Tag: Computer science

Sindur Khela – Sneak-Peak into the beautiful age old tradition that the Bangali proudly owns

সিঁদুর খেলা

Sindur Khela

একটা খাপে দুটো তলোয়ার রাখা যায়? যায় হয়ত, কিন্তু খাপের হাল যে তাতে খুব সুবিধের হয় এমনটা বলা যাবে না। ঠিক তেমনি এক পাড়ায় যদি চার চারটে খান্ডার গিন্নী থাকে তবে সে পাড়ায় বারোয়ারি পুজোর যে বারোটা বেজে যাবে তাতে কোন সন্দেহ থাকা উচিত নয়।

আচ্ছা বলুন দেখি বারোয়ারি পুজোর সব চাইতে শক্ত কাজটা কী? চাঁদা তোলা? না। যদি পাড়া ফিলিংসটা থাকে আর বাসিন্দারা সচ্ছল হয় তবে সেটা খুব একটা প্রবলেম নয়, কয়েকটা ছ্যাঁচড়া কিপটে সব পাড়ায় থাকে তাদের সামলানো খুব বড় একটা অসুবিধা নয়।

তাহলে খাটা খাটনি? না সব পাড়ায় কিছু কম বয়েসি ছেলে থাকে যারা মনে করে হুমদোর মত চেহারা নিয়ে পুজোর সময় টাইট গেঞ্জি আর গলি দেখান জিন্স পড়ে ঠাকুর তোলাই পাড়াই এই সব মজদুরি কাম আসান করলেই ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় ঝুমকি পটে যাবে এবারের পুজোর জন্য।

তবে কি বিসর্জন? না আপনাদের দিয়ে হবে না। সব চাইতে শক্ত কাজ হল পাড়ার বারোয়ারি পুজোর ভোগ ইত্যাদি কোথায় হবে, আর কে তাতে কতটা মোড়লি করতে পারবে তার ওপর দখলদারি। কারন কন্ট্রোল করতে গেলে হেঁসেল হল সেরা যায়গা।

এ পাড়ায় চার চারটে খাণ্ডার গিন্নী আছে ব্যানার্জী, রায়, দত্ত আর পাল। ব্যাকগ্রাউন্ডটা জেনে রাখা ভাল। ব্যানার্জী গিন্নী চাটার্ড, রায় জজ, দত্ত বুলিয়েন মার্চেন্ট (স্যাকরা বললে মানহানি), পাল লোকাল কাউন্সিলার, ভাবছেন বাব্বা! না তাদের বউ! বরেরা ছোট বেলার বন্ধু, এখন বউদের ভয়ে মাল খেতে লুকীয়ে দীঘা, মন্দারমনি এই সব যায়গায় পালায়। বাড়ীতে বলে মিটিং।

এপাড়ায় যখন দুর্গা পুজো শুরু হয় তখন এই বউগুলো এত খান্ডার হয়ে ওঠেনি, সব কটার শাশুড়ীরা বেঁচেবত্তে ছিল আর নিজেদের ছেলেপুলে গুলোও সব পড়াশোনা করত, তাই বারোয়ারি ছিল বারোয়ারির মত।

জোগাড় জাগাড়ে পাড়ার অন্য বাড়ি থেকেও যেমন বৌয়েরা আসত এই চার বাড়ী থেকেও বউমারা যেত শাশুরীদের সাথে আর ক্লাব ঘরেই ভোগ ইত্যাদি হত সবাই বাড়ী থেকে কৌটো বাউটো নিয়েগিয়ে ভোগ এনে নিজেদের বাড়িতেই খেত।

২০০০ সালের পর থেকেই তালগোলটা পাকালো, এদের শাশুরীরা চারজনেই কয়েক মাসের আড়াআড়ি স্বর্গবাসী হলেন, বরেরা সব হাসব্যান্ড হয়ে গেল, আর তাদের টাকাকড়ি প্রভাব প্রতিপত্তি সব ই ধাঁ ধাঁ করে বেড়ে গেল। আর চারটে পরিবারের চারটে ছেলে লেখাপড়া শেষ করে রোজগেরে হল।

ফলত এই চার জন নিজেদের অজান্তেই একটা পাওয়ার প্লেতে জড়িয়ে গেলেন ছিলেন ডেপুটি গিন্নী, হলেন গিন্নী, জন সমক্ষে মিসেস অমুক, মিসেস তোমুক।  আর বর রোজগেরে স্বাভাবিক কিন্তু আইবুড়ো মোটা রোজগেরে ছেলে! সে হল গে উরিঃব্বাবা!

২০০৩ সালে ক্লাবঘরের টিনের চাল বদলে ঢালাই ছাদ হবে বলে ঠিক হল সেই মত কাজও শুরু হল, কিন্তু পূজোর আগে তা শেষ হল না। কোথায় হবে পুজোর ভোগ রান্না আর অন্য সব জোগাড় জাগাড়? রায় গিন্নী বামুনের তাসটা খেললেন, আর মায়ের পুজোর সব ব্যাপার নিজের বাড়ীতে টেনে নিলেন।

পুজোর কাজেকর্মে সব ই ঠিকঠাক ছিল কিন্তু নিজের বাপের বাড়ী তস্য আত্মীয় সবাইকে মাঠে নামিয়ে দিয়ে এমন সোরগোল ফেলে দিলেন যে আর কহতব্য নয়। পাড়ার অন্য বউঝিয়েরা গ্যালারীতে। এদিকে পাকালো অন্য জায়গাতে, রায় সাহেবের বড় শালার মেয়ে কে দেখে, সৌগত দত্তের পালে প্রেমের হাওয়া লাগল, একটুসখানি।

ও সব পুজোতেই একটুআধটু অমন হয়, মা জলে পড়ে, সাথে প্রেম ও। কিন্তু এই দুই মিয়াঁ বিবি পুজো পার করেও দেখা সাক্ষাত চালাতে লাগল। জাতধম্মের ক্যাচাল না পাড়লে সৌগত আর মিলির বিয়েটা খুব একটা খারাপ হওয়ার নয়। কিন্তু একে জজসাহেব, তায় জাতে বামুন তার শালার ময়ে বলে কথা। সে কিনা… তা আমাদের রায় গিন্নী রেগেমেগে সৌগতর মাকে ডেকে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে দিলে সাত কথা শুনিয়ে।

পরের বছর শোধ তুললেন দত্ত গিন্নী। পুজোর মিটিঙে কে কত টাকা দেবে এই সব যখন চলছে সৌমেন দত্ত ঘামতে ঘামতে বললেন তিনি দেবেন ৫১ হাজার ১ টাকা। তখনো থিমে থমথমে পুজো আমাদের এখানে সেভাবে চালু হয় নি। ৫১ শুনে তো পাড়ার ছেলেদের জীভে জল চোখে R.C.। কিন্তু টোপের পিছনে ছিল বঁড়শি।

পুজোর বাকী সব কাজকর্ম হবে ব্যানার্জী গিন্নীদের বাড়ীতে। ক্লাব কিন্তু ততদিনে পাকা ছাদের হয়ে গেছে, কিন্তু ক্লাবের বাকীরা ভাবল এই সব সাত্বিক ব্যাপার স্যাপার বামুন বাড়িতেই হওয়া উচিত। ক্লাব ঘর ফর তামসিক ক্লাব এক্টিভিটিজ। মানে একটু… ঐ আর কি, আপনাদের আর বেশী কি বলব।

তা সৌমেন দত্ত কে তাঁর বাকী বন্ধুরা মিটিং করতে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল, তুই মরতে ৫১ হাজার কবুল করতে গেলি কেন? ঘামছিলি তো বলতে গিয়ে। সৌমেন দত্ত গ্লাসের মালকে একঢোকে গলায় চালিয়ে হতাশ ভাবে বলল।

কবুল করেছিলাম কি আর সাধে, বলে কি একটা শাড়ীর দোকান না বুটিক কি একটা বানাবে তার জন্যে সাড়ে তিন লাখটাকা দিতে হবে তাও আবার কোন মাসশাশুড়ীর সাথে পার্টনারশিপ, আমি বাবা শ্বশুরবাড়ীর সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্কের বিরোধী তাই গাঁইগুঁই করছিলাম। তখন বলে কি পাড়ায় মা দুর্গার পুজো ধুমধাম করে করবে? ছেলে অত ভাল একটা কাজ পেল তারজন্যে। তা মায়ের পুজো, কি আর বলি বল?

পাড়ায় দজ্জাল গিন্নীদের মধ্যে একটা বিভেদ গড়ে উঠল এবারে ভোগের ব্যবস্থা ব্যানার্জী বাড়ীতে সহকারী তথা পরামর্শদাত্রী দত্ত গিন্নী। পাড়ার মেয়ে বউরা আবার গ্যালারী থেকে মাঠে। রায় বাড়ী তো আর পাড়ার পুজো ত্যাগ করতে পারে না, কিন্তু মুখ তোম্বা। কারন নতুন দলের হাতে লাগাম।

রায় বাড়ী যখন প্রায় একা হতে বসেছে নিজে নিজে, কারন পাড়ায় তো আর কেউ তাদের নিজে থেকে আলাদা করে দেয় নি, তখন তাকে লাইফ লাইন দিল আরো এক খান্ডার শ্রমতী পাল। তিনি দুবছর ধরে কিছুতেই আর নিজের পালে হাওয়া টানতে পারছিলেন না। এবারে গোলমালের গন্ধে নিজেই গিয়ে আঁতাত করে নিলেন রায় বাড়ীর সাথে।

তোমার বাড়ীতে গতবছর যখন ভোগ ইত্যাদি হয়েছিল তখন যাই বল দিদি একটা বেশ বাড়ীর পুজো বাড়ীর পুজো মত ব্যাপার ছিল কিন্তু এবারে দত্তদি যেটা করল সেটা তো টাকার জোর দেখিয়ে পুজোটা ছিনতাই করে নেওয়া বলা চলে, তাই না? বল?

আমি ভাই ওসবের মধ্যে নেই, দত্ত গিন্নীর টাকা হয়েছে দেমাক দেখাচ্ছে, আমি ঐসব ছোটলোকামির মধ্যে যেতে রাজী নই। পুজোর মধ্যে যদি কোন শুদ্ধাচার না থাকে সে পুজোর মধ্যে থাকার কোন মানে হয় না। আর পুজো হল মনের ব্যাপার ওর মধ্যে আবার টাকা দেখানর কি আছে। টাকা কি তোর দাদার বা তোর বরের কম আছে, তার উপরে আছে ক্ষমতা। আরে জজ সাহেব নেমতন্ন করলে অনেক আচ্ছা আচ্ছা মিয়াঁ আসতে ছটফট করবে। তাই না? বল? যা বলেছ দিদি। দেবো তোমার ভাই কে দিয়ে ঘোঁট পাকিয়ে? না না ওসব করতে নেই। আমরা কী ওদের মত না কী?

ব্যানার্জী গিন্নী এবারে চালে ভুল করে ফেলল। দশমীর দিনে বিকেলে যখন বরন শুরু হবে হবে এমন সময় তিনি ফতেয়া দিলেন যে অব্রাহ্মণ রা মাকে বরন করতে পারবে না। ব্যাস সেমসাইড গোল আর কাকে বলে। যে দত্ত গিন্নীর পিঠে চেপে তিনি রাজত্ব শুরু করতে যাচ্ছিলেন, নিজের ভুলে সেখানেই ছুরি।

সমীকরণ বদলাতে সময় লাগল না বেশীক্ষন। পাড়ার মধ্যে তখন ব্রাহ্মণ অব্রাহ্মণদের একটা পাঁচিল উঠবো উঠবো করছে। পাল, দত্ত, দাস, ঘোষ একদিকে ব্যানার্জী রায় ভট্টাচার্য আর একদিকে। পাড়ার যে সব মহিলারা বরনে সাধারণত অংশগ্রহণ করেন না তাঁরাও হাপুস নয়নে কাঁদতে শুরু করে দিলেন। সে এক যাচ্ছেতাই অবস্থা।

সুরজিত ও সরমা পালের মেয়ে পরমা, যেমন নাম সেই রকম রুপ। সে যে কখন গুটি কেটে প্রজাপতি হয়েছে সেটা দত্ত গিন্নীর কাছে খবর ছিল না। কিন্তু পাড়ায় এই বেখাপ্পা ফতেয়া আর তাতে পুরোহিতের সায় দুই মিলে তার অবস্থা খুবই খারাপ করে দিয়েছিল। এমত মনের অবস্থায় তিনি পরমা আর তার মাকে দেখে আর থাকতে পারলেন না। তৃতীয় ফ্রন্টের জন্যে আরো একবার ঝাঁপালেন।

ওমা পরি তুই তো মা আমাদের পরি রানি হয়ে গেছিস রে! কি সুন্দর হয়েছিস রে তুই! লক্ষই করিনি, এই বলে চিবুক ধরে মুখটা তুলে ধরে সেই হাত মুখে ঠেকিয়ে চুমু খেলেন আর মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দিলেন। ও সরমা তোমার পরি রানিকে আমি আমার বাড়ীতে নিয়ে যাব কিন্তু! কিছুক্ষন আগেই সমীকরণ গেছে বদলে। রায়দি ব্রাহ্মণত্বের গর্ব দেখাতে ব্যানার্জী গিন্নীর দিকে। সরমা এই সুযোগ লুফে নিল। মেয়ে তো তোমাদের ই দিদি, ও আর আমাকে বলার কি আছে? নেহাৎ ঠাকুর বিসর্জনের কাজটা পাড়ার হুমদো মার্কা ছেলেরা করে, না হলে সেই দশমীতে পাড়ার যা হাল করেছিল বৌয়েরা মায়ের আর কৈলাশে ফেরা হত না।

এবারে একটা সমীকরণ বুঝে নেওয়া যাক। সুদর্শন ব্যানার্জীর ছেলে সন্দীপ পেশায় বাবার মত চাটার্ড আর বাবার চেয়েও সুদর্শন। সৌমেন দত্ত সোনার ব্যবসায়ী ছেলে সেই ব্যবসা কে আরো বাড়িয়েছে দেখতে খুব ভাল না হলেও কুচ্ছিত ও নয়। বিমল রায় হাইকোর্টের বিচারপতি ছেলে সফটওয়্যারের চাকরি সুত্রে কোলকাতার বাইরে। আর বেজায় পণ্ডিত। আর সুরজিত পাল পার্টি পলিটিক্স করে কোলকাতা করপোরেশন এর মেয়র পরিষদের মেম্বার টেম্বার অনেক কিছু, বউ একটা মেয়েদের হায়ার সেকেন্ডারী স্কুলের টিচার। মেয়ে পরমা সুন্দরী।

মায়েরা ঘনঘন সমীকরণ বদলালে কী হবে বাবাদের মিটিং ঠিক আছে, আর তারপরের প্রজন্মের মধ্যে আর পাঁচটা সাধারন ছেলে মেয়েদের মত দাদা, ভাই, বোন, বন্ধু, প্রেমিক, প্রেমিকা এই সব সম্পর্কই আছে।  যথারীতি মিটিঙে সুরজিত সৌমেন দত্তকে জিজ্ঞাসা করল, কিরে তোর বউ তো পরমা কে সৌগতর বউ করবে বলে ক্ষেপেছে, তোর কি মত?

দত্তর ৫১ হাজার গেছে পুজোয়, তার উপরে বউ পাড়াতে গুছিয়ে দজ্জালপনা দেখাতে পারে নি বলে বাড়ীতে বরের উপরে খামোকা চোটপাট করেছে। সব মিলিয়ে যাচ্ছেতাই অবস্থা। আর এখানে মাল খাওয়ার সময় আবার তার ইচ্ছের কথা উঠেছে, হুইস্কির নেশা ফিকে হয়ে যাওয়ার উপক্রম। হতাশ বিরক্ত গলায় বলল দ্যাখ সুরজিত আমি বিয়ে করছি না। আমার বউ বিয়ে দিচ্ছে আমার ছেলের। শালা তাদের জিজ্ঞাসা করতে পারছিস না? আমার পিছনে কেন রে ভাই। একটু খাচ্ছি মাইরি তাতেও কাটি? যা শালা ওদের জিজ্ঞাসা করগে যা। আমাকে জ্বালাবি নাতো। বাকি দুজনে দত্তকেই সাপোর্ট করল।

সৌগতকে তার মা বলল আমি তোমার বিয়ে দেওয়ার জন্যে পরমা কে ঠিক করেছি, তোমার কোন আপত্তি আছে? আপত্তি মানে? পরু কে আমি বিয়ে করতে পারব না। কেন তোমার কি বাবা মায়ের পচ্ছন্দের উপরে কোন আস্থা নেই। তা থাকবে না কেন, কিন্তু আমি ছোটবেলা থেকে যাকে নিজের ছোট বনের মত দেখে এসেছি তাকে নিজের বউ ভাবতে পারব না। সেটা তুমি বললেও না বাবা বললেও না বা কাকু কাকীমা বললেও না। আর তাছাড়া আমি কমিটেড এক জনের প্রতি। সেটা তুমি নিশ্চই জানো?

ঐ মিঃ রায়ের শালার ধিঙ্গী ধুচুনি ময়ে টা? কি যেন নাম টা? শ্রদ্ধা না শ্রাদ্ধ? মা তোমার পছন্দ না হতে পারে কিন্তু ওর বাপ মায়ের দেওয়া নামটা কে নিয়ে বিকৃত করছ কেন? ঈইইইঃ বিয়ে না হতেই এই বিয়ে হলে তো নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাবে ঐ মেয়ে। যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা, এই বলে সৌগত চলে যায়। বরের কাছে ছেলের নামে নালিশ করতে গিয়ে বিশেষ সুবিধা হয় না। তিনি শুধু বলেন ওটা ওর জীবন ডিয়ার। আমার নয়। আর যতক্ষন না ও আমার ব্যবসার কোন ক্ষতি করছে ওর জীবনে আমি ঢুকতে নারাজ।

পরমা তার মাকে জানিয়ে দিল যে সে সন্দীপ ব্যানার্জীকে ভালবাসে আর সেটা অনেকদিন ধরে। বামুন নই বলে দেখলিনা আমাদের বরন করতে দিল না এত কুচুটে মেয়েছেলে। তোকে ছেলের বউ করবে ভেবেছিস। আর যদিও করে পায়ের তলায় জুতো করে রাখবে বলে দিলাম। মুখে হম্বিতম্বি যতই করুক না কেন সরমা নিজের মেয়ের পছন্দকে তারিফ না করে পারল না। সন্দীপ দেখতে অসাধারন। আর কোন শাশুড়িই বা না চায় যে তার জামাই সুন্দর হোক। আরো একটা ব্যাপার আছে, এবার নিজের ছেলের বউ ই তো অব্রাহ্মণ বাড়ীর মেয়ে, উচিত শিক্ষা দেবেন এবারে ভগবান।

ব্যানার্জী গিন্নির মাথায় বাজ ভেঙে পরল, পরমা সুন্দরী কিন্তু ব্রাহ্মণ নয় যে। তাদের সমাজে একটা মান মর্যাদা আছে সেটা তো নষ্ট হয়ে যাবে। ছেলেকে অনেক বোঝানর চেষ্টা করলেন, কিন্তু সন্দীপের সোজা সাপ্টা কথা। আমি জাতপাত মানি না। ব্যাস। বিমল রায়ের ছেলে বিজন রায় কর্ম সুত্রে ডেট্রয়েটের বাসিন্দা। সেখান থেকে সে তার বাবা মাকে জানাল যে সে তারই এক সহকর্মীনিকে বিয়ে করতে চলেছে যার নাম চিত্রিতা ওফেলিয়া কুট্টি। দুমাস বাদে জানাগেল একটা পথ দুর্ঘটনায় তারা দুজনেই আহত। তারপরে তাদের বিয়ের ছবি পাঠাল পাত্রী হুইল চেয়ারে আর পাত্র চোখে কালো শেডস পরা।

পরিস্থিতি চার খান্ডারনি কে একেবারে রোলারের তলায় ফেলে দিয়েছে, তাদের আর কোন উৎসাহই নেই পাড়ার পুজোর ব্যাপারে নাক গলাতে। মিটিং এ তাদের বরেরা স্বস্তিতে। পাড়ার পুজো দুবছর বাড়ীর কুক্ষীগত হওয়ার পরে আবার বারোয়ারি। ক্লাবের মেম্বাররা ঠিক করেছে তামসিক পুজো গভীর রাতেই হবে। দিনে ক্লাবঘরেই ভোগ যোগ সবকিছু।

সিদুঁরের ইতিহাস নাকি অনেক পুরান আর তা পুরুষতান্ত্রিক্তারই একটা চিহ্ন মাত্র কিন্তু সত্যিই কী তাই? কে জানে। সপ্তমীর রাতে বিজন বাড়ী ফিরেছিল ডেট্রয়েট থেকে। রায় গিন্নী তাঁর হুইল চেয়ারে বসা নিম্নাঙ্গে প্যারালিসিস হওয়া “অপয়া” মালয়েলি ক্রিশ্চান ছেলের বউকে পাড়ায় বার হতে দেন নি। যদি জজ সাহেবের সম্মান হানি হয়। ছেলের কালো চশমার কারন যখন জানতে পারলেন তখনই ঐ “অপয়া” উপাধিটা দেওয়া। মুখটা আরো পুড়িয়েছে ভাইঝি, নীচু জাতের ছেলেকে বিয়ে করে।

দত্ত গিন্নী কাকে দোষ দেবেন ঠিক করতে পারছিলেন না। ছেলে যাকে বিয়ে করে আনল সে উঁচু জাত কিন্তু পরমার মত সুন্দরী নয়। কিন্তু কাজে কর্মে একেবারে দশভুজা। শ্বশুরের চোখের মনি হয়ে উঠেছে দুমাসেই। লাবণ্য ব্যানার্জীর দোলাচল আর কাটছে না। পরমা তো এখন ছেলের বউ মানে তাদের ই গোত্র তবে কি বরন করা চলে? হাজার হোক ব্রাহ্মণ বংশেতো আর জন্ম নয়, নীম্নবর্ন কী যে অকল্যাণ হবে পরিবারে, ভগবান ই জানেন।

ঠাকুর নামানো হয়েছে বেদী থেকে, পাড়ার মহিলারা বরণডালা, শাঁখ সিঁদুর, মিষ্টি, পান সুপারী দিয়ে মেয়েকে আবার তার বরের ঘরে পাঠানর জন্যে তৈরী ঢাকিরা তাদের কাঠি ঢাকের ছাঁওয়ের উপরে বাড়ি দিয়ে শুরু করল বিসর্জনের বাজনা বরন শুরু হল। বিশ্ব মাতৃকার আজ কন্যার রুপ। এয়োস্ত্রীরা বিশ্বজননীর মাথার সিঁদুর একে ওপরের মাথায় লাগিয়ে দিয়ে তাঁদের সিঁথির সিঁদুর কে অক্ষয় করার প্রার্থনা জানাচ্ছেন। ধুনুচি নিয়ে পাড়ার কয়েকজন ঢাকের তালে নাচছে।

এমন সময় এক স্বর্গীয় মুহুর্তের সাক্ষী হয়ে গেল চারপাশের লোকজন, কি হয়েছে দেখতে গিয়ে ঢাকিরা তালে ভুল করে ফেলল, কাঁসি থমকে গেল। দেখা গেল হুইল চেয়ারে চিত্রিতা ওফেলিয়া রায় কে লালপেড়ে সাদা শাড়ি পরিয়ে নিয়ে আসছে পরমা ব্যানার্জী, তার এক পাশে হাঁটছে বিদীপ্তা দত্ত পিছনে হাটছে তার বাবা, শ্বশুর মশাই, বিমল কাকু আর সৌমেন কাকু। তার ও পিছনে আসছে সন্দীপ, বিজন, আর সৌগত।

চিত্রিতার উপস্থিতি যে রায় গিন্নীর মনঃপুত হয় নি সেটা তাঁর মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া দেখেই বোঝা গেল। কিন্তু চিত্রিতা যতোই মাথা নিচু করে নিজেকে অদৃশ্য প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করুক না কেন সেটা তো বাস্তবিক ই আর হবার নয়। মায়ের সামনে তার হুইলচেয়ারটা দাঁড় করিয়ে দিয়ে বরন ডালা থেকে এক মুঠো সিঁদুর তুলে তার দুগালে আর সিঁথিতে দিয়ে দিল পরমা। তারপরে দিল বিদীপ্তা, আর তারপরে তারহাতের কাছে বরণডালা আর নিজেদের মুখটা নিয়ে গেল দুজনে তার হাত থেকে সিঁদুর মাখবে বলে।

বিজন, তার স্বামী, তার এই একসিডেন্টের পরে প্যারালিসিস হয়ে যাওয়া নিম্নাঙ্গ নিয়েই তাকে বৌয়ের মর্যাদা দিয়েছিল। তার স্বামীর এক চোখ একসিডেন্টের পরে অন্ধ হয়ে যাওয়া তার বাবা মায়ের কাছে বুক ভেঙে দেওয়া একটা অনভুতি হওয়া সত্ত্বেও তার শ্বশুরমশাই তাকে ছেলের বউ হিসাবে মেনে নিয়েছেলেন বা নিতে বাধ্য হয়েছিলেন ঠিক জানে না সে। তার শাশুড়ি মা তাকে মেনে নিতে পারেন নি, অনেক অনেক কারনে যেগুলো সে নিজেও বুঝতে পারে আর তাই কুন্ঠিত হয়ে থাকে মনেমনে।

কিন্তু আজ এই সিঁদুর মাখান লাল মুখ তার যাবতীয় লজ্জা কুন্ঠা দ্বীধা সবকিছুকে ঢেকে দিয়ে তাকে একটা বিরাট পরিবারের মধ্যে টেনে নিল এই অনুভুতিটা তাকে সব কিছু ভুলিয়ে দিল। সে নিজে তার হুইলচেয়ারটা ঘুরিয়ে নিয়ে এগিয়ে গেল তার শাশুড়ি মায়ের কাছে। সামনে দাঁড়াল সিঁদুর সমেত হাতটা উপরে তুলল। এবার আর রায় গিন্নী থাকতে পারলেন না। মাথাটা নামিয়ে গালটা কপালটা এগিয়ে দিলেন চিত্রিতার সামনে। মায়ের মাথার সিঁদুর নিয়ে চিত্রিতার সিঁথিতে দিয়ে ছেলের মঙ্গল কামনা করে জড়িয়ে ধরলেন তাকে।

The Last Day of the Durga Puja celebrations is marked by Sindur Khela in which married Bengali women pray to the Goddess for the well being of their family and in order to celebrate the beautiful bond of marriage apply Sindur (Vermilion-symbolic representation for marriage) on each other followed by distributions of sweets and social gatherings to celebrate the last day of the week long festivities.

bengali writer

Shri Somankar Lahiri was born on 17th of January 1967, in a small town name Serampore, in Hooghly district. His parents were Late D.S.Lahiri and Late Mukul Lahiri. Shri Lahiri completed his schooling from Mahesh Sri Ramkrishna Ashram, (1982) Chatra Nandalal Institution (1984) and graduated from Calcutta University in 1986. At present he is working with National Sample Survey Office, which belongs to The Ministry of Statistics and Program Implementation, as a Data Processing Asst. Along with adeptly managing his professional life, Shri. Lahiri also zealously follows his passion for writing and has many a beautiful short stories and excerpts to his credit.

Enhanced by Zemanta