Tag: kabir suman

Jatishwar Movie Review, Poster, Trailer; An Archive of Bengal’s Roots Documented On Screen

Jatishwar Movie Review

সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পঞ্চম Bangla Movie ‘Jaatiswar’ ছবি নিয়ে লিখতে বসে একটা কথা শুরুতেই লিখে ফেলা প্রয়োজন যে পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের আগের চারটি ছবির সঙ্গে এই ছবির তুল্য মুল্য বিচার করা অর্থহীন। সৃজিতের আগের ছবিগুলির গল্প অন্যধারার হলেও সেগুলির ট্রিটমেন্ট ছিল বাঁধা ছকে আবদ্ধ। বাঁধা ছক বলতে আমি বলতে চাইছি নায়ক চরিত্রকে লারজার দ্যান লাইফ করে তুলে ধরা, অনুপম রায়ের কনটেম্পোরারি মিউজিকের ব্যবহার, বেশ খানিকটা প্রেডিকটেবল ক্লাইম্যাক্স। নিজের পঞ্চম ফিল্মে পৌঁছে সৃজিত শেষ পর্যন্ত ‘খেলা ভাঙ্গার খেলা’ খেললেন। বাঁধা বানিজ্যিক ছক থেকে মাথা উঁচু করে বেরিয়ে এসে এমন এক ব্যতিক্রমী তথা সৃজনশীল সিনেমা উপহার দিলেন বাঙালি দর্শকদের, যা আরো একবার নতুন করে গল্প বলিয়ে হিসাবে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘জাত’ চিনিয়ে দিয়ে গেল আপামর সিনেমাপ্রেমী দর্শকমহলে।

জাতিস্মরের কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছে এই ছবির ‘ব্যতিক্রমী’ গল্প। এমন এক গল্পে নায়ক রোহিত (যীশু সেনগুপ্ত) এবং আনুমানিক ১৭৭ বছর আগে বাংলায় আসা এক পর্তুগালী যুবক অ্যান্টনির প্রেমের উপাখ্যান একাধারে মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। এই গল্পের আদ্যপ্রান্ত জুড়ে আছে খাঁটি বাঙ্গালিয়ানা এবং এই নির্ভেজাল বাঙ্গালিয়ানাকে চিত্রনাট্যকার নিয়ে এসেছেন বাংলা গানের মাধ্যমে।

শুধি দর্শকবৃন্দ যদি আগে থেকে ভেবে নেন যে এই ছবি ১৯৬৭ সালের উত্তমকুমার (Uttam Kumar) অভিনীত ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গী’ ছবির নবতম সংস্করন তাহলে তারা গোড়াতেই গণ্ডগোল করে বসবেন। জাতিস্মরের আবেদন সম্পূর্ণরূপে স্বতন্ত্র। কয়েকদিন আগে অ্যাকাডেমিতে পূর্ব পশ্চিমের নতুন বাংলা নাটক ‘অ্যান্টনি সৌদামিনী’ দেখে এলাম, সৃজিতের এই ছবির স্বাদ কিন্তু সেই নাটকের থেকেও ভিন্নতর। অ্যান্টনি ফিরিঙ্গী এই ছবির গল্পে একজন চরিত্ররূপে এসেছেন বটে কিন্তু এই ছবি কোনোভাবেই ফিরিঙ্গী কবিয়ালের (Antony Firingee) জীবনালেখ্য হয়ে ওঠেনি। জাতিস্মরের মূল আঁধার হচ্ছে এক গুজরাটি রোম্যান্টিক যুবক ‘রোহিত’-এর জীবনের গল্প, যে কাহিনীর বাঁকে-বাঁকে মাঝে মধ্যে উঁকি দিয়ে যায় ফিরিঙ্গী কবিয়ালের জীবনের নানান ঘটনাপ্রবাহ। কেমন ভাবে? প্রথমদিনেই যদি জাতিস্মরের গল্প লিখে দিই তাহলে সৃজিতের প্রতি সেটা চরম অবিচার হবে। সুতরাং সেই লোভ এখানে সংবরণ করলাম।

অভিনয়ে প্রথমে যার কথা লিখতেই হবে তিনি হচ্ছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন চন্দননগরের মধ্যবয়স্ক লাইব্রেরিয়ান ‘কুশল হাজরা’ রূপী Prosenjit Chatterjee (যিনি পূর্বজন্মে ছিলেন কবিয়াল অ্যান্টনি ফিরিঙ্গী)। নিজের সমস্ত গ্ল্যামার স্বেচ্ছায় ঝেড়ে ফেলে অক্লেশে ‘কুশল হাজরা’ হয়ে উঠেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। সৃজিতকে ধন্যবাদ দেবো এমন এক অরিজিনাল ‘লুক’-এ বুম্বাদাকে তুলে ধরার জন্যে। এইবার অবশ্য বোঝা গেল কেন প্রসেনজিৎ প্রায় দেড় মাস মাথায় স্কার্ফ বেঁধে ঘুরতেন। অ্যান্টনি ফিরিঙ্গীর ‘লুক’ তথা মেক-আপ’ নিয়ে একটা মিডিয়া হাইপ তৈরি করে সৃজিত খুব বিচক্ষণতার সঙ্গে তার ডার্ক হর্স ‘কুশল হাজরা’-কে পাবলিক তথা মিডিয়ার নজর থেকে আড়ালে রেখে দিলেন। নিট ফল? ওস্তাদের মার শেষ রাতে! প্রচারের আলো পেলো অ্যান্টনি ফিরিঙ্গী, কিন্তু বাজি মেরে গেলো কুশল হাজরা। এটাই যে বুম্বাদার সর্বসেরা অভিনয়, এমন কথা আমি বলবনা (মনের মানুষ-কে মাথায় রেখে বললাম) কিন্তু এই মধ্যবয়স্ক, আটপৌরে এবং জাতিস্মর ‘কুশল হাজরা’ বুম্বাদার সেরা চরিত্রায়নগুলির মধ্যে নিঃসন্দেহে জায়গা করে নেবে, এই কথা লিখে দেওয়া যায়। অ্যান্টনি কবিয়ালের চরিত্রে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিত্ত্ব এবং স্বনামধন্য গায়ক শ্রীকান্ত আচার্য-র রোম্যান্টিক কণ্ঠস্বরের মিশেল, আমার মনে ঋতুপর্ণ ঘোষের (Rituparno Ghosh) স্মৃতি উস্কে দিলো।  ভোলা ময়রার সঙ্গে কবিগানের সম্মুখসমরে অ্যান্টনি রূপী বুম্বাদার ‘চোখের’ অভ্যব্যক্তি মনে রাখার মতন।

মহামায়া চরিত্রে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়-কে যেমন মানিয়েছে, তিনি অভিনয়টাও তেমনই দাপটের সঙ্গে করেছেন। বাংলা ভাষার প্রতি মহামায়ার অন্ধ আবেগ তথা দুর্নিবার টান নিজের অভিনয়ের মাধ্যমে বেশ ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন স্বস্তিকা।

রোহিতের ভূমিকায় ‘অবাক’ করা অভিনয় করে ফেলেছেন যীশু সেনগুপ্ত। রোহিতের সংবেদনশীল চরিত্রে যীশু-কে (Jisshu Sengupta) নির্বাচন করে সৃজিত আরেকবার ঋতুদার স্মৃতি-কে দর্শকদের মনের মণিকোঠায় উজ্বলতর করে তুললেন। যীশুর স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়ে যেন আমরা ‘রোহিত’-কে জীবন্তরূপে পেলাম। ছবির শেষের দিকে রোহিত যখন ‘এ তুমি কেমন তুমি …’ গাইছে স্টেজে, তখন যীশুর লিপ সিংগিং তথা চোখের অভিব্যক্তি এক-কথায় ফাটাফাটি!!! ওই সময় কবীর সুমন –কে সিনে রেখে সৃজিত এই ছবির অন্যতম মাষ্টার স্ট্রোক টি খেলেছেন। “এ তুমি কেমন তুমি ?”–গান হবে আর কবীর সুমন দৃশ্যে থাকবেন না, তা হয় নাকি?

ছোট্ট অথচ বিশেষ কিছু চরিত্রে খরাজ মুখোপাধ্যায় (ভোলা ময়রা), ক্যাকটাস (Bangla Band: Cactus) – সিদ্ধার্থ (Sidhu), মমতা শঙ্কর (Mamata Shankar)- (মহামায়ার মা) , দোহার – কালিকাপ্রসাদ (লালন ফকির), তমাল রায় চৌধুরী (হরু ঠাকুর), অনন্যা চট্টোপাধ্যায় (যজ্ঞেস্বরী), নীল মুখোপাধ্যায় (সম্ভবতঃ রাম বসু) প্রত্যেকেই বেশ মানানসই। আবির চট্টোপাধ্যায় (Abir Chatterjee) এবং রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Arunodoy Banerjee) স্পেশাল আপিয়ারেন্স করে নিজেদের বন্ধুকৃত্য সেরেছেন (তাদের দুজনকে মানিয়েছেও খুব ভালো আর তাদের অভিনয় নিয়েও কোন কথা হবে না)। নৌকোডুবির পরে আবার বাংলা সিনেমায় রিয়া সেন (Ria Sen) কাজ করলেন, যদিও তেমন কিছু করে উঠতে পারেননি তিনি।

সউমিক হালদারের (Soumik Halder) চিত্রগ্রহন মনে রাখার মতন হয়েছে (কিছু হ্যান্ড হেলড শট তো এক-কথায় অনবদ্য।) বোধাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Bodhaditya Banerjee) সম্পাদনা নিয়েও বলার কিছু নেই, একেবারে ধারালো তরোয়ালের মতন শার্প।

পরিশেষে এলাম এই ছবির সঙ্গীতের কথায়। অনেক ধন্যবাদ সৃজিতকে (Srijit Mukherji) এমন একটি ছবির মিউজিক্যাল অথোরিটি কবীর সুমনের হাতে তুলে দেওয়ার জন্যে। আর কি team বানিয়েছিলেন Kabir Suman! সহকারী হিসাবে ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত (Indraadip Dasgupta) এবং গায়ক/গায়িকা রূপে রুপঙ্কর বাগচী (Rupankar Bagchi), মনোময় ভট্টাচার্য (Monomoy Bhattacharya), শ্রমণা গুহ ঠাকুরতা (Shromona Guha Thakurta), সুমন মুখোপাধ্যায় (লাল দা) (Suman Mukhopadhyay), খরাজ মুখোপাধ্যায় (Kharaj Mukherjee), কালিকাপ্রসাদ (Kalikaprasad Bhattacharjee)এবং শ্রীকান্ত আচার্য (Srikanto Acharya)। প্রত্যেকেই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন তাদের অভিভাবকস্বরূপ কবীর সুমনের সম্মানরক্ষায়।

এই ছবির সবথেকে বড় চমক হচ্ছে ছবির ক্লাইম্যাক্স। এমন এক ক্লাইম্যাক্স ফেঁদেছেন সৃজিত যে দর্শকদের মনে হতে বাধ্য – শেষ হইয়াও প্রকৃতরূপে হইলো না শেষ।

ষোলোআনা বাঙ্গালিয়ানার পক্ষ্য থেকে আমি সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত পঞ্চম Bengali Movie Jatishwar-কে  নম্বর দিলাম : 7.5/10

 


Jaatishwar Theatrical Trailer (Official) | Prasenjit Chatterjee, Riya Sen | Bengali Movie 2013 (You Tube)

 

Jatishwar Movie Review By:

SanjibSanjib Banerji takes a keen interest in both Old and Contemporary/modern Bengali literature and cinema and has written several short stories for Bengali Little magazines. He also runs a little magazine in Bangla, named – Haat Nispish, which has completed its 6th consecutive year in the last Kolkata International Book Fair. Being the eldest grandson of Late Sukumar Bandopadhaya, who was the owner of HNC Productions and an eminent film producer cum distributor of his time (made platinum blockbusters with Uttam Kumar, like “Prithibi Aamarey Chaaye”, “Indrani” and several others), Sanjib always nurtured an inherent aspiration of making it big and worthy in the reel arena. He has already written few screenplays for ETV BANGLA.
Sanjib can be reached at sanjib@sholoanabangaliana.com
The information and views set out in this movie review are those of the author and do not necessarily reflect the official opinion of the Publication/Organization. Neither the Publication/Organization nor any person acting on their behalf may be held responsible for the use which may be made of the information contained therein.

 

 

Enhanced by Zemanta

Jatishwar Premiere Report in Pics and Video; A Musical Evening for the Musical of Memories

“A Genius is Not One Who can Do and Understand a Lot of Things but is One Who can Understand the Importance of a Lot Many Things”, Said by Bernard Shaw and quoted by none other than Kabir Suman on the evening of January 17, 2014 at the Premiere function of New Bengali Movie Jatishwar and as we might have already guessed, the above mentioned quote was meant for no one else but the ‘Hit Maker’ Director Srijit Mukherji.

The evening of January 17 will be remembered in the history of Bengali Cinema as it is on this day that a movie like Jatishwar which can very well be called an archive of one phase of Bengal’s Musical Revolution was screened for guests and the media.

As the Bengali Film Jatishwar has been called a ‘Musical of Memories’, it had a fitting premiere as, right outside Priya Cinema Hall, the premiere venue, a stage was set for live music performance by Bangla Band Dohar led by Mr. Kalikaprasad Bhattacharjee who has also played the role of Lalon Fakir in the movie Jatishwar. The surprise element and the high point of the evening was the performance by three renowned Kobiwalas or Kabiyals who were later felicitated by the team for their outstanding contribution to the culture of the land. Sri. Sanath Biswas, Md. Kairali and Dulali Devi who had all come from various districts of Bengal enthralled the audience with their live Kobi Gaan and received a standing ovation from the audience present. Their act was so different and mesmerizing that even Kabir Suman rushed up to the stage to play the harmonium and accompany the bards of Bengal. Not just the Kobiwalas, even Bengali Band Dohar’s performance, specially the song ‘Jaat Gelo’ was wonderfully received by the audience present at the Jatishwar Premiere function.

Kabir Suman who addressed the assembled guests also spoke at length about the origin of Kobi Gan and Bengal now and then. “The people of Bengal at one point in time were very free spirited and also very expressive but owed to certain socio-political changes in this great land, a kind of leveling happened and people started expressing themselves in a very mellowed down and refined way which became the primary cause of all the damage that was done to the various modes of expression of which Kobi Gaan was also a part”, said Kabir Suman. Elaborating on this cultural leveling and gradual erosion of Bengal’s heritage, Kabir Suman also suggested that the people of Bengal should come together and appeal to the President of India Sri. Pranab Mukherjee and the Chief Minister of Bengal Ms. Mamata Banerjee to take an initiative to archive these precious fragments of history so that our progeny does not have to grow up in a state of cultural destitution. Kabir Suman ended his long but gripping speech thanking the producers for having faith in Srijit and his team and most importantly the subject of the movie and finally commanding the audience present to watch this wonderful movie again and again.

The man of the moment, Director Srijit Mukherji finally took charge of the stage and introduced the cast and crew of the team before quickly signing off to let the Musical of Memories begin and So It Began …….


Jatishwar Premiere Live Performance by Dohar (You Tube)

 

 

 

Enhanced by Zemanta

New Bengali Movie Jatishwar Cast and Crew met the Press at the Park Kolkata

New Bengali Movie Jatishwar

Before the New Bengali Movie Jatishwar releases this Friday, a last minute press conference was held at the Park Hotel to let the media have a last minute chat with the cast and crew of this Bengali film. Abir Chatterjee, Srijit Mukherjee, Kabir Suman, Sidhartha Ray (Sidhu Da), Indraadip Dasgupta, Rahul, Prasenjit Chatterjee, Sourav Samaddar and Jishu Sengupta were present at this last minute press conference just before the release of this much awaited film.

“I was much inspired by the song of Kabir Suman named Jatishwar. This gave me the idea to make a film on this name. The film is not only about Anthony but is also a celebration of music. This is the best picture that I have made till date. This film is very special and is extremely close to my heart. This film is special because the person whose song inspired me to make this film has also composed four songs in the film” said the director, Srijit Mukherji.

New Bengali Movie Jatishwar

Kabir Suman praised Srijit and also thanked him. “This feels great to see a Bengali Movie made on my songs during my lifetime. Srijit has researched really hard and even I had to do a lot of research for the Kabiyal songs. It would have been a great loss had I decided not to work in this film”.

Rahul who has a cameo in this film shared a funny incident during the shooting of this film. He was aware of the fact that Prasenjit Chatterjee was acting in the film. But one day he found a bearded man in loose fitting clothes talking with Swastika. Even Swastika was replying with a smile on her face. This puzzled him and later he found that the man was none other than Prasenjit Chatterjee.

New Bengali Movie Jatishwar

Prasenjit highlighted on the good rapport that exists between him and Srijit to be one of the reasons behind their success on screen. “It is important to have good relations with the people you work. That chemistry shows on screen. This is my fourth film with Srijit and we are good colleagues as well as great friends”.

Jatishwar will release in over hundred halls in the city and the suburbs. The movie has already got tremendous response from the audience in Mumbai and Delhi and awaits the audience verdict in Bengal.

Priyanka Dutta

Enhanced by Zemanta

Brief history of Kobi Gan in Bengal and its Impact in Bengali Film Music (Sholoana Bangaliana Feature))

 গ্রামীন বাংলার প্রাচীন কবিগানের সংক্ষীপ্ত ইতিহাস এবং বাংলা সিনেমায় কবিগানের প্রভাব

রাজার গলার হার বা ফুলের মালা না পেলে রাজ্যবাসীর কাছে স্বীকৃতি মিলবে না আর তার জাত ও কুলীন হবে না। তাই রাজ সভায় যেতেই হবে তা সে মল্লবীর হোক যোদ্ধা হোক, অলঙ্কার শিল্পী হোক বা কথা শিল্পী। রাজতন্ত্রে রাজার স্বীকৃতিই শেষ কথা। তাই রাজসভাতেও বসত নানান আসর। সেখানে পেশ করা হত ওস্তাদি গান বা পাক্কা গানা, যার সমঝদার যে সব সময় খুব বেশী হত এমন নয়, কিন্তু যোগ্য বংশের রাজপুত্রদের অনেক কলার মত সঙ্গীত কলারও চর্চা করতে হত।  তা সেই পাক্কা গানার সমঝদার তিনি হয়ত হলেন কিন্তু সভার সবাই তো আর তা নয়, কিন্তু রাজা মশাই মাথা নাড়লে যদি সভাসদরা মাথা স্থির রাখেন তবে সে মাথা স্বস্থানে নাও থাকতে পারে। অগত্যা।

কিন্তু কবি, তাকেও তো স্বকৃতি পেতে হবে রাজার, না হলে সেও তো অজ্ঞাতকুলশীল। তাই সে এসে পৌছাল রাজসমীপে হাতে ভুর্জ পত্রে লেখা রাজ বন্দনা। রাজা যদি তা শুনে তাঁর গলার ফুলের মালাটি ও দেন তবে কবির সেটাই সেরা প্রাপ্তি। রাজা শুনলেন সিংহাসন থেকে নীচে নেমে এসে বুকে জড়িয়ে ধরলেন কবিবর কে। রাজ সভায় সেও পেল আসন। কিন্তু এতে সাধারন সভাসদ যারা তাঁরা তেমন আমোদ পেলেন না। কারন ওস্তাদি গানের মধ্যে আছে দাপট, সুরের রোশনাই, তানের হল্কা, না বুঝলেও তাঁর আঁচ গায়ে এসে লাগে, কিন্তু এই স্নিগ্ধ কাব্যের মধ্যে না আছে সেই দাপট, না কারিকুরি। তার থেকে রাজা মশাই আপ্লুত হতে পারেন কার স্তুতি তো তাঁরই কিন্তু এতে তো মাথা নাড়ানর ও ব্যবস্থা নেই, কেমন যেন একটা নরম নরম ব্যাপার। তা দু ছত্র এই নরম সরম ব্যাপার দেখিয়ে যদি সবাই রাজার অনুগ্রহ পেয়ে যায় তবে তো হয়েছে আর কি। তাই কবিকেও নামাও যুদ্ধে, দেখ সে পারে কি না। যদি পারে থাক না রাজার প্রিয় হয়ে কিন্তু যদি না পারে তবে যার কাছে তার হার তাকেই দিতে হবে রাজার সভায় আসন। কাব্য কে নামতে হল রণে।

তা রণের যা নীতি তা তো এখানেও প্রযোজ্য, দুপক্ষকে লড়িয়ে দাও রাজামশাইয়ের সামনে। শুরু হল কবির লড়াই। শাস্ত্রকাররা যেমন তর্কে শ্লোকে ব্যবহৃত সংস্কৃত শব্দের মানে ও তার কূট প্রযোগ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে একে অপরকে হারাতে চেষ্টা করতেন এখানেও ব্যপারটা অনেকটা সেই রকমই দাঁড়াল, এক কবিবর এক কবিতা পাঠ করেন, অন্যে তার সেই কবিতার ভাবকে নস্যাৎ করতে অপর একটি কবিতা পাঠ করেন, অন্তে যাঁরটি বেশী মনগ্রাহী হল সেই পেল সম্মান। এই করতে গিয়ে দেখা গেল একজন কবি দিয়ে তো ঠিক হচ্ছে না, কারন অন্যপক্ষের কবিতার ভাব বা ছন্দ বা শব্দ হয়ত হারিয়ে যাচ্ছে, তখন কবিরা সাথে করে বাহিনী নিয়ে নামতে শুরু করলেন। কেউ লিখে রাখেন ছন্দ, কেউ বা অন্তোতচারিত শব্ধ, কেউ বা ভাব। আর জবাবি সময়ে সেগুলি যথাযথ কবিকে যোগান দিয়ে দেওয়াই ছিল তাঁদের কাজ। দোহার এর জন্ম হয় সেই ভাবে। মুল কবিকে বলা হত সরকার। আর সরকারের সহযোগীদের বলা হত দোহারের দল।

কবিগান শুধু যে বাংলায় হত তা নয় ভারতের বিভিন্ন রাজ সভায় এই ব্যাপারের চল ছিল। কবিপ্রতিভা যখন রাজানুগ্রহ চাইতে যেতেন তখন তাকে বিভিন্ন রকমের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হত। রাজ সভার থেকে আটজন পণ্ডিতকে নিয়ে গঠিত হত “অষ্টবাধনা” এই আট জন তখন নতুন কবিকে বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা নিতেন, কেউ একটি নির্দিষ্ট শব্ধ দিয়ে শুরু করিয়ে কবিতা বলতে বলতেন, অগ্রমিল, কেউ শেষে মেলানর শব্ধ বলতেন, অন্তমিল, কেউ কোন নির্দিষ্ট শব্ধ বাদ দিয়ে কবিতা করতে বলতেন, কেউ নির্দিষ্ট ছন্দে, বা লয়ে, লয় ও ছন্দ পরীক্ষা করার জন্য তালবাদ্যের বাদক থাকত উপস্থিত। আর এই সবই হত একেবারে হাতে গরম।  মানে তৎক্ষণাৎ। রাজানুগ্রহ বলে কথা।

কবিগানের একটা ভাল ব্যাপার ছিল, এগান শুরু করতে হত প্রথমে গণেশ/ সরস্বতী বন্দনা দিয়ে, তারপরে বন্দিত হতেন গুরু, শেষে রাজস্তুতির পরে কবিয়াল উপস্থিত জন গণেশের বন্দনা করে শুরু করতেন প্রথম কবিতা। এই কবিগানের বহু ধরনের বিচরন ক্ষেত্র আছে, বাংলার বহু ধরনের সাংগীতিক ও বাচিক শিল্প মাধ্যমকে ব্যবহার করেই এই কবিগান সাধারণত হয়ে থাকে যেমন পাঁচালী, এই পদ্ধতিতে কবিয়াল কে একাই বিভিন্ন বিষয়কে নিয়ে কবিতা ও গানের মাধ্যমে উপস্থিত মানুষের মনরঞ্জন করতে হত, এতে দেব দেবীর অর্থাৎ কিনা রাধা কৃষ্ণের লীলা বর্ননার ভাগই থাকত বেশী, আবার শরতে মা দুর্গার আগমনের খবর নিয়ে হত ‘আগমনী’, আবার কবির লড়াই যখন হত তখন রাধা কৃষ্ণের লীলা বিষয়ক গানের উপস্থাপনাকেও বলা হত আগমনী, মানে আসছে, এবারে লড়াই শুরু। কবিয়ালের এখানে আর এক নাম থাকত কথক ঠাকুর। এরপরে থাকত আখড়াই, হাফ আখড়াই কবিগান। আখড়া যেখানে এই বিশয়ের চর্চা হয়ে থাকে সেখান থেকে কবি ও তার দলবল পাঠান হত, গুরু বা মুর্শেদ বা ওস্তাদ নিজে যখন আসতেন তখন হত ফুল আখড়াই, যখন আখড়ার গুরু বাদে অন্য কোন সদস্য কে আখড়ার দলবল সমেত পাঠান হত সেটা হত হাফ আখড়াই, সেখানে আখড়াই ধারার বাইরের জিনিসের ও প্রয়োগ করা যেত। এতে যারা অংশ গ্রহণ করতেন তারা একাধারে কথক, কবি, সুরকার সবই হতেন। তাছাড়াও ছিল তরজা, লহর, খেউর ইত্যাদি। লহর খেউর আবার রাধা কৃষ্ণের লীলা গানের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হত। আর এই কবিগান যখন রাজ দরবার থেকে সাধারন মানুষের মনরঞ্জনের কাজে নিয়েজিত হল তখন আবার তাতে একটি পদ যোগ হল, দলের কিছু মানুষের কাজ হয়ে দাঁড়াল অন্যপক্ষের যিনি বা যাঁরা আছেন তাঁর বা তাঁদের ব্যক্তিগত কেচ্ছাকে খুঁজে বার করা আর সময় মত তার সরবরাহ করে দেওয়া। আর এই ব্যাপারটা সাধারনের মধ্যে এত জনপ্রিয় হয়ে গেল যে বাকী সব কিছুকেই পিছনে ফেলে দেওয়ার উপক্রম হল। বাংলার কবিয়ালদের মধ্যে সব চাইতে বেশী সংখক কবিয়ালের উৎপত্তি বীরভুম জেলা থেকে। ১৮শ শতক থেকে ২০শ শতকের মধ্যে সেখানে প্রায় ৩০০ র বেশী কবিয়ালের উল্লেখ পাওয়া যায় ডঃ সুশীল কুমার দে মহাশয়ের লেখায়, তিনিই এই কবিয়াল নামকরণটি করেন।

১৮শ শতকে সবচাইতে আগে যে কবিয়ালের নাম আমরা পাই তিনি হলেন বীরভুমের গোঞ্জলা গুঁই, তার সমসাময়িক রা হলেন লালু-নন্দলাল, রঘু, রামজী ইত্যাদিরা।  তারপরে ১৯শ শতকে কলকাতার সেরা কবিয়াল দের মধ্য অগ্রগণ্য ছিলেন, হারু ঠাকুর, নিতাই বৈরাগী, রাম বসু, ভোলা ময়রা, ইনি ছিলেন হারু ঠাকুরের প্রধান চ্যালা। আর ছিলেন এন্টনী কবিয়াল। ইনি জাতে পর্তুগীজ ছিলেন বিধবা বিবাহের মত ঘটনা ছাড়াও এনার আরো একটি অবদান স্মরণীয় সেটা হল ব্যক্তিগত কুৎসার কে বাদ দিয়ে ইনি কবিগান কে অনেক উচ্চপর্যায়ে আবার উঠিয়ে নিয়ে যেতে সফল হয়ে ছিলেন।

বলহরি রায় (১৭৪৩-১৮৪৯), শম্ভুনাথ মণ্ডল (১৭৭৩-১৮৩৩), তারক চন্দ্র সরকার (১৮৪৫-১৯১৪), হরি চরণ আচার্য (১৮৬১-১৯৪১) রমেশ চন্দ্র (১৮৭৭-১৯৬৭) রাজেন্দ্রনাথ সরকার (১৮৯২-১৯৭৪), বিজয় কৃষ্ণ অধিকারী (১৯০৩-১৯৮৫), নিশিকান্ত রায়সরকার ও মুকুন্দ দাস এই দুজনকে প্রধানত চারন কবি বলা হয়, ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষকে উজ্জীবিত করেছিলেন গ্রামে গঞ্জে মানুষের মাঝে গান গেয়ে। এক্ষেত্রে কবি রাজ শক্তির বিরধিতা করেছিলেন দেশের মানুষের মুক্তির জন্য। জনপ্রিয়তা এনাদেরও কিছু কম ছিল না। জয়মাল্য কখন যে কোথাথেকে আসে তা কে জানে।

বাংলা ছবিতে এক সময় কবিগান অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। ১৯৬৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এন্টনী ফিরিঙ্গী (Anthony Firingee) ছবিতে উত্তমকুমারের অবিস্মরণীয় অভিনয়, তাকে জাতীয় পুরষ্কার এনে দিয়েছিলো। প্রয়াত শিল্পী মান্না দে সেই ছবিতে এমন গায়কির নিদর্শন রেখেচিলেন যে আমরা আজও সেইসব গান ভুলতে পারিনি। এই ছবিতে ভোলা ময়রার (Bhola Moira) ভূমিকায় বর্ষীয়ান অভিনেতা অসীত বরণ মনে রাখার মতন অভিনয় করেছিলেন। এই ছবি মুক্তি পাওয়ার কয়েকবছর পরে আবার কবিগান নিয়ে ছবি হল, এবারে ছবির নায়ক ‘ভোলা ময়রা’, এবারও নায়ক উত্তমকুমার (Mahanayak Uttamkumar)। এবারও মনে রাখার মতন অভিনয় করলেন মহানায়ক। এরপরও ‘কবিগান’ কিম্বা ‘কবির লড়াই’ নিয়ে বাংলা ছবি হয়েছে। আমাদের নিশ্চয় মনে আছে পরিচালক তরুন মজুমদারের (Tarun Majumder) সঙ্গীতমুখর প্রেমের ছবি ‘ফুলেস্বরী’-র কথা, যেখানে নায়ক সমিত ভঞ্জ (Samit Bhanja) ছিলেন কবিগানের শিখরে বিরাজমান এক যুবক। বিশ্ববরেণ্য পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Ray) বহুপ্রশংসিত এবং আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত সিনেমা ‘গুপি গাইন বাঘা বাইনে’-ও (Goopi Gayin – Bagha Bayin) পরোক্ষরূপে গ্রামীন বাংলার প্রাচীন কবিগানের প্রভাব তথা ব্যবহার লক্ষ্যনীয়।

বাংলা ছবির পরিছালকদের বাংলা কবিগানের প্রতি এই দুর্বলতার ধারা অব্যহত রেখে নবীন চিত্রপরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় (Srijit Mukherji) নিজের আগামী বাংলা ছবি ‘জাতিস্মরে’ এমন এক ব্যক্তির গল্প দেখাতে চলেছেন বড় পর্দায়, যিনি ১৭৭ বছর আগে এন্টনী কবিয়াল রূপে জন্মগ্রহন করেছিলেন। সেই জাতিস্মরের দৃষ্টি দিয়ে আমরা দেখতে পাবো সেই সময়ের কবিয়ালদের। হরু ঠাকুর রূপে দেখা দেবেন প্রখ্যাত নাট্য পরিচালক এবং সুগায়ক সুমন মুখোপাধ্যায় (Suman Mukhopadhyay)। ভোলা ময়রা হয়ে আসতে চলেছেন আমাদের সবার প্রিয় খরাজ মুখোপাধ্যায় (Kharaj Mukherjee), যার গানের গলাটিও অভিনয়ের মতনই দিব্য সরেস। নায়িকা অনন্যা চট্টোপাধ্যায় আসবেন জজ্ঞেস্বরীর ভূমিকায় এবং এন্টনী কবিয়ালের চরিত্রে আমাদের সামনে আসবেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee)। বহু নথিপত্র ঘেঁটে এই ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায় এবং সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন এমন এক মানুষ, যাকে বাংলা গানের নবনির্মাণের মূল কাণ্ডারী বলা চলে। সেই দিকপাল লেখক, কবি, গায়ক, সুরকার কবীর সুমনের (Kabir Suman) সুরে এই ছবিতে গান গেয়েছেন রূপঙ্কর, শ্রীকান্ত আচার্য, শ্রমণা গুহ ঠাকুর তা, সুমন মুখোপাধ্যায়, খরাজ মুখোপাধ্যায় এবং কবীর সুমন স্বয়ং। আশা রাখাই যায় যে কবীর সুমন এবং সৃজিতের হাত ধরে আমরা ছবির পর্দায় আরো একবার ফিরে দেখব বাংলা গানের সেই পথিকৃৎ স্বরূপ কবিয়ালদের। অগনিত বাংলা ছবির দর্শক তথা বাংলা গানের গুণগ্রাহীদের মতন ষোলোআনা বাঙ্গালিয়ানাও অধীর আগ্রহে দিন গুনছে কবে জাতিস্মরের দেখা পাওয়া যায়।

 

Kobi Gaan Then and Now


Bengali film song Kemon Kore Bolli Joga … from the movie Antony Firingee (You Tube)

 


Khrishte Aar Kriste – Jatishwar (Bengali Movie 2013) (You Tube)

 

 

Article on history of Kobi Gan written by:

bengali writer

Shri Somankar Lahiri was born on 17th of January 1967, in a small town name Serampore, in Hooghly district. His parents were Late D.S.Lahiri and Late Mukul Lahiri. Shri Lahiri completed his schooling from Mahesh Sri Ramkrishna Ashram, (1982) Chatra Nandalal Institution (1984) and graduated from Calcutta University in 1986. At present he is working with National Sample Survey Office, which belongs to The Ministry of Statistics and Program Implementation, as a Data Processing Asst. Along with adeptly managing his professional life, Shri. Lahiri also zealously follows his passion for writing and has many a beautiful short stories and excerpts to his credit.

 

Research Contribution: Sanjib Banerji

 

 

Enhanced by Zemanta

Jatishwar Trailer launch; Bengal eagerly looking forward to Srijit Mukherji’s New Bangla Movie

Jatishwar trailer

Srijit Mukherjee’s next directorial venture “Jatishwar” has eminent actor Prasenjit Chatterjee playing the lead character of Antony. The trailer launch of this upcoming Bangla Movie took place recently at Axis Mall. Among the other dignitaries who graced this occasion were Sidhu, Kabir Suman, Kumar Sanu, Jisshu Sengupta and Indraadip Dasgupta. The film is produced by Reliance entertainment and Rana Sarkar.

Speaking on the occasion, Srijit Mukherjee said “The film is actually a remake of the hit film “Antony Firingi” starring Mahanayak Uttam Kumar. The film is based on the story but the setting is contemporary. I have set the film on a contemporary frame just so that the audience can easily relate to it. Hence the film is set in a 2013 set up. The audience will go back and forth in time as the story has reincarnations in it”. The shooting of this film has been done in various parts of the city and also in Chandannagar, Naihati and Paris.

Since the film is based on a Kabiyal singer, music plays an important role here. Lot of research has gone into the music in order to make it sound credible. The music of this film has been composed by ace musician Kabir Suman.

tollywood hero prosenjit chatterjee

Looking just like a Bengali groom in the traditional Dhoti and Panjabi in the Jatishwar Trailer Launch function, Prosenjit Chatterjee captured the eyes of the assembled guests. “Bengalis have ceased to be Bengalis. They are no more proud of their culture. Hence I am trying in my own small way to revive the culture by sticking to the Bengali way of dressing” said the actor. The actor also said that this film is a special project for him.

Prasenjit Chatterjee left the audience spellbound with his great performance as Lalon Fakir. We will have to wait and watch to see whether he can recreate the same magic in the portrayal of the Portuguese poet Antony.

Priyanka Dutta


Jatishwar Official Trailer (You Tube)

Enhanced by Zemanta