Tag: Bong Rocks

Jatishwar Music Review; A Fan’s Letter to Kabir Suman Congratulating the Effort and Presentation

jatishwar musicমান্যবরেষু

কবীর সুমন মহাশয়,

আশা করি এই মুহুর্তে আপনি নিশ্চয়ই অবগত যে পরিচালক সৃজিত মুখার্জির মন কেমন করা বাংলা ছবি ‘জাতিস্মর’ –এ বুঁদ আম-বাঙ্গালি। কিন্তু বাঙালি তথা আমাদের কাছে আসল জাতিস্মর তো আপনি। অত্যাধুনিক যন্ত্রানুসঙ্গ এবং  অ্যামপ্লিফায়ার-এর গর্জনের চোটে বিলুপ্ত প্রায় পুরাতনী বাংলা তর্জমা গান এবং ফেলে আসা জন্ম-পূর্বক ঊনিশ শতককে সুরের স্মৃতি মেদুরতায় তা সত্যিই কুর্নিশ যোগ্য। ‘জাতিস্মর’ ছবিতে ব্যবহৃত বাংলা গানের বিবর্তনী কোলাজে আট থেকে আশি আজ মন্ত্রমুগ্ধ। প্রায় দেড়শ বছর-এর পুরনো বাংলার কবি গান থেকে কালী কির্ত্তন, পদাবলী কির্তন; পোর্তুগিজ ফোক থেকে লালন গীতি; বাংলা আধুনিক জীবন মুখী থেকে বাংলা ব্যান্ড, বাংলা রক – আবহমান কাল ধরে চর্চিত বঙ্গীয় সুর-সংগীতের যে বিস্তৃত চালচিত্র ফুটে উঠেছে তা কন অংশেই পরিপূর্ণ নয়। তবে ছবির সাঙ্গীতিক জয় যাত্রার মুখ্য ও আংশিক কান্দারী আজ আপনিই।

মোট ২১ টি গান সমৃদ্ধ ‘জাতিস্মর’ নাম্নী ছবির উপশিরোনাম ‘আ মিউজিক্যাল অফ মেমরিজ’। সত্যিই সুর ও স্মৃতির গভীর একাত্মতা, যেখানে প্রতিটা গানই সংযোজন করে আলাদা মাত্রা।

ছবিতে অ্যান্টনি কবিয়ালের গান ছাড়াও ব্যবহৃত হয়েছে হরু ঠাকুর, ভোলা ময়রা, ঠাকুর সিংহ, এবং মহিলা কবিয়াল যজ্ঞেশ্বরীর কবি গান; পল্লী গীতি লালন ফকির, পোর্তুগিজ ফোক;  আধুনিক বাংলা জীবন মুখি গানে রয়েছে আপনার স্বাক্ষর; তাছাড়া সমকালীন ব্যান্ড পর্জায়ে রয়েছে অনুপম রায় এবং বাংলা রক-এ সিধু-সাকি।

 এই ছবির প্রতিটা গান ব্যবহৃত হয়েছে প্র্য়োজনার্থে। অ্যান্টনি ফিরিঙ্গির কণ্ঠে শ্রীকান্ত আচার্জ–র কণ্ঠ মোটের ওপর মানানসই। ‘জয় যোগেন্দ্র জায়া মহামায়া’ গানটির আধ্যাত্মিক সুরের দূর্গা বন্দনার ভঙ্গি, যা মনে পবিত্রতার সঞ্চার করে। সেই সঙ্গেই শ্রীকান্তের কণ্ঠে শ্যামা সঙ্গীত ঘরানায় ‘কী রঙ্গ দেখাবি তুই মা’ একটি সুন্দর কালী কির্তন হয়েছে। সুমন মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘আগে যদি সখী জানিতেম’ গানটি একটি উৎকৃষ্ট পদাবলী কীর্তনের পরিচয়। এই পর্বেই রাখা যায় কীর্তনীয়া ঢঙ্গে শ্রমণা চক্রবর্তী্র কণ্ঠে যজ্ঞেশ্বরীর ‘হলে যদি হল সখা অধিষ্ঠান’ গানটিকে। এছাড়াও বিশেষ উল্লেখ্য ‘যে শক্তি হইতে উৎপত্তি’, ‘প্রেমে খান্ত হলেম প্রান’, ‘খ্রিষ্টে আর কৃষ্টে’, ‘প্রান তুমি’ এই গান গুলির কথা ও সুর। তাছাড়া আপনার কণ্ঠে ‘বল হে অ্যান্টনি’ তে কীর্ত ন ও আখড়াই- এর মিশেল, মনোময় ভট্টাচার্জের কণ্ঠে ‘এখন বুঝলি তো এই হরু নয় সেই হরি’ গানে কন্সার্ট ভঙ্গী মনে রাখার মত। খরাজ মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘তুই জাত ফিরিঙ্গী’ গানটিকেও নতুন ভাবে পাওয়া গেল। পল্লীগীতি প র্‍্যায় দিব্যেন্দু মুখোপাধ্যায়ের  পোর্তুগিজ গানটি বেশ সুন্দর, পাশাপাশি কালিকাপ্রসাদ ভট্টাচার্জের গাওয়া লালন ফকির-এর ‘জাত গেল জাত গেল বলে’ গান টিও মাটির টান কে অনুভব করায়। আধুনিক গানে আপনার লেখা তিন মাত্রার মার্চিং টিউনে ‘সহসা এলে কী’ গানটা বেশ শ্রুতি শ্রাব্য। তবে এ তুমি কেমন তুমি গানটিও আপনার কণ্ঠে আগে ব হুবার শুনেছি, তবে রূপঙ্করের সুমধুর কণ্ঠেই গানটা বেশী ভাল লাগল। জীবনমুখী প র্‍্যায় আপনার গাওয়া ‘প্রথম আলোয় ফেরা’ গান টি মধ্যযুগীয় ব্যালাড গানের কথা মনে করায়। সমকালীন ব্যান্ড পর্বে অনুপম রায়ের ‘দ্বিতীয় পুরুষ’ অ্যালবামের ‘ফাঁকা ফ্রেম’, সমকালীন বাংলা রক প র্‍্যায়ে সিধুর ‘সিংহ রাশি রাক্ষস গন’ এবং সাকির ‘বল কোনটা প্রিয়’ সমকালীন যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গীত প্রীতির ভাবগতির পরিচয় দেয়।

তবে একটা কথা না বলে পারছি না, আপনার যে গানটিকে ভিত্তি করে এত সুন্দর সিনেমাটির নির্মান সেই ‘জাতিস্মর’ গানটিকে ছবির শেষে ব্যবহার করায় গানটির গুরুত্ব খানিকটা হলেও কমে গেছে সাধারন দর্শকের কাছে।

পরিশেষে বলি, তর্জমা বাণী চয়নে সৃজিত মুখার্জি যতটা সার্থক ততটাই সার্থক তার সঙ্গীত পরিচালক হিসাবে আপনাকে নির্বাচনের ভাবনা। ‘জাতিস্মর’-এর মত নতুন ভাবনার বাংলা ছবি আরও হোক, তার সঙ্গে অমর হোক বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আপনার অবদান।

শুভেচ্ছান্তে,

প্রীতম পাল

Pritam Pal

Jatishwar Music Review has been written in the form of a letter by Pritam Pal to the music composer of the Film Kabir Suman whose song Jatishwar was also the inspiration behind Director Srijit Mukherji’s epic musical Jatishwar. Pritam who is a journalist by profession also takes keen interest in listening to and analyzing different genres of music and critically reviewing them.

Enhanced by Zemanta

Sholoana Bangaliana’s tribute to Sri. Sukumar Ray- The Father Of Bengali Satirical Nonsensical Literature

 abol tabol

 

Sukumar Ray was the son of the famous children’s fairy tale writer Upendrakishore Roy Chowdhury, the father of the greatest filmmaker of India, Satyajit Ray and also the grandfather of Tollywood filmmaker Sandip Ray. Sukumar Ray was the founder secretary of “Monday Club” (মণ্ডা ক্লাব), a weekly gathering of like-minded people at the Ray residence, where the members were free to express their opinions about the world at large. Eminent personalities like Rabindranath Tagore and Saratchandra Chattopadhyay also visited the Monday Club meetings, to honour the invitation of Sukumar Ray. A number of poems were penned by Sukumar Ray in relation to the matters concerning “Monday Club”, primarily soliciting attendance, announcing important meetings etc.

 

আয়রে ভোলা খেয়াল খোলা

স্বপনদোলা নাচিয়ে আয়

আয় রে পাগল আবোল তাবোল

মত্ত মাদল বাজিয়ে আয়

আজ ঈশ্বর দিবস। আজ থেকে ঠিক একশো ছাব্বিশ বছর আগে জন্ম হয়েছিল সেই বেয়ারা সৃষ্টিছাড়া নিয়মহারা হিসেবহীন ঈশ্বরের, যিনি তাঁর অসম্ভবের ছন্দে, উধাও হাওয়ার স্রোতে আজও ভাসিয়ে নিয়ে চলেছেন আমাদের। তিনি সুকুমার রায়। আমরা যারা বড্ড ছোট, বড্ড সাধারণ, বড্ড হিসেবী, যাদের জীবন ঘিরে বারবার প্রতিধ্বনিত হয় শুধুমাত্র ধুত্তেরিকা আর ধ্যাত্তেরিকা, আমাদের সেই বিরক্তিহীন বাঁচতে চাওয়ার বৃথা আশার দিকে সটান তাকিয়ে মুচকি হেসে যিনি আমাদের এই আকালেও স্বপ্ন দেখতে শেখান, তিনি হলেন সুকুমার রায়। ঈশ্বর, পৃথিবী এবং ভালোবাসাকে গুলে খাওয়া, যুগের থেকে অনেকটা এগিয়ে থাকা এমন এক মানুষ, যাঁকে এখনো আমাদের চল্লিশ না পেরিয়েও চালসে পড়ে যাওয়া চোখ তকমা দেয় শুধুমাত্র শিশু সাহিত্যিকের।

এখনো যখন মাঝ ছাদে একলা দুপুর নামে, চিলেকোঠার ঘরে অল্প অল্প করে নেমে আসতে থাকে শান্ত রূপকথারা, আরো পশ্চিমে বড় হয়ে উঠতে থাকে ছায়া, যখন শৈশব পালন করে জ্যোৎস্নার উৎসব, তখন ঘুমপাড়ানি গানের মত সারা গায়ে জেগে থাকে পাগলা দাশু, খুড়োর কল,কাতুকুত বুড়ো, কাগেশ্বর কুচকুচে, আহ্লাদীরা। কবীর সুমন বলেছিলেন, ‘তোর গানে পেঁচী রে, সব ভুলে গেছি রে’ এর মত প্রেমের কবিতা একমাত্র সুকুমার রায়ের পক্ষেই লেখা সম্ভব। আর পুণ্যলতা চক্রবর্তী লিখেছিলেন, ছন্দ মেলানোর ব্যাপারে দাদা কখনো হারত না। যত শক্ত হোক না কেন, চট করে মিলিয়ে দিত। আট বছর বয়সে যাঁর প্রথম কবিতা ‘নদী’ এবং নয় বছর বয়েসে দ্বিতীয় কবিতা ‘টিক টিক টং’ ছাপা হয়েছিল ‘মুকুল’ পত্রিকায়, যাঁর ম্যাজিক ঝুলিতে রয়েছে ‘সন্দেশ’ এবং ‘মন্ডা ক্লাব’ এর মত অসম্ভব মজার সমস্ত জিনিস, তিনি শুধু একশো ছাব্বিশ বছর কেন, এক লক্ষ ছাব্বিশ বছর পরেও থাকবেন কন্টেম্পোরারি। তাঁর অজস্র গপ্প ছড়িয়ে রয়েছে পুণ্যলতা চক্রবর্তীর বই ‘ছেলেবেলার দিনগুলি’ তে। যদি সত্যিই জানতে চান এই মানুষটিকে এবং তাঁর সেই অসাধারণ পরিবারটিকে, তাহলে অবশ্যই পড়বেন এই বই। আরো অনেক কথা বলার ছিল, জানার ছিল। কিন্তু বাধ সাধল পাগলা দাশু। কানে কানে এসে বলে গেল, অতিরিক্ত কৌতূহল ভাল নয়। কাঁচকলা খাও।

 

Image Credits: Google Images

Article By:

sagnik roychowdhury

 

Sagnik Roy Chowdhury is an upcoming young & talented screenplay writer from Tollywood. He has got movies like “Bicycle Kick” to his credit as a script & dialogue writer. He also writes occasional columns for various Bengali newspapers and magazines.

Enhanced by Zemanta