করেছেন বিরসা-দেবালয় জুটি, সেটা একেবারে ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতন। জানিনা বাঙালি দর্শক কিভাবে এই ছবি গ্রহন করবেন তবে আমি সর্বতভাবে এমন বাংলা ছবির বিপক্ষে যেখানে ক্যামোফ্লাজ করে সেক্সুয়াল তথা সাইকোলজিক্যাল পারভারসনকে এমন নির্লজ্জরূপে তুলে ধরা হয়। নাইটি নামক বস্তুটি এখানে শুধুই সেক্স শোকেস করার ক্যামোফ্লাজ। বিরসা-দেবালয় জুটি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) থেকে শুরু করে সদ্যপ্রয়াত কৃতি পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষ (Rituparno Ghosh) কাউকেই রেয়াৎ করেননি। একেবারে রাস্তায় নামিয়ে অপমান করে তবে ক্ষান্ত দিয়েছেন। আমি অত্যন্ত অবাক হচ্ছি এই ভেবে যে সেন্সর-বোর্ড (Censor Board) কর্তারা কিভাবে এমন এক গর্হিত ছবিকে এভাবে অবাধ ছাড়পত্র দিলেন? তারা কি তখন কোন কারনবশতঃ ঘুমিয়ে পড়েছিলেন? শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস (Shree Venkatesh Films Private Limited)-কে একটা প্রশ্ন না করে পারছি না। ঋতু-দা আজ আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকলে কি মোনি-শ্রীকান্ত আজ বিরসা-দেবালয় জুটিকে এমনভাবে ঋতুদা-কে অপমান করার অনুমতি দিতে পারতেন?

অভিনয়ে সবাই একে অন্যকে পাল্লা দিয়ে ভাঁড়ামো করেছেন। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় (Parambrata Chatterjee) আরও একবার প্রমান করলেন যে তিনি এক একজন পরিচালকের অধীনে একেকরকম কাজ করেন। অপরেশ চরিত্রটি নিয়ে পরম আরও অনেককিছু করতে পারতেন কিন্তু বিরসা চাইলেন না আর পরমব্রত-ও নিজের পুরোটা দিলেন না। রাজা এবং অলোকের চরিত্রে ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত (Indraniel Sengupta) নিজের কাজটুকু বেশ উতরে দিয়েছেন। লকেট চট্টোপাধ্যায় (Locket Chatterjee), লাবনী সরকার (Laboni Sarkar), কউশানী চক্রবর্তী (Koushani Chakraborty), তনিমা সেন (Tanima Sen), ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায় (Bhaskar Banerjee), কাঞ্চন মল্লিক (Kanchan Mulllick), পরান বন্দ্যোপাধ্যায় (Paran Bandopadhyay), সুপ্রিয় দত্ত (Supriyo Dutta), সুজন নীল মুখোপাধ্যায় (Sujan Neel Mukhopadhyay), মিস জোজো (Miss Jojo), সুমিত সমাদ্দার (Sumit Samaddar), বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী (Biswajit Chakraborty) একে অন্যকে ভাঁড়ামিতে টেক্কা দেওয়ার আপ্রান চেষ্টা করে গেছেন। বিশেষত লাবনী সরকার-এর এমন নিম্নমানের এর আগে কখনো মনে হয়নি। সুচিত্রা মিত্র (Suchitra Mitra) অথবা গীতা ঘটকের (Gita Ghatak) মতন প্রবাদপ্রতীম রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পীদের  ক্লাসিকাল ঘরানাকে এমনভাবে অপমান না করলেই বোধয় পারতেন বিরসা দাশগুপ্ত। নায়িকা হিসাবে তনুশ্রী (Tanushree Chakraborty) একাই ছবিকে টানার চেষ্টা করেছেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেরেছেন কি?

ছোট্ট দুই চরিত্রে রাহুল (Rahul Banerjee)এবং প্রিয়াঙ্কা বন্দ্যোপাধ্যায় (Priyanka Sarkar Banerjee) দুজনে বেশ জমাটি কাজ করে দিয়েছেন। ছবির খলনায়ক মীর আফসর আলি (Mir Afsar Ali) একেবারে বেমানান। এমন এক ছবিতে দেব (Tollywood hero Dev)-এর ক্যামিও-র কোনরকম যৌক্তিকতা আমি খুঁজে পাইনি। সউমিক হালদার (Soumik Halder)-এর চিত্রগ্রহণ এবং বোধাদিত্ত্য বন্দ্যোপাধ্যায় (Bodhaditya Banerjee) এই ছবিতে বেশ সাধারনমানের। ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত (Indraadip Dasgupta)-এর সঙ্গীত পরিচালনা এই ছবির কোনোরকম শ্রীবৃদ্ধি করতে পারেনি। এই ছবিতে চারজন পরিচালক মুখ দেখিয়েছেন, যথাক্রমে কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় (Kamaleshwar Mukherjee), ঋতব্রত ভট্টাচার্য (Rhitobrata Bhattacharya), সুদেশ্না রায় এবং অভিজিৎ গূহ (Sudeshna Roy & Abhiijit Guha)।

এক লেখিকা নিজস্ব রিভিউ কলামে ‘অভিশপ্ত নাইটি’-কে পরিচালক অনীক দত্ত (Anik Dutta)-এর ‘ভূতের ভবিষ্যত’ (Bhooter Bhobisyot)-এর থেকে এগিয়ে রেখেছেন, এমনটাই পড়লাম এক সংবাদপত্রে। বোঝাই যাচ্ছে এমন উদ্ভট তথা বিপদজনক অভিমত ওই লেখিকার নিজস্ব কারন এমন অভিমত কোনও দায়িত্বশীল সংবাদমা্ধ্যমের হতেই পারেনা। এমন অভিমতকে পাগলের প্রলাপ ব্যতীত আর কিই বা বলা যায়? সেই লেখিকা আবার এই ছবিকে 9/10 নম্বর দিয়েছেন। কি আর বলবো ? যাদের এই ছবি দেখার ইচ্ছে করছে, দেখে এসে ষোলআনা বাঙালিয়ানা –কে আপনাদের মুল্যবান সুচিন্তিত অভিমত জানান।

‘অভিশপ্ত নাইটি’ নিয়ে আমার আর বেশি কিছু লিখতে ইচ্ছে করছে না কারণ এই ছবির সেই যোগ্যতা নেই। যে ছবিতে “খাবার বলতে ভাত/পরার বলতে নাইটি/ এছাড়া বাঙালির আর কি আছে ভাইটি” ? -র মতন সংলাপ থাকে… সেই ছবিকে 2.5/10 বেশি নম্বর দিতে আমি পারলাম না। আর বিরসাকে বিনীতভাবে অনুরোধ করবো – এমন কাজ আর করবেন না কারন বাঙালি সংস্কৃতি এমন নয়। বাংলা ছবির পরম্পরা এমন নয়।


Obhishopto Nighty | Theatrical Trailer | Parambrata | Paoli | Indraneil | Tanusree | Birsa | 2014 (You Tube)

 

Obhishopto Nighty Movie Review By:

SanjibSanjib Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and has written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.
Sanjib can be reached at sanjib@sholoanabangaliana.com
The information and views set out in this movie review are those of the author and do not necessarily reflect the official opinion of the Publication/Organization. Neither the Publication/Organization nor any person acting on their behalf may be held responsible for the use which may be made of the information contained therein.

 

 

Enhanced by Zemanta

Valentines Day and its Materialistic Gains; A Sholoana Bangaliana Feature

Valentines Day১৯৯৭ সাল। বাংলার ভাগ্যাকাশে তখন ঘোর দুর্যোগের ঘনঘটা। বাংলা সিনেমার (Bangla Cinema)স্বর্ণযুগ গত হয়েছে। বাঙ্গালীর প্রেম চলছে গতে বাঁধা রাস্তা ধরে। কিছু কবিতার লাইন, কিছু বিশেষ গান আর মধ্যে মধ্যে চিঠি। ইন্টারনেট তখনো চেখে দেখে নি বাঙ্গালী। মোবাইল ফোন দেখতে অবিকল পেন্সিল বক্সের মত। শুধু আউটগোয়িং নয়, ইনকামিং এও পয়সা কাটে। স্বভাব প্রেমিক বাঙ্গালী প্রেমের নতুন পথের খোঁজে দিশেহারা। প্রেমিক মন পাগল পাগল।

ঠিক এমন সময় মুক্তি পেল যশ চোপড়ার (Yash Chopra) ছবি, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ (Dil To Pagal Hain)। অমনি সেকী মারকাটারি লম্ফঝম্ফ। সুপারহিট ছবি। শাহরুখ খানের চুল (Shahrukh Khan), মাধুরী দীক্ষিতের (Madhuri Dixit) হাসি, করিশমা কাপুরের (Karishma Kapoor) কিছু একটা ছাপিয়েও এই ছবি জন্ম দিল এক নতুন আইডিয়ার। সেই আইডিয়ার নাম ভ্যালেন্টাইন্স ডে। প্রেমের উৎসব। আমি তখন সন্ধি বয়স, আমি তখন তেরো। ক্লাশ পালিয়ে হিন্দী ছবি লুকিয়ে দেখা হল। আর দেখামাত্রই সটান তৃতীয় নয়নের উন্মোচন। আপামর বাঙ্গালী বুঝতে শিখল ফেব্রুয়ারি মাসের চোদ্দ তারিখ রাত বারোটার আগের সেই পূণ্য মাহেন্দ্রক্ষণে দেখা মেলে মনের মানুষটির। ব্যস, আর পায় কে। ১৪ই ফেব্রুয়ারি (Valentines Day) হয়ে উঠল প্রেম নিবেদনের দিন।

এতদিন অবধি বাঙ্গালী অন্ধের মত ফলো করে চলত এই নিয়ম। এরপর এল ইন্টারনেটের যুগ। জন্ম নিল এক নতুন সবজান্তা সিধুজ্যাঠা, যার নাম গুগল (Google)। সঙ্গে সঙ্গে ক্যুইজপ্রিয় বাঙ্গালী মুখস্থ করে নিল Valentines Day-এর যাবতীয় ঠিকুজি কুষ্ঠী। এবার শুরু প্রেম বিলানোর পালা। সকাল সকাল ফিটফাট হয়ে সাজুগুজু করে মোবাইল ফোন আঁকড়ে সটান SMS ফিরি করার পালা শুরু। রাত বারোটা বাজতে না বাজতেই ছেলে, মেয়ে, পিসি, মাসি, দাদু, ঠাকুমা, জ্যাঠা, জ্যেঠি নির্বিশেষে সক্কলকে হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন্স ডে। আফটার অল, ভ্যালেন্টাইন্স ডে তো আর শুধু প্রেমিক প্রেমিকার জন্য নয়। এ সক্কলের জন্য। তাই যাকে যাকে ভালোবাস, তাদের প্রত্যেককে Valentines Day-এর প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে ফেলাটা মহৎ কর্তব্য। কিন্তু ভালোবাসারও তো রকমফের হয়। যতই মুখে সাম্যবাদ কপচাই না কেন, বাড়ির বৃদ্ধা পিসিমা আর টলটলে প্রেমিকার প্রতি ভালোবাসা তো কখনো একরকমের হতে পারে না। পিসিমাকে মুখে ভালোবাসার কথা বললেই তিনি খুশী। কিন্তু প্রেমিকা নামের ভবি তো অত সহজে ভোলার নয়। অতএব জন্ম নিল গিফট শপ।

Valentines Day gift

সাধে কথায় বলে Necessity is the mother of invention। প্রেম তো আর মাগনায় আসে না। তার জন্য গাঁটের কড়ি খসাতে হয়। অতএব পুরুষ নারী নির্বিশেষে সক্কলে হুড়মুড়িয়ে একযোগে গিফট শপ মুখী। সেখানে হরেক রকমের জিনিস। আলপিন থেকে এলিফ্যান্ট, সব মজুত। ফেল কড়ি মাখো তেল। বিজ্ঞাপনে হরবখত দেখিয়ে চলেছে রকমারি উপহারের ছবি। খবরের কাগজ থেকে টেলিভিশনে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা বসে আছেন বিনি পয়সায় সাজেশন দেবার জন্য। ভ্যালেন্টাইন্স ডে এর দিন প্রেমিককে অমুক জিনিস দিলে সে খুশী হবে, প্রেমিকাকে অমুক জায়গায় খাওয়াতে নিয়ে গেলে সে আপনার প্রেমে পড়ে হাবুডুবু খাবে। প্রেমিকার সামনে এটা করবেন, ওটা করবেন না। প্রেমিককে ওই কথাটা বলবেন, ওই কথাটা বলবেন না। আমি কীভাবে প্রেম করব, সেটাও আমাকে বলে দেবে অন্যলোক। কী আশ্চর্য। সারাক্ষণ আকাশবাণীকে ছায়াসঙ্গী করে প্রেম করা যায়? তাও আবার ভ্যালেন্টাইন্স ডে এর দিন? এ দিন হল পূণ্যতিথি। ওই দিন একটা প্রেম তো আমাদের করতেই হয়। নইলে অনেকের যে ব্যবসা লাটে উঠবে।

Valentines day gift online

প্রেম তো এখন আর শুধু মনের ভাষা নয়, সে এখন চাহিদা। সেই চাহিদার চাপের ফাঁদ কেটে বেরনো সম্ভব নয়। চারপাশে প্রিয়ার প্রেশার থুড়ি পিয়ার প্রেশারের ছড়াছড়ি। আজকের দিনে আমার সব বন্ধুর প্রেমিকা আছে। অতএব আমারও একখান মিষ্টি প্রেমিকা না হলেই নয়। পার্টিতে যাব অথচ বোর হলে করার কিছু নেই? উপায় একটাই। বয়ফ্রেন্ড জোটাও। কিছু করার না থাকলেই ফোনটা বের করে তাকে মেসেজের পর মেসেজ। অটো হোক কি বাস বা মেট্রো। আমাদের এখন চারপাশের জগৎ দেখার সময় নেই, প্রকৃতি দেখার সময় নেই। একা দাঁড়িয়ে থাকার মানসিকতা নেই। কিছু না করে একা একা দাঁড়িয়ে থাকাটা তো ক্যাবলামির লক্ষ্মণ। সব সময় কিছু না কিছুর মধ্যে তো আমাদের থাকতেই হবে। তাই উঠেই সবার আগে মোবাইল ফোন। তারপর এসে এম এস। এসে মেশার দিন ফুরিয়েছে। এখন SMS-এর দিন। ভাগ্যিস কালিদাসের সময় ভ্যালেন্টাইন্স ডে ছিল না। তাহলে হয়ত বিরহী যক্ষ মেঘের হাতে প্রেমের বার্তা নয়, বরং ভ্যালেন্টাইন্স ডে এর গিফট পাঠাত।

Consumerism and Publicity has invaded human emotions and the new generation is blindly giving in to the clutches of materialistic consumerism.

Valentines Day Special Article by Sagnik Roy Chowdhury

sagnik roychowdhury

Sagnik Roy Chowdhury is an upcoming young & talented screenplay writer from Tollywood. He has got movies like “Bicycle Kick” to his credit as a script & dialogue writer. He also writes occasional columns for various Bengali newspapers and magazines.

Enhanced by Zemanta